কবি কাজী নজরুল ইসলাম তখন কলকাতার একটি মুসলিম মেস্ -এ থাকতেন।
একদিনের কথা ।
সকাল থেকে সারা কলকাতা শহর চষে দুপুরের দিকে মেসে ফিরে এলেন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত কবি । প্রখর গরমে ঘেমে উঠেছেন। সেই সঙ্গে প্রচন্ড খিদেও পেয়েছে।
কবি মেসের বাবুর্চিকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ কি রেঁধেছিস রে রহমত?
বাবুর্চি রহমত হেসে বলল, আজ আপনার প্রিয় পদই রেঁধেছি।
আহা বল না। এত ভনিতা করছিস ক্যান? কবি সামান্য উষ্মা প্রকাশ করেন।
রহমত হেসে বলল, আজ ঝাল ঝাল করে গরু গোস্ত রেঁধেছি।
কবি উৎফুল্ল হয়ে উঠে বললেন, বাহ্, আজ তো তোফা ভোজ হবে দেখছি। তা তুই ভাত বার রহমত । আমি চান করে আসছি। বলে কাঁধে গামছা ফেলে কুয়োতলায় গোসল করতে গেলেন কবি।
মেসের উঠানে পাতকুয়া। বালতি বালতি পানি তুলে ঝপাস ঝপাস করে গোছল করতে থাকেন কবি । কুয়ার ঠান্ডা পানিতে শরীর জুড়িয়ে যায় তার।
সেই সঙ্গে খিদেও চনচনে হয়ে ওঠে।
গোছল সেরে এসে কবি দেখেন গ্রাম থেকে একজন অতিথি এসেছে। অতিথি কবিরই এক রুমমেটের কী রকম যেন দূর সম্পর্কের আত্মীয়। অতিথি ক্ষুধার্ত। কিন্তু তার জন্য ভাত-তরকারী রান্নার সময় নেই। কবি প্রসন্ন মনে তার ভাগের ঝাল ঝাল করে রাঁধা গরুর গোস্তের বাটি আর গরম ভাতের থালাটি সেই অতিথিকে খেতে দিয়ে ঢক ঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার দুপুরের রোদে বেরিয়ে পড়লেন।
* ঘটনাটি কোথাও যেন পড়েছিলাম, ঠিক মনে নেই । পড়ার সেই স্মৃতি থেকেই লিখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১১ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




