somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?

১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মংগোল সম্রাট হালাকু খান। সময়কাল ১২১৭ থেকে ১২৬৫ খ্রিস্টাব্দ। হালাকু খান এর পিতামহ ছিলেন মংগোল সাম্রাজ্যের স্থপতি সম্রাট চেঙ্গিস খান; বাবার নাম তোলুই, মায়ের নাম সোরঘাগতানি বেইকি। হালাকু খান খ্রিস্টানদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। হালাকু খান-এর মা ছিলেন নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টান এমন কী হালাকু খান-এর একজন সেনাপতি এবং অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন ছিলেন খ্রিস্টান । তবে একটি সূত্র থেকে জানা যায় মৃত্যুর পূর্বে হালাকু খান বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন। হালাকু খান রক্তপাতের জন্য কুখ্যাত। তারই পরিচালিত অভিযানে ১২৫৭ সালে ধ্বংস হয়েছে বাগদাদ, ১২৬০ সালে ধ্বংস হয়েছে সিরিয়া। এরকম একজন রক্তপিপাসু সম্রাট মৃত্যুর পূর্বে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করলেন! এ জন্যই প্রশ্ন ওঠে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?




প্রাচীন ভারতের মানচিত্র। প্রাচীন ভারতেরই এক সম্রাট যুদ্ধের তান্ডব দেখে ব্যথিত হয়ে উঠেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। অশোকের সময়কাল অবশ্য খ্রিস্টপূর্ব ৩০৪ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৩২...



সম্রাট অশোক। প্রাচীন ভারতের মৌর্যবংশের সম্রাট ছিলেন অশোক । শাসন করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ থেকে ২৬৯ খ্রিস্টপূর্ব । আমরা ২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধ কথা জানি। কলিঙ্গর অবস্থান ছিল বর্তমানকালের উড়িষ্যায়। যে যুদ্ধের রক্তপাত দেখে হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন।মংগোল সম্রাট হালাকু খান এর জীবনেও তেমনই এক মানবিক ঘটনা ঘটতে দেখি।



মংগোলিয়ার মানচিত্র। এখানেই উত্থান হয়েছিল চেঙ্গিস খান হালাকু খান প্রমূখ রক্তলোলুপ মংগোল সম্রাটদের।

১২৫৫ সালে মংগোলরা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অভিমূখে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। অনিবার্যভাবেই সে অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন হালাকু খান।



হালাকু খানের সফল নেতৃত্বে মংগোল সৈন্যরা ১২৫৭ সালে বাগদাদ ধ্বংস করে, এবং এর ৩ বছর পর ১২৬০ সালে সিরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সেই সময়ে মিশর শাসন করছিল বাহরি মামলুক সুলতানরা। মিশরও পদানত করেন হালাকু খান। এভাবে মিশর থেকে মংগোলিয়া অব্দি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।




হালাকু খান মারা যান ১২৬৫ সালে।




লেক উরমিয়া। উত্তর-পশ্চিম ইরানে অবস্থিত একটি লবনহ্রদ। এই হ্রদের একটি দ্বীপেই হালাকু খানের সমাধি রয়েছে।

হালাকু খান এর নেতৃত্বে সামরিক অভিযানের সময় অসংখ্য মৃত্যু ও প্রচুর রক্তপাত অনুমান করা যায়। মনে প্রশ্ন জাগেএ বিষয়ে হালাকু খান এর কী রকম অনুভূতি হয়েছিল। তার কি বিবমিষা জাগ্রত হয়েছিল? তার মনে কি দয়া ও করুনার উদয় হয়েছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর হয়ত পাওয়া যাবে না।
তবে তিনি মৃত্যুর পূর্বে হালাকুর অন্যতম প্রিয় স্ত্রী ডোকুজ খাতুন এর প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এরকম একটি তথ্য পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ...
Hulagu told the Armenian historian Vardan Arewelc'i in 1264 that he had been a Christian since birth. It is recorded however that he was a Buddhist. as he neared his death, against the will of his Christian wife Dokuz Khatun.



হালাকু এখনও রক্তপাতের প্রতীক। অথচ তাঁর শেষ জীবনের চিন্তার মানবিক বাঁক আজও অনালোচিত!

২৬৫-২৬৪ খ্রিস্টপূর্বে সংঘটিত কলিঙ্গ যুদ্ধের পর হতাশ হয়ে অশোক শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করেছিলেন এবং আর কোনও যুদ্ধে না-জড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। হালাকু খানও কি অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছিলেন? তবে তিনি হয়ত বৃহদকার মংগোল সাম্রাজ্যের স্বার্থেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেননি। বৌদ্ধধর্ম গ্রহন করাটা ছিল তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এমন তো হতেই পারে হালাকু খান রক্তপাতের ওপর বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছিলেন, বিবেকের তাড়নায় গ্রহন করেছিলেন শান্তিবাদী বৌদ্ধধর্ম।
কাজেই এ প্রশ্ন উঠতেই পারে ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে মংগোল সম্রাট হালাকু খান কি দ্বিতীয় অশোক-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন?



বুদ্ধ। যিনি বলেছিলেন ... Even death is not to be feared by one who has lived wisely.


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১০ দুপুর ২:১৫
২০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×