সে কালে জাপানে রিয়োকান নামে এক জেনগুরু বাস করতেন। ভারি সাদাসাদি জীবন যাপন করতেন তিনি । পাহাড়ের নীচে অবস্থিত তাঁর কুঁড়েটিও ছিল বেশ সাদামাটা।
এক রাতে। রিয়োকান বাইরে গেছেন। শূন্য ঘর। এক চোর এসে ঢুকেছে। চুরি করার কিছুই নেই দেখে চোরটা ভীষণ বিরক্ত হল। ঘরের বাইরে চলে এল। ঠিক তখনই রিয়োকান ঘরে ফিরছিলেন। হাতেনাতেই ধরলেন চোরকে। বললেন, বুঝতে পেরেছি। তুমি অনেক দূর থেকে এসেছ। যাক। তোমাকে খালিহাতে ফিরতে হবে না। এই নাও আমার পরনের পোশাক। তোমাকে উপহার দিলাম। বলে রিয়োকান তাঁর পরনের পোশাক খুলে ফেললেন। এবং চোরকে দিলেন।
চোর তো রীতিমতো চমকে উঠল। যা হোক। সে কাপড় নিয়েই চম্পট দিল।
ফুটফুটে জোছনা ফুটেছে। মৃদুমন্দ হাওয়াও বইছিল। রিয়োকান একটা পাথরের ওপর বসলেন। নগ্ন। আকাশে একখানি ঝলমলে চাঁদ। সেদিকে তাকিয়ে আপন মনে রিয়োকান বললেন, বেচারা, ইস্, ওই সুন্দর চাঁদটাকে যদি ওই চোরকে দিতে পারতাম।
জেন দর্শনের পটভূমি:
পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার কথা। একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী-তাঁর নাম বোধিধর্ম; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ধ্যানধারণা নিয়ে চিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বোধিধর্ম চিনের বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন প্রচার করলেন। চিনের লোকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহন করল। যদিও চিনে সে সময় ‘তাওবাদ’ প্রচলিত ছিল। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম ধারণা হল ধ্যান। কিন্তু, তাওবাদের প্রভাবে ধ্যান শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে চিনে গিয়ে হল Chán। অস্টম শতাব্দীর শুরুতে Chán এর ধারনা পৌঁছল জাপানে । জাপানে Chán শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে হল Zen এবং Zen Buddhism হয়ে উঠল বুদ্ধের অনুসারী জাপানি সাধু স¤প্রদায়ের দর্শন ।
জেন গল্পের সূত্র: ‘ওয়ান হানড্রেড ওয়ান জেন স্টোরিজ’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

