পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার কথা। একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী-তাঁর নাম বোধিধর্ম; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ধ্যানধারণা নিয়ে চিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বোধিধর্ম চিনের বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন প্রচার করলেন। চিনের লোকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহন করল। যদিও চিনে সে সময় ‘তাওবাদ’ প্রচলিত ছিল। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম ধারণা হল ধ্যান। কিন্তু, তাওবাদের প্রভাবে ধ্যান শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে চিনে গিয়ে হল Chán। অস্টম শতাব্দীর শুরুতে Chán এর ধারনা পৌঁছল জাপানে । জাপানে Chán শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে হল Zen এবং Zen Buddhism হয়ে উঠল বুদ্ধের অনুসারী জাপানি সাধু সম্প্রদায়ের দর্শন ।
এই জেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নিয়ে অনেক বিস্ময়কর গল্পগাঁথা ছড়িয়ে আছে। এই সব গল্পগাঁথা কে বলে জেন গল্প।
তারই একটি বলছি ...
জাপানে সেবার খুব শীত পড়েছে।
শষ্যের খেত ও পাইনের বন বরফে ঢেকে আছে। পাইন বনের ওপারের পাহাড়টিও বরফে ঢাকা।
পাহাড়তলির এক কৃষক। সে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে তীব্র শীতে ভুগছিল। কাঠ ফুরিয়ে গেছে। ভয়ানক শীতে জমে যাবার উপক্রম হল।
কৃষক ভালুকের ছালের পোশাক পরে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে অথই তুষারের মধ্যে দাঁড়াল। তারপর পাহাড়ের দিকে যেতে থাকে। পাহাড়ে জেন সন্ন্যাসীরা বাস করেন । সাধুদের কাছ থেকে কাঠ চেয়ে আনবে। জেন সন্ন্যাসীরা দয়ালু। মহান বুদ্ধের অনুসারী। তারা নিশ্চয়ই ফিরিয়ে দেবে না।
কৃষক বহুকষ্টে পাইন বনের শুভ্র তুষার পেরিয়ে জেন সাধুদের কাঠের কুটিরে পৌঁছল।
একজন জেন সাধু তুষারময় পাথুরে প্রাঙ্গনের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি কৃষককে অভ্যর্থনা জানালেন।
কৃষক বলল, মাননীয়, আমার কাঠ ফুরিয়ে গেছে। দয়া করে আমাকে কিছু কাঠ দিয়ে সাহায্য করুন।
তুমি অপেক্ষা কর। আমি তোমার জন্য কাঠ নিয়ে আসছি। বলে জেন সাধু ভিতরে চলে গেলেন।
একটু পর ফিরে এলেন। দু-হাতে বড় একটি কাঠের টুকরো। কাঠের টুকরোটি কৃষককে দিলে বললেন, এই নাও।
কৃষক আর্তনাদ করে উঠল। এ কি! এ যে বুদ্ধমূর্তি।
হ্যাঁ। তো?
আমাকে বুদ্ধমূর্তি পোড়াতে দিলেন ?
হ্যাঁ। আমাদের এখানে আর কাঠ নেই।
বুদ্ধমূর্তি পোড়ালে পাপ হবে না?
না। পাপ হবে কেন? ... তোমার যখন কাঠের প্রয়োজন। যাও, বাড়ি ফিরে এটা পুড়িয়ে শীতের কষ্ট থেকে বাঁচো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



