
মাহমুদ দারবিশ। একজন কবি। একজন ফিলিস্তিনি কবি। ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ । ফিলিস্তিনের এই জাতীয় কবির অধিকাংশ কবিতায় এক মর্মান্তিক আর্তনাদ ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়। সে আর্তনাদ কবির হারানো মাতৃভূমিটি জন্য। গত শতকের চল্লিশের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে কবির মাতৃভূমিটি দখলদার বেজন্মাদের দ্বারা অধিকৃত হয়ে গেছে এবং অত্যন্ত অমানবিক পদ্ধতিতে উৎখাত করা হয়েছে হাজার বছর ধরে কবির মাতৃভূমিতে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি জনগনকে।
আমৃত্যু এই মর্মান্তিক ঘটনাটির জন্য কবির দুঃখবোধ ছিল আতীব্র। গভীর ।
আসুন আমরা কবির দুঃখে শামিল হই।
অতঃপর বলি যে, কবি মাহমুদ দারবিশ আজ আর আমাদের মাঝে নেই। গত বছর, অর্থাৎ, ২০০৮ সালের ৯ আগাষ্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। হার্টে সমস্যা ছিল কবির। ১৯৮৪ সালে একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। ‘৯৮ সালেও একবার অপারেশন হয়েছিল। যাহোক। জীবদ্দশায় দারবিশ হয়ে উঠেছিলেন ফিলিস্তিনি জনগনের একান্ত নিঃশ্বাস, আশাআকাঙ্খার প্রতীক। কারণ, অনুভব করে সবাই কিন্তু সে অনুভবের শব্দরুপ দিতে সক্ষম মাত্র অল্প ক’জন। বলপূর্বক নির্বাসন ও ফেলে আসা জন্মভূমির প্রতি আতীব্র আকর্ষনের সাক্ষী দারবিশ স্বয়ং। পরিবারসহ তিনিও উৎখাত হয়েছিলেন, যখন জিয়নবাদী বেজন্মারা ফিলিস্তিনের অন্তস্থলে তাদের কালো রোমশ থাবা বাড়াল । কবি অবশ্য পরে তাঁর জন্মভিটেয় ফিরে এসেছিলেন । জন্মভূমিটি ততদিনে আগ্রাসী জিয়নবাদীদের দ্বারা অধিকৃত। লাঞ্ছিত। এসব মানসিক পীড়ন, মনোকষ্ট ও নানাবিধ টানাপোড়েনের ফলে দারবিশের পক্ষে কবি হয়ে ওঠাই ছিল অনিবার্য। মানসিক উদ্বাস্তু দারবিশ হয়ে উঠেছিলেন ‘আসাফির বিলা আজনিহা’ বা ডানাশূন্য চড়ুই ...

ফিলিস্তিনের গালিলি প্রদেশ । এর পশ্চিমে আল বিরওয়া নামে একটি গ্রাম; সে গ্রামেই ১৩ মার্চ ১৯৪১ সালে মাহমুদ দারবিশ এর জন্ম। বাবার নাম সালিম দারবিশ। ছিলেন মুসলিম ভূস্বামী। মুসলিম বলার কারণ? তৎকালে ফিলিস্তিনের পশ্চিম গালিলি প্রদেশে খ্রিস্টানসহ অন্য অনেক জাতও বাস করত। কবির মায়ের নাম হওরিয়া। কবির মায়ের নাকি তেমন শিক্ষাদীক্ষা ছিল না। পিতামহের কাছে হাতেখড়ি বালক দারবিশ এর । সে কথা ‘আইডেন্টটিটি কার্ড’ নামে বিশ্ববিখ্যাত কবিতা পাঠে জানা যায়।
আমার পিতামহ ছিলেন চাষী,
নীল রক্তের উচ্চবংশের নন।
বই পড়তে শেখার আগেই
যিনি আমাকে সূর্যের অহংকার শিক্ষা দিয়েছিলেন।
বেজন্মাদের রাষ্ট্রটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের মাটিতে প্রোথিত হলে দারবিশ পরিবারটি চলে আসে লেবানন । ১ বছর পর আবার ফিলিস্তিনের আক্কায় চলে আসে।
দারবিশ পরিবার ফিরে আসার কারণ কি? লেবানন তো মুসলিম অধূষিত রাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের জিজ্ঞেস করুন। ওরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। হিন্দু অধূষ্যিত পশ্চিমবাংলা ১ কোটি বাঙালির আশ্রয় দিয়েছিল ১৯৭১ এ যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। রোহিঙ্গা মুসলিমদের আমরা বাংলাদেশি মুসলিমরা মনে করি দস্যু! তাহলে ধর্মের চেয়ে কি জাত বড়? এই প্রশ্নটি নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবা যায়।
আক্কা জায়গাটি পূর্বে ফিলিস্তিনের অর্ন্তভূক্ত হলেও বর্তমানে উত্তর ইজরাইলে। জায়গাটির অবস্থান পশ্চিম গালিলি প্রদেশে। ওখানকারই আল বিরওয়া নামে একটি গ্রামে জন্মেছিলেন দারবিশ। এখানকারই একটি জায়গার নাম দেইর আল আসাদ। সেখানেই সেটল করে দারবিশ পরিবার। হাই স্কুলে ভরতি হয় বালক। পিতামহ শেখান সূর্যের অহঙ্কার। দিন যায়। ফিলিস্তিনের আদিবাসীদের ওপর ভূঁইফোড় ইহুদিদের লাঞ্ছনা প্রত্যক্ষ করে কিশোর। কিশোরের কবিতায় সেসব উঠে আসে। কিশোরের বয়স এখন উনিশ। হাইফায় চলে যায় সে। তো, হাইফা কোথায়? উত্তর ইজরাইলের সর্ববৃহৎ নগর হাইফা। নগরটিকে ইজরাইলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বন্দরনগীরও বলা চলে।
যা হোক। কবিতা লেখা চলছিল। ‘ডানাশূন্য চড়ুই’ (আসাফির বিলা আজনিহা) কাব্যগ্রন্থটি ছেপে বার করল তরুণ কবি।
১৯৭০। ইজরাইল ছাড়লেন দারবিশ। গন্তব্য সোভিয়েত ইউনিয়ন। (ইস্, কতদিন পরে লিখলাম শব্দ দুটো। সোভিয়েত ইউনিয়ন। এককালে মোহজাল ছড়াত শব্দ দুটো!) বছর খানেক মস্কো ইউনিভাসিটিতে পড়াশোনা করলেন। (সাবজেক্ট জানতে পারিনি।) ভাল লাগছিল না মস্কোয়। একাকীত্ব আর বরফ। মন পড়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যে। লেবাননের উদ্দেশে উড়োজাহাজে উঠলেন। আশ্চর্য় এক অভিজ্ঞতা হল প্লেনে। একজন নাইজিরিয় যাত্রীর মুখে শুনলেন শেখ মুজিব এর কথা। তাঁর অনবদ্য নেতৃত্বে বাঙালিরা নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছেন। সে কাহিনী শুনতে শুনতে দারবিশের চোখ জলে ভরে ওঠে । আগে থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাপঞ্জি সে জানত। বাঙালি এই রাজনীতিবিদকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে দারবিশ। সব সময় মুজিব-এর একটা ছবি কাছে রাখে। মাঝে মাঝে বার করে দেখে। প্রেরণা পায়। বাঙালিরা পারলে আমরা পারব না কেন! প্লেনের চেয়ারে বসে এক সময় ঘুম পায়। ঘুমিয়ে পড়ল দারবিশ। স্বপ্নে মুজিব এলেন। বললেন, ওহে, দারবিশ । আমি নিহত হব দেখো ।
কেন! দারবিশ চমকে ওঠে। আপনি নিহত হবেন কেন?
আমি সময় নিয়ে খেলতে জানি। যারা সময় নিয়ে খেলতে জানে তারা শেষ পর্যন্ত নিহত হয়। মুজিব বললেন।
ওহ!
গম্ভীর কন্ঠে মুজিব বললেন, দারবিশ।
বলুন।
বাঁচো কি মর-ঐতিহাসি দায়িত্ব এড়িয়ে যেও না। এ মহাকালের নির্দেশ। মনে রাখবা, ঈশ্বরের কাছে না, তুমি তোমার মায়ের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। তরুণ কবি দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
লেবানন থেকে মিশরে যায় দারবিশ। ওখানে ছিলেন ইয়াসের আরাফাত। তিনি তরুণ কবিকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, তোমরা ভিতরে আগুন আছে দারবিশ। তোমাকে আমরা চাই। ঐতিহাসি দায়িত্ব এড়িয়ে যেও না।
দারবিশ পি এল ও তো যোগ দিতে সম্মত হলেন।
নতুন কি লিখেছ? পড়। ইয়াসের আরাফাত বললেন।
আমার নতুন কবিতার নাম ‘৪৮ নং শিকার’। দারবিশ বলল।
পড়।
একটি পাথরের ওপর মরে পড়েছিল সে ।
তারা ওর বুকে পেয়েছিল চাঁদ ও লন্ঠন।
ক’টা মুদ্রা তারা পেয়েছিল ওর পকেটে ।
দিশলাই ও ট্রাভেল পারমিট।
ওকে চুমু খেল ওর মা
তারপর বছরখানেক কাঁদল।
কাঁটা বিধেঁছিল ওর চোখে
কালো কাঁটা।
ওর ভাইটা বেড়ে উঠেছিল
কাজের খোঁজে গিয়েছিল শহরে।
তাকেও পাঠানো হয়েছিল কারাগারে ।
কেননা ওর ট্যাভেল পারমিট ছিল না।
ও বহন করছিল ডাস্টবিন
পরিত্যক্ত বাক্স বহন করছিল রাস্তায়
হে আমার মাতৃভূমির সন্তানেরা
এভাবেই মরে গিয়েছিল চাঁদ।
হু হু করে কেঁদে ফেললেন ইয়াসের আরাফাত।
তরুণ কবিটি হোটেল কক্ষের বাইরে চলে আসে।
সময়টা ১৯৭৩। মায়ের মুখ কতদিন দেখি না। ইজরাইল রওনা হল দারবিশ। জন্মস্থান তো ওখানেই। ইজরাইলি কর্তৃপক্ষ তরুণ কবিকে পশ্চিম গালিলি প্রদেশে প্রবেশ করতে দেয় নাই। অবশ্য ১৯৯৫ সালে রামাল্লায় সেটল করার অনুমতি পান কবি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত সেন্ট্রাল ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের
একটি ফিলিস্তিনি নগর রামাল্লা । রামাল্লায় এসে দারবিশের ভালো লাগল না। নিজেকে মনে হল নির্বাসিত । এখানকার কোনও কিছুই যেন পশ্চিম গালিলি প্রদেশের সেই আল বিরওয়া গ্রামে মতো নয়। দারবিশের অনুভূতি উপলব্ধি করতে ‘আমি ওখান থেকে এসেছি’ কবিতাটি পাঠ করা যাক।
আমি ওখান থেকে এসেছি এবং আমার আছে স্মৃতি
জন্মেছি, মরণশীলেরা যেভাবে জন্মায়, আমার মা আছে
আর আছে অনেকগুলি জানালার ঘর
ভাই আছে আমার, আছে বন্ধু,
আর আছে শীতল জানালাসহ কারাকক্ষ।
আমার আছে ঢেউ, যে ঢেউ সমুদ্রচিল দ্বারা লাঞ্ছিত,
আমার রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি,
আর আছে অতিরিক্ত একটি ঘাস।
আমার আছে চাঁদ, যে চাঁদ শব্দের কিনার থেকে দূরে,
আর অনেক পাখি,
আর অবিনশ্বর জলপাই গাছ।
তরবারি সক্রিয় হওয়ার পূর্বেই
এ ভূখন্ডে হেঁটেছি আমি ।
আমি ওখান থেকে এসেছি। আমি আকাশের মায়ের কাছে
আবৃত্তি করি আকাশ
যখন আকাশ তার মায়ের জন্য কাঁদে।
আর আমি কাঁদি ফিরতি মেঘের জন্য
আমার উপলব্ধির তরে।
আমি শিখেছি রক্তের দরবারে কথারা প্রশংসার যোগ্য
আমি তাই নিয়ম ভাঙতে পারি।
প্রতিটি শব্দই আমি শিখেছি আর সেসব ভেঙে
শিখেছি একটি শব্দ বানাতে: জন্মভূমি ...
দারবিশ লিখতেন ধ্রুপদী আরবিতে। প্রতিবাদসরূপ সম্ভবত, কিংবা ঐতিহ্যের প্রতি প্রেম। দারবিশের কবিতায় কয়েক জন আরবি কবি বাদেও ফরাসি কবি র্যঁবো এবং মার্কিন কবি গিনসবার্গ এর প্রভাব লক্ষনীয়। সেকথা স্বীকারও করেছেন দারবিশ। দারবিশ এর জীবনে আরেকজন প্রভাব বিস্তারকারী কবি হলেন ইয়েহুদা আমিচাই। ইনি একজন হিব্রু ভাষার কবি । দারবিশ লিখেছেন, তাঁর (ইয়েহুদা আমিচাই) কবিতা আমার জন্য চ্যালেঞ্জসরূপ । কেন? বিকজ উই রাইট অ্যাবাউট দ্যা সেইম প্লেস। দারবিশের এই কথাটা ভাবার মতো। ঢাকার ক’জন পড়য়ার মুখে আমি অনেক আগেই ইহুদি গল্পকার-ঔপন্যাসিক আমোস ওজ এবং কবি ইয়েহুদা আমিচাইয়ের নাম শুনেছি। একটা ওয়েবসাইটে ইয়েহুদা আমিচাই এর এই কবিতাখানি পেলাম।
যদি তোমায় ভুলে যাই জেরুজালেম
তাহলে আমার অধিকারও তুমি ভুলে যেও।
আমার অধিকারও ভুলে যেও আর আমার চলে যাওয়া
মনে রেখ।
আমার চলে যাওয়া মনে রেখ আর তোমার দান ভুলে যেও
আর প্রধান ফটকের কাছে তোমার মুখটি খুলে রেখ।
জেরুজালেমকে আমি মনে রাখব
আর ভুলে যাব যাবতীয় অরণ্যবন, আর আমার প্রেম মনে রাখবে তোমায়
ওর চুল খুলবে, বন্ধ করবে আমার জানালা
ভুলে যাবে আমার অধিকার
ভুলে যাবে আমার চলে যাওয়া।
কাজেই ইয়েহুদা আমিচাই সর্ম্পকে দারবিশের কথাটি (উই রাইট অ্যাবাউট দ্যা সেইম প্লেস) আমাদের ভাবিয়ে তোলে । আরেকজন কবির গভীর প্রভাব ছিল দারবিশের ওপর। ইনি হলেন ইরাকি কবি বদর শাকির আল সাঈয়াব। এঁর “সং ইন অগাস্ট” কবিতাটি আমার সংগ্রহে আছে। “সং ইন অগাস্ট” কবিতায় ব্যবহৃত ‘তামমুজ’ শব্দটির ব্যাখ্যা আবশ্যক, নৈলে কবিতাখানি দুর্বোধ্য ঠেকবে। তামমুজ ছিলেন প্রাচীন ব্যাবিলনের কৃষিদেবতা। এবার ইরাকি কবি বদর শাকির আল সাঈয়াব এর “সং ইন অগাস্ট” কবিতাটির প্রথম কয়েকটি লাইন পাঠ করা যাক।
দিগন্তরেখায় মরে যাচ্ছে তামমুজ ।
তার রক্ত মিশেছে গোধূলির রঙে
আবাছা গুহায়। অন্ধকার
এক কালো অ্যাম্বুলেন্স।
রাত্রি, একঝাঁক নারী।
কাজল, কালো পোশাক।
রাত্রি, এক বিশাল তাঁবু।
রাত্রি, একটি অবরুদ্ধ দিন।
ইরাকি কবি বদর শাকির আল সাঈয়াব এর ক্ষমতা এই ৮ লাইনেই প্রকাশ পেয়েছে। এবং শেষ লাইনটি (রাত্রি, একটি অবরুদ্ধ দিন ... ) লক্ষ্যনীয়। শাকির আল সাঈয়াব প্রভাবিত করেছেন দারবিশকে। স্বাভাবিক।

দারবিশ দু-বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন । প্রথম স্ত্রী রানা কাব্বানি ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। ২য় স্ত্রী ছিলেন একজন মিশরিয় অনুবাদক। হায়াত হেনি। কোনও বিয়েই অবশ্যি টেকেনি। অধিকৃত মাতৃভূমির জন্য অত্যধিক উদ্বেগ কি কবির বৈবাহিক জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল? ইহুদিদের ফিলিস্তিনে ঠেলে দেওয়ার আগে এসব বিবেচনায় আনেনি সংকীর্ণদৃষ্টির প্রতারক ইউরোপীয়গন? সন্তানাদি ছিল না দারবিশ এর। এ তথ্য আরও সূক্ষ্ম কিছুর ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে দারবিশ এর কবিতার বই তিরিশ। গদ্যের আটটি। কয়েকটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। দারবিশ এর কাব্যসমগ্রর নাম, ‘জলপাই পাতা।’ এখানেই গ্রথিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালে লিখিত বিশ্ববিখ্যাত কবিতা, ‘আইডেন্টটিটি কার্ড’।
লিখে রাখ!
আমি একজন আরব,
আর আমার আইডেন্টটিটি কার্ড নম্বর পঞ্চান্ন হাজার,
আর আমি আট সন্তানের পিতা
আর আগামী গ্রীষ্মের পর নয় নম্বরটি আসছে ।
তুমি কি রেগে যাবে?
পুরো কবিতাটি এখানে
দারবিশ জীবনভর ছিলেন এক ডানাশূন্য চড়–ই বা আসাফির বিলা আজনিহা। এ তাঁর ব্যাক্তিগত অনুভূতি। তথাপি বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য ফিলিস্তিনি তরুণদের যুগিয়েছেন অনুপ্রেরণা । ‘আইডেন্টটিটি কার্ড’ কবিতায় লিখেছেন,
তবে যদি আমি ক্ষুধার্ত হই
আমি জবরদখলকারির মাংস খাব
কাজেই সাবধান
আমার ক্রোধ ও ক্ষুধা সর্ম্পকে
সচেতন হও।
কেননা, আমরা জানি কোনওরকম দয়ামায় না দেখিয়ে দৈত্যকে বধ করতেই হয়। একাত্তরে বাঙালিরা যেরকম পশ্চিমা পাক-দৈত্য বধ করেছিল। বিভেদকামী ইউরোপীয় নেতৃবর্গের প্রতিস্থাপিত কৃত্রিম রাষ্ট ‘ইজরাইল’ আরব-রক্ত-পিপাসু দৈত্য ছাড়া আর কিছুই না! যদিও মানবতাবাদী দারবিশ বারবার বলতেন, আমি ইজরাইলপ্রেমিক নই বটে, তবে আমি ইহুদিদের ঘৃনা করি না।
কেবলমাত্র একজন সৎ কবির পক্ষেই এরকম করে বলা সম্ভব!

উৎসর্গ : মাঠশালা। একজন দারবিশ-ভক্ত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


