নির্জন দীঘির পাড়ে সন্ধ্যা
১২৬০ খ্রিস্টাব্দের বর্ষাকালের মাঝামাঝি এক সন্ধ্যা ।
বাঙ্গালার এক নিভৃত পাড়াগাঁয়ের এক নির্জন দীঘির পাড়ে এক তরুণ মুসাফির দাঁড়িয়ে ছিল । মুসলমান তরুণটির নাম ইয়াসিন মালিক; তরুণের পরনে সাদা রঙের চাপকানের ওপর কালো রঙের চোগা, কালো রঙের পায়জামা, মাথায় সবুজ টুপি। তরুণের গায়ের রং ফরসা, চোখ দুটি আয়ত ও উজ্জ্বল, মুখময় বাদামি চাপ দাড়ি; কাঁধে রেশমী কাপড়ের ঝুলি, কোমরবন্ধে সুতীক্ষ্ম তরবারি।
বহু পথ অতিক্রান্তের ফলে মুসাফিরকে মুখ ক্লিষ্ট দেখায়। তথাপি এই মুহূর্তে সন্ধ্যালগ্নের গভীর ছায়ায় ছাওয়া দীঘির বিস্তীর্ণ কালচে পানি দেখে ভিনদেশি তরুণ মুসাফিরটি মুগ্ধ হয়ে যায়। তার দিলে কাঁপন ধরে। তরুণটি কবি বলেই ঘোর লাগে, যেন সদ্য মোরাকাবা থেকে উঠে এসেছেন ঋদ্ধ এক পীর কিংবা সমরখন্দের পান্থশালায় রাত্রিভর পান করেছে পারস্যের ‘মেই’ মদিরা ।
বাঙ্গালার নিভৃত এক পাড়াগাঁয়ের এক নির্জন দীঘির এমনই মায়া ঘোর।
তদুপরি সন্ধ্যা নামছিল বলেই রক্তিম আকাশের বুক চিরে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা উড়ছিল । দূরের দিগন্ত রেখায় একখানি পূর্নাঙ্গ চাঁদের উদ্ভাস, ইয়াসিন মালিকের বিশ্বাস: মেঘ না করে এলে আজ রাতটি হতে পারে চাঁদনি সফেদ রাত। দীঘির পাড়ে পাড়ে ঘন গাছগাছালির সারি, তার ওপর স্নিগ্ধ কিরণ ঝরে ঝরে পড়ে। চারিদিকে অদৃশ্য ঝিঁঝির ডাক ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে উঠতে থাকে। দূরে শেয়ালের ডাকও শুনতে পায় ইয়াসিন মালিক।
এ দিকটায় কতগুলি সারিবদ্ধ তালের গাছ। ঘাসে ছাওয়া পাড়টি গড়িয়ে নেমে গেছে দীঘির পানির কিনারায় । ইয়াসিন মালিক তরবারি খুলে ঘাসের ওপরে রাখে; তারপর নিপুন ভঙ্গিতে ঢাল বেয়ে পানির কাছে চলে যায়; অজু করে। তারপর আবার পাড়ে উঠে আসে, উচ্চস্বরে আজান দেন। আজান শেষে পশ্চিমমুখী হয়ে নামাজ আদায় করে।
ততক্ষণে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে। চতুর্দিক থেকে মশারা এসে আক্রমন করছে।
রাতের আশ্রয়ের খোঁজে হাঁটতে থাকে ইয়াসিন মালিক।
ইয়াসিন মালিকের বৃত্তান্ত
ইয়াসিন মালিকের জন্ম ইয়েমেন দেশের জাবাল আল তাইর প্রদেশে। তার বাবা শাহ্ আব্বাস শেখ পঁচিশ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেছিলেন; ইয়াসিনের সে সময় দুই বছর বয়স । ইয়াসিন মাতামহ আমজাদ বেহরৌজ ইয়েমেনের তিহামা প্রদেশে বড় হাকিম। ইয়াসিন শোকগ্রস্থা মায়ের সঙ্গে মাতামহের বাড়িতে বড় হয়। ইয়াসিনের মায়ের বিশ্বাস তার স্বামী বেঁচে আছেন। স্বপ্নে দেখেছেন শাহ্ আব্বাস শেখ হিন্দুস্থানে বহাল তবিয়তে আছেন। ইয়াসিন আমজাদ বেহরৌজ এর কঠোর তত্ত্বাবধানে বড় হয়, কিশোর বয়স থেকে হেকিমি বিদ্যা আয়ত্ম করতে থাকে। ক্রমে ইয়াসিন তরুণ বয়সে উপনীত হয়। তখন তার মা বলেন, তোমার আব্বা জানকে কৌশিশ করো।
মায়ের আদেশে বাবাকে খুঁজতে বের হয় ইয়াসিন। একদল মুসাফিরের সঙ্গে আরব উপদ্বীপ হয়ে পারস্য পৌঁছে ইয়াসিন। ইয়াসিন সুদর্শন তরুণ; আরবি কবিতা কন্ঠস্থ, উপরোন্ত প্রতিভাবান হেকিম -পারস্যের কেরমান প্রদেশের এক ধনী ব্যবসায়ীর নজরে পড়ে যায় সে। ব্যবসায়ীর নাম বাহরাম আসগর; কেরমান প্রদেশে এক চেহেল সতুন-এ (চল্লিশ স্তম্ভ বিশিষ্ট প্রাসাদ) বাস করত। সেই ধনবান ব্যবসায়ীর খুবসুরৎ এক কন্য ছিল। অস্টাদশী সে কন্যার নাম গুলেনার। গুলেনার অপূর্ব রূপ দর্শন করে মায়ের আদেশ বিস্মৃত হয়ে যায় তেইশ বছরের তরুণ ইয়াসিন। গুলেনারের সঙ্গে ধুমধাম করে শাদী হয় তার। সে শাদীতে বয়েছিল ধনরতেœর নহর, বেশুমার রোশনাই। কেরমান প্রদেশের মানুষের মুখে মুখে বহুকাল ফিরবে সে বিবাহের কথা । বিবাহের পূর্বে ইয়াসিন মালিকের ছিল কুমার। মা ও মাতামহের কড়া নজরে ছিল। গুলেনারের সফেদ নগ্ন শরীর ছুঁয়ে ছেনে দিশেহারা বোধ করে মখমল নম্র বিছানায়, নম্র ভদ্র তরুণ ইয়াসিনের ছালের ভেদ করে বেড়িয়ে আসে সমরখন্দের উদ্যত বন্য ভালুক...গুলেনারের তৃষ্ণা তবুও নির্বাপিত যায় না ... বিবাহের পূর্বে গুলেনার মোটেও কুমারী ছিল না .. মেয়েটির অজাচার কেরমান বাসী জানে ...বুদ্ধি করে ধুরন্ধর বনিক বাহরাম আসগর ভিনদেশি পাত্রের কাছে অর্পন করেছে ... ,বহুভোগ্যা অষ্টাদশীটি শেষ রাত অবধি গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে, উদ্যত ভালুককে আঁচড়ায় কামড়ায় ... এভাবে বন্য ভালুকটিকে নিঃস্ব করে ফেলতে চায় ... কারও কারও সুখ চিরকাল সয় না। আল্লাহতালার ইচ্ছে তেমন নয়ও ...সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় গুলেনার ইহ জগতের মায়া কাটিয়ে পরকালে চলে যায় ...ভগ্নহৃদয় ইয়াসিন মালিক আবার পথে নামে। হিন্দুস্থানে আসে। আগ্রায় এক সরাইখানায় উঠেছিল। মন খারাপ করে যমুনার ধারে বসে থাকত মধ্যরাত অবধি। এক রাতের স্বপ্নে পূর্বদিকে যাওয়ার নির্দেশ হয়। বিহার পর্যন্ত বড় একটি ইসলাম প্রচারক দলের সঙ্গে ছিল ইয়াসিন । এরপর ঠগীদের খপ্পড়ে পড়েছিল। কে কোথায় ছিটকে যায়! বাঙ্গালা মুল্লুকে একাই এসেছে। তার মনে হয় তার বাবা শাহ্ আব্বাস শেখ বাঙ্গালা মুলুকের কোথাও আছে...
দীঘির পাড় ঘেঁষে ইয়াসিন মালিক হাঁটতে থাকে।
দীঘির পাড়ে আবছা অন্ধকার আর ঘন বাঁশঝাড়। অবশ্য জ্বোনাকীর আলোয় ভরে আছে। নির্ভীক ইয়াসিন বাঁশ ঝাড়ে প্রবেশ করে। তার পায়ের নীচে অজস্র শুকনো পাতা। বাতাসে কচি বাঁশ পাতার গন্ধ, মৃদু ঘর্ষন-ধ্বনি। ঝিঁঝির ডাক গভীর হয়ে উঠছিল। খস খস শব্দ ওঠে। আপনাআপনি হাত চলে যায় কোমড়বন্ধের কাছে। নিরীহ খরগোশ কি বুনো শূকর-ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। আরও কিছুদূর যেতেই আধো অন্ধকারে পুকুর চোখে পড়ে। তার টলটলে পানিতে চাঁদের ছায়া। পুকুর পাড়ে আবছা একটি কাঠামো চোখে পড়ে। পুরাতন অট্টালিকা হবে হয়তো। পাথরে বাঁধানো বড় একটি চাতাল। ফুটফুটে জোছনায় দেখা যায় চাতাল ঘিরে কয়েকটি দালান। একটি দালান এখনও অক্ষত রয়েছে, ছাদ ধসে পড়েনি। চাতালে অনেক শুকনো পাতা পড়েছিল। ইয়াসিন সে পাতা জড়ো করে নিয়ে আসে। ঝুলি থেকে চকমকি পাথর বের করে আগুন ধরায়। ধক করে কমলা রঙের আগুন জ্বলে ওঠে। টের পেল খিদে পেয়েছে। কেরমান প্রদেশে শ্বশুরালয়ে সুখে ছিল। দাসদাসী সর্বক্ষণ সেবায় নিয়োজিত ছিল। আর এখন? ঝুলি থেকে শক্ত রুটি বার করে, মধু মাখিয়ে চিবায়। মশক বার করে পানি খেল। শুকনো কিসমিস চিবাল।
অপূর্ব জ্যোস্না ছড়িয়ে আছে চাতালে।
ইয়াসিন মালিকের ঘোর লাগে।
সে ঘুমিয়ে পড়ে।
কাঞ্চনা
মাঝরাত।
চাতালের শুকনো পাতার ওপর দিয়ে কে যেন হেঁটে যায়। সেই খসখস মৃদু শব্দে ইয়াসিন মালিকের ঘুম ভেঙে যায়। পাশে রাখা তরবারি টেনে নেয়। চাতালে ঘন জোছনা। একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে। মেয়েটির হাতে কি যেন? দড়ি? ইয়াসিন চমকে ওঠে।দ্রুত উঠে মেয়েটি সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আশ্চর্য! মেয়েটি চমকে উঠল না।
ইয়াসিন মেয়েটির হাত থেকে দড়ি ছিনিয়ে নিয়ে বলল, ছিঃ!
মেয়েটি মাথা নীচু করে।
যাও, ঘরে যাও । ইয়াসিন ইশারায় বলে।
মেয়েটি চলে যায়। দ্রুত পায়ে।
ফিরে এসে ইয়াসিন মালিক ঘুমের চেষ্টা করে। অনেক ক্ষণ হল আগুন নিভে গেছে। তার ঘুম আসে না। কে মেয়েটি? এত রাতে এখানে কি করছিল। হাতে দড়িই-ই বা ছিল কেন? এসব প্রশ্ন মাথার ভিতরে উঁকি দেয়। মেয়েটির সঙ্গে কথা বলা দরকার ছিল। অস্বস্তি বোধ করে ইয়াসিন।
...কখন ঘুমিয়ে পড়ে।
পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে ভোরে ।
দিনটি মেঘলা বলে আজ আর আলো ফুটল না।
পুকুরে অজু সেরে এসে নামাজ পড়ে নিল। তার আগে নির্জনতা কাঁপিয়ে আজান দিল।
মেয়েটি আসে।
ঝিরঝির বৃষ্টি ঝরছিল। কলাপাতায় কী যেন ঢেকে এনেছে। ইয়াসিন মেঝের ওপর বসে ছিল। তসবি জপছিল। সে অবাক হয়। ওর পাশে লাল মাটির বাসন রাখল মেয়েটি। কলাপাতা সরিয়ে দেখল ভাত আর দই। বিহারের সরাইখানায় এ খাবার খেয়েছে। মেয়েটি দৌড়ে নারকেলের মালায় পুকুর থেকে পানি এনে দিল।
খিদে পেয়েছিল ইয়াসিনের। সঙ্গে খাবার-দাবার যা ছিল ফুরিয়ে গেছে।
খেতে খেতে ইয়াসিন হাতের ইশারায় জিগ্যেস করে, কি নাম?
কাঞ্চনা। মিষ্টি কন্ঠস্বর। দেখতেও চমৎকার। শ্যামলা রঙের মিষ্টি মুখ। বড় বড় উজ্জ্বল চোখ। মুখখানি ঘোমটায় ঢাকা।
খাবারটার স্বাদ কেমন টক টক। তবে ভালো লাগল খেতে।
থাকা হয় কই?
কাছেই, গ্রামে। কাঞ্চনা হাত তুলে দেখাল।
তা কাল রাতে মরতে গিয়েছিলে কেন-স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বুঝি?
কাঞ্চনা চুপ করে থাকে।
বুঝেছি। তা ছেলেমেয়ে ক’টি তোমার?
মাথা নাড়ল। তার মানে হয়নি।
বুঝেছি।তা আমি ভিনদেশি মানুষ-বুঝলে?
কাঞ্চনা মাথা নাড়ে।
ইয়াসিনের খাওয়া শেষ। পানি খেয়ে হাত ধুয়ে নেয়, রূমাল বার করে মুখ মুছে নেয়। বলে, আমি আমার বাবাকে খুঁজতে এসেছি।
কথাটা শুনে কাঞ্চনার মুখের রং কেমন বদলে যায়। উঠে দাঁড়িয়ে ইশারায় বলে, আমার সঙ্গে আসুন।
কোথায়?
কথা না-বলে হাঁটতে থাকে কাঞ্চনা।
ইয়াসিন উঠে দাঁড়ায়।
তারপর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে কাঞ্চনাকে অনুসরন করতে থাকে।
শাহ্ আব্বাস শেখ-এর জীবনকাহিনী
দীঘির পাশ দিয়ে পথ।
যেতে যেতে কাঞ্চনা বলল, এই দীঘির নামই রানীর দীঘি।
ওহ্।
ঝির ঝির বৃষ্টি। আকাশ মেঘলা। ডান পাশে কলাঝোপ। সাদা রঙে গাই। ওদের দেখে হাম্বা রবে ডেকে ওঠে। গোয়াল ঘরের পাশ দিকে সরু পথ। উঠান। লোকজন চোখে পড়ল না। উঠানে কাদা।
একটা ঘরের সামনে থেমে কাঞ্চনা ইশারায় ভিতরে যেতে বলে।
ইয়াসিন ঘরে ঢোকে।
ঘরের ভিতরে আধো অন্ধকার। মাঝখানে একটা চৌকি, চৌকির ওপরে একজন বৃদ্ধ বসে। গায়ের রং ধবধবে ফরসা, মাথায় টাক, মুখে পাকা দাড়ি, জোরা পাকা ঘন ভুঁরুর নিচে নীলাভ দুটি চোখ, যদিও চোখের দৃষ্টি ঘোলা হয়ে এসেছে; ময়লা গেঞ্জি পরা, পরনে পাজামা;
বৃদ্ধ কাশছিল। এখন মুখ তুলে তাকাল। ইয়াসিন বলল, সালাম। আমি ইয়াসিন মালিক ।
বৃদ্ধের চোখে মুখে আলো ফুটে উঠল যেন।
আপনি কি শাহ্ আব্বাস শেখ?
বৃদ্ধ সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।
আপনার জন্ম কি ইয়েমেন দেশের জাবাল আল তাইর প্রদেশে?
হ্যাঁ।
আমি আপনার পুত্র। ইয়াসিন মালিক ।
আমার মায়ের নাম খোদাই করা এই চেরাগদানীটি দেখুন । বলে চাপকানের ভিতর থেকে একটি ছোট্ট পিতলের চেরাগদানী বার করে দিল ইয়াসিন।
চিনেছি। বস বাবা। শাহ্ আব্বাস শেখ-এর মুখচোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ইয়াসিন চৌকির কিনারে বসল। জানালার ওপাশে কলাঝোপ। ঝিরঝির বৃষ্টির শব্দ হয়। কাঞ্চনা ভিতরে এল না কেন? ও কি বাবাকে চেনে? নিশ্চয়ই চেনে।
বৃদ্ধ শাহ্ আব্বাস শেখ খনখনে কন্ঠে ছেলেকে এক বিচিত্র কাহিনী শোনান:
... পঁচিশ বছর বয়সে শাহ্ আব্বাস শেখ স্বপ্ন দেখে গৃহত্যাগ করেন । প্রথমে ইয়েমেন থেকে মক্কা শরীফ গেলেন হজ্জ পালন করার উদ্দেশে। মক্কায় সিরিয়ার বিশিষ্ট আলেম শাহ কুতুব ইব্রাহীমির কাছে দীক্ষা নিলেন। ওস্তাদ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে হিন্দুস্তান যেতে আদেশ করলেন। ইসলাম প্রচারকদের এক বৃহৎদলের সঙ্গে পারস্য হয়ে হিন্দুস্তান এলেন শাহ্ আব্বাস শেখ । দিল্লিতে কয়েক বছর থেকে ইসলাম প্রচারক দলের সঙ্গে বাঙ্গালায় এলেন। এক সরাইখানায় উঠেছিলেন। সেখানেই একটা স্বপ্ন দেখে দল পরিত্যাগ করেন। তারপর এখানে ওখানে ঘুরে সন্ধ্যালগ্নে এক দীঘির পাড়ে উপস্থিত হন। পরে জেনেছিলেন দীঘির নাম রানীর দীঘি। দীঘির অতল রূপে মুগ্ধ হন। তারপর নামাজ শেষে রাত্রি যাপনের কথা ভাবেন। দীঘির পাড়ে বাঁশ ঝাড়। আধো অন্ধকারে আবছা দালান চোখে পড়ে। পাথরে বাঁধানো বড় চাতাল। চাতাল ঘিরে ঘর। একটি তখনও অক্ষত। ছাদ ধসে পড়েনি। সেখানেই ঘুমোবার আয়োজন করেন। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। ...পাতার ওপর দিয়ে কে যেন হাঁটে। চাতালে ঘন জোছনা। দেখেন যে একটি মেয়ে। মেয়েটির হাতে কি যেন? দড়ি? শাহ্ আব্বাস শেখ চমকে ওঠেন। দ্রুত মেয়েটি সামানে গিয়ে দাঁড়ান। মেয়েটি চমকে উঠল না। তবে মাথা নীচু করে। যাও ঘরে যাও। বললেন । মেয়েটি চলে যায়। পরদিন খাবার নিয়ে মেয়েটি আসে । কথাবার্তা হয়। দিন কাটে। মেয়েটির সঙ্গে বিবাহ হয়। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মেয়েটি, তবে নাম বদল করতে রাজী হয়নি। এই গ্রামে ঘর বাঁধেন। অবশ্য বাচ্চাকাচ্চা হয়নি। বছর দশেক আগে বউ মরল। ওই তো বাঁশঝাড়ের ভিতরে কাঞ্চনার কবর। বলে শাহ্ আব্বাস শেখ হাত তুলে বললেন।
কী নাম বললেন! কাঞ্চনা?
হ্যাঁ। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী।
ইয়াসিন ভীষণ চমকে ওঠে।
দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসে সে।
মেঘলা উঠান খাঁ খাঁ করছে ।
কেউ দাঁড়িয়ে নেই...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


