মংগোল সম্রাট হালাকু খান। সময়কাল ১২১৭ থেকে ১২৬৫ খ্রিস্টাব্দ। হালাকু খান এর পিতামহ ছিলেন মংগোল সাম্রাজ্যের স্থপতি সম্রাট চেঙ্গিস খান; বাবার নাম তোলুই, মায়ের নাম সোরঘাগতানি বেইকি। হালাকু খান খ্রিস্টানদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হালাকু খান-এর মা ছিলেন নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টান এমন কী হালাকু খান-এর একজন সেনাপতি এবং অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন ছিলেন খ্রিস্টান । তবে একটি সূত্র থেকে জানা যায় মৃত্যুর পূর্বে হালাকু খান বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন। হালাকু খান রক্তপাতের জন্য কুখ্যাত। তারই পরিচালিত অভিযানে ১২৫৭ সালে ধ্বংস হয়েছে বাগদাদ, ১২৬০ সালে ধ্বংস হয়েছে সিরিয়া। এরকম একজন রক্তপিপাসু সম্রাট মৃত্যুর পূর্বে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করলেন! এ জন্যই প্রশ্ন ওঠে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?
প্রাচীন ভারতের মানচিত্র। প্রাচীন ভারতেরই এক সম্রাট যুদ্ধের তান্ডব দেখে ব্যথিত হয়ে উঠেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। অশোকের সময়কাল অবশ্য খ্রিস্টপূর্ব ৩০৪ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২...
সম্রাট অশোক। প্রাচীন ভারতের মৌর্যবংশের সম্রাট ছিলেন অশোক । শাসন করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ থেকে ২৬৯ খ্রিস্টপূর্ব । আমরা ২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধ কথা জানি। কলিঙ্গর অবস্থান ছিল বর্তমানকালের উড়িষ্যায়। যে যুদ্ধের রক্তপাত দেখে হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন।মংগোল সম্রাট হালাকু খান এর জীবনেও তেমনই এক মানবিক ঘটনা ঘটতে দেখি।
মংগোলিয়ার মানচিত্র। এখানেই উত্থান হয়েছিল চেঙ্গিস খান হালাকু খান প্রমূখ রক্তলোলুপ মংগোল সম্রাটদের।
১২৫৫ সালে মংগোলরা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অভিমূখে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অনিবার্যভাবেই সে অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন হালাকু খান।

হালাকু খানের সফল নেতৃত্বে মংগোল সৈন্যরা ১২৫৭ সালে বাগদাদ ধ্বংস করে, এবং এর ৩ বছর পর ১২৬০ সালে সিরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সেই সময়ে মিশর শাসন করছিল বাহরি মামলুক সুলতানরা। মিশরও পদানত করেন হালাকু খান। এভাবে মিশর থেকে মংগোলিয়া অব্দি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
হালাকু খান মারা যান ১২৬৫ সালে।
লেক উরমিয়া। উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি লবনহ্রদ। এই হ্রদের একটি দ্বীপেই হালাকু খানের সমাধি রয়েছে।
হালাকু খান এর নেতৃত্বে সামরিক অভিযানের সময় অসংখ্য মৃত্যু ও প্রচুর রক্তপাত অনুমান করা যায়। মনে প্রশ্ন জাগেএ বিষয়ে হালাকু খান এর কী রকম অনুভূতি হয়েছিল। তার কি বিবমিষা জাগ্রত হয়েছিল? তার মনে কি দয়া ও করুনার উদয় হয়েছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর হয়ত পাওয়া যাবে না।
তবে তিনি মৃত্যুর পূর্বে হালাকুর অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন এর প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এরকম একটি তথ্য পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ...
Hulagu told the Armenian historian Vardan Arewelc'i in 1264 that he had been a Christian since birth. It is recorded however that he was a Buddhist. as he neared his death, against the will of his Christian wife Dokuz Khatun.
হালাকু এখনও রক্তপাতের প্রতীক। অথচ তাঁর শেষ জীবনের চিন্তার মানবিক বাঁক আজও অনালোচিত!
২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধের পর হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। হালাকু খানও কি অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন? তবে তিনি হয়ত বৃহদকার মংগোল সাম্রাজ্যের স্বার্থেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেননি। বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করাটা ছিল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন তো হতেই পারে হালাকু খান রক্তপাতের ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছিলেন, বিবেকের তাড়নায় গ্রহন করেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম।
কাজেই এ প্রশ্ন উঠতেই পারে ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?
বুদ্ধ। যিনি বলেছিলেন ... Even death is not to be feared by one who has lived wisely.
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


