somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: স্পর্শ

২৯ শে মে, ২০১১ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে প্রাচীন বাংলার পুন্ড্রনগর অবস্থিত ছিল । খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে উত্তর ভারতের মৌর্যরা পুন্ড্রনগর শাসন করিত। যাহা হউক। পুন্ড্রনগরের যুবক শূদ্রক তরুণি কমলিনী কে প্রগাঢ়রূপে ভালোবাসিত। অকস্মাৎ কমলিনীর মাতৃবিয়োগ ঘটিলে তাহার কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা ভগীরথ তাহার সুন্দরী কন্যাটিকে ধনী গৃহে বিবাহ দিতে সিদ্ধান্ত নিলেন। পুন্ড্রনগরের বিখ্যাত শ্রেষ্ঠী রমানাথ মৌর্যদের সৈন্যবাহিনীতে রণহস্তি যোগান দিয়া ধনপতি হইয়াছিল। তাহারই জ্যেষ্ঠ পুত্র সৌমাল্যের সঙ্গে ধুমধাম করিয়া কমলিনীর বিবাহ হইয়া গেল।
সৌমাল্যের সঙ্গে কমলিনীর বিবাহ হইয়া গেলে শূদ্রকের চক্ষে আঁধার ঘনাইয়া আসিল। জগৎসংসার তাহার কাছে অসার বোধ করিল। সংসারে শূদ্রকের একটি কনিষ্ঠা ভগিনী ছিল। তাহার নাম মঞ্জুশ্রী। অষ্টাদশী মঞ্জুশ্রী ঈষৎ শ্যামবর্ণের বলিয়া তাহার বিবাহে বিলম্ব হইতেছিল। যাহা হউক। পুন্ড্রনগরের বৃদ্ধ পুরোহিত রমানন্দের মধ্যস্থতায় সমতট রাজ্যের বণিক শ্যামলপ্রিয়র সঙ্গে মঞ্জুশ্রীর বিবাহ হইল। শ্যামলপ্রিয় পুন্ড্রনগর আসিয়া মঞ্জুশ্রীকে বিবাহ করিয়া সমতট রাজ্যের দেবপর্বত নগরে লইয়া গেল।
নিঃসঙ্গ শূদ্রক অহোরাত্র কমলিনীর ধ্যান করে। নাঃ, কমলিনীর সঙ্গে তাহার কখনও সেরূপ কথাবার্তা হয় নাই। করতোয়া নদীর পাড়ে শিলাদেবীর ঘাট। সে ঘাটে শূদ্রক বার কয়েক কমলিনীকে দেখিয়াছে মাত্র। আরেকবার শূদ্রকদের স্বর্ণের আপনে (দোকানে) আসিয়াছিল কমলিনী। তখন তাহার সঙ্গে অলংকারের নকশা বিষয়ে কিছু কথা হইয়াছিল মাত্র । কথা যাহা হইয়াছিল তাহা শূদ্রকের পিতা শ্রীনাথের সঙ্গেই হইয়াছিল। বৎসর দুই হইল সেই পিতাও পরলোকে চলিয়া গিয়াছেন। শূদ্রকের মা অনেক আগেই দেহ রাখিয়াছেন। শূদ্রকের মণিকার পিতা মৃত্যুকালে বিস্তর অর্থকড়ি রাখিয়া গিয়াছেন বলিয়া শূদ্রকের কাহারও কাছে হাত পাতিতে হয় না বটে - তবে তাহার বৈষয়িক অবস্থা কোনওমতেই পুন্ড্রনগরের শ্রেষ্ঠী রমানাথ-এর মতো নয়। অর্থের জোরে শ্রেষ্ঠী রমানাথ তাহার পুত্রের জন্য কমলিনীকে হরণ করিয়া লইলেন। শূদ্রকের এমনই বোধ হইল।
শ্রেষ্ঠী রমানাথ-এর মনোরম দ্বিতল প্রাসাদখানি পুন্ড্রনগরের যোগীর ভিটায় । প্রায়শ মধ্যরাত্রে সে প্রাসাদের বিপরীতে একটি হরীতকী গাছের নীচের আধো-অন্ধকারে আসিয়া দাঁড়ায় শূদ্রক । দাঁড়াইয়া প্রাসাদের দিকে চাহিয়া থাকে। প্রাসাদের কোনও কোনও বাতায়নে আলো জ্বলিয়া থাকে। শয্যায় অর্থ নগ্ন কমলিনীকে কল্পনাকে করিয়া অসহ্য মানসিক যন্ত্রনায় জর্জরিত হয় শূদ্রক। রাত্রির তৃতীয় প্রহরে প্রাসাদের সমস্ত আলো নির্বাপিত হইয়া গেলে শূদ্রক অস্থির হইয়া ভাবিতে চেষ্টা করে ... কমলিনী কি সুখি হইয়াছে? তাহার স্বামী সৌমাল্য গৌড়বর্ণের বলিষ্ট যুবাপুরুষ। স্বামী গৌড়বর্ণের বলিষ্ট যুবাপুরুষ হইলেই কি স্ত্রী সুখি হয়? কিছুমাত্র কি অপূর্ণতা থাকে না? নারীর তৃষ্ণা কি সহজে মিটে? এই সমস্ত ভাবিয়া দিশাহারা বোধ করে শূদ্রক । তখন অন্ধকারে করতোয়া নদী হইতে দূরন্ত বাতাসেরা ছুটিয়া আসিয়া তাহাকে ঘিরিয়া ধরে । প্রধান সড়ক হইতে মৌর্যসৈন্যদের অশ্বের ক্ষুরধ্বনি ভাসিয়া আসে। অদূরে বৃক্ষতলে উপবিষ্ট যোগীর ধূপের গন্ধ বাতাসে ছড়ায় । নিকটস্থ পানশালা হইতে ভাসিয়া আসে মদ্যপের গান । অন্ধকারে পুন্ড্রনগরীর দ্রোহীগন নিঃশব্দে শূদ্রকের পাশে আসিয়া দাঁড়ায়। তাহারা ফিসফিস করিয়া বলে, আমরা পুন্ড্রনগর হইতে মৌর্যদের শাসন উৎখাত করিতে চাই। তুমি আমাদের চক্রে যোগ দাও। শূদ্রক বলিল, আমি প্রেমিক। আমি দ্রোহী নই। আমি তোমাদের চক্রে যোগ দিব না। সাধু আসিয়া কহে, আমার সঙ্গে চল। আমি তোমাকে মুক্তির পথ দেখাইয়া দিব। শূদ্রক বলিল, আমি প্রেমিক। আমি মুক্তি চাই না, আমি মৃত্যু চাই। রাতের রমনী আসিয়া বলে, তুমি আমার সঙ্গে উদ্যানে চল। আমি তোমার সমস্ত তৃষ্ণা মিটাইব। শূদ্রক বলিল, আমার তৃষ্ণা ভিন্ন। তুমি বুঝিবে না। রমনীটি অভিমান করিয়া সরিয়া যায়।
এক রাত্রে পুন্ড্রনগরের দ্রোহীগন মৌর্যদের চর সন্দেহে শ্রেষ্ঠী রমানাথ-এর প্রাসাদে অগ্নিসংযোগ করিল। আগুন দ্রুত ছড়াইয়া পড়িল। ঘটনাস্থলে শূদ্রক পৌছাইবার পূর্বেই তাহার আরাধ্য পুড়িয়া নিঃশেষ হইয়া গেল। সে আর নতুন করিয়া কি দুঃখ পাইবে? পুন্ড্রনগরে তাহার আর কেহই রহিল না। সে এখন মুক্ত। সে এখন তীর্থে যাইবে। যোগী হইবে। যে গভীরভাবে ভালোবাসিতে পারে কেবল তাহারই যোগী হইবার অধিকার থাকে। তাহার আগে মঞ্জুশ্রীর মুখখানি একবার দেখিবে শূদ্রক। সমতট রাজ্যের উদ্দেশে পুন্ড্রনগর ত্যাগ করিল নিঃসঙ্গ উদভ্রান্ত যুবক।

শূদ্রককে দেখিয়া অত্যন্ত আনন্দিত হইল মঞ্জুশ্রী । একখানি শিশুপুত্রের জন্ম দিয়াছে মঞ্জশ্রী। শিশুপুত্রের নাম রাখিয়াছে সৌম্য। মঞ্জুশ্রীর পুত্রকে দেখিয়া শূদ্রক হৃদয়ে গভীর আবেগ টের পাইল। আমি জীবিত না-থাকিলেও গৌতম এই জগতে বাঁচিয়া থাকিবে। ইহা কি বিস্ময়কর নয়?
মঞ্জুশ্রীর শ্বশুরালয়টি খাঁ খাঁ করে। এককালে বাড়িটি মুখর হইয়া থাকিত। এখন যেন শ্মশানের নিস্তব্দতা বিরাজ করিতেছে। মঞ্জুশ্রীর শ্বশুর সত্যপ্রিয় পরলোক গমন করিয়াছেন। শাশুড়ি তাহার আগেই গত হইয়াছেন। শ্যামলপ্রিয়দের পারিবারিক কাঠের ব্যবসা। শ্যামলপ্রিয় কে ব্যবসার তত্ত্ববধানে গভীর অরণ্যে বানিজ্যকুঠিতে বাস করিতে হয়। মাঝেমধ্যে অবশ্য সে দেবপর্বত নগরে আসে।
শূদ্রক মঞ্জুশ্রী কে বলিল, আমি সমতট আসিলাম। তথাপি আমার সঙ্গে শ্যামলপ্রিয়র সাক্ষাৎ হইল না।
মঞ্জুশ্রীর মুখ শুকাইয়া গেল। বলিল, বর্ষা না ফুরাইলে সৌম্যের বাবা আসিতে পারিবে না।
শূদ্রক চিন্তিত হইয়া বলিল, আমি কি তত দিন থাকিতে পারিব? তীর্থে আমার মন টানিতেছে।
মঞ্জুশ্রী বলিল, তাহা হইলে আমি না-হয় তোমার অরণ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। মাহুত জগদীশ তোমায় হাতির পিঠে করিয়া অরণ্যে লইয়া যাইবে। তুমি গৌতমের বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়া না - হয় তীর্থে যাও।

শূদ্রককে হাতির পিঠ হইতে নামিতে দেখিয়া শ্যামলপ্রিয় যুগপৎ উৎফুল্ল ও বিস্মত হইয়া উঠিল। সে ছুটিয়া গিয়া তাহাকে বুকে জড়াইয়া ধরিল। বলিল, শূদ্রকদ! আপনি। কি আশ্চর্য! আসুন। আসুন।
সুনিবিড় অরণ্যের মধ্যে ছোট্ট চাতাল ঘিরিয়া শ্যামলপ্রিয়র বানিজ্যকুঠি। শাল কাঠের দৃঢ় গুঁড়ি দ্বারা নির্মিত বেষ্টনীর মধ্যে কুঠিখানি সুরক্ষিত। কুটিরের পিছনে একখানি পুকুরও চোখে পড়িল। বন্য কুক্কুট আর ঝিঁঝির চিৎকারে চতুর্দিক মুখর হইয়া ছিল। চাতালের এক পার্শ্বে কাঠের স্তূপ। অন্য পার্শ্বে হস্তিশালা। শ্রাবণ মাসের বাতাসে যুগপৎ কাঁচা কাঠের গন্ধ এবং হস্তির বিষ্ঠার গন্ধ ভাসিতেছিল। চাতালের চারধার ঘিরিয়া দীর্ঘ কাঠের মনোরম অলিন্দ।
অলিন্দে পাশাপাশি দুটি কাঠের আসনে সৌমাল্য এবং কমলিনীকে বসিয়া ছিল। শূদ্রক চমকাইয়া উঠিল। সৌমাল্য গৌড়বর্ণের বলিষ্ট যুবাপুরুষ। অনেক বারই শূদ্রকের স্বর্ণের আপনে আসিয়াছে। তথাপি শূদ্রককে চিনিবার কোনও লক্ষণ দেখা গেল না। কমলিনীও বিস্মিত হইয়া শূদ্রকের মুখের পানে চাহিয়া রহিল।
শ্যামলপ্রিয় শূদ্রকের পরিচয় দিয়া সৌমাল্য কে দেখাইয়া বলিল, আর ইনি হইলেন আমার নতুন বন্ধু সৌমাল্য । আমি গভীর অরণ্যে গাছের সন্ধান করি আর ইনি হাতির সন্ধান করিয়া বেড়ান। অল্পকাল হইল আমাদের পরিচয় হইয়াছে। বলিয়া শ্যামলপ্রিয় মৃদু হাসিল।
শূদ্রকের মনে পড়িয়া গেল সৌমাল্যের পিতা পুন্ড্রনগরের বিখ্যাত শ্রেষ্ঠী রমানাথ মৌর্যদিগকে রণহস্তি যোগান দিয়া ধনপতি হইয়াছে। পুন্ড্রনগরের বিদ্রোহীগন এদের প্রাসাদে আগুন দিয়াছে। এরা সমতটের অরণ্যে ছিল বলিয়া দৈবাৎ বাঁচিয়া গিয়াছে।
সৌমাল্য বিষন্ন কন্ঠে বলিল, পুন্ড্রনগরের বিদ্রোহীগন আমাদের প্রাসাদে আগুন দিয়াছে। আমার পরিবারের কেউই আর বাঁচিয়া নাই। আমি আর পুন্ড্রনগরে ফিরিব না। আমরা এখানেই থাকিব। বন্ধু শ্যামলপ্রিয়র সঙ্গে ব্যবসা করিব।
সমস্ত শুনিয়ে শূদ্রক কী এক ঘোরের মধ্যে পড়িয়া গেল।
কমলিনী সাবলীল ভঙ্গিতে মৃদু হাসিয়া বলিল, বুঝলেন শূদ্রকবাবু। দুই জনে ভালোই মিলিয়াছে । সারাদিন একত্রে বসিয়া পাশা খেলে।
শূদ্রক ম্লান হাসিল।
রাত্রে সবাই একত্রে খাইতে বসিল। অন্ন এবং বন্য কুক্কুটের মাংসের ব্যাঞ্জন। প্রদীপ জ্বলিতেছিল। কমলিনী জিজ্ঞাসা করিল, রান্নার স্বাদ হইয়াছে তো শূদ্রকবাবু?
শূদ্রক মাথা নাড়িয়া বলিল, রান্না ভালো হইয়াছে। আপনি রাঁধিয়াছেন?
না, না। সে কী! আমি রাঁধিতে যাইব কেন। রাঁধিয়াছে হেম হেমলতা। ...
খাইতে খাইতে মুখ তুলিয়া শ্যামলপ্রিয় বলিল, শূদ্রকদা, হেমলতা হইল মাহুত মাধবের স্ত্রী। মাধবের পোষা হাতিটি হঠাৎ উন্মাদ হইয়া গিয়া মাধবকে পায়ের তলায় পিষিয়া মারে। হেমলতা বিধবা হইল। এই সমস্ত পাঁচ বছর আগের কথা। তখনও আমার পিতা জীবিত ছিলেন। পিতাই দয়াবশত হেমলতাকে রন্ধনের কাজে নিয়োগ করিয়া গিয়াছেন।
খাওয়াদাওয়ার পর সবাই ঘুমাইতে গেল। কেবল শূদ্রক অলিন্দে বসিয়া থাকিল। বৈকালে কমলিনীর ঘরখানি চিনিয়া লইয়াছিল। সে জানালায় আলো দেখিয়া তীব্র মানসিক যন্ত্রনায় ছটফট করিল। মাঝ রাত্রে বৃষ্টি নামিল। একটি মাঝবয়েসি স্ত্রীলোক শ্যামলপ্রিয়র কক্ষে প্রবেশ করিল। কে? হেমলতা ? মঞ্জুশ্রীর অপাপবিদ্ধ মুখটি স্মরণ করিয়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিল শূদ্রক ।

ভোররাত্র হইতে ঘোর বর্ষা নামিল। কালো মেঘে আকাশ ছাইয়া গিয়াছে। প্রভাত হইতেই শ্যামলপ্রিয় আর সৌমাল্য অলিন্দে বসিয়া পাশা খেলিতে বসিল। অদূরে শূদ্রক একটি আসনে বসিয়া থাকিল। তাহার পার্শ্বে কমলিনীও বসিয়া থাকিল। অভিভূত হইয়া কমলিনীকে দেখে শূদ্রক। তাহার আরাধ্য এত কাছে। তবু স্পর্শ করিবার উপায় নাই। ইহাকে কি বলে? কমলিনীকে আজও জীবনদাত্রী বলিয়া মনে হয়, মনে হয় কমলিনীই জীবনের সারৎসার । কমলিনীও আড়চোখে শূদ্রককে দেখে। শূদ্রককে চিনিতে তাহার ভুল হয় নাই।
আহারের ফাঁকে কমলিনী জিজ্ঞাসা করে, আমাকে এখনও ভুলিতে পারিলেন না?
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকে। সে কি বলিবে? কমলিনী কি জানে সে কমলিনীকে কতখানি ভালোবাসে?
আপনি আর ঘরও বাঁধিলেন না?
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকে। সে ইহার কি উত্তর দিবে? সে যে জন্মাবধি কমলিনীর বিরহে পাগল হইয়া আছে। এখন অন্য নারীকে বিবাহ করিয়া তাহাকে ঠকাইবে কেন? বৈবাহিক সম্পর্ক যে কেবল শারীরিক নয়- বৈবাহিক সম্পর্ক মানসিকও বটে। তেমন না-হইলে বৈবাহিক সম্পর্কের বাঁধন যে শিথিল হইয়া যায়।
বিকালের দিকে বৃষ্টি ধরিয়া আসিল । চারিপাশের বনতলে অদ্ভূত এক হলুদ রঙের আলো ফুটিয়াছে। কমলিনী তাহার স্বামীকে বলিল, আমরা বেড়াইয়া আসি। তোমরা তো খেলায় মগ্ন।
সৌমাল্য অন্যমনস্কভাবে হাত নাড়িয়া কি বলিল।
একটানা বর্ষনে জলকাদা জমিয়াছে। তাহারা সাবধানে প্রধান ফটক পাড় হইয়া আসিল। শূদ্রক প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড় ভাবে অনুভব করিতে থাকে । সে জানে এই রূপ সুস্নিগ্ধ
মুহূর্ত তাহার জীবনে আর আসিবে না। কমলিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও সে বিষন্ন বোধ করিতে থাকে। বাতাসে বনপলাশের ঘন গন্ধ। হলুদ আলোর ভিতরে এক ঝাঁক হলদে প্রজাপতি উড়িতেছে । সেই হলুদ আলোয় শুভ্র শাড়ি পরিহিতা কমলিনীকে আলোকের দেবীর ন্যায় মনে হইতেছিল। অদূরে একটি বন্য কুক্কুট ডাকিয়া উঠিতেই শূদ্রকের কি ঘোর লাগিল। সে তাহার দুইটি চক্ষু দিয়া কমলিনীর শরীরটি লেহন করিতে লাগিল। বনভূমির সজল বাতাস কিংবা ঈশ্বর আসিয়া কমলিনীর শাড়ির আঁচল স্খলিত করিয়া দিল । বক্ষবন্ধনীর আড়ালে দুটি লাবন্যময়ী স্তনের আভাস ফুটিয়া উঠিল। শূদ্রকের শ্বাসকষ্ট হইতে থাকে। কতদিন হইল নির্জনে সে স্তন দুটিকে কল্পনায় স্পর্শ করিয়াছে।
বনের নিকটে সবুজ তৃণের প্রান্তর। অবিশ্রান্ত বর্ষনে তৃণগুলি ভিজিয়া আছে। প্রান্তরে পা রাখিতেই কমলিনীর পায়ের পাতা ভিজিয়া গেল। তখন সে এক অদ্ভুত কথা বলিল। বলিল, সৌমাল্যের পরিবর্তে আপনি আমার স্বামী হইলে আপনিও বোধহয় এতদিনে আমার উপর আকর্ষন হারাইয়া ফেলিতেন।
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকে।
কমলিনী মাদক কন্ঠে বলিল, চিরদিন আপনি যাহা স্পর্শ করিতে চাহিয়াছেন তাহা আর কতদিন ভালো লাগিত বলুন?
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকে। তখন এক ঝাঁক বালিহাঁস বৃষ্টিস্নাত ফিরোজা রঙের উজ্জ্বল আকাশে উড়িয়া গেল। একটি দলছুট চিত্রা হরিণ চকিতে দেবদারু গাছের আড়ালে চলিয়া গেল। প্রান্তরের জলের উপর দিয়া একটি বন্য ছাগশিশু ছপ ছপ শব্দ করিয়া দৌড়াইয়া গেল ।
কমলিনী বলিল, নারীর উপর পুরুষের আকর্ষন অধিককাল স্থায়ী হয় না। আপনি আপনার বোনের স্বামী শ্যামলপ্রিয় কে একজন সৎ ও চরিত্রবান মানুষ বলিয়াই জানেন। অথচ তিনি সঙ্গে হেমলতার সঙ্গে প্রত্যহ সংসর্গ করে। আমার স্বামীও সম্প্রতি এক স্থানীয় আদিবাসী বনবালার প্রতি ঝুঁকিয়াছে।
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকে।
সন্ধ্যা হইয়া আসিতেছিল বলিয়া চর্তুপাশ্বের আলোও কেমন স্তিমিত হইয়া আসিতেছিল । একটি রক্তিম আকাশের প্রেক্ষপটে পাখিরা ঝাঁক বাঁধিয়া নীড়ে ফিরিতেছিল। পরস্ত্রীর সহিত এতক্ষণ সঙ্গ করিতে নাই। তাহারা পায়ে পায়ে কুঠিরে ফিরিয়া যাইতে লাগিল। কমলিনী নরম স্বরে জিজ্ঞাসা করিল, আপনি এখান হইতে কোথায় যাইবেন?
কথাটি শূদ্রকের বুকে যেন অদৃশ্য শরের মতো বিঁধিল। সে অস্ফুট স্বরে বলিল, তীর্থে।
তীর্থে।
হ্যাঁ, তীর্থে।
আমাকে সঙ্গে লইয়া যাইবেন?
সে অধিকার কি আমার আছে?
যদি আমি নিজের ইচ্ছায় যাই তো?
তাহা হইলে লোকে আমাকে পাতক বলিবে। তা কি আপনি চান?
এক্ষণে কমলিনী চুপ করিয়া থাকিল। তাহার পর দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া আঁচল সংযত করিয়া স্তন দুটি ঢাকিল।

পরের দিন সকাল হইতেই প্রখর রৌদ্র ছড়াইয়া বনভূমি উজ্জ্বল করিয়া তুলিয়াছে। ঝিঁঝি আর পাখপাখালির ডাকে অরণ্য মুখরিত হইয়া আছে। মাহুত হাতি প্রস্তুত করিয়াছে রাখিয়াছে। শ্যামলপ্রিয় এবং সৌমাল্য হাতির পিঠে চড়িয়া গভীর অরণ্যে যাইবে । কাঠের বিলি ব্যবস্থা করিয়া দিন সাতেক পরে ফিরিবে। কমলিনীও তাহাদের সঙ্গে যাইবে।
শূদ্রকদা, আপনিও আমাদের সঙ্গে চলুন না ? শ্যামলপ্রিয় বলিল।
না, আমি বরং তীর্থেই যাই। দেখা তো হইল। শূদ্রক বলিল।
তাহারা চলিয়া গেলে সমস্ত কুটিরখানি খাঁ খাঁ করিতে লাগিল। শূদ্রক অলিন্দে বসিয়া কত কথা যে ভাবিল। ভাবিল এ সংসার অসার। কমলিনী সুখি হইল না। আমিও সুখি হইলাম না। এই জগৎসংসার অসার নয়তো কি । শ্যামলপ্রিয় স্ত্রীকে রাখিয়া বিধবা হেমলতার সঙ্গে সংসর্গ করে। হায়, জগতে সুখি কেহই না। এই সংসার মিথ্যা। মিথ্যা আর মায়া। ইহার কোনও অর্থ হয় না।
শূন্য কুটিরে হেমলতা তাহার বিগত যৌবনের অপসৃত সৌন্দর্য শূদ্রকের সামনে তুলিয়া ধরিবার পূর্বেই শূদ্রক তীর্থ যাত্রা করিল।

তাহার পর বহু বৎসর ভারতবর্ষের তীর্থে তীর্থে ঘুরিয়া বেড়াইল শূদ্রক । দেশভ্রমনের যুগপৎ পুলক ও বিস্ময় বোধ করিল সে। যাত্রাপথের অপার ক্লেশও সহ্য করিল। তথাপি তাহার মনে হইল বিশ্বজগৎ তাহার ধারণা চাইতেও বিশাল । ভারতবর্ষ জুড়িয়া বহু ধর্ম সম্প্রদায়ের বাস। বৈদিক অজিবক চার্বাক জৈন বৌদ্ধ । ইহারা প্রত্যেকেই তাহাদের সঙ্গ লইতে শূদ্রককে বলিল। শূদ্রক তথাপি সঙ্গহীন রহিল। সে কোনও গোষ্ঠীর দলভুক্ত হইল না। সে কেবল পথে পথে হাঁটিল। এক জনপদ হইতে অন্য জনপদে গেল। অনেক অনেক পথ চলার পর সহসা তাহার মঞ্জশ্রীকে দেখিতে ইচ্ছা হইল। তাহার পুত্রটিকে দেখিতে ইচ্ছা হইল। সমতট রাজ্যের গভীর অরণ্যে আরও একজন কে দেখিতে ইচ্ছা হইল।

মঞ্জুশ্রীর শ্বশুরালয় সম্মুখে একখানি অশোক গাছ। তাহার তলায় একজন যুবক দাঁড়াইয়া একজন অশ্বারোহী কিশোর কে কি সব নির্দেশ দিতেছিল। যুবকটির মুখের গড়ন মঞ্জুশ্রীর স্বামী শ্যামলপ্রিয়র ন্যায়। যুবকটির কাছে গিয়া শূদ্রক জিজ্ঞাসা করিল, তোমার নাম কি সৌম্য ?
আজ্ঞে হ্যাঁ। যুবকটি পরম বিস্মিত হইল যেন।
আমি তোমার মাতুল শূদ্রক।
ওহ্ । আপনার কথা মা আমাকে বলিয়াছেন। বলিয়া ঝুঁকিয়া শূদ্রকের পদধুলি গ্রহন করিল সৌম্য।
শূদ্রক ছোট্ট করিয়া শ্বাস টানিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার মা কি বাঁচিয়া আছেন?
না। মা এই বৎসরই শ্রাবণ মাসে দেহ রাখিয়াছেন।
মঞ্জুশ্রীর মৃত্যুর কথা শুনিয়া বিষন্ন হইল শূদ্রক। কিছুকাল পূর্বে আসিলে মঞ্জুশ্রীর সঙ্গে দেখা হইয়া যাইত। সে গম্ভীর কন্ঠে বলিল, আর তোমার বাবা? শ্যামলপ্রিয়?
বাবা দশ বছর হইল গত হইয়াছেন।
ওহ্ ।
সৌম্য বলিল, আসুন। ভিতরে আসুন। আপনি বহুপথ অতিক্রম করিয়া আসিয়াছেন। এখন ক্ষাণিক বিশ্রাম করুন।
বাড়ির ভিতরে যাইতে যাইতে শূদ্রকের কত কথা মনে পড়িয়া গেল। মঞ্জুশ্রী ... শ্যামলপ্রিয় ... হেমলতা নামে সেই বিধবাটি কি আজও বাঁচিয়া আছে? কমলিনী? সৌমাল্য? তাহারা বাঁচিয়া আছে তো? নাকি-
সৌম্য তাহার মাতুলকে তাহার মায়ের ঘরে লইয়া যত্ন করিয়া বসাইল। তাহার পর আহারের আয়োজন করিতে গেল। শূন্যঘরের বাতাসে জমাকুসুম তেলের মৃদু গন্ধ ভাসিতেছিল। শূদ্রকের কানে মঞ্জুশ্রীর কন্ঠ বাজিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া জানালার দিকে তাকাইল। জানালা ঘেঁষিয়া একখানি দেবদারু গাছ। তাহার ডালপালার ফাঁকে শরতের নীলাভ আকাশ আর বহুদূরের পর্বত শীর্ষে একটি বৌদ্ধ বিহার। কত যে পাখি গুঞ্জন করিতেছে। আশ্চর্য! মঞ্জুশ্রী বাঁচিয়া নাই। ঘোরের মধ্যে শূদ্রক জানালার নিকটে আসিল। একটি রৌদ্রময় চাতাল। এক পার্শ্বে একটি কুয়া। একটি সাদা শাড়ি পরিহিতা মধ্যবয়েসী নারী কুয়া পাড়ে কাপড় কাচিতেছে। নারীটিকে চেনা চেনা ঠেকিল। সহসা এদিকে মুখ ফিরাইতে শূদ্রক চমকাইয়া উঠিল। কমলিনী! আশ্চর্য! কমলিনী এখানে কি করিতেছে?
সৌম্য কাঁসার পাত্রে জল লইয়া ফিরিল।
শূদ্রক উত্তেজিত কন্ঠে বলিল, সৌম্য ? কুয়াতলায় একজন বিধবাকে দেখিলাম। কে তিনি?
সৌম্য বলিল, ওহঃ তুমি কমলিনী কাকীমা কথা বলিতেছ? কমলিনী কাকীমা হইলেন বাবার বন্ধু সৌমাল্যের স্ত্রী। বছর পাঁচেক হইল সৌমাল্য কাকা মারা গিয়াছেন।
শূদ্রক ভয়ানক চমকাইয়া উঠিল। কি হইয়াছিল সৌমাল্যের?
সৌম্য বলিল, তিনি অরণ্যের গভীরে বনদস্যু দ্বারা আক্রান্ত হইয়া নিহত হইয়াছেন। মাহুত জগদীশ কাকীমাকে দেবপর্বত নগরে পৌঁছাইয়া দিয়াছিল।
ওহ্।
সৌম্য বলিল, তাহার পর হইতে কাকীমা আমাদের এখানেই রহিয়াছে। মা কাকীমাকে আপন ভগিনী তুল্য মনে করিত ...

অনেক রাত্রে কমলিনীর ঘরের সামনে আসিল শূদ্রক। ঘরের ভিতরে একখানি প্রদীপ জ্বলিয়া ম্লান আলো ছড়াইতেছিল। কমলিনী মেঝের উপর ধ্যানমগ্ন হইয়া বসিয়াছিল। শূদ্রক ঘরে প্রবেশ করিল। পদশব্দে কমলিনী মুখ তুলিয়া চাহিল। তথাপি চমকাইয়া উঠিল না। এতদিন যাহার দেখা পাইবার জন্য ধ্যান করিতেছে সে ফিরিয়া আসিলে বিস্মিত হইবার কি আছে।
শূদ্রক বসিল। বলিল, কেমন আছ কমলিনী?
নরম স্বরে কমলিনী বলিল, বিধাতা যেমন রাখিয়াছেন।
ক্ষানিক ক্ষণ নিস্তব্দ থাকিয়া শূদ্রক বলিলেন, বহু বৎসর পূর্বে আমি মধ্যরাত্রিতে পুন্ড্রনগরের ধানমোহনীতে তোমার শ্বশুরালয়ে দ্বিতল প্রাসাদের সামনে একটি হরীতকী গাছের নীচের অন্ধকারে দাঁড়াইয়া থাকিতাম আর তোমাকে কল্পনাকে করিতাম। রাত্রির তৃতীয় প্রহরে প্রাসাদের সমস্ত আলো নির্বাপিত হইয়া গেলে আমি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিতাম।
জানি। কমলিনী বলিল।
জান? কিরূপে?
আমি তাহা বলিতে পারিব না।
শূদ্রক চুপ করিয়া থাকিল। সে বৃদ্ধ হইয়াছে। সে এখন জানে জীবনের সব বিষয় বুঝিয়া উঠিয়া যায় না। কেবল অনুভব করিতে হয়।
কমলিনী মৃদু হাস্য করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আপনি এত যে তীর্থে তীর্থে ঘুরিলেন, ইহাতে আপনার কি লাভ হইল?
শূদ্রক উত্তর না দিয়া কমলিনীর হস্ত স্পর্শ করিল।
আপনি বিধবাকে স্পর্শ করিলেন! কমলিনী আর্তস্বরে বলিল।
করিলাম। শূদ্রক হাসিয়া বলিল।
কেন করিলেন? কমলিনী কাঁপিতেছিল।
কারণ তীর্থে তীর্থে ঘুরিয়া বুঝিলাম স্পর্শই সত্য ...
আর? কমলিনী সম্ভবত মৃদু হাসিল। ঘরখানি আধো অন্ধকার হওয়ায় ঠিক বোঝা গেল না।
আর সে স্পর্শ কেবল মানসিক নয়- শারীরিকও বটে।
আর?
আর কিছু না-বলিয়া ঝুঁকিয়া নিবিড় ভাবে কমলিনীর অধরোষ্ঠ চুম্বন করিল শূদ্রক।
কমলিনী কাঁপিয়া উঠিল ...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১২ দুপুর ১২:৫৪
১৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×