somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাইকেল এঞ্জেলো: ইউরোপীয় রেনেসাঁর সেই মহান শিল্পগুরু (দ্বিতীয় পর্ব)

২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইকেল এঞ্জেলো (১৪৭৫-১৫৬৪) ইতালিও রেনেসাঁর সর্বশ্রেষ্ট ভাস্কর চিত্রকর স্থপতি এবং কবি। ১৪৭৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের ৪০ মাইল পুবে কাপরেস গ্রামে ৬ মার্চ জন্ম গ্রহন করেন । শৈশব ও যৌবন কেটেছিল ফ্লোরেন্স নগরে। ৬ বছর বয়েসে মাকে হারান। বালক এঞ্জেলোর একাকী সময় কেটেছিল ছবি এঁকে। ১৩ বছর বয়েসে ফ্লোরেন্স নগরে ডোমেনিকো ঘিরলানডাইয়ো নামে একজন চিত্রকরের কাছে ছবি আঁকায় হাতে খড়ি । পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন ফ্লোরেন্স শহরের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং শাসক লোরেনজো দ্য মেডিসি (১৪৪৯ ১৪৯২)-র মতো ব্যাক্তিত্বের । ভাস্কর বারটোলডো দি গিওভান্নি কাছে ভাস্কর্য হাতেখড়ি ... টালমাটাল এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাইকেল এঞ্জেলো রোমে পৌঁছান । ব্যাক্কাস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের মদের দেবতা। ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে তারই একখানি প্রমাণসাইজের ভাস্কর্য নির্মাণ করে রোমের সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হলেন। এটিই তাঁর প্রথম ভাস্কর্য। ছবি। Pietà গড়ে পাথর খুদে আবেগ ফোটানোর এ এক কালজয়ী নজীর স্থাপন করলেন । এর পর একে একে সমাপ্ত করলেন ধ্রুপদি রীতির নগ্ন ভাস্কর্য ডেভিড, পোপ ২য় জুলিয়াস-এর সমাধি সৌধ; যেখানে মুসা নবীর একটি ভাস্কর্য রয়েছে, রোমের সিস্তিন চ্যাপেলের ছাদে ফ্রেসকৌ, লোরেনজো দ্য মেডেসির সমাধি সৌধের অপরূপ কয়েকটি ভাস্কর্য এবং লরেন্সিয় গ্রন্থাগারের নকশা ...

রোমের সিস্তিন চ্যাপেলের কাজ শেষ হওয়ার ৩০ বছর পর সিস্তিন চ্যাপেলের দেওয়ালে আরেকটি কালজয়ী ফ্রেসকৌ এঁকেছিলেন মাইকেল এঞ্জেলো । দ্য লাস্ট জাজমেন্ট। (১৫৩৬-১৫৪১) ... ফ্রেসকৌর চরিত্রগুলি হাস্যকর ও দুমড়ানো মোচড়ানো। অন্তিম বিচার কার্য চলছে। কেন্দ্রে স্থিত যিশু ... বাঁ পাশে বেঁচে যাওয়া ভক্তরা আর ডাইনে নরকগামী পতিত মানুষ। এই ছবিটি চিত্রকলায় Mannerist শিল্পের আদি নিদর্শন।



দ্য লাস্ট জাজমেন্ট।

রোম শহরের একটি চকের নাম পিয়াজ্জা দেল কামপিডোগলিও । স্কোয়ারটি বেশ প্রাচীন ও বিখ্যাত। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি জায়গাটি কর্দমাক্ত ছিল। তৎকালীন পোপ চকটির একটি নতুন নকশা তৈরি করতে মাইকেল এঞ্জেলো কে অনুরোধ করেন। কামপিডোগলিও স্কোয়ারে রোমান সম্রাট মারকাস আউরেলিয়াস এর ভাস্কর্য ছিল। সেটি কেন্দ্রে রেখে অসাধারণ এক নকশা করেন মাইকেল এঞ্জেলো । দু’পাশের দুটি ভবনের নকশাও তিনি করেন ।



পিয়াজ্জা দেল কামপিডোগলিও। ১৫৪৬ খ্রিস্টাব্দে কাজ শুরু হয়। সিঁড়ির কাজ সবে শুরু হয়েছে। ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে মাইকেল এঞ্জেলো মারা যান। পরে অবশ্য কাজ সমাপ্ত করা হয়। তবে মাইকেল এঞ্জেলোর নকশার বিন্দুমাত্র অদলবদল ঘটানো হয়নি।

মনে থাকার কথা ... রোমের ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার ব্যাসিলিকায় রয়েছে মাইকেল এঞ্জেলোর স্মরণীয় ভাস্কর্য Pietà. ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ ২য় জুলিয়াস স্থপতি ডোনাটো ব্রামান্তেকে ব্যাসিলিকাটি নির্মাণের দায়িত্ব দেন । অবশ্য ডোনাটো ব্রামান্তে মারা গেলে ১৫৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মাইকেল এঞ্জেলো গির্জাটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পান। মাইকেল এঞ্জেলোর নান্দনিক কল্পনার ছোঁওয়ায় ব্রামান্তের নকশাটি আর সহজ করে উপাসনালয়ের এক সামগ্রীক ঐক্যরূপ দান করেন।



সেন্ট পিটার ব্যাসিলিকা। মাইকেল এঞ্জেলো নির্মিত বিশাল গম্বুজটি সবচে আকর্ষণীয়। গম্বুজটি পরবর্তী ৩০০ বছরের গম্বুজ নির্মাণের নকশাকে প্রভাবিত করেছে।

ভাস্কর্য চিত্রকলা এবং স্থাপত্য বাদেও মাইকেল এঞ্জেলো জীবনভর প্রচুর ড্রইং করেছেন।




ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার ড্রইং ...এই নারী মাতৃরূপে ফিরে এসেছিলেন নিঃসঙ্গ বদমেজাজী আর উভ্রান্ত ভাস্করের জীবনে।

মাইকেল এঞ্জেলো অবিবাহিত ছিলেন। তবে প্রেম নাকি সবার জীবনেই একবার না একবার উঁকি দিয়ে যায়। মাইকেল এঞ্জেলো জীবনেও এসেছিল প্রেম। মাইকেল এঞ্জেলোর জীবন কেটেছিল ইতালির নানা শহরে । তবে, জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে ফ্লোরেন্স এবং রোমে । শেষ জীবনে মাইকেল এঞ্জেলো থাকতেন রোমের সানতা মারিয়া দি লোরেতো গির্জার কাছে। এক রোমান অভিজাত নারী যেতেন সে বাড়ি । ভিট্টোরিয়া কোলোন্না। ভিট্টোরিয়া কোলোন্না কবিতাও লিখতেন। প্রতিভাবান নিঃসঙ্গ ভাস্কর ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার প্রেমে পড়েছিলেন । ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার বয়স তখন ৪৬ আর মাইকেল এঞ্জেলোর ৬১!



ভিট্টোরিয়া কোলোন্না। এই নারীর ভিতরে মাকে ফিরে পেয়েছিলেন সম্ভবত। শৈশবে মা কে হারিয়ে হয়ে উঠেছিলেন বিষন্ন একা ও দুঃখী।

ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার সঙ্গে মাইকেল এঞ্জেলো দীর্ঘ প্রহর গল্প করে কাটাতেন। যেন শৈশবে হারানো মাটি ফিরে এসেছে। স্তনবৃন্ত প্রকটিত করে ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার ড্রইং এঁকে ভবিষ্যতের মানুষকে যেন সেই গোপন তৃষ্ণার কথা জানালালেন অস্থির ভাস্কর। ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার কে নিয়ে কবিতা লিখলেন। ১৫৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার মারা যান। ... আবারও কাঁদলেন কবি। কবিদের নিয়তিই এরকম মর্মান্তিক।



ভিট্টোরিয়া কোলোন্না।

ঔপন্যাসিক আরভিং স্টোন- এর লেখা মাইকেল এঞ্জেলোর সবচে বিখ্যাত জীবনীভিত্তিক উপন্যাসটির নাম The Agony and the Ecstasy ... যন্ত্রণা ও শীৎকার। মাতৃসমা ভিট্টোরিয়া কোলোন্নার মৃত্যুর পরও অনেক দিন বেঁচেছিলেন বৃদ্ধ ভাস্কর সেই অদ্ভূত স্মৃতি নিয়ে।



ঔপন্যাসিক আরভিং স্টোন- এর লেখা ম The Agony and the Ecstasy বইটির প্রচ্ছদ

তিন শতাধিক কবিতা লিখেছেন মাইকেল এঞ্জেলো। তারই একটি ...

বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে সবই নির্মল
যদিও যথার্থ আর্শীবাদপুষ্ট আনন্দের জন্য কাতর
আমার আত্মা খুঁজে পায় না স্বর্গে ওঠার সিঁড়ি
যেহেতু পৃথিবীই লাবণ্যময়ী।
উর্ধলোকের নক্ষত্রসমূহ
বিচ্ছুরিত গৌরবময় আলো
শীর্ষ চূড়ায় তোলে আমাদের তৃষ্ণা
আর বহন করে প্রেমের নাম।
ওখানে আর কিছুই আন্দোলিত হতে পারে না।
একটি শান্ত হৃদয় কিংবা পরিশুদ্ধি কিংবা বুদ্ধিমত্তা
অথচ সৌন্দর্য আর তার চোখের নক্ষত্রের আলো।

বোঝা যায় কবিতাটি কাকে নিয়ে ...

বিদগ্ধ ভাস্করের আরও কবিতা পড়তে চাইলে
কিন্তু, ইউরোপের এই মহান শিল্পগুরুর দর্শন কি ছিল?
শিল্পগুরুর দর্শন বাংলার একটি বাউলগানে প্রতিফলিত হয়েছে।

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়
তারে ধরতে পারলে মনবেড়ী দিতাম পাখির পায় ...

চমকে উঠলেন তো?
চমকে ওঠারই কথা।
পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকের ইউরোপে নিউপ্লাটোনিক দর্শন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। নিউপ্লাটোনিক দর্শন চর্চার জন্য লোরেনজো দ্য মেডিসি ফ্লোরেন্স শহরে ‘নিউপ্লাটোনিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মাইকেল এঞ্জেলো সেই ‘নিউপ্লাটোনিক একাডেমি’-র সভ্য হয়েছিলেন। এক কথায় নিউপ্লাটোনিজম হচ্ছে ... a philosophy that regards the body as a trap (লালনের খাঁচা) for a soul (লালনের অচিন পাখি) that longs to return to God (মিলন হবে কত দিনে/ আমার মনের মানুষের সনে ...) ... সেই জন্যই বলছিলাম ইউরোপের এই মহান শিল্পগুরুর দর্শন লালনের গানে প্রকাশিত হয়েছে ... খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়/ তারে ধরতে পারলে মনবেড়ী দিতাম পাখির পায়। পন্ডিতেরা তো বলে ন মাইকেল এঞ্জেলোর শিল্পকে এই দার্শনিক বিশ্বাস থেকে বিচার করতে হবে। বিশেষ করে তাঁর মানবদেহ পাথরের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হতে চায়।
ব্যাক্তিমানুষ হিসেবে মাইকেল এঞ্জেলো কেমন ছিলেন?
একজন শিল্পসমালোচক তাঁর সম্বন্ধে বলেছেন, মাইকেল এঞ্জেলো ছিলেন উদ্ধত, অটল, আত্মনির্ভরশীল, মিতব্যয়ী, উন্নত চিন্তাচেতনার অধিকারী, সহৃদয়, বিশুদ্ধ এবং সত্য। কেউ কেউ মাইকেল এঞ্জেলো কে বলত শিল্পকলার দান্তে। ... ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ। ৭৯ তম জন্মদিনের কিছু দিন আগে ইউরোপের সেই মহান শিল্পগুরু রোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সারা জীবন ধনী ও অভিজাত শ্রেণির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, বিপুল অর্থবিত্তের অধিকারী হয়েছিলেন।
‘আমার যতই ধনসম্পদ থাকুক আমি দরিদ্রই থাকব। ’
... বলেছিলেন ইউরোপীয় রেঁনেসার সেই মহান শিল্পগুরু ।



শিল্পগুরুর সমাধি

ছবি। ইন্টারনেট

তথ্যসূত্র:
Click This Link

Click This Link

http://www.michelangelo.com/buonarroti.html





সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৩৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×