একবার। খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। পথে ঘাটে কাদা। তানজান আর ইকিদো দেখেশুনে হাঁটছিলেন। এঁরা দু’জনই ছিলেন জাপানের বিশিষ্ট জেনসাধক। কাদামাখা পথটা যেখানে বাঁক নিয়েছে-ঠিক সেখানেই সুতির রঙীন কিমোনো পরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সুন্দরী মেয়ে- হলদে চোখেমুখে কেমন অসহায় ভাব, কাদার কারণে রাস্তা পাড় হতে পারছিল না সম্ভবত।
‘এসো।’ বলে তানজান মেয়েটির হাত ধরে রাস্তার পাড় করে দিলেন।
সন্ধ্যার ঠিক মুখে তানজান আর ইকিদো একটি ধর্মশালায় পৌঁছলেন। এখানেই রাত্রিযাপন করবেন। ইকিদো এতক্ষণ কথা বলেননি। এখন বললেন, মাননীয় তানজান।
জ্বী, বলুন।
আমরা হলাম সাধু-সন্ন্যাসী মানুষ। আমাদের মেয়েদের কাছে না যাওয়াই ভালো। বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের। এটা বিপদজনক।
হুমম।
আপনি তখন রাস্তায় মেয়েটিকে ছুঁতে গেলেন কেন? ইকিদো জিগ্যেস করলেন।
তানজান মুচকি হেসে বললেন, আরে, আমি তো মেয়েটিকে রাস্তায় রেখে এসেছি। আর আপনি এখনও ওকে বয়ে বেড়াচ্ছেন?
জেন দর্শনের পটভূমি:
পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার কথা। একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী-তাঁর নাম বোধিধর্ম; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ধ্যানধারণা নিয়ে চিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বোধিধর্ম চিনের বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন প্রচার করলেন। চিনের লোকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহন করল। যদিও চিনে সে সময় ‘তাওবাদ’ প্রচলিত ছিল। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম ধারণা হল ধ্যান। কিন্তু, তাওবাদের প্রভাবে ধ্যান শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে চিনে গিয়ে হল Chán। অস্টম শতাব্দীর শুরুতে Chán এর ধারনা পৌঁছল জাপানে । জাপানে Chán শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে হল Zen এবং Zen Buddhism হয়ে উঠল বুদ্ধের অনুসারী জাপানি সাধু স¤প্রদায়ের দর্শন ।
জেন গল্পের সূত্র:
‘ওয়ান হানড্রেড ওয়ান জেন স্টোরিজ’
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




