somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ইমতিহান

০৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাবান মাসের মাঝামাঝি এক উজ্জ্বল সকাল। একটি ধূসর বর্ণের গাধার পিঠে একলপ্ত জিনিসপত্র চাপিয়ে পারস্যের কেরমান নগরের নগর তোরণ পেরিয়ে নগরের বাইরে চলে এল বাইশ বছর বয়েসী একজন পারসিক তরুণ। ১১৪০ সাল; বাগদাদে আব্বাসীয় খলিফা আল মুকতাফির-এর আমল। ছিপছিপে সুদর্শন ফরসা ও শ্মশ্রুমন্ডিত তরুণটির নাম মুনতাসির । নগরের বাইরে এসে সে সমুখের অইরান মরুভূমির দিকে তাকাল। কমলা রঙের উচুঁ নীচু বালির দরিয়া; মরুভূমির নাম লুত, মাঝেমাঝে সবুজ মরুদ্যানও চোখে পড়ে। মরুদ্যানে খুবানি, আখরোট আর নাশপাতির গাছের মনোহর শোভা; দূরে একটি দূর্গম পাহাড় দেখা যায়। পাহাড়ের নাম কোহে নেদা, তার বোরজ-এ সফেদ রঙের বরফের আচ্ছাদন। তবে এখন চলার পথে মাথার ওপরে গনগনে আফতাব । গরমি আর আতশ এর স্পর্শ পায় গাধা ও গাধাটির মালিক মুনতাসির ।
ওই কোহে নেদা পাহাড়ই তরুণ মুনতাসিরের আশু গন্তব্য। সে এলমে-দীন অর্জন করবে বলে এরাদা করেছে। পাহাড়ের অটুট নির্জনতাই এখন তার ইন্তেজারি। কেরমান নগরের এলজামে তার মন-মগজ বিপর্যস্ত। মুনতাসির-এর আব্বা মরহুম কেরমান নগরের দায়রা আদালতের কাজী উল-কুজাত। জবরদস্ত দানেশমন্দ ব্যক্তি ছিলেন রিয়াদ সাবরি । কাজেই পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে বিস্তর বহি ও কিতাব পেয়েছে মুনতাসির; আর পেয়েছে এক নির্দেশ। কিতাব পাঠ করতে হবে, তাহলেই আল্লাহ্র দর্শন মিলবে: মৃত্যুর পূর্বে পুত্রের প্রতি রিয়াদ সাবরির এই নিদের্শ ছিল। মুনতাসিরের মনের আরজুও অনুরূপ; সে মহান আল্লাহতালার নৈকট্য লাভ করতে ইচ্ছুক। এই উদ্দেশ্যে সে হররোজ কিতাব পাঠ করে, পাঠ করতে করতে গভীর এলহামও বোধ করে। তবে কেরমান নগরে বাস করে প্রবল অস্বস্তি বোধ করে মুনতাসির; নগরে খালি আখছা-আখছি আর গস্তানি-গস্তিদারের হল্লা। এই নগরে বাস করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব কি ? নগরে বড়ো বেশি আঞ্জুমান, বড়ো বেশি আড়ং। সে এখন জানে ওলি-আউলিয়াগন কেন নগরে এবাদত-বন্দেগী করেন না। তরুণ মুনতাসির সিদ্ধান্ত নিল যে সেও কেরমান নগর ছেড়ে চলে যাবে। তা ছাড়া আজ অবধি তরুণটির আকদও হয়নি; সে এক আজাদ তরুন;
সে নগর ত্যাগ করতেই পারে।
গরমি আর আতশ সহ্য করে তপ্ত বালির ওপর দিয়ে মুনতাসির চলেছে কোহে নেদা পাহাড়ের উদ্দেশে।
শেষ বিকেলের আগেই মরুভূমি পাড় হয়ে একটি বিস্তীর্ণ ভুট্টা ক্ষেতের কাছে চলে এল সে। ভুট্টা ক্ষেতের পরই পাহাড়ের ঢালের শুরু। এখানে একটি ঘন জয়তুন বনের বিস্তার; তার ভিতরে একটি পরিত্যক্ত মকবরা চোখে পড়ল। জয়তুন গাছের সবুজ বনের গাছে গাছে আকসার আবাবিল পাখির চেঁচামেচি; যেন ওদের ওয়ালিমা চলেছে । মুনতাসির আপন মনে হাসে।
ফিরোজা বর্ণের আসমানের নীচে নির্জন পাহাড় বেলাশেষের আলোয় নিথর হয়ে রয়েছে। এখানে-ওখানে বেশুমার রুক্ষ পাথর ছড়ানো । মুনতাসির পাথরে ফাঁক গলে ঢাল বেয়ে উঠতে থাকে উপরে। তার গাধাটির নাম: ‘কাওস’; সেও মুনিবের পিছন পিছন উঠতে থাকে । কিছুদূর ওঠার পর একটি একটি গুহামুখ দেখতে পেল মুনতাসির । গুহামুখে একটি ডালিমের গাছ। গুহার ভিতরে প্রবেশ করে আধো-অন্ধকারের মুখোমুখি হল। গুহাটি পরিচ্ছন্ন। দেওয়ালে যেন হলুদ রঙের আস্তরের মিহিন প্রলেপ। মেঝেটিও তদ্রুপ ;মসৃণ।
দূরন্ত বাতাস উড়িয়ে আনল কিছু ডালিমের ফুল গুলেনার।
কাওস-এর পিঠ থেকে একে একে গালিচা-ফরাস, তাকিয়া, গাঁটরি, চিলিমচি, ও বহি-কিতাবগুলি নামিয়ে রাখল। গুহার বাইরে স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা। মশক নিয়ে সে দিকে যায় মুনতাসির । তার আগে কাওস কে ছেড়ে দেয়। আল্লা তারও খাদ্য দূন্ঈয়ায় মজুদ রেখেছেন।
ফোয়ারার শীতল পানিতে গোছল সেরে পাক -পবিত্র বোধ করে মুনতাসির।
তারপর গুহায় ফিরে এসে গাঁটরি থেকে শুকনো রুটি, মধু ও শুকনো ভেড়ার গোশত বের করে খেল। মশক এ ফোয়ারার পানি ভরে এনেছে। খেল।
সন্ধ্যায় চেরাগ জ্বালালো । তারপর গালিচার ওপর বসে কিতাব টেনে নিল । কিতাবের নাম: ‘কিতাব ফুতু আর বুলদান’ (ইসলামী রাষ্ট্রের উদ্ভব)। রচয়িতা: আহমাদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-বালাধুরি। বিষয়: মহানবী ও খলিফাদের প্রাথমিক বিজয়। কিতাবটি রচনা করার জন্য আল্লামা বালাধুরি আরব দেশগুলিতে অনেক ঘুরে লিখেছেন। ফারসি ভাষায় লেখা বহিটি আরবিতেও অনুবাদ করেছেন বালাধুরি ।
পড়তে পড়তে মুনতাসিরের মস্তিস্কের করোটির গভীরে গভীর সুখানুভূতির স্রোত বইতে থাকে।
অনেক রাতে মুনতাসির গুহার বাইরে আসে।
বাইরে আসতেই এলোমেলো বাতাস ওকে জড়িয়ে ধরল। কাওস দাঁড়িয়ে ছিল গুহামুখে। ওর দীর্ঘ ছায়া পড়েছে। মুখ তুলে দেখল জয়তুন বনের উপরে একটি আলহেলাল। তবে এখনও চাঁদনির রুপালি আলো ঘন হয়ে ওঠেনি। তথাপি জয়তুন বনের দিক থেকে আতরের গন্ধ ভেসে এল যেন । নাকি আমার মনের আজগুবি খেয়াল? নির্জনে তরুণের মন আনচান করে।
বড়ো একটি পাথরের ওপর বসে সে।
রাত বাড়ে।
নির্জন রাত্রিতে রব এর কথা ভাবে সে । রবকে দেখার জন্যই তো এখানে আসা। রাত্রির আকাশে অজস্র আখতার ও আদমসুরাত। রব ওই আসমানের কোথাও আরশে বসে আছেন। কতকাল আগে আজল আফলাক সৃষ্টি করেছেন। খুদাতালার কী শান! আদল ও আদব এর কথাও ভাবে মুনতাসির । ভাবতে ভাবতে তার জববা লাগে তার। তখন বাতাসেরা এসে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খায়।
নিঃসঙ্গতা কাটাতেই যেন কাওস-এর সঙ্গে কথা বলে।
এক সময় ঘুম এসে যায় চোখে।
দিন যায়।
একদিন। সুবে সাদিকের পর ম্লান আলোয় গুহার ভিতরে ফরাসের ওপর শুয়ে ছিল মুনতাসির। আচানক ইয়াসমিন ফুলের তীব্র সুবাস পেল । কৌতূহলী হয়ে গুহার বাইরে বেরিয়ে এল সে। কম্বল-আবৃত দীর্ঘদেহী একজন আজনবী বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন। বৃদ্ধের গায়ের রং টকটকে ফরসা, মাথায় সবুজ দস্তার, পরনে কাল আলখাল্লা- তার ওপরই কম্বল জড়ানো এবং কম্বলের রংটি ধূসর। বৃদ্ধের হাতে একটি আসা। দীর্ঘ পুরুষ্ট ফরসা আঙুলে লাল রঙের ইয়াকুত মনি বসানো আংগস্তরি । ইনি কি কোনও আউল দরবীশ? কমলিওয়ালা? আরেফিন?
মুনতাসির বিস্মিত হয়ে যায়।

Sufism, Islamic mysticism that began to develop in the 7th century, the first century of Islam. The term sufi (Arabic, “man of wool”) was coined in the early 9th century as a name for mystics whose ascetic practices included wearing coarse woolen garments, or sufu; soon the term referred to all mystics, whether or not they followed ascetic practices ...

(মাইক্রোসফট এনকার্টা)

এ দেশে বৃদ্ধকে দেখে সালাম দেওয়াই দস্তুর।
মুনতাসির সালাম দিল।
আলায়কাসসালাম। জলদ গম্ভীর কন্ঠে বৃদ্ধ বললেন। বলে মাথা নাড়লেন। বললেন, আমার নাম মাজিন মিনহাজ। লোকে অবশ্য আমাকে বাবা আল মাজিন বলেই ডাকে।
মুনতাসির-এর দিল ধক করে উঠল। আপনি খোরাসানের দানেশমন্দ ওলি বাবা আল মাজিন ?
হ্যাঁ। বৃদ্ধ মাজিন মিনহাজ হাসলেন। বড়ো মধুর সে হাসি।
হ্যাঁ। মুনতাসির বাবা আল মাজিন এর নাম শুনেছে বৈ কী। অতি তালেবর ওলি। পারস্যবাসী এঁকে গভীর শ্রদ্ধা করে। কখনও গায়েব থাকেন, কখনও অবরে সবরে নগরে যান। সবচে বড়ো কথা- বাবা আল মাজিন একজন ‘গায়ের মোকাল্লেদ’- অর্থাৎ চার ইমামের কারও গোঁড়া অনুসারী নন। সে বলল, আমার নাম সাফি, মুনতাসির সাফি। আমার বাড়ি কেরমান নগর।
মাজিন মিনহাজ মাথা নাড়লেন।
মুনতাসির বলল, আমার পিতা রিয়াদ সাবরি ছিলেন ....মুনতাসিরের কথা শেষ হল না, মাজিন মিনহাজ বললেন, কেরমান নগরের দায়রা আদালতের কাজী উল-কুজাত রিয়াদ সাবরি ?
হ্যাঁ। আপনি আব্বাকে চেনেন!
চিনতাম। আমার ইয়ারবকশি ছিল সাবরি। আমরা একসঙ্গে বাগদাদের নিজামিয়ায় পড়াশোনা করেছি। অনেক তর্ক করেছি এক সময়।
মুনতাসির অবাক হল। কই, বাবা কখনও বলেনি আপনার কথা!
সে প্রশ্ন এড়িয়ে মাজিন মিনহাজ জিগ্যেস করলেন, তা তুমি এখানে কি করছ বাবা?
আমি এখানে কিতাব হেফজ করছি। নগরের ইল্লত ছেড়ে এখানে এসেছি।
ওহ্ ।
আসুন না দেখবেন। বলে মুনতাসির হাত তুলে পীরকে গুহামুখ দেখিয়ে দিল। ভোরের আলো ফুটে উঠছে। জয়তুন বনের দিক থেকে আবাবিল পাখিদের কিচিরমিচির কানে এল। মুনতাসিরের পাশে পাশে হাঁটছেন মাজিন মিনহাজ । অম্বরের কড়া গন্ধ পায় মুনতাসির । রুহানি পীরের শরীর নির্গত সুবাসে মুনতাসির শুনেছে ইবলিস পালায়। খান্নাসের অসওয়াসা দূর করে।
মাজিন মিনহাজ গুহার অন্দরে গেলেন। চারিদিকে তাকালেন। মেঝেতে ফরাস পাতা। ছোট্ট তাকিয়াও আছে।
চতুর্দিকে বেশুমার কিতাব ছড়ানো।
হুমম। এখানেই তা হলে তুমি কিতাব হেফজ করছ? মাজিন মিনহাজ জিগ্যেস করলেন।
হ্যাঁ। মাথা নাড়ল মুনতাসির।
কেন? নরম স্বরে জানতে চাইলেন মাজিন মিনহাজ। তারপর ফরাসের ওপর বসলেন। ইঙ্গিতে মুনতাসিরকেও বসতে বললেন।
আমি আল্লাহর দিদার লাভ করতে চাই ওলি। ফরাসের ওপর বসে মুনতাসির কাতর কন্ঠে বলল ।
আল্লাহর দর্শন চাও তুমি?
হ্যাঁ, আল্লামা।
তুমি কি মনে কর কিতাব হেফজ করলেই আল্লাহর দিদার লাভ করা সম্ভব?
হ্যাঁ।
কথাটা কে বলেছে তোমার শরীয়তপন্থী আব্বা হুজুর? কন্ঠস্বরে ব্যঙ্গ স্পষ্ট।
হ্যাঁ। মাথা নাড়ল মুনতাসির। ভিতরে ভিতরে বিস্ময় পুলক অনুভব করছে। আব্বা এত বড় ওলিকে চিনতেন, দু’জনে ইয়ারবকশিও ছিলেন বাগদাদে অথচ কখনও বলেননি। আজীব!
মাজিন মিনহাজ হাসলেন। বললেন, আরে ব্যাটা, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আগে তো আহলিয়াত অর্জন করতে হবে। তার কী হবে? কিতাবী এলেম অর্জন করে কি তা করা যায়?
তাহলে?
আল্লাহর দিদার লাভ করতে হলে আগে গরীব দুঃখীদের সেবা করতে হবে। কিতাব হেফজ করে কি লাভ রে ব্যাটা? আচানক মাজিন মিনহাজ হুঙ্কার ছাড়লেন।
মুনতাসির থ। এমন কথা সে আগে কখনও শোনে নি। তার আব্বা জবরদস্ত দানেশমন্দ ব্যক্তি ছিলেন। তিনিও কখনও বলেন নি। তিনি জীবনভর কেবল দিনার আর দিরহাম আয় করেছেন আর কিতাব হেফজ করেছেন।
মাজিন মিনহাজ বলে চলেছেন, বাগদাদের নিজামিয়ায় পাঠ শেষে তোমার আব্বা কেরমান নগরে ফিরে দায়রা আদালতের কাজী হল; আর আমি? বলে তীক্ষ্ম চোখে মুনতাসিরের চোখের দিকে তাকালেন। মুনতাসির রুহানি পীরের শরীর নির্গত অম্বরের কড়া গন্ধ পায়।
আমি এই কোহে নেদা পাহাড়ের উত্তর দিকে এক নগরে চলে গেলাম। মাজিন মিনহাজ বললেন। সে নগরের নাম আশরত। আশরত নগরে জন্মান্ধ, পঙ্গু ও কুষ্ঠদের বাস। পারস্যবাসী আশরত নগর এড়িয়ে চলে; আমি বারো সাল আশরত নগরে জন্মান্ধ, পঙ্গু ও কুষ্ঠদের খিদমত করলাম। তারপর ... তারপর আমি আমার রব এর দর্শন পেলাম।
মুনতাসির টের পেল তার শরীর ঘেমে উঠছে।
দূনঈয়ায় এখন আমার আর কোনও কাজ নেই। মাজিন মিনহাজ বললেন। আমি এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি। যখন প্রিয়তমের ডাক আসবে, চলে যাব।
মুনতাসির অবশ বোধ করে।
আসলে মূল কথা হল এস্ক। মাজিন মিনহাজ বললেন। তোমাকে আল্লাসৃষ্ট জীবের আশিক হতেই হবে বাবা। এতে কোনও বাহানা চলে না। এইই তোমার এলমে আকসির, এইই তোমার ইমতিহান (পরীক্ষা) এই তোমার আদল ও আদব। এই ইমতিহানে উত্তীর্ণ হলে ইলাহির দিদার মিলবে। নইলে না। এইই হল এলমে তাসাউফ-এর মূল। এইই হল তাকওয়া।
মুনতাসির চুপ করে থাকে। গুহার মেঝেয় মধুবর্ণের রোদ গড়িয়ে আসছে।
আজই তুমি আশরত নগরে রওনা হয়ে যাও বাবা। আর আমি এই অদরকারি কিতাবগুলি দজলা নদীতে ফেলে দেব। আশরত নগরে তুমি কম করে বারো সাল জন্মান্ধ, পঙ্গু ও কুষ্ঠদের খিদমত করবে। তা হলেই তোমার মনোবাসনা পূর্ণ হবে। কিতাবী এলেম অর্জন করে কোনও লাভ নেই বাবা।
অনেক ক্ষণ চুপ করে রইল মুনতাসির । কী যেন ভাবছে। গভীর ভাবে ভাবছে। আব্বা কখনও বলেননি জন্মান্ধ, পঙ্গু ও কুষ্ঠদের খিদমত করতে, বলেছেন কিতাব পাঠ করতে আর আপৎকালের জন্য দিনার-দিরহাম সঞ্চয় করতে ।
এক লহমায় মুনতাসিরের কাছে যেন সবই পরিস্কার হয়ে গেল।
উঠে দাঁড়াল সে। তারপর তহরিমা বেঁধে সামান্য ঝুঁকে মাজিন মিনহাজ এর দিকে অপলক চেয়ে বলল, আমি আপনার আহকাম মেনে নিলাম আল্লামা। আমি আপনার কাছে আহদ করলাম আমি আল্লাসৃষ্ট দুঃখী জীবের আশিক হব। আর এক্ষুণি আমি আশরত নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাচ্ছি। সে নগরে বারো সাল জন্মান্ধ, পঙ্গু ও কুষ্ঠ দের খিদমত করব।
আলহামদুলিল্লাহ্ ।
গুহার ভিতরে অম্বরের গন্ধ ঘন হয়ে ওঠে। ভোরের দামাল বাতাস উড়িয়ে আনল কিছু ডালিমের ফুল গুলেনার। সে গুলফাম তরুণের চোখে মুখে লাগে আল্লাহর রহমতের মতন। যেন আজ নওরোজ, যেন এখন নওবাহার; আর বেহেস্তি তাম্বুরার তারানা শুনতে পেল যেন।
সালাম এবং আলবেদা।
বলে মুনতাসির গুহার বাইরে চলে এল।
পরম করুনাময় আল্লাহতালা তোমার যাত্রা মঙ্গলময় করুন।
পিছন থেকে ধ্বনিত হল।
তারপর বারো সাল ইমতিহান দেবে বলে নির্ভীক নওজোয়ান ছুটে চলল আশরত নগরের উদ্দেশে ...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১৩
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×