somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Terra Australis থেকে Down Under- ‘অস্ট্রেলিয়া’ শব্দটির উদ্ভব প্রসঙ্গে

১০ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অস্ট্রেলিয়ার মানচিত্র। ক্রিকেট ও ক্যাঙ্গারুর মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া । স্বপ্ন ও স্বচ্ছলতার মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া । দক্ষিণ গোলার্ধে ইউরোপীয় সভ্যতার সমৃদ্ধশালী বিস্তার ঘটেছে ওই অস্ট্রেলিয়া মহাদেশেই। ১৭ শতকে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় প্রথম ওলন্দাজ ডাচ এবং পর্তুগিজরা মহাদেশটির উপকূল ভাগ দেখেছিল। ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে ডাচরা অস্ট্রেলিয়ার কারপেনটারিয়া উপসাগরে পৌঁছায় এবং নতুন মহাদেশের নাম দেয় ‘নিউ হল্যান্ড’ ...অবশ্য পরে এই নামটি আর টিকে থাকেনি ... নতুন মহাদেশটির নাম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ...যে মহাদেশের অধিবাসীরা ‘অসি’ নামে পরিচিত...যে অস্ট্রেলিয়া বলতে কখনও বোঝায় Down Under ...




অস্ট্রেলিয়ার উত্তরে কারপেনটারিয়া উপসাগরের মানচিত্র ... ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে ডাচরা প্রথম কারপেনটারিয়া উপসাগরে পৌঁছায়।

Terra Australis Incognita এর অর্থ ‘অজানা দক্ষিণের ভূমি’। Terra = জমি বা ভূমি।australis = দক্ষিণ এবং auster (আউস্তের) বলতে বোঝায় দক্ষিণী বায়ূ বা দখিনা বাতাস। Incognita অর্থ -অজানা। Terra Australis Incognita - এই ধারণাটি ছিল গ্রিকদের। তারা মনে করত পৃথিবী বর্তুলাকার হওয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পৃথিবীর দক্ষিণে বিশাল ভূখন্ড থাকার কথা এবং এই বিশাল ভূমির আয়তন (পরিচিত) উত্তরের ভূখন্ডের সমান হওয়ার কথা। তৎকালীন মানচিত্রও আঁকা হয়েছিল এই তত্ত্ব মাথায় রেখেই-যে মানচিত্রে দক্ষিণমেরু অবধি ভূখন্ড দেখানো হয়েছে। মধ্যযুগের ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবি মহল এই ‘গ্রিকতত্ত্বে’ মশগুল হয়ে ছিল এবং পঞ্চদশ শতকে নৌ পর্যটকের যুগে ‘টেরা অস্ট্রালিস ইনকগনিটা’ ধারণাটির নতুন করে জোয়ার ওঠে।



প্রাচীন মানচিত্রে অস্ট্রেলিয়া । দক্ষিণ গোলার্ধের ভূখন্ড গ্রিক মনীষার অবদান ...

নৌপথে প্রাচ্য ভ্রমনের সময়ই ইউরোপীয় পর্যটকরা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের অস্তিত্ব সম্বন্ধে প্রথম জানতে পারে। এই ‘অজানা দক্ষিণের ভূমি’টির দর্শন তাদের কাছে হয়ে উঠেছিল উত্তেজনাকর । তার কারণ ব্যাখ্যা করেছি। যদিও দক্ষিণ গোলার্ধের বিশাল ভূমি সম্বন্ধে তারা কমই জানত । প্রায় বিরাণ মহাদেশে আদিবাসীরা বাস করত ...

আমরা জানি বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী এবং তারা আদি- অস্ত্রাল বা আদি -অস্ট্রেলিয় নামে পরিচিত। ‘অস্ট্রিক’ শব্দটি ওই লাতিন আউস্তের শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ ‘দক্ষিণ প্রান্ত’। অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর সাদৃশ্য ছিল বলে প্রাচীন বাংলার আদি জনগোষ্ঠীকে বলা হয় আদি -অস্ত্রাল ।



ডাচদের আঁকা মানচিত্র। আগেই বলেছি ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে ডাচরা অস্ট্রেলিয়ার নাম রাখে Hollandia Nova বা নিউ হল্যান্ড। তারাই প্রথম অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ আবিস্কার ও মানচিত্র অঙ্কনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে।

তবে প্রথম অস্ট্রেলিয় উপকূল প্রদক্ষিণ করে মহাদেশটির যথার্থ মানচিত্র আঁকেন একজন ইংরেজ নাবিক। এই অসাধারণ মানুষটির নাম ম্যাথিউ ফ্লিনর্ডাস। অস্ট্রেলিয়ার জনগন আজও তাঁর নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এই বিশাল পরিশ্রমলব্দ কাজের সুবাদে ইউরোপে পরিচিত হয়ে ওঠেন ম্যাথিউ।



ম্যাথিউ ফ্লিনর্ডাস। জন্ম ১৬ মার্চ, ১৭৭৪ ইংল্যান্ড। জীবদ্দশায় অতুলনীয় খ্যাতির অধিকারী হয়েছিলেন এই অসম সাহসী মানুষটি।

অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশে ভ্রমন অভিজ্ঞতা নিয়ে ম্যাথিউ ফ্লিনর্ডাস ১৮১৪ সালে
A Voyage toTerra Australis” নামে একটি বই লেখেন । বইটির পুরো নাম: A Voyage to Terra Australis: Undertaken for the Purpose of Completing the Discovery of that Vast Country, and Prosecuted in the Years 1801, 1802, and 1803, in His Majesty's Ship the Investigator. বইটি ২ খন্ডে প্রকাশিত হয়। ম্যাথিউ পরে অবশ্য Australis শব্দের বদলে Australia শব্দটি ব্যবহার করেন। কি এর কারণ? তাঁর মতে Australia শব্দটি শুনতে ভালো লাগে বলে। ম্যাথিউ তাঁর বইয়ে Australian বিশেষনটি প্রচুর ব্যবহার করেছেন।



ম্যাথিউ ফ্লিনর্ডাস-এর A Voyage toTerra Australisবইয়ের প্রচ্ছদ।

মানবসমাজে শব্দের রূপ যায় বদলে। যে কারণে, ইংরেজ নাবিক ম্যাথিউ প্রস্তাবিত ‘অস্ট্রেলিয়া’ শব্দটিরও নানা বিবর্তন ঘটেছে। ১৯১৭ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়দের বোঝাতে Aussie শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। বলা যায় ‘অসি’ হল অস্টেলিয়া শব্দেরই অপভ্রংশ বা সংক্ষিপ্ত রূপ। এখানেই শেষ নয়। আমরা যেমন কখনও-কখনও বাংলাদেশ বোঝাতে বলি ‘ভাটি অঞ্চল’ ... তেমনি Down Under বলতেও অস্ট্রেলিয়াকে বোঝায়। এর অর্থ -‘দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত’। যে কারণে বিখ্যাত এক অস্ট্রেলিয় মুষ্টিযোদ্ধা কে বলা হত: ‘দ্য থান্ডার ফ্রম ডাউন আন্ডার’। ১৯৮১ সালের একটি বিখ্যাত মজার গানেও বিষয়টি ফুটে উঠে। অস্ট্রেলিয় ব্যান্ড Men at Work -এর Down Under গানে বিশ্বে ভ্রমনরত একজন অস্ট্রেলিয় পর্যটক কথা বলা হয়েছে- যে অস্ট্রেলিয় হিসেবে গর্বিত ... সে গানের বিখ্যাত একটি লাইন ..."Do you come from a land down under?

গানটির লিরিক

Travelling in a fried-out combie
On a hippie trail, head full of zombie
I met a strange lady, she made me nervous
She took me in and gave me breakfast
And she said,

"Do you come from a land down under?
Where women glow and men plunder?
Can't you hear, can't you hear the thunder?
You better run, you better take cover."

Buying bread from a man in Brussels
He was six foot four and full of muscle
I said, "Do you speak-a my language?"
He just smiled and gave me a vegemite sandwich
And he said,

"I come from a land down under
Where beer does flow and men chunder
Can't you hear, can't you hear the thunder?
You better run, you better take cover." (Yeahhh!)

Dying in a den in Bombay
With a slack jaw, and nothin' much to say
I said to the man, "Are you trying to tempt me
Because I come from the land of plenty?"
And he said,

"Oh, you come from a land down under? (oh yeah yeah)
Where women glow and men plunder?
Can't you hear, can't you hear the thunder? (ooohh)
You better run, you better take cover."

We are..

Livin' in a land down under,
Where women glow and men plunder, (yeahhhhhhhhhh)
Can't you hear, can't you hear the thunder? (thunderrrrr!)
You better run, you better take cover.

Livin' in a land down under,
Where women glow and men plunder,
Can't you hear, can't you hear the thunder? (oooo yeahhhh!)
Then I run, and then I take cover. (yea)

We are...

Livin' in a land down under, (underrrr)
Where women glow and men plunder,
Can't you hear, can't you hear the thunder? (oooo da da laa yeahhh!)
Then I run, then I take cover.



Terra Australis থেকে Down Under ... ভাবলে অবাক হতে হয় বৈ কি ...গ্রিকরা প্রথম তাদের তত্ত্বের খাতিরে দক্ষিণ গোলার্ধে একটি মহাদেশ কল্পনা করেছিল। সপ্তদশ শতকে ডাচদের দ্বারা সে মহাদেশ আবিস্কৃত হল। কালক্রমে এক ইংরেজ নাবিকের লেখায় সে মহাদেশের নাম হল অস্ট্রেলিয়া ...তারপর ‘অসি’ ...তারপর ‘ডাউন আন্ডার’ ...যে দেশের অধিবাসীদের জিগ্যেস করা হয় "Do you come from a land down under?


ভিডিও



তথ্যসূত্র:

Click This Link

Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:৫৯
২২টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×