অনেক দিন আগের কথা। জাপানে কয়েকজন সাধু এবং একজন সাধিকা একজন প্রবীণ জেনগুরুর অধীনে জেনচর্চা করত। সাধিকার নাম ইশুন। ইশুন-এর পরনে সাদাসিদে পোশাক, মাথা কামানো; তা সত্ত্বেও সাধিকার সৌন্দর্য ঢাকা তো পড়েনিই বরং ইশুন-এর রূপ যেন আগুনের ফুলকি ছড়াত ।
কয়েকজন সাধু গোপনে ইশুন-এর প্রেমে পড়ে যায়।
ওদেরই একজন ইশুন কে প্রেমপত্রও দিল। লিখল, আমার সঙ্গে আড়ালে দেখা কর প্রিয়।
ইশুন প্রেমপত্রের উত্তর দেয়নি।
পরের দিন।
সেই প্রবীণ জেনগুরু সমবেত সাধু-সাধিকার উদ্দেশ্যে জেন সম্বন্ধে বলছেন।
জেনগুরুর বক্তব্য শেষ হল। ইশুন উঠে দাঁড়াল। এবং যে সাধুটি ওকে চিঠি দিয়েছিল তাকে উদ্দেশ্য করে বলল, তুমি যদি আমাকে এতই ভালোবাস ... তাহলে এসো ... আমাকে এখনই জড়িয়ে ধর।
জেন দর্শনের পটভূমি:
পঞ্চম শতাব্দীর গোড়ার কথা। একজন ভারতীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী-তাঁর নাম বোধিধর্ম; তিনি বৌদ্ধ ধর্মের ধ্যানধারণা নিয়ে চিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বোধিধর্ম চিনের বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন প্রচার করলেন। চিনের লোকে শ্রদ্ধাভরে গ্রহন করল। যদিও চিনে সে সময় ‘তাওবাদ’ প্রচলিত ছিল। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম ধারণা হল ধ্যান। কিন্তু, তাওবাদের প্রভাবে ধ্যান শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে চিনে গিয়ে হল Chán। অস্টম শতাব্দীর শুরুতে Chán এর ধারনা পৌঁছল জাপানে । জাপানে Chán শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে হল Zen এবং Zen Buddhism হয়ে উঠল বুদ্ধের অনুসারী জাপানি সাধু স¤প্রদায়ের দর্শন ।
জেন গল্পের সূত্র:
‘ওয়ান হানড্রেড ওয়ান জেন স্টোরিজ’
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




