somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: রামীচন্ডীর উপাখ্যান

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি এক ঊষাকাল। অজয় নদের পাড়ে একটি যজ্ঞিডুমুর গাছের তলায় নান্নুর গ্রামের মধ্যবয়স্ক পুরোহিত চন্ডীদাস বসিয়াছিলেন ... নান্নুর গ্রামটি বর্তমানকালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত ... চন্ডীদাস নান্নুর গ্রামের বাশুলি মন্দিরের পুরোহিত । সে মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বিশালাক্ষী । তবে আজকাল চন্ডীদাসের পূজাঅর্চনায় মন বসিতেছে না, তাহার মন অহোরাত্র উচাটন হইয়া থাকে। এই প্রদোষকালের শান্ত মুহূর্তেও তাহাকে বড় অস্থির দেখায়। পুরোহিত রামীর জন্য অপেক্ষমান। অথচ রামী এখনও আসিতেছে না। তাহার শূন্যদৃষ্টি অজয় নদের জলের উপর স্থির। এই নির্জন ভোরবেলায় নদের পাড়ে একা একা বসিয়া থাকিয়া আশ্বিন মাসের আকাশের নির্মেঘ বিস্তার দেখা যায়, অজয় নদটির ঘোলা জলের নিস্তরঙ্গ বিস্তার দেখা যায়; ঢেউগুলি সব কী কারণে এই সময়ে পুবমুখী হইয়া থাকে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সব ঢেউ; গড়িয়া উঠিয়া আবার পরক্ষণেই ভাঙ্গিয়া পড়িতেছে ... হয়তো-বা কোনও নৌকার বৈঠার মৃদু আঘাতে। ছই-নৌকাগুলি এত ভোরেও ঢেউ ভাঙ্গিয়া জল ভাঙ্গিয়া ভাসিয়া যায় প্রায় নিঃশব্দে। তখন নদ পাড়ের বাতাস দুলিয়া উঠে। তখন কেমন নির্জন হইয়া উঠে বুকের ভিতরকার শূন্যতার মাঠঘাটগুলি। তখন নদ পাড়ের পচা শিকড়ের গন্ধ নাকে আসিয়া লাগে । যজ্ঞিডুমুরের গাছটা জলের উপর উবু হইয়া আছে। সেদিকে একবার চোখ যায়: বিগত জন্মে গাছটির কোটোর এক গাঙ শালিকের বাসা ছিল। সেই পাখিই এই জন্মে ঘুটে কুড়োনি হইয়া জন্মিয়াছে এই গাঁয়ে। চন্ডীদাস তাহার নাম জানেন- তলানি। ডুমুর পাতার মতন মেয়েটির গায়ের রং, ত্বক খসখসে হইলেও মুখচোখের শ্রী আছে। তবে, চন্ডীদাস জানেন এও ঝরিয়া পড়িবে শ্রীঘ্রই। গাঁয়ের ঘুটেকুড়োনির চেয়ে কুকুর পয়মন্ত। সে যাক। এখন একটি শুকনা ডুমুর পাতা বাতাসে ঘুরিয়া ঘুরিয়া তাহার পর ঢেউয়ের মৃদু ছলাত শব্দ তুলিল। নদীর জলের দিকে চোখ চলিয়া যায়। একখানা ডিঙ্গি নৌকা ভাসিয়া যাইতেছিল নিঃশব্দে। তাহার বৈঠার মৃদু শব্দ কানে বাজিল। সেই সঙ্গে উঠিয়া আসে মাছের গায়ের ঘ্রান -নদীর জলের ঘ্রানের সঙ্গে। আকাশের পূর্বকোণটি ক্রমেই রাঙিয়ে উঠিতেছিল; আর ঠিক তক্ষনি একটি মাছরাঙা উড়িয়া গেল ঊষার আকাশের আলোকিত কোণটির দিকে। পুরোহিত দীর্ঘশ্বাস ফেলিল। নদীর অন্য পাড়ে তাকাইলেন। সেদিকে কাশের বন, তালগাছ। তাহারর ওপর রাঙিয়ে ওঠা আকাশ হইতে রক্তিম আলোকমালা ঝরিয়া পড়িতেছে। সে দিকে তাকাইলেন চন্ডীদাস। ভিতরে কেউ বলিয়া উঠিল: এই আলো আর জল কোথা হইতে আসে? আর আমার ভিতরে কে কথা বলে? দেখা দেয় না? আমি কি পুরোহিত? না আমি কবি? আর রামী? ও কি কেবলি নারী? না কবি? ও আমায় এত মন্ত্রমুগ্ধ করিয়া রাখে ... এই জলের মতন, এই আলোর মতন। আমি জানি রামীও কবি। রামীর সান্নিধ্যে পুরোহিতও কবি হইয়া উঠিয়াছেন। কিন্তু, এই সবের আড়ালে কে? দেবী বিশালাক্ষী? ঐ দেবীও তো আমার উপাস্য। হায়, নির্জন ধ্যানের মুহূর্তে নারী ও দেবী কী ভাবে একাকার হইয়া যায়। সে সমস্ত সংকীর্নমনারা বুঝিতে চায় না। তাহারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিয়াছে, যেহেতু রামীর পিতা রজক (ধোপা) সেহেতু তাহারা অন্ত্যজ ... আর আমি অন্ত্যজ রামীর প্রণয়ে মগ্ন হইয়া আছি। আমি নীচু জাতের রামীর ভিতর রাধা দর্শন করিয়াছি। নিজেকে আমার এখন কৃষ্ণসম মনে হয়। আমার নিজেকে কেন কৃষ্ণসম মনে হয়? আমি রামীকে দেখিয়াছি দেবী বাশুলির মন্দিরের প্রশস্ত অলিন্দের পাথরের স্তম্ভের পাশে। ঠিক তক্ষণি আমার হাত হইতে পূজার থালাটি পড়িয়া গিয়াছিল। শ্বেতপাথরের মেঝের ওপর শব্দ হইয়াছিল ঝনঝন করিয়া। বুদ্ধিমতী রামী যাহা বুঝিবার ছিল বুঝিল। রামী আমার চোখে চোখ রাখিয়াছিল। আমার বয়স এখন ঊনপঞ্চাশ; রামীর আঠারো। তাহা সত্ত্বেও রাত গভীরে অস্টাদশী রামী আমার কাছে আসিয়াছিল, কখনও ভোরবেলায়, কখনও-বা নির্জন দুপুরে। স্পর্শ করিতে দিয়াছিল তাহার শ্যামল দেহটির উষ্ণ মেদ-কোমলতা। তাহার পর কাম স্তিমিত হইয়া আসিলে সদ্য রচিত পদ্য পড়িয়া শুনিয়াছিল রামী। আমি আর তুমি সখা, আমি আর তুমি/হৃদয়ের পথে চলি প্রেমাদর্শ চুমি/ তুমি আর আমি সখা, তুমি আর আমি/ভালোবাসি ভালোবাসি জানে অর্ন্তযামী। চন্ডীদাস অভিভূত হইয়া যান। তিনি নারীকে আঁকড়াইয়া ধরেন সবেগে। রামী কাঁদিতে থাকে। তখন চন্ডীর কায়া হইতে পুরোহিতটি অদৃশ্য হইয়া যায়; সেই কায়া হইতে জাগিয়া উঠেন এক কবি । রামীকে দেখিবার পর হইতেই চন্ডীদাস মনে মনে কাব্য রচনা করিতে শুরু করিয়া দিয়েছেন। বিষয়: ‘রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা’। সেই কথা রামীকে বলিয়াছেন চন্ডী। কাব্যের নামটি রামীই স্থির করিয়া দিয়াছেন । শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন? চন্ডী কেমন বিস্মিত হইয়া যায়।
হ্যাঁ, গো, হ্যাঁ। বলিয়া রামীর সে কী খিলখিল হাসি। তাহাতে তে সাতরায়ের দীঘির দুপুরকার কাজল কালো জল কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিল। গ্রামের পশ্চিমে এক প্রকান্ড দিঘী আছে, তাহার নাম সাতরায়ের দীঘি। (দীনেশচন্দ্র সেন। বঙ্গভাষা ও সাহিত্য। পৃষ্ঠা ৩১৬) ...
শ্রীরাধিকাকীর্তন নয়? চন্ডীদাস শুধাইলেন।
না।
কেন গো রামতারা?
তখন শ্রীরামী আহলাদী সুরে বলিলেন, আমিই তোমার রাধিকা গো পুরোহিত, আমিই তোমার রাধিকা।
কী কথায় কী কথা। তবে চন্ডীদাস কাব্য রচনা করিতেছেন ঠিকই, তবে মনে মনে- এখনও তালপাতায় লিখিয়া রাখিতেছেন না। এই ভাবেই মানুষ চন্ডীর কায়া হইতে পুরোহিতের ভারী খোলশটি খসিয়া খসিয়া পড়িতে
থাকে ... খসিয়া খসিয়া পড়িতে থাকে ... খসিয়া খসিয়া পড়িতে থাকে ...
কাব্য রচনার সময় কবি কখনও আটকাইয়া যান, রামী তখন উদ্ধার করেন। এই তো সেই দিনের কথা- ‘কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী-নই কূলে’ বলিয়া কবি বলিলেন, আটকে গেছি তারা। রামী তক্ষনাৎ বলিয়া উঠিলেন, কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ-গোকুলে
আহ্। কবি উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিলেন। তারপর আবৃত্তি করিলেন,

কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী-নই কূলে/
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ-গোকুলে


এইভাবেই মানুষ চন্ডীর কায়া হইতে পুরোহিতের ভারী খোলশটি খসিয়া খসিয়া পড়িতে থাকে ... খসিয়া খসিয়া পড়িতে থাকে ... খসিয়া খসিয়া পড়িতে থাকে ... চন্ডীদাস তাঁর ভিতরে সশব্দে পাথর ভাঙার শব্দ শুনিতে পান-যেন বিশালাক্ষী দেবীর বাশুলি মন্দিরটি ভাঙিয়া পড়িতেছে। রামী যে অন্ত্যজ; তিনি ব্রাহ্মণ হইয়া অন্ত্যজ স্পর্শ করিয়াছেন। চন্ডীদাসের মনের ভিতরে দেবী বিশালাক্ষীর পাথরের মন্দিরটি খান খান হইয়া ভাঙিয়া পড়িতে থাকে। প্রেয়সীর বুকে মাথা রাখিয়া নিশ্চিন্তে ঘুমাইয়া থাকে পুরোহিত । এইভাবে কাটিয়া গিয়াছে কত রাত, কত দিন। সেই নিগূঢ় প্রণয়ের সংবাদ কী করিয়া এই নান্নুর গাঁয়ে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। সংকীর্ণমনা শাস্ত্রধারীরা সব রি রি করিয়া উঠিয়াছে, সমাজপতিরা চন্ডীকে সমাজচ্যূত করিবার ভয় দেখাইতেছে, সেই সঙ্গে তাহারা প্রাণনাশের হুমকিও দিতেছে ...
এইসব উদ্বেগ লইয়া এই ঊষাকালে অজয় নদীর পাড়ে বসিয়া আছে কবি চন্ডীদাস।
খানিক বাদে রামী আসিল। আসিয়া পাশে বসিল। কবি পদ্মফুলের গন্ধ পাইলেন। রজকীনির আজ সবুজ শাড়ি পরিয়াছে, অবশ্য খোঁপায় আজ ফুল গুঁজে নাই । শ্যামল মুখখানা আজ কেমন মলিন দেখাইতেছে। পুরোহিত তাহার ইষৎ উষ্ণ কোমল হাতে রাখিলেন, ঝুঁকিয়া রজকীনির ললাটে চুম্বন করিলেন। তারপর শান্ত্বনার স্বরে বলিলেন: আমাদের গ্রামত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই রামী। এইখানে বৈদিক পুরুষেরা সব ‘জাত গেল’ ‘জাত গেল’ বলে ক্ষেপে উঠেছে। বলিয়া উদাত্ত স্বরে চন্ডীদাস আবৃত্তির ঢংয়ে বলিলেন, চলো তবে প্রিয়, এই সংকীর্ন গ্রাম করি ত্যাগ/ সুখি হই দূরের জনপদে গিয়ে/ সেখানেও তো ওঠে চাঁদ, বিধাতার জগতের ব্যাপক বিস্তার/ সেখানেও ঘরের আঁধারে থাকে দেবতার শর্তহীন বর, তোমার যুগল স্তন আর আমার পুরুষ অঙ্গের শক্তি থরথর।
রামী কাঁপিয়া উঠিলেন। ক্ষানিকবাদে তিনিও আবেগময় কন্ঠে উচ্চারন করিলেন, চলো হে স্বামী তবে গ্রাম করি ত্যাগ/
খুঁজে নিই প্রেমমার্গের নূতন আবেগ/অজানা পথে নামি শ্রীরাধিকা আমি/ অজানা পথে নাম শ্রীকৃষ্ণ তুমি/ খুঁজি চলো মানুষের ভালোবাসার ভূমি
সেই দিনই তাহারা গ্রাম ত্যাগ করিল।
নানুরের পাশ দিয়া পূর্ব্বে অজয় নদ অথবা তাহার একটি শাখা প্রবাহিত হইত। প্রাচীনগন এখনও তাহার চিহ্ন দেখাইয়া থাকেন। সেকালে ঐ অজয় অথবা তাহার শাখা নদীর তীরবর্ত্তী একটি স্থান বানিজ্যের জন্য খুব খ্যাতি লাভ করিয়াছিল। এখনও সেই সমৃদ্ধ পল্লীর ‘বন্দর’ নাম এই অতীত কাহিনীর স্মৃতি বহন করিতেছে। (দীনেশচন্দ্র সেন। বঙ্গভাষা ও সাহিত্য। পৃষ্ঠা ৩১৫)
বন্দর হইতেই তাহারা নৌকায় উঠিলেন । বিশাল নৌকা। বিশাল তাহার ছই আর হাল-পাল মাস্তুলের সমাহার। বণিক ও তীর্থযাত্রীতে পরিপূর্ন। তাহারই মাঝে এককোণে ঠাঁই হইল রামীচন্ডীর। নৌকায় মাঝিমাল্লার হল্লা। বদর! বদর! (বঙ্গে মুসলিম শাসন প্রায় দুইশত বৎসর হইতে চলিল) বৈষ্ণব মাঝির মুখে মুসলমান পিরের জয়গান। ধীরে ধীরে নৌকাটি উত্তরমুখি হইল । তীব্র বাতাসে তখন উড়িতেছিল রামীর এলোমেলো চুল ও আঁচল। রামী আড়চোখে চাহিয়া দেখিলেন চন্ডীদাসের মুখখানি গম্ভীর। অজানা পথে নামিয়াছে যুগল; সামান্য ভয় জাগে মনে? উত্তরের গঙ্গাজলে পড়িয়া নৌকাখানি তীব্র বেগে পশ্চিমগামী হইবে। পশ্চিমে মধুরা- বৃন্দাবন-শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি। সেই পবিত্র তীর্থ দর্শন করিয়া রামীচন্ডী কোথাও ঘর বাঁধিবেন । বাতাসের টানে পাল ফুলিয়া উঠিয়া নৌকা দ্রুতগামী হইয়া উঠিল। তাহার পর কখন যে দিন ফুরাইয়া গিয়া নামিয়া আসিল জোছনাময়ী রাত। মাসটি আশ্বিন বলিয়াই চরাচরে রাত্রিকালীন কোজাগরী জোছনার অপূর্ব দৃশ্য ভাসিয়া উঠিল। সেই অপার্থিব দৃশ্যাবলী না দেখিয়াই বণিক ও তীর্থকের দল ঘুমাইয়া পড়িল। হাল ধরিয়া একজন মাল্লা জাগিয়া রহিল কেবল। আর জাগিয়া রহিল রামীচন্ডী। ছইয়ের উপর বসিয়া রাত জাগিয়া তাহারা আকাশ দেখিল, নদী দেখিল, জোছনা দেখিল। আর জোছনাøাত নদীর দিকে চাহিয়া ফুঁপাইয়া ফুঁপাইয়া কাঁদিয়া উঠিল অস্টাদশী রজকীনি । রামী যুগপৎ কবি ও কিশোরী। তাহার বুকে জগতের যন্ত্রণার ভার, কত না স্মৃতির সঞ্চয়; নান্নুর গাঁয়ের মেয়ে সে, জন্মের পর হইতে সব কথা ধরিয়া রেখেছেন মনের গহন অর্ন্তলোকে। মায়ের মুখটি বারংবার মনে পড়িয়া যাইতেছে-তবু প্রেমের নিগূঢ় আকর্ষনে সেই মাকেও পরিত্যাগ করিতে হইল। এই দুঃখ। তবু শান্ত্বনা এই যে- এক পুরুষ পুরোহিতের পাথর-হৃদয় গলাইয়া তাহাক নারী করিয়াছে, কবি করিয়াছে, করিয়াছে জগতের সহমর্মী। পরবর্তীকালে যে নারী উচ্চারন করিবেন -শুনহ মানুষ ভাই; সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই!
যথা সময়ে নৌকা ভিড়িল যমুনার ঘাটে। তখন বেলা দ্বিপ্রহর। এলোমেলো শীতল বাতাস বহিতেছিল। ঘাটের পরিশ্রম-ক্লান্ত যাত্রীদের নুন ঘাম শরীরে সে বাতাস মধুর পরশ বুলাইয়া দিতেছিল। যমুনা তীরে উচুঁ বাঁধের উপর দাঁড়াইয়া শ্রীকৃষ্ণভূমির চিরকালীন দৃশ্যাবলী দেখিয়া তাহারা শিহরণ বোধ করিতেছিলেন। এই বজ্রধাম, রামী। কবি বলিলেন। রামী নিঃশ্চুপ রহিল।
দুই জনে ধর্মশালার খোঁজে পা বাড়াইল। বাঁধের এপারে প্রশস্ত রাজপথ। বাম পার্শ্বে একটি গলিমুখ। সংকীর্ণ গলিতে তীর্থযাত্রীর ভিড়, শিং-এ লাল রং মাখানো একটি ষাঁড়ও চোখে পড়িল। গলিতে গোবরের গন্ধ, ধূপের গন্ধ, যমুনার ভিজা বাতাসের গন্ধ। দেওয়ালের ওপর, বাড়ির আলসেতে বানরের হুপহাপ। রামী বানর দেখিয়া তো ভয়ে জড়োসরো হইয়া উঠিল। চন্ডীদাস অভয় দিয়া বলিললেন, কৃষ্ণের জীব।
ধর্মশালায় বেশ ভিড়। তবু ঠাঁই হইল দুই জনের। ঠাঁই আর কী-টানা বারান্দার এককোণে অল্প একটুখানি পাটি পাতা। ধর্মশালাময় বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীর ভিড়। অবশ্য অন্যান্য মতাবলম্বীরাও রহিয়াছেন। এককোণে একদল জৈন নির্গ্রন্থ তুমুল তর্ক জুড়িয়া দিয়েছে এক তান্ত্রিক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সঙ্গে। তান্ত্রিক বৌদ্ধটিকে বঙ্গবাসী বলিয়াই মনে হইল চন্ডীদাসের।
বৃন্দাবনে অকস্মাৎ রঘুনাথের সঙ্গে দেখা হইয়া গেল। তাহার নিবাস ময়ূরাক্ষি নদীর পাড়ে চন্দ্র গাঁয়ে। চন্ডীদাসকে বরাবরই বিশেষ শ্রদ্ধা করিত রঘুনাথ। নান্নুরে বিশালক্ষী দেবীর মন্দিরে নিয়মিত যাইত, তখনই পরিচয়। চমৎকার গলা রঘুনাথের। উদাত্ত কন্ঠে বঙ্গের চিরায়ত গান শোনাইত-কী সন্ধানে যাই সেখানে আমি মনের মানুষ যেখানে/ আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি দিবারাত্রি নাই সেখানে ... রঘুনাথের সঙ্গে চন্ডীদাসের সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুর মতন। চন্ডীদাস রামীর প্রণয়ের বিষয়টি সে জানিত। রঘুনাথই চন্দ্রগাঁয়ে তাহাদের ঘর বাঁধিবার জন্য অনুরোধ করিল। তাহারা সম্মত হইল । রামীকে দেবীর সম্মান দিয়াছে রঘুনাথ।
পূন্য শ্রীকৃষ্ণভূমিতে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে অভিভূত যুগল। গলিপথে হাঁটিতে হাঁটিতে বানর দেখে ,ষাঁড় দেখে, দেখে মায়াময় মন্দিরের সিঁড়ি, পূজারী, ভক্ত, রোগী -তাহাদের নাকি অলীক দর্শন হয় নিকুঞ্জ বনে। তাহারা ইতোমধ্যে ব্রজ পরিক্রমা করিয়াছে। শ্রীকৃষ্ণের লীলা ক্ষেত্র, হাঁটিয়া পুরোটা দেখিতে চব্বিশ দিন লাগে। ইহাকেই বলে ব্রজ পরিক্রমা আর এই কারনেই বৃন্দাবনের আরেক নাম বজ্রভূমি। ব্রজপরিক্রমায় বারোটা বন পার হইতে হয়। যেমন মধুবন, মহাতাল বন, লৌহবন, ভদ্রবন, ভান্ডীরবন । অভিভূত যুগল ব্রজধামের পথে পথে ঘুরিতেছে। মথুরা বৃন্দাবন। তাহারা আচ্ছন্ন হইয়াই আছে। মনে হইতেছে এই আচ্ছন্নতা সহজে কাটিবে না । একটা ঋতু এইখানে কাটাইয়া দিতে ইচ্ছে করে। আর দুই জনের মধ্যে রচিত হইতে থাকে সংলাপ।
রামী: মথুরা বৃন্দাবনের আকাশে-বাতাসে কী যেন রয়েছে প্রভু!
চন্ডীদাস: হ্যাঁ। দৃশ্যমান নয়, অদৃশ্য।
রামী : তবে ঠিকই তা টের পাওয়া যায়, আমাকে তা টানে। আমাকে অবশ করে দেয় প্রভূ ,আমাকে বিবশ করে দেয়।
চন্ডীদাস: বহুকাল আগে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর সুর যেমন বিবশ করেছিল গোপবালিকাদের।
রামী: হ্যাঁ। বহুকাল আগে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর সুর যেমন বিবশ করেছিল গোপবালিকাদের। এখন যেমন সেই বিবশতা মথুরা-বৃন্দাবনের মন্দিরের দেওয়ালের কারুকাজে থিতু হয়ে রয়েছে। আমরাও তাই এই অনন্ত দৃশ্য পান করব বলে অমর এই তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়াই। তাই আমিও চিরায়ত ...
একদিন। সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইলে কবিতার ঘোর লইয়া রামীচন্ডী যমুনার পাড়ে আসিয়া বসেন। চর্তুদিকে ধীরে ধীরে শুভ্র জোছনা ফুটিয়া উঠিতে থাকে। অচিরাৎ তাহাদের বিভ্রম ঘটে। তাহাদের চোখের সম্মুখে গোপবালিকাসমেত শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও এক পাল নধর কান্তি গাই যমুনার জল হইতে উঠিয়া আসিল; তাহার পর তাহারা লীলাদৃশ্য রচিত করিতে থাকে। দূরে বসিয়া রামীচন্ডী শ্রীকৃষ্ণর আবছা মুরতি দর্শন করিয়া শিউরে উঠিলেন। শ্রীকৃষ্ণের হাতে জরি জড়ানো বাঁশের বাঁশরী। আর সে বাঁশরী হইতে মধুবন্তী রাগে মধুর স্বরপ্রবাহ উত্থিত হইতে থাকে। রামীচন্ডী অতঃপর লীলারত গোপীদের দেখিয়া অভিভূত হইয়া যান। তাঁহাদের সর্বাঙ্গ ঘামে ভিজিয়া যাইতে থাকে । রামীচন্ডীর রাধা দর্শনও হইল। তাঁহাদের শরীরে ও মনে আতীব্র শিহরণ অনুভূত হইল । রামীচন্ডী রাত্রিভর যমুনার কূলে বসিয়া রহিলেন । তাহার পর এক সময় চাঁদ ডুবিয়া যায়। রামী অস্ফুট স্বরে বলিলেন, আমার গর্ভ হয়েছে স্বামী।
আহ্।
স্বামী?
বল।
আমার মেয়ে হবে।
আমি জানি।
আমার মেয়ে হলে আমি আমার মেয়ের নাম রাখব মাধবীলতা।
তাই রেখ না হয়।
ব্রজধাম হইতে তাহারা চন্দ্র গাঁয়ে ফিরিয়া আসিল।
ময়ূরাক্ষি নামের একটি অতি মনোরম নদীর তীরে সবুজ বৃক্ষরাজীসমতে চন্দ্র গাঁটি অতীব সুন্দর । ময়ূরাক্ষি নদীর জল মধ্য-আশ্বিনের কামার্তা ময়ূরীর তিরতির করিয়া কম্পনা চোখের মতন গভীর পীতাভ বলিয়াই নদীর এই রকম নাম। নদীপাড়ের তালতমালের সারি। তাহার ছায়া পড়ে নদীজলে। তো, সেই চন্দ্র গাঁয়েই নতুন বসতি গড়িয়া তুলিলেন রামীচন্ডী। মাটির ঘর, খড়ের চালা, ছোট ছোট তার দরজা-কপাট; সামান্য দাওয়া, সামান্য উঠান, ছোট্ট পুকুর, পুকুর পাড়ে বাঁশঝার ও বন্য ঝোপ জঙ্গল। গোয়ালে দুগ্ধবতী গাই- এসবই চন্দ্র গাঁয়ের হৃদয়বান গায়ক রঘুনাথের দান।
তখন ফাল্গুন মাস। রামীর প্রসব বেদনা উঠিল। তখন সন্ধ্যাকালের বাতাস এলোমেলো ও উতল হইয়া ছিল। আর চন্দ্র গাঁয়ের ঘরে ঘরে জ্বলিয়া উঠিয়াছিল সাঁঝবাতি। গোয়ালে গরুর গম্ভীর হাম্বা রব শোনা যায় আর তেঁতুল গাছে অজস্র কাক-পাখি কলরব করিতেছিল। এই রকম এক সন্ধিপ্রকাশ মুহূর্তে রামীর যোনীমুখ বাহিয়া পৃথিবীর মুখ দেখিল এক কন্যাশিশু। ঘরে প্রদীপ জ্বলিতেছিল । রঘুনাথের এক বুড়ি পিসিমা নাড়ী কাটিয়া লাল টুকটুকে শিশুটিকে কোলে তুলিয়া নিয়া আচ্ছন্ন রামীকে দেখাইতেই রামী কাঁদিয়া উঠিলেন। অতঃপর শিশুটি যখন মায়ের স্তনের বোঁটায় মুখ রাখিল- তখন সেই ঘন শালদুধ প্রবাহে রামী শিউরে উঠিলেন। এবং অসংলগ্নভাবে ভাবিলেন- তাহা হইলে প্রসব যন্ত্রনার মাঝেই নিহিত থাকে তীব্র সুখ! হায়, আর আমরা যন্ত্রনাকে পায়ে দলি! অথচ, মৃত্যু যন্ত্রনার সহ্য করেই পরমেশ্বরে বিলীন হওয়ার একমাত্র পথ। হায়, আমার মা আমার ভালোবাসার ধন, আলুথালু প্রেমের ফসল এ আত্মজাকে দেখল না। এ জীবন, সন্দেহ নেই, বিধাতার দান। হায়, সময় বহে যায়; একে ধরে রাখা যায় না। এই বিস্ময়। ... আঁতুরঘরের বাইরে পায়চারী করিতেছিলেন উদ্বিগ্ন চন্ডীদাস। শিশুর কান্না শুনিয়া পায়চারী থামাইয়া তিনিও কাঁদিয়া উঠিলেন। হায়, আমার মা আমার সদ্যজাত শিশু সন্তানের মুখটি দেখল না। রামী অন্ত্যজ বলে আর আমরা দ্বিজ বলে মা রামীর মুখটিও দেখতে চায়নি। এই সব বিভেদ সেনযুগের পাপ! দ্বিজ বংশের দ্বিজ। ধিক!
কবি কন্যার মুখ দর্শন করিয়া ধন্য হইলেন। অবিকল আমার মায়ের মুখ। কবি ভাবিলেন। তা হলে কে দ্বিজ আর কে অন্ত্যজ? রামী জিতে গেল। এই নারী; আমার রাধিকা।
সময় বহিয়া যায়।
মাধবীলতা ময়ূরাক্ষি পাড়ের কবি নিবাসে বড় হইতে থাকে।
চন্ডীদাস ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ রচনায় মগ্ন। কখনও দাওয়ার উপর বসিয়া লিখেন, কখনও চিন্তার জট খুলিতে ময়ূরাক্ষীর পাড়ে যাইয়া পায়চারী করেন। নদীর দিকে তাকাইয়া ভাবেন-এই নদীই কি তাহলে যমুনা? আর এই ঘাট বৃন্দাবন? কবি দুই হাত কপালে ঠেকাইয়া দুইশত বছর পূর্বেকার এক কবিকে প্রণাম করিয়া বলিল, জয়, কবিগুরু জয়দেব; গুরু আপনিই তো পথ দেখালেন। রাধা-কল্পনা করলেন। এখন কে বলবে আয়ান ঘোষের স্ত্রী রাধা সত্য নয়? সত্য নয় যমুনা তীরের ব্রজভূমি, তার ব্রজলীলা। এই রকমই এক ঘোরের ভিতর দূরের হাতছানি টের পাইলেন চন্ডীদাস। সেই কথা স্ত্রীকে বলিতেই রামী বলিলেন, তুমি একাই যাও স্বামী। মাধব এত ছোট, ... ও খানিক বড় হলে আমরা তিনজনে তীর্থে বেরুব। প্রথমে কেঁদুলি গাঁয়ে যাব- কবি জয়দেব-এর থানে।
চন্ডীদাস ভ্রমনে বাহির হইলেন।
আষাঢ় মাসের দ্বিতীয় হপ্তায় গঙ্গাতীরে মিথিলার কবি বিদ্যাপতির সঙ্গে সাক্ষাত হইয়া গেল । বজ্রবুলি ভাষায় কবি বিদ্যাপতি রাধাকৃষ্ণ লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করিয়াছেন; সেই বিষয়ে কথা হইল। বিদ্যাপতি বাংলা ভাষার সঙ্গে মৈথিলী ভাষার সংমিশ্রনে ব্রজবুলি ভাষার আবিস্কার করিয়াছেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম বজ্রবুলি। কবি বিদ্যাপতি মিথিলার মানুষ। বাংলার মেঘজল দর্শনে; অনুপ্রেরণা লাভ করিবার উদ্দেশ্যে বাংলায় আসিয়াছেন। চন্ডীদাস কবি বিদ্যাপতিকে জিজ্ঞাসা করিল, বাংলার সজল কালো মেঘদল কেমন লাগিল? উত্তরে কবি আবৃত্তি করিয়া বলিলেন:

গগনে অব ঘন/ মেহ দারুণ/ সঘনে দামিনী চমকই
কুলিশ পাতন/ শবদ ঝন ঝন/ পবন খরতরে বলসই

আহ! চন্ডীদাস অভিভূত হইয়া গেল। বাংলার মেঘের কেমন ঘন কালো স্পর্শময় বর্ননা। হৃদয় ছুঁইয়া যায়। চোখে জল আসে। কালিদাসের কথা মনে পড়িয়া যায়। সেই বিরহী যক্ষ কবি...
কবি বিদ্যাপতির সান্নিধ্যে চন্ডীদাস কিছুকাল কাটাইলেন। তখন কত যে কথা হইল। মিথিলার অবস্থান বাংলার খানিক পশ্চিমে -তবে মনের দূরত্ব তত খানি নাই।
ভ্রমন সমাপ্ত করিয়া কবি চন্দ্র গাঁয়ে ফিরিয়া আসিলেন।
বেলা দ্বিপ্রহর। রামী আঙিনায় কাপড় শুকাইতে দিয়াছিলেন। স্বামীকে দেখিয়া ছুটিয়া আসিয়া তাহার বক্ষে ঝাঁপাইয়া পড়িল। কবি রামীর অধরে চুম্বন করিলেন। তাহার পর দাওয়ার উপর ক্রীড়ারত শিশু মাধবকে কোলে তুলিয়া লইলেন। কয় দিনের বিরহ। তাহা কত মধুর। এ জীবন বড় মধুর, বড় মধুর।
তুমি স্নান সেরে আস। আমি ভাত বাড়ছি।
কবি পুকুর হইতে স্নান সারিয়া আসিল। মাধব তখন ঘুমাইয়া। বাড়ি খাঁ খাঁ করিতেছে। আহার সমাপ্ত করিয়া রামীচন্ডী গভীর আনন্দে একে অন্যের শরীরে ডুবিয়া গিয়া অভিন্ন হইয়া উঠিলেন।
অনেক রাত্রে দাওয়ায় দীপশিখা জ্বলিয়া ছিল। মাধব ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। চারধার নির্জন হইয়া ছিল। কেবল বাড়ির পিছনের বাঁশঝারে ময়ূরাক্ষি হইতে ছুটিয়া আসা বাতাসের সরসরানির শব্দ শোনা যায় । তাহাতে অবশ্য ধ্যানভঙ্গ হয় না, তাহাতে ধ্যান বরং গভীর হইয়া উঠে। আধো-অন্ধকার দাওয়ায় রামীচন্ডী বসিয়া থাকেন । কথাভাষাহীন। মৌন। দ্বিতীয় জীবনের ইঙ্গিত বুঝিবার অপেক্ষায়। কখনও-বা উঠানময় ছড়াইয়া থাকে নির্মল জোছনা । পাশের পুকুরটির জল স্থির হইয়া থাকে । গোয়ালে গরুর গম্ভীর হাম্বা রব শোনা যায়। উঠানে পাটি পাতিয়া মৌন যুগল বসিয়া থাকেন। দীর্ঘক্ষণ। তখন হৃদয় ও মনে যে ভাবের জন্ম হয় তাহাই মৃত্যুহীন এক অনুভূতি বলিয়া মনে হয়; মনে হয় উপরের ঐ নক্ষত্রখোচিত মহাকাশটি যতদূর ছড়াইয়া রহিয়াছে, মানব বলিয়াই তাহাদের স্বপ্নকল্পনাও ততদূর অবধি ছড়াইয়া আছে। ...তখন মনে পড়িয়া যায় গঙ্গাজলে ভসিয়া যাওয়া এক নৌকা আর পূর্নিমা রাত্রির কথা।
মনে আছে? কবি শুধাইলে।
হ্যাঁ, মনে আছে স্বামী। রামী হাসিয়া বলিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×