আমার প্রিয় পোস্ট

' অশ্বথের পাতাগুলো পড়ে আছে ম্লান শাদা ধুলোর ভিতর/এই পথ ছেড়ে দিয়ে এ-জীবন কোনোখানে গেল নাকো তাই।' (রূপসী বাংলা)

জীবনানন্দ : যিনি জোনাকির ভাষা ও গল্প জানবার জন্য সমস্ত জীবন উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন ...

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৯

শেয়ারঃ
0 0 0

জীবনানন্দ কি চুরুট খেতেন?
এই প্রশ্নের কারণ?
জীবনানন্দের "পথ হাঁটা" কবিতায় চুরুটের প্রসঙ্গটি আছে।

তখন অনেক রাত-তখন অনেক তারা মনুমেন্ট মিনারের মাথা নির্জনে ঘিরেছে এসে;-মনে হয় কোনোদিন এর চেয়ে সহজ সম্ভব আর কিছু দেখেছি কি: একরাশ তারা আর মনুমেন্ট ভরা কলকাতা? চোখ নিচে নেমে যায়-চূরুট নীরবে জ্বলে-বাতাসে অনেক ধূলো খড়; চোখ বুজে একপাশে সরে যাই-গাছ থেকে অনেক বাদামি জীর্ণ পাতা উড়ে গেছে;
শুধু কবিতায় নয়। চুরুট খাওয়ার প্রসঙ্গটি জীবনানন্দের গল্পেও বারবার এসেছে। হ্যাঁ। জীবনানন্দ গল্পেও লিখতেন এবং সে ক্ষেত্রেও তিনি সফল। ‘জামরুলতলা’ গল্পে জীবনানন্দ লিখেছেন: ‘ কলকাতায় আজকালই চলে যাব আমি। না হলে ভবিষ্যৎটাই মাটি হয়ে যাবে যে। কিন্তু রাতের বেলা টেবিলের পাশে বসে চুরুট টানতে টানতে মনে হয়, কলকাতা গেলেই- কতবার তো গেলাম আমি। হ্যাঁ, এই চুরুট ; ত্রিশ টাকার মধ্যে চুরুটের বরাদ্দও রয়েছে। তবে বেশি চুরুট আমার লাগে না; চুরুট মাঝে -মাঝে বাইরে থেকেও আসে, চুরুটের দোকানে কিছু পয়সাও বাকি পড়ে থাকে বার মাস আমার।

আজকাল রাত জেগে আমি খুব জীবনানন্দর লেখা গল্প পড়ছি। পড়ছি আর অবাক হয়ে যাচ্ছি। পড়তে পড়তে মানুষ জীবনানন্দ কে আবিস্কার করছি। অন্য এক জীবনানন্দ কে চিনতে পারছি যেন। যে জীবনানন্দ কে কবিতায় তেমন করে পাওয়া যায় না। আমার বরাবরই মনে হয়েছে যে কবিতায় জীবনানন্দ ভূমিকা অনেকটা পর্যবেক্ষকের। যে পর্যবেক্ষকের শুধু দেখে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজ নেই। - যেমন ক্যাম্পে কবিতায়
জীবনানন্দ লিখেছেন -

এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি; সারারাত দখিনা বাতাসে আকাশের চাঁদের আলোয় এক ঘাইহরিণীর ডাকে শুনি - কাহারে সে ডাকে!
কিংবা

এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে; বাইরে হয়তো শিশির ঝরছে, কিংবা পাতা, কিংবা প্যাঁচার গান; সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।
এসব কবিতায় পর্যবেক্ষণনিষ্ট একজন কবিকে পাই; যাঁর বর্ননার ক্ষমতা বিস্ময়কর। তবে গল্পে সত্যিকারের মানুষ জীবনানন্দ কে যেন পাই। কবিকে অসুখি এক বেকার স্বামীর ভূমিকায় দেখি। শহরে বড় হওয়া স্ত্রীকে যিনি পূর্ববাংলার একটি নিভৃত গ্রামের গাছপালা চেনাচ্ছেন। কবি নিজে রয়েছেন বৃহৎ এক সংসারের মাঝে। সে কথা কবির লেখা গল্পে ফুটে ওঠে, ফুটে ওঠে কুড়ি শতকের পূর্ব বাংলার এক যৌথপরিবারের ঘনিষ্টনিবিড় চিত্র ...

‘পুব দিককার এই খড়ের ঘরটায় আমি একাই থাকি; মাস দুই আগেও সবাই ছিলেন; আরো কয়েক মাস আগে শোভনা, খুকি সবাই ছিল। বাড়িটা কম বড় নয়, এক সময় প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশজন লোক এই উঠানে বসে মজলিশ করত ; চাঁদনি রাতে তাকিয়া-ফরাস পেতে বসত, দাবার আড্ডা চলত, মেয়েরা মাদুর পেতে বিন্তি খেলতে বসত।’ (‘জামরুলতলা’)
কবিতায় এরকম ঘনিষ্ট বর্ননা কোথায়? তাহলে গল্পগুলি কি কবি আত্মজীবনের টুকরো টুকরো অংশ? কখনও কখনও কবির পরিবেশ-প্রতিবেশ কবির কবিতার পটভুমি হিসেবে কাজ করে বৈ কী। যেমন, মহাপৃথিবী কাব্যগ্রন্থের ‘নিরালোকে’ কবিতায় ঘোড়ার প্রসঙ্গ এসেছে।

কে যেন উঠিল হেঁচে-হামিদের মরকুটে কানা ঘোড়া বুঝি! সারাদিন গাড়িটানা হ’ল ঢের ,-ছুটি পেয়ে জ্যোস্নায় নিজ মনে খেয়ে যায় ঘাস;
‘জামরুলতলা’ গল্পে জীবনানন্দ লিখেছেন...‘অবাক হয়ে এক-একবার উঠানটার দিকে তাকিয়ে দেখি হরিচরণের আস্তাবলের দুটো মরকুটে ঘোড়া এসে ঘাস খাচ্ছে। ”

আর কবির পরিবেশের গাছপালাও যেন উঠে আসে কবিতায় ...

‘মাঠের উত্তর কিনারে কতকগুলো আমগাছ, মাঝামাঝি দুটো অশ্বত্থ গাছ, এখানে সেখানে সজনে, পেয়ারা, জামরুল , কৃষ্ণচূড়া , মাদার, হিজল, পলাশ, অর্জুন, আমলকি, ছাতিম গাছ।’
এবং ...

‘চারদিকে গরুর গেরো। তিন-চারটি বাড়ির ছাগল-গরুর সমাবেশ, আগাছার জঙ্গল, শুকনো ফুল ও পেয়ারা পাতার ওড়াউড়ি-গাঙশালিকের কিচিরমিচির।’

নিজের ক্লান্ত ভূমিকা-

‘উঠানটাকে পরিস্কার করতে ইচ্ছা হয়, এক-একদিন কাস্তে নিয়ে নামি ; কিন্তু কী লাভ; কাস্তেটা একটা লেবু গাছের ঝোপের ভিতর ছুঁড়ে ফেলে দিই। ’
আরেক জায়গায় কবি লিখেছেন...

‘টেবিল থেকে খানিকটা দূরে শোবার চৌকিটা; চৌকির ওপর সারাদিন মাদুর পাতা থাকে। রাতের বেলা কোনোদিন বিছানা পাতা হয়, কোনো-কোনোদিন মাদুরেই শোয়া যায় ...হাত-পা ছেড়ে চুপচাপ বসি, খানিকক্ষণ গেল। মনের সুন্দর ভাবটা কেমন নষ্ট হয়ে গেল। খাটে গিয়ে নির্জীবের মত শুয়ে পড়ি ...’
কবির গল্প পাঠে টের পাই কবির গাছগাছালিময় শ্যামল নির্জন পরিবেশই কবিকে হাত ধরে নিয়ে গেছে কবিতার দিকে ...

‘আমার জানালার সামনে-বাড়ির উঠানটা ঘুরে, একটা মস্ত বড় মাঠের সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। এই মাঠটাও (এই সংসারের কর্তাদের), বাড়ির পুব দক্ষিণ উত্তর সীমানা ঘিরে অনেকখানি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত হয়ে রয়েছে; সকালবেলা মাঠের মত মনে হয়, দুপুরবেলা প্রান্তরের গন্ধ পাই, জ্যোস্নারাতে তেপান্তরের আস্বাদ জেগে ওঠে।’
জীবনানন্দ জীবনভর ঢের গদ্য লিখেছেন। কখনও কখনও সে গদ্য যেন কবিতার মহিমা লাভ করেছে। পাঠ করা যাক।
‘কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে সমস্ত দুপুর একপাল ভেড়া বসে থাকে; মাঝে-মাঝে জ্যোস্নারাতেও ওগুলোকে দেখা যায়। পাশের কোনো এক বাড়ির ভেড়া হবে; হয়ত মজুমদারের। ওগুলোকে তাড়িয়ে দিতে একটুও ইচ্ছা করে না আমার; নিস্তব্ধ দুপুরবেলা ছায়া-উদাস ছাতিম-কৃষ্ণচূড়ার নীচে এদের এই নিরিবিলি জীবনধারণা, পরস্পরের এই নিকট সংসর্গ, বিচ্ছেদহীন নীলাভদিন মৃগনাভী (?) গন্ধময় রাত-তৃপ্তি, শান্তি, দেখতে -দেখতে আমার নিঃসঙ্গ জীবনের একটা কিনারা পাই যেন । (সমস্ত দুপুর ডালপালার ভিতর বাতাস উচ্ছলিত হয়ে ফেরে। মনে হয় যেন পাতা পল্লবের ভিতর মস্ত বড় একটা জনসমাজের কলরব চলছে চারিদিকে।) শালিকগুলো এক-একবার ভিড় পাকিয়ে আকাশ বাতাসের কাছে বিষম নালিশ জানিয়ে যায়; তীরের মত উর্ধ্বশ্বাসে আকাশের পথে ছুটতে- ছুটতে মাছরাঙা খেলা ছেড়ে চিৎকার করে ওঠে, আমার জানালার পাশে একটা মুহুরি গাছ ঘেরা। তেলাকুচার জঙ্গলের ভিতর দুর্গা টুনটুনির জীবন বেশ নরম; কিন্তু লতার গন্ধ-মমতার ছায়ায় কোকিল তৃপ্ত হয়ে পড়ে থাকে না। সে গাছের থেকে গাছে, ডালের থেকে ডালে, ছায়ায়, রোদে, না জানি কী খুঁজে মরে সে! শান্তি নাই! ‘চোখ গেল’-র একঘেয়ে ডাক কিছুক্ষণ পরে আর ভালো লাগে না, একটা ঢিল মেরে তাড়িয়ে দিতে পারলে বাঁচি। এক-একটা কোকিলও যখন জানলার কাছাকাছি ছাতিম গাছটার ডালে বসে নিঃসঙ্কোচে আত্মানুরঞ্জনে নির্বিবাদে ডাকতে থাকে তখন তাকে সম্প্রীতিকর অতিথি বলেই যেন মনে হয় বেশি। ”

পূর্ব বাংলা সঘন সবুজ পরিবেশ বাদে জীবনানন্দর গল্পের আরও দুটি বিষয় মানুষ ও দর্শন। ‘অঘ্রানের শীত’ গল্পে জীবনানন্দ লিখেছেন-


“ভালোবাসা মানে কোনো প্রণয়িনীর জন্য তিমির রজনী ভেঙে অভিসারই শুধু নয়, বার বার এই ছেলেটির (শিশুটির) কাছে ফিরে আসা। বাস্তবিক একে বাদ দিতে পারি না আমি। অনেক সময় বাদ দিতে চাই যদিও।”
গল্পটির আরও গভীরে যদি যাই তো দেখব ...

“...খোকা তার ঠাকুমার বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। মশারি কেউ ফেলে দেয়নি। ছেলেটাকে মশায় কামড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে বাতাস করে মশারি টেনে দিই। মাথাভরা কোঁকড়া কোঁকড়া চুল বালিশ ছেয়ে আছে, কপালে চুলে একটু হাত বুলোই।”
কিন্তু ...


“ ... চুমো দিই না। বাড়ির মেয়েরা, পাড়ার মেয়েরা যখন তখন এই শিশুর ঠোঁটে গালে চোখে মুখে অবিশ্রাম চুমা খেয়ে ফেরে। তারা একটু সাবধান হলে পারত।”
কবির এমন নিবিড় বোধ ও গভীর পর্যবেক্ষন! সত্যিই আশ্চর্য হয়ে যেতে হয় যে বাড়ির মেয়েরা, পাড়ার মেয়েরা ছোট শিশুটির ঠোঁটে গালে চোখে মুখে অবিশ্রাম চুমা খেলে কবির আপত্তি।

‘অঘ্রানের শীত’ গল্পটি পড়ে মানুষ ও প্রকৃতিবিষয়ক জীবনানন্দের চিন্তাধারা সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। সে ধারণা যেমন কাব্যিক তেমনি উদ্বেগজনক।

‘মস্তবড় উঁচু জাম, অশ্বত্থ গাছের ডালপালায় মাখা মাখা জোনাকির দল। এদের ভাষা ও গল্প জানবার জন্য সমস্ত জীবনটাকে উৎসর্গ করে ফেলতে ইচ্ছা করে। কয়েকটা শিশিরমাখা ঘাসের ওপর নেমে এসেছে, এদের আলোয় ঘাসের শিষ আবার মরকতের মতো সবুজ হয়ে উঠল। ঘাসের গোছার ভিতরে কোথায় শ্যামা পোকা ঘুমিয়ে রয়েছে, কিংবা শুক জমেছে, কিংবা ফসলের গুঁড়ি ছড়িয়ে আছে, কিংবা অন্য কোনো প্রেম বা স্বপ্ন জমে আছে জোনাকিরাই তা জানে। এদের নিস্তব্ধ জীবনের প্রবাহ শিল্প দেখি আমি, বড্ড স্নিগ্ধ ও সুন্দর। কোনো কোলাহল নেই, কাড়াকাড়ি নেই,রক্তাক্ততা নেই। ’
তার পরেই গল্পকার জীবনানন্দ লিখেছেন গা শিউরে ওঠা কথা...

“ ... একদিন রাতের পৃথিবী এদেরই (মানে জোনাকিদের) হবে। এদের আর ওই নিমগাছের লক্ষ্মীপেঁচার আর ওই গোয়ালের নীচের ইঁদুরের। মানুষের শেষ হাড়গোড় তখন ঝোপে জঙ্গলে বিস্তৃত। এই আমার মনে হয়। সে খুব সুন্দর দিন হবে তাহলে। তখন খুব নীরব ঠান্ডা, ঘন নিবিড় নারকোলের পাতায় নিবিড় জোনাকির মালায় মালায় ভরা সে খুব চমৎকার শান্তির রাত আসবে তখন। একদিন আসবেই। মানুষ তখন থাকবে না। ”
জীবনানন্দ কেন প্রকৃতির মাঝে মানুষকে চান না? কেন তিনি মানুষের বিনাশ কামনা করছেন? এ কোন্ জীবনানন্দ? জীবনানন্দকে ‘আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ কবি ও দার্শনিক’ বলে অবহিত করা হয়েছে। একুশ শতকে আজ আমরা পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করছে জলবায়ূ সম্মেলন করছি। অথচ বিংশ শতকের মাঝামাঝি এই প্রজ্ঞাবান কবি মানুষ বিনাশপ্রবণ রুপটি ঠিকই উপলব্ধি করেছিলেন । কবি ঠিকই জানতেন: মানুষের হা হা লোভের বলি হবে পৃথিবীর প্রকৃতি? সজল প্রকৃতির জরায়ূ ছিঁড়ে মানুষ বার করবে প্লাস্টিক-কার্বন? তাই তিনি লিখেছেন: “ ... একদিন রাতের পৃথিবী এদেরই (মানে জোনাকিদের) হবে। এদের আর ওই নিমগাছের লক্ষ্মীপেঁচার আর ওই গোয়ালের নীচের ইঁদুরের। মানুষের শেষ হাড়গোড় তখন ঝোপে জঙ্গলে বিস্তৃত। এই আমার মনে হয়। সে খুব সুন্দর দিন হবে তাহলে ...
বাঙালিমাত্রেই জীবনান্দপ্রেমী। কেননা তিনি লিখেছেন: "মস্তবড় উঁচু জাম, অশ্বত্থ গাছের ডালপালায় মাখা মাখা জোনাকির দল। এদের ভাষা ও গল্প জানবার জন্য সমস্ত জীবনটাকে উৎসর্গ করে ফেলতে ইচ্ছা করে।" ...তবে বাঙালির যা কিছু বন্দনা তাঁর কবিতা ঘিরে। রিচুয়ালটি অনাকাঙ্খিত নয় মোটেও, বরং কাম্য; তবে কথা হল: জীবনানন্দ তাঁর নিজের জীবনের নিরানন্দ ঘোচাতে প্রচুর গল্প-উপন্যাস লিখে গেছেন বাঙালির জন্য। এখন সে সব গল্প উপন্যাস পাঠ করে তা থেকে যথেষ্ট পরিমানে বিদ্যুৎ-শিহরন আরোহনের দায়িত্ব আমাদের। এবং জীবনানন্দের গল্প-উপন্যাসের প্রতি প্রত্যেক বাঙালির আগ্রহ ক্রমান্বয়ে তীব্র হোক -এই কামনা করছি।

‘জামরুলতলা’ ও ‘অঘ্রানের শীত’ গল্প দুটির উৎস: দেবেশ রায় সম্পাদিত ‘জীবনানন্দ সমগ্র’ শতবর্ষ সংস্করণ গল্প ১’; প্রতিক্ষণ পাবলিকেশনস্ প্রাইভেট লিমিটেড (কলকাতা ৭০০০১৩)

উৎসর্গ: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য ২।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জীবনানন্দ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: জীবনানন্দ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৩
হেমায়েতপুরী বলেছেন: অনেক সময় লাগবে পড়তে... তাই আপাতত ছুকেছে... :D
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৩

লেখক বলেছেন: ওকে; ঠিক আছে। ধন্যবাদ।

২. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
....মেঘের দুপুর ভাসে,
সোনালী চিলের মন হয় উন্মন ...

++
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩১

লেখক বলেছেন: এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্নে শান্তি আসে মানুষের মনে;
এখানে সবুজ শাখা আঁকাবাঁকা হলুদ পাখিরে রাখে ঢেকে;
জামের আড়ালে সেই বউকথাকওটিরে যদি ফেল দেখে
একবার — একবার দু’পহর অপরাহ্নে যদি এই ঘুঘুর গুঞ্জনে
ধরা দাও — তাহলে অনন্তকাল থাকিতে যে হবে এই বনে;
মৌরির গন্ধমাখা ঘাসের শরীরে ক্লান্ত দেহটিরে রেখে
আশ্বিনের ক্ষেতঝরা কচি কচি শ্যামা পোকাদের কাছে ডেকে
রব আমি চকোরীর সাথে যেন চকোরের মতন মিলনে;

উঠানে কে রূপবতী খেলা করে — ছাড়ায়ে দিতেছে বুঝি ধান
শালিখের; ঘাস থেকে ঘাসে ঘাসে খুঁটে খুঁটে খেতেছে সে তাই;
হলুদ নরম পায়ে খয়েরি শালিখগুলো ডরিছে উঠান;
চেয়ে দ্যাখো সুন্দরীরে : গোরোচনা রূপ নিয়ে এসেছে কি রাই!
নীলনদে — গাঢ় রৌদ্রে — কবে আমি দেখিয়াছি — করেছিল স্নান —

৩. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১০
লী এনজেল বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ারের জন্য। জীবনানন্দ গবেষনা অনেক ভাললাগে।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: ঘাসের ভিতরে সেই চড়ায়ের শাদা ডিম ভেঙে আছে — আমি ভালোবাসি
নিস্তব্ধ করুণ মুখ তার এই — কবে যেন ভেঙেছিল — ঢের ধুলো খড়
লেগে আছে বুকে তার — বহুক্ষণ চেয়ে থাকি; — তারপর ঘাসের ভিতর
শাদা শাদা ধুলোগুলো পড়ে আছে, দেখা যায় খইধান দেখি একরাশি
ছড়ায়ে রয়েছে চুপে; নরম বিষন্ন গন্ধ পুকুরের জল থেকে উঠিতেছে ভাসি;
কান পেতে থাকি যদি, শোনা যায়, সরপুটি চিতলের উদ্ভাসিত স্বর
মীনকন্যাদের মতো, সবুজ জলের ফাঁকে তাদের পাতালপুরী ঘর
দেখা যায় — রহস্যের কুয়াশায় অপরূপ — রূপালি মাছের দেহ গভীর উদাসী

চলে যায় মন্ত্রিকুমারের মতো, কোটাল ছেলের মতো রাজার ছেলের মতো মিলে
কোন এক আকাঙ্খার উদঘাটনে কত দূরে; বহুক্ষণ চেয়ে থাকি একা
অপরাহ্ন এল বুঝি? — রাঙা রৌদ্রে মাছরাঙা উড়ে যায় — ডানা ঝিলমিলে;
এক্ষুনি আসিবে সন্ধ্যা, — পৃথিবীতে ম্রিয়মাণ গোধূলি নামিলে
নদীর নরম মুখ দেখা যাবে — মুখে তার দেহে তার কতো মৃদু রেখা
তোমারি মুখের মতো: তবুও তোমার সাথে কোনোদিন হবে নাকো দেখা।

৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১২
শিরীষ বলেছেন: একটা ঘোরের মধ্য দিয়ে পড়ে গেলাম লেখাটা। আমি আবার পড়বো, হ্যাঁ হয়তো আরো কয়েকবার।

এই আমরা, নষ্ট মানুষরা না থেকে প্রকৃতি বেঁচে থাকবে বা থাকুক - কবির এই ভাবনাটা একদম নাড়িয়ে দিয়ে গেল !
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: কবির ভাবনাটা আমাকেও খুব নাড়িয়ে দিয়েছে বলেই লিখলাম।

৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৫
রেজোওয়ানা বলেছেন: আমি কবি-সেই কবি-
আকাশে কাতর আঁখি তুলি হেরি ঝরা পালকের ছবি!
আন্‌মনা আমি চেয়ে থাকি দূর হিঙুল-মেঘের পানে!
মৌন নীলের ইশারায় কোন্ কামনা জাগিছে প্রাণে!
বুকের বাদল উথলি উঠিছে কোন্ কাজরীর গানে!
দাদুরী-কাঁদানো শাঙন-দরিয়া হৃদয়ে উঠিছে দ্রবি




অ ট : আমি কিন্তু জ্বালাতন করতে চাইনা।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: এ-সব কবিতা আমি যখন লিখেছি বসে নিজ মনে একা;
চালতার পাতা থেকে টুপ — টুপ জ্যোৎস্নায় ঝরছে শিশির;
কুয়াশায় সি’র হয়ে ছিল স্নান ধানসিড়ি নদীটির তীরে;
বাদুড় আধাঁর ডানা মেলে হিম জ্যোৎস্নায় কাটিয়াছে রেখা
আকাঙ্খার; নিভু দীপ আগলায়ে মনোরমা দিয়ে গেছে দেখা
সঙ্গে তার কবেকার মৌমাছির…. কিশোরীর ভিড়
আমের বউল দিল শীতরাতে; — আনিল আতার হিম ক্ষীর;
মলিন আলোয় আমি তাহাদের দেখিলাম, — এ কবিতা লেখা

তাহাদের ম্লান মনে কবে, তাহাদের কড়ির মতন
ধূসর হাতের রূপ মনে করে; তাহাদের হৃদয়ের তরে।
সে কত শতাব্দী আগে তাহাদের করুণ শঙ্খের মতো স্তন
তাহাদের হলুদ শাড়ি — ক্ষীর দেহ — তাহাদের অপরূপ মন
চলে গেছে পৃথিবীর সব চেয়ে শান্ত হিম সান্ত্বনার ঘরে :
আমার বিষন্ন স্বপ্নে থেকে থেকে তাহাদের ঘুম ভেঙে পড়ে।

৬. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: গল্পকার জীবনানন্দের জন্ম, মানুষ জীবনানন্দের মৃত্যুর পরে। ট্রাম দূর্ঘটনার পরে বাসায় বন্ধ ট্রাঙ্ক খোলা হলো আর বেরিয়ে এলো 'রূপসী বাংলা' ও নানান গল্প।

মাঝে মাঝে ভাবি তিনি কেনো এই লেখাগুলো প্রকাশ করেন নি বা করতে চান নি? হয়তো তাঁর কোনো সুপ্ত ইচ্ছা ছিলো যে আমরা এভাবে বিস্মিত হবো তাঁর মৃত্যুর পরে। অথবা নিছক হীনমন্যতা নিজের লেখাকে নিয়ে(?)। এই অমিত রহস্যের কারণেই হয়তো তিনি আরো বেশি প্রিয় হয়ে গেছেন আমাদের।

গতকাল শাহাদুজ্জামানের একটা গল্প পড়লাম গল্পকার জীবনানন্দকে নিয়ে '১৮৯৯' শিরোনামের। আর আজকে আপনার এই লেখাটা। এখন ভাবছি আরো একবার জীবনানন্দকে পাঠ করা দরকার, জরুরি দরকার!

ধন্যবাদ জুবায়ের ভাই।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: বাঙালিমাত্রেই জীবনান্দপ্রেমী। কেননা তিনি লিখেছেন: "মস্তবড় উঁচু জাম, অশ্বত্থ গাছের ডালপালায় মাখা মাখা জোনাকির দল। এদের ভাষা ও গল্প জানবার জন্য সমস্ত জীবনটাকে উৎসর্গ করে ফেলতে ইচ্ছা করে।" ...তবে বাঙালির যা কিছু বন্দনা তাঁর কবিতা ঘিরে। রিচুয়ালটি অনাকাঙ্খিত নয় মোটেও, বরং কাম্য; তবে কথা হল: জীবনানন্দ তাঁর নিজের জীবনের নিরানন্দ ঘোচাতে প্রচুর গল্প-উপন্যাস লিখে গেছেন বাঙালির জন্য। এখন সে সব গল্প উপন্যাস পাঠ করে তা থেকে যথেষ্ট পরিমানে বিদ্যুৎ-শিহরন আরোহনের দায়িত্ব আমাদের। এবং জীবনানন্দের গল্প-উপন্যাসের প্রতি প্রত্যেক বাঙালির আগ্রহ ক্রমান্বয়ে তীব্র হোক -এই কামনা করছি।

৭. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৩
আকাশ অম্বর বলেছেন: একদিন রাতের পৃথিবী জোনাকিদের হবে।


০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫০

লেখক বলেছেন: ঘুমায়ে পড়িব আমি একদিন তোমাদের নক্ষত্রের রাতে;
তখনো যৌবন প্রাণে লেগে আছে হয়তো বা — আমার তরুণ দিন
তখনো হয়নি শেষ- সেই ভালো — ঘুম আসে-বাংলার তৃণ
আমার বুকের নিচে চোখ বুজে-বাংলার আমের পাতাতে
কাঁচপোকা ঘুমায়েছে — আমিও ঘুমায়ে রবো তাহাদের সাথে,
ঘুমাব প্রাণের সাধে এই মাঠে — এই ঘাসে — কথাভাষাহীন
আমার প্রাণের গল্প ধীরে-ধীরে যাবে-অনেক নবীন
নতুন উৎসব রবে উজানের-জীবনের মধুর আঘাতে

তোমাদের ব্যস্ত মনে; — তবুও, কিশোর, তুমি নখের আঁচড়ে
যখন এ ঘাস ছিঁড়ে চলে যাবে — যখন মানিকমালা ভোরে
লাল-লাল বটফল কামরাঙা কুড়াতে আসিবে এই পথে–
যখন হলুদ বোঁটা শেফালি কোনো এক নরম শরতে
ঝরিয়ে ঘাসের পরে, — শালিখ খঞ্জনা আজ কতো দূরে ওড়ে–
কতোখানি রোদ-মেঘ — টের পাবে শুয়ে শুয়ে মরণের ঘোরে।

৮. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৯
ভাঙ্গন বলেছেন: আগে যখনি পেপারে জীবনানন্দ নিয়ে কোন লেখা পেতাম, আমি কেটে রেখে দিতাম।
একবার বাসা চেন্জ করার সময় সেই ডায়েরিটা হারিয়ে গেছে।
কত যে কষ্ট পেয়েছিলাম।
..........
ইমন ভাইয়ের লেখা পড়ে আবার সেইসব মনে পড়লো।
জীবনানন্দ সবসময় আমাদের জন্য,সমাজের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক তা বলা বাহুল্য।

তাঁর 'অদ্ভূত আঁধার' কবিতাটা পড়লে আমি এখনো অবাক হয়ে ভেবে যাই।
..........
ভাল থাকবেন ইমন ভাই।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২১

লেখক বলেছেন: সেই হারিয়ে যাওয়া ডায়েরিটার জন্য আমারও খারাপ লাগছে।
ভাঙ্গনও যেন ভালো থাকে।

'অদ্ভূত আঁধার' এর মতন আরও একটা কবিতা আমাকে অবাক করে দেয়। কবিতার নাম: "ইহাদেরি কানে"

একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে – একবার বেদনার পানে
অনেক কবিতা লিখে চলে গেলো যুবকের দল;
পৃথিবীর পথে-পথে সুন্দরীরা মূর্খ সসম্মানে
শুনিল আধেক কথা – এই সব বধির নিশ্চল
সোনার পিত্তল মূর্তি: তবু, আহা, ইহাদেরি কানে
অনেক ঐশ্বর্য ঢেলে চলে গেলো যুবকের দল:
একবার নক্ষত্রের পানে চেয়ে – একবার বেদনার পানে।

৯. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১৫
মহলদার বলেছেন: জীবনানন্দ আমি খুব বেশী পড়িনি। সামান্য যা একটু-আধটু পড়েছি তাতে একটা বিষয় আমার খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হয়, লেখায় যত সব বিচিত্র গাছ-পালা, পশু-পাখির নাম এসেছে তা বোধহয় খুব কম কবি বা লেখকের লেখায় এসেছে। এই পোষ্টটায় ই দেখুন কত কি চলে এসেছে- ঘাই হরিণী, ঘোড়া, মৃগ, ভেড়া, দূর্গা টুনটুনি, ইঁদুর, লক্ষ্মী পেঁচা, বাঁদুড়, গাংচিল, শালিক, শঙ্খ চিল, জোনাকি, মৌমাছি, খঞ্জনা, চড়াই, কোকিল, বউকথাকও, খয়েরি শালিক, চকোরি, হলদেপাখি, কোকিল, ঘুঘু, শ্যামা পোকা, কাঁচপোকা, চিতল, সরপুঁটি আরো কত কি। তার পর ধরুন আমগাছ, অশ্বত্থ গাছ, সজনে, পেয়ারা, জামরুল , কৃষ্ণচূড়া , মাদার, হিজল, পলাশ, অর্জুন, আমলকি, ছাতিম গাছ, পেয়ারা, জামরুলতলা, লেবু গাছ, মুহুরি গাছ, খইধান, মৌরি, কৃষ্ণচূড়া আরো কত কি তাই না? তাঁর লেখা পড়লে সত্যিই রূপসী বাংলার প্রকৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৮

লেখক বলেছেন: (জীবনানন্দের) লেখায় যত সব বিচিত্র গাছ-পালা, পশু-পাখির নাম এসেছে তা বোধহয় খুব কম কবি বা লেখকের লেখায় এসেছে।
হ্যাঁ। খুবই সত্যি কথা।
জীবনানন্দ আর বিভূতিভূষন -এঁরা দুজনই বাংলার উদ্ভিদের জগৎটি তুলে এনেছেন তাদের রচনায়।

১০. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৫
দীপান্বিতা বলেছেন: জীবনানন্দ এক বিস্ময়!
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। দীপা।

১১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫১
পাপতাড়ুয়া বলেছেন: ইমন দা,অনেক সুন্দর একটা বিশ্লেষণ।বারবার পড়তে হবে এবং পড়ার মত।প্রিয় কবি।


আমার এক বন্ধু জীবনবাবু পড়ে না(তার প্রিয় কবি কিন্তু জীবনবাবু)তার কথা হলো,উনি কেবল মৃত্যু আর হারিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।


আমারো মনে হয় কিছু টা।এ ব্যপারে বিস্তারিত একটা পোস্ট হতে পারে।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৪

লেখক বলেছেন: মৃত্যু জীবনের এক প্রধান বিষয় বলেই জীবনানন্দের লেখায় প্রাধান্য পেয়েছে। তবে মৃত্যুই সব নয়। একটা গল্পে তিনি লিখেছেন: কেবল আকাশের পাখিরা বেঁচে থাকলেই বাঁচার ঢের উৎসাহ পাওয়া যায়।

১২. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৩
কঁাকন বলেছেন: @ পাপী জীবনানন্দের লিখা মৃত্যুময় কিন্তু সেটা তো মৃত্যু নিয়ে রোমান্টিসিজম; মৃত্যু তো তার লিখায় বিভৎসতা নিয়ে না বরং মহিমান্বিত হয়েই এসেছে অবশ্য তার লিখা পড়ে আমার মৃত্যুকেও চেখে দেখতে ইচ্ছে হয়েছে কিন্তু মৃত্যু চেখে আবার জীবনে ফেরত আসার রাস্তা নেই বলে এখনো অপেক্ষা করছি; ভালো থাকবেন
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন।

১৩. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩১
মেঘ রোদ্দুর বলেছেন:
আমারো প্রিয় কবি, কিন্ত পড়ি না ........শুধু বিষন্নতা, হেরে যাওয়া খুজে পাই এজন্য


লেখক বলেছেন: একটা গল্পে তিনি লিখেছেন: কেবল আকাশের পাখিরা বেঁচে থাকলেই বাঁচার ঢের উৎসাহ পাওয়া যায়।

অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর পোস্ট আর মন্তব্যর জন্য......অনেক কিছু জানা হল
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: গল্পের নাম "চাকরি নেই"; ১৯৩২ সালে লেখা।
ধন্যবাদ।

১৪. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৪
অমিত চক্রবর্তী বলেছেন: উত্তল কিংবা অবতল নয়।সমতল দর্পনেই দেখা অনুভূতি ও চেতনাকে অন্য মাত্রা দিয়ে গিয়েছেন কবি।
লেখক, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই অসাধারন পোষ্টের জন্য।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৭
রি য়া দ বলেছেন: বাড়িটাতে সবাই ছিলো..আর ছিলো জোৎস্না ও জোনাকি..
এখন কেউ নেই..আর কিছু নেই..
শুধু বাড়িটা আছে..
আর আছি..আমি.. :(

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: একদিন রাতের পৃথিবী জোনাকিদের হবে।

১৬. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৪
তারার হাসি বলেছেন:
জ়োনাকি...
যখন জ়ীবনানন্দ কারো মাথায় ভর করে তখন তা ভাল করেই করে।
আবারো দেখা হল এই কবিকে।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৪

লেখক বলেছেন: একদিন রাতের পৃথিবী জোনাকিদের হবে।

১৭. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:১২
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আনিসুল হকের একটা উপন্যাস আছে জীবনানন্দ দাসকে নিয়ে । উপন্যাসটার নাম মনে করতে পারছি না।
০৬ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: নামটা আমিও জানতাম, এখন মনে করতে পারছি না।

১৮. ০৪ ঠা জুন, ২০১০ বিকাল ৩:১৮
নুরুন নেসা বেগম বলেছেন: দুনিয়ায় কত আছে জানবার----ধন্যবাদ।
০৪ ঠা জুন, ২০১০ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৯. ০৮ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:০৪
অন্ধ আগন্তুক বলেছেন: আমার সমস্যাটা কি ?? এই লেখা এতোদিন কোথায় ছিলো, আমি দেখি নাই কেন ???

অসাধারণ লেখনী আর বিশ্লেষণ, ঘোরলাগা বরাবরের মতোই। প্রিয়তে।

অ ট- আনিসুল হক এর বইটার নাম "এতদিন কোথায় ছিলেন", এই বইটা আমাকে সেভাবে টানেনি। প্রচুর উপাত্ত আছে, কিন্তু কেমন যেন ছাড়া ছাড়া ছায়াচিত্র। অবশ্য একান্ত নিজস্ব মতামত।
০৮ ই জুন, ২০১০ সকাল ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: প্রায় ৯ শতাধিক পোস্ট করেছি। এর মধ্যে থেকে একটা লেখা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর তখন জীবনানন্দের গল্পগুলি পড়ছিলাম। যার ফলসরূপ এই লেখা।
অনেক ধন্যবাদ।

২০. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৮
সোহরাব সুমন বলেছেন: আমার আইডিএম কাজ করতাছে পুরা একটা জীবনান্দ দেন না থাকলে।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:৪৫

লেখক বলেছেন: বুঝলাম না।

২১. ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৪
সোহরাব সুমন বলেছেন: মানে বই মেইল করলে নামাইতে পারমু। জীবনানন্দও। আচ্ছা একটা কথা ইমন ভাই শেষ পর্যন্ত তিনি কী আসলেই জোনাকিদের ভাষা আর গল্পগুলা জেনে যেতে পেরেছিলেন.... এই বিষয়েতো কিছুই বলেন নাই
১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ ভোর ৬:৫৬

লেখক বলেছেন: তোমার কি মনে হয়? :P

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬৭৮১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

zubairhossain@msn.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ