প্রাচীন ফিলিস্তিন রাজ্যে একজন লোক বাস করত। তার স্ত্রী গর্ভবতী হল। লোকটি তখন আনন্দে ডগমগ হয়ে তার স্ত্রীকে বলল, দেখ, তোমার পুত্রসন্তান হবে। ছেলের মুখ দেখে আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাব। আমি আমার ছেলেকে শিক্ষিত করে তুলব। ভালো ভাবে মানুষ করব। আমার মৃত্যুর পরও আমার ছেলে আমার নাম রাখবে। আমার বংশের মানসম্মান বৃদ্ধি করবে।
লোকটার স্ত্রী খানিকটা ঝাঁঝ দেখিয়ে বলল, শোন, অত বকবক করো না।
কেন? লোকটা অবাক হল।
লোকটার স্ত্রী বলল, ভবিষ্যতে কি হবে না হবে তা তুমি জান না। তুমি কি ভাবে জানলে যে জন্মের সময় কোনওরকম ঝামেলা হবে না? আর ছেলেই যে হবে তাই-বা তুমি কি করে জানলে। কি করে জানলে সেই ছেলে বেঁচে থাকবে, ছেলের স্বাস্থ্য ভালো হবে।
লোকটা চুপ করে থাকে। স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
লোকটার স্ত্রী বলল, এসব বলে অত অহংকার করো না। সব ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দাও। তিনিই আমাদের ভাগ্যকে নির্ধারিত করে দেন।
লোকটা চুপ করে থাকে। তার স্ত্রী জিগ্যেস করে, তুমি কি সেই দরবেশের কাহিনী জান?
কোন্ দরবেশ? লোকটাকে কৌতূহলী মনে হল।
বলছি। রাজা দাউদের আমলের ঘটনা। এক দরবেশ কে রাজা দাউদ প্রতিদিন দুটি রুটি ও খানিকটা মধু দিতেন। দরবেশ রুটি খেত এবং একটা পাত্রে মধু জমিয়ে রাখত। সেই মধুর পাত্রটি দরবেশ মাথায় বহন করত। আমি যখনকার কথা বলছি সে সময়ে মধুর দাম ছিল চড়া। দরবেশ একদিন দেখল যে মধুর পাত্রটি প্রায় ভরে উঠেছে। দরবেশ মনে মনে ভাবল: মধুর দাম এখন চড়া। পাত্রটা ভরে উঠলেই বাজারে গিয়ে মধু বিক্রি করে দেব। এক পাত্র মধুর বিনিময়ে কি একটি স্বর্ণখন্ড পাব না? ঠিকই পাব। আর তাতে দশটি ভেড়ার দাম ঠিকই হয়ে যাবে। ওগুলির বাচ্চাকাচ্চা হবে । সেই হিসেবে এক বছরে অন্তত কুড়িটি ভেড়া তো পাবই। এভাবে ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তাহলে চার বছরে পাব চার’ শ ভেড়া! ওগুলি বেচে কিনব জমি, বলদ আর গরু । গরুর বাছুর হবে। বলদ দিয়ে জমি চাষ করব। ওহো, গরু থেকে তো দুধও পাব। পাঁচ বছরে আমার গোসম্পদ বাড়বে। লোকে আমাকে দেখিয়ে বলবে, ঐ লোকটা প্রচুর ধনসম্পদের মালিক । ঝকঝকে সুন্দর একটা বাড়ি বানাব। অনেকগুলি দাসদাসী কিনব। তারপর বিয়ে করব অভিজাত বংশে। আমার বউ গর্ভবতী হবে ... ফুটফুটে নাদুসনুদুস ছেলে হবে। তার জন্মের সময়ে আকাশে সৌভাগ্যশালী তারকা জ্বলজ্বল করবে। আমার পুত্রসন্তান হবে সুখি ও আর্শীবাদ পুষ্ট। আমার মৃত্যুর পরও আমার সুনাম বহন করবে ... আর যদি ... আর যদি আমার ছেলে আমার কথা না শোনে তো এই লাঠি দিয়ে ওকে আমি পেটাব । বলে দরবেশ লাঠি তুলে। তুলতেই লাঠির আঘাতে মাথার ওপর রাখা মধুর পাত্রটি ভেঙে যায় ...
লোকটার স্ত্রী বলল, তোমাকে শিক্ষা দিতেই আমি এই গল্পটা বললাম । যা নিশ্চিত নয় সে সম্পর্কে কথা বলা মূর্খের কাজ। একবার রাজা সলোমনের সেই কথাটা মনে করে দেখ।
কোন কথা? লোকটা জিগ্যেস করে।
কাল কি হবে তা যখন তুমি জান না ... তখন নিজেকে নিয়ে অত গর্ব করো না।
অনুবাদ উৎস:
Rajasir সম্পাদিত 100 Stories from around the World
বইটির ডাউনলোড লিঙ্ক
http://www.mediafire.com/?6a01096liz8k6zw
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১২ ভোর ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




