somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিব্রু গল্প: দরবেশ ও মধুর পাত্র

২৩ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাচীন ফিলিস্তিন রাজ্যে একজন লোক বাস করত। তার স্ত্রী গর্ভবতী হল। লোকটি তখন আনন্দে ডগমগ হয়ে তার স্ত্রীকে বলল, দেখ, তোমার পুত্রসন্তান হবে। ছেলের মুখ দেখে আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাব। আমি আমার ছেলেকে শিক্ষিত করে তুলব। ভালো ভাবে মানুষ করব। আমার মৃত্যুর পরও আমার ছেলে আমার নাম রাখবে। আমার বংশের মানসম্মান বৃদ্ধি করবে।
লোকটার স্ত্রী খানিকটা ঝাঁঝ দেখিয়ে বলল, শোন, অত বকবক করো না।
কেন? লোকটা অবাক হল।
লোকটার স্ত্রী বলল, ভবিষ্যতে কি হবে না হবে তা তুমি জান না। তুমি কি ভাবে জানলে যে জন্মের সময় কোনওরকম ঝামেলা হবে না? আর ছেলেই যে হবে তাই-বা তুমি কি করে জানলে। কি করে জানলে সেই ছেলে বেঁচে থাকবে, ছেলের স্বাস্থ্য ভালো হবে।
লোকটা চুপ করে থাকে। স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
লোকটার স্ত্রী বলল, এসব বলে অত অহংকার করো না। সব ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দাও। তিনিই আমাদের ভাগ্যকে নির্ধারিত করে দেন।
লোকটা চুপ করে থাকে। তার স্ত্রী জিগ্যেস করে, তুমি কি সেই দরবেশের কাহিনী জান?
কোন্ দরবেশ? লোকটাকে কৌতূহলী মনে হল।
বলছি। রাজা দাউদের আমলের ঘটনা। এক দরবেশ কে রাজা দাউদ প্রতিদিন দুটি রুটি ও খানিকটা মধু দিতেন। দরবেশ রুটি খেত এবং একটা পাত্রে মধু জমিয়ে রাখত। সেই মধুর পাত্রটি দরবেশ মাথায় বহন করত। আমি যখনকার কথা বলছি সে সময়ে মধুর দাম ছিল চড়া। দরবেশ একদিন দেখল যে মধুর পাত্রটি প্রায় ভরে উঠেছে। দরবেশ মনে মনে ভাবল: মধুর দাম এখন চড়া। পাত্রটা ভরে উঠলেই বাজারে গিয়ে মধু বিক্রি করে দেব। এক পাত্র মধুর বিনিময়ে কি একটি স্বর্ণখন্ড পাব না? ঠিকই পাব। আর তাতে দশটি ভেড়ার দাম ঠিকই হয়ে যাবে। ওগুলির বাচ্চাকাচ্চা হবে । সেই হিসেবে এক বছরে অন্তত কুড়িটি ভেড়া তো পাবই। এভাবে ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তাহলে চার বছরে পাব চার’ শ ভেড়া! ওগুলি বেচে কিনব জমি, বলদ আর গরু । গরুর বাছুর হবে। বলদ দিয়ে জমি চাষ করব। ওহো, গরু থেকে তো দুধও পাব। পাঁচ বছরে আমার গোসম্পদ বাড়বে। লোকে আমাকে দেখিয়ে বলবে, ঐ লোকটা প্রচুর ধনসম্পদের মালিক । ঝকঝকে সুন্দর একটা বাড়ি বানাব। অনেকগুলি দাসদাসী কিনব। তারপর বিয়ে করব অভিজাত বংশে। আমার বউ গর্ভবতী হবে ... ফুটফুটে নাদুসনুদুস ছেলে হবে। তার জন্মের সময়ে আকাশে সৌভাগ্যশালী তারকা জ্বলজ্বল করবে। আমার পুত্রসন্তান হবে সুখি ও আর্শীবাদ পুষ্ট। আমার মৃত্যুর পরও আমার সুনাম বহন করবে ... আর যদি ... আর যদি আমার ছেলে আমার কথা না শোনে তো এই লাঠি দিয়ে ওকে আমি পেটাব । বলে দরবেশ লাঠি তুলে। তুলতেই লাঠির আঘাতে মাথার ওপর রাখা মধুর পাত্রটি ভেঙে যায় ...
লোকটার স্ত্রী বলল, তোমাকে শিক্ষা দিতেই আমি এই গল্পটা বললাম । যা নিশ্চিত নয় সে সম্পর্কে কথা বলা মূর্খের কাজ। একবার রাজা সলোমনের সেই কথাটা মনে করে দেখ।
কোন কথা? লোকটা জিগ্যেস করে।
কাল কি হবে তা যখন তুমি জান না ... তখন নিজেকে নিয়ে অত গর্ব করো না।

অনুবাদ উৎস:

Rajasir সম্পাদিত 100 Stories from around the World

বইটির ডাউনলোড লিঙ্ক

http://www.mediafire.com/?6a01096liz8k6zw
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১২ ভোর ৬:৩৯
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×