somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিকিৎসাবিদ্যার দেবতা এসক্লেপিয়াস

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এসক্লেপিয়াস । গ্রিক চিকিৎসক হিপপোক্রাটেসকে চিকিৎসাবিদ্যার জনক ধরা হলেও তাঁর আগেও আরও একজনের নাম পাওয়া যায়। তিনি হলেন এসক্লেপিয়াস। ইলিয়াদে হোমার এঁকে একজন দক্ষ চিকিৎসক বলে উল্লেখ করেছেন। এঁর দুই ছেলেও চিকিৎসক ছিলেন। এঁদের নাম যথাক্রমে ম্যাকহাওন এবং পোডালিরিয়াস । এরা ট্রয় নগরে বাস করতেন।








প্রাচীন মুদ্রায় এসক্লেপিয়াস ।

পরবর্তীকালে গ্রিক জগতে এসক্লেপিয়াস একজন বীরের মর্যাদা লাভ করেন। ক্রমান্বয়ে তাঁকে দেবতার মর্যাদাও দেওয়া হয়। লোকে বিশ্বাস করত: এসক্লেপিয়াস হলেন দেবতা অ্যাপোলোর পুত্র। দেবতা অ্যাপোলো আরগ্য, সত্য ও ভবিষ্যৎবাণীর দেবতা।



এসক্লেপিয়াস।

সেন্টাউর চিরন ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। এসক্লেপিয়াস তাঁর কাছেই চিকিৎসাবিদ্যার জ্ঞানলাভ করেছিলেন। এতে জিউস নাকি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। জিউস ভাবলেন: এসক্লেপিয়াস পৃথিবীর সব মানুষকে অমর করে ফেলবে। তিনি এসক্লেপিয়াস কে বজ্রপাতে নিহত করলেন। সেই বজ্র তৈরি করেছিল সাইক্লপস। অ্যাপোলো আবার সাইক্লপস কে হত্যা করলেন।



থেসালির মানচিত্র। এসক্লেপিয়াস গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছিল থেসালি তে। থেসালি থেকেই এসক্লেপিয়াস উপাসনা গ্রিসের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল।



এপিডাওরাস-এর মানচিত্র। দক্ষিণ গ্রিসের একটি জায়গার নাম এপিডাওরাস। এককালে সেখানে অনেকগুলি উপাসনালয় ছিল। গ্রিসের অসুস্থ লোকজন এসব উপাসনালয়ে এসে ঘুমাত। কেননা, মনে করা হত যে দেবতা এসক্লেপিয়াস স্বপ্নে দেখা দিয়ে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করেন। একে বলা হয় Asclepian incubation.




মানচিত্রে রোমান সভ্যতা। ২৯৩ খ্রিস্টপূর্বে এসক্লেপিয়াস মতবাদ রোমে পৌঁছোয়। রোমের জনগন আরগ্য লাভের আশায় এসক্লেপিয়াস কে উপাসনা করে।



এসক্লেপিয়াস এর দীর্ঘ আলখাল্লা পরিহিত দাঁড়ানো প্রতিমূর্তি কল্পনা করা হয়েছে। খোলা বুক, হাতের ছড়িতে সাপ জড়ানো।



এই সাপ জড়ানো ছড়িই ঔষধের প্রকৃত প্রতীক।



এসক্লেপিয়াস। আমাদের সময়ে।



Asclepias নামের উদ্ভিদ; এই উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে এসক্লেপিয়াস এর নামে; বলাবাহুল্য এসব উদ্ভিদের রয়েছে ঔষধি গুণাগুণ ।


তথ্যসূত্র:

কারা রজার সম্পাদিত ‘দি হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লয়েনশিয়াল সাইনটিস্ট অভ অল টাইম’
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৫৩
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×