অনেক বছর আগের কথা। জাপানে দু’জন জেনগুরু বাস করতেন। এদের একজন হলেন: উনশো; আর অন্যজন হলেন, তানজান। এঁরা জেনগুরু ঠিকই, তবে এঁদের চরিত্র ছিল একে অন্যের বিপরীত। যেমন, উনশো কঠোর ভাবে বুদ্ধের নীতি মেনে চলতেন। এই যেমন, উনশো মদ খেতেন না। সকাল এগারোটার পর কোনও ধরনের খাদ্য গ্রহন করতেন না। ওদিকে তানজান এসবের কিছুই মানতেন না। তিনি যখন ইচ্ছে খেতেন, যখন ইচ্ছে ঘুমাতেন। এমনকী দিনের বেলাও ঘুমাতেন তানজান ।
একদিন।
উনশো এলেন তানজান-এর বাড়ি।
তানজান তখন বসে বসে মদ খাচ্ছিলেন। অথচ, মদ্য পান করা জেন সাধকদের জন্য কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।
অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে তানজান উৎফুল্ল হয়ে বললেন, আরে, আপনি! আসুন, আসুন ।
তানজান মদ খাচ্ছেন দেখে উনশো-র চোখমুখ বিকৃত হয়ে উঠল। তানজান ওসব খেয়াল না-করে মদের পেয়ালাখানি ওপরে তুলে ধরে চোখ টিপে উনশো কে জিগ্যেস করলেন, আরে ইয়ার, পান করবেন নাকি?
আপনি জানেন তো আমি ওসব খাই না! প্রায় চিৎকার করে উঠলেন উনশো ।
তানজান-এর ভরাট গোলাকাল হলদে মুখখানিতে কৌতূকের আভা ছড়িয়ে পড়ল। তিনি বললেন, ধুরও। যে মদ খায় না সে তো মানুষই না। এই বলে বেশ আয়াস করে এক ঢোঁক তরল গলায় ঢাললেন তানজান ।
কি! আমি মদ খাই না বলে আমাকে বললেন আমি মানুষ না!
হুঁ।
বলি, আমি যদি মানুষই না হই-তাহলে আমি কি? উনশো চোখ সরু করে জিগ্যেস করলেন।
বুদ্ধ। মুচকি হেসে উত্তর দিলেন তানজান।
জেন দর্শনের পটভূমি:
পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার কথা। একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী-তাঁর নাম বোধিধর্ম; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ধ্যানধারণা নিয়ে চিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বোধিধর্ম চিনের বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন প্রচার করলেন। চিনের লোকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহন করল। যদিও চিনে সে সময় ‘তাওবাদ’ প্রচলিত ছিল। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম ধারণা হল ধ্যান। কিন্তু, তাওবাদের প্রভাবে ধ্যান শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে চিনে গিয়ে হল Chán। অস্টম শতাব্দীর শুরুতে Chán এর ধারনা পৌঁছল জাপানে । জাপানে Chán শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে হল Zen এবং Zen Buddhism হয়ে উঠল বুদ্ধের অনুসারী জাপানি সাধু স¤প্রদায়ের দর্শন ।
জেন গল্পের সূত্র:
‘ওয়ান হানড্রেড ওয়ান জেন স্টোরিজ’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

