somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Mitochondrial Eve কিংবা শাঁইজীর কাননের কামিনীরা

১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কুষ্ঠিয়ার আখড়াবাড়ির উঠোনে সাদা শাড়ি পরা বাউলানিরা দল বেঁধে গাইছেন লালনের এক নিগূঢ় তত্ত্বগান:

মায়েরে ভজিলে হয় তার বাপের ঠিকানা।
নিগূঢ় বিচারে সত্য গেল তাই জানা।


এ দুটি চরণে আমাদের অনেকেরই Mitochondrial Eve তত্ত্বটির কথা মনে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি চিত্তাকর্ষক আবিস্কার এই Mitochondrial Eve তত্ত্বটি। প্রচন্ড আলোরণ তোলা এই তত্ত্বটি বলে যে: জীবিত সব মানুষের উদ্ভব একজন নারী থেকে হয়েছে । Mitochondrial Eve তত্ত্বটি সম্পর্কে মূলের কথাগুলি পাঠ করা যাক: In the field of human genetics, Mitochondrial Eve refers to the matrilineal "MRCA" (most recent common ancestor). In other words, she was the woman from whom all living humans today descend, on their mother's side, and through the mothers of those mothers and so on, back until all lines converge on one person. Because all mitochondrial DNA (mtDNA) is generally passed from mother to offspring without recombination, all mitochondrial DNA (mtDNA) in every living person is directly descended from hers by definition. Mitochondrial Eve is the female counterpart of Y-chromosomal Adam, the patrilineal most recent common ancestor, although they lived thousands of years apart.
বর্তমান কালে বেঁচে থাকা মানুষের উৎসে একজন নারী -এমন তথ্য আমাদের বিস্মিত করে বৈ কী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত সৃষ্টিতত্ত্বের বিপরীতে সৃষ্টিকর্তা নারীর মাধ্যমে খোদ মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন- এমন একটি নারীকেন্দ্রিক ধারণা দীর্ঘকাল ধরে মাতৃতান্ত্রিক বাংলায় প্রচলিত রয়েছে। এবং এই ধারণাটি প্রায়শ মারেফাতি এবং বাউল গানের মাধ্যমে প্রচারিত হয় বৈ কী । যেমন মামুন নদীয়ার রচিত একটি গানে নারীকেন্দ্রিক বর্ণনা রয়েছে। গানের শুরুটা এরকম:

শাঁইজীর ওই নয়নকোণে ফুলের কাননে
কত না কামিনী ফোটে রে
রসিক মোরা (মওলা?) কেলে ভ্রমরা
গোপনে ফুলের মধু খাইল কিশোরী


শাঁইজী, অর্থাৎ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা। তাঁরই কাননে (অর্থাৎ বাগানে) কামিনী (নারী) ফুটেছে । কেন? কারণ শাঁইজী নারীর মাধ্যমে মানবজাতি সৃষ্টি করবেন।

রসিক মোরা (মওলা?) কেলে (খেলে) ভ্রমরা
গোপনে ফুলের মধু খাইল কিশোরী


রসিক মওলা অর্থাৎ শাঁইজী নিজেই ভ্রমররূপে নারীর ভিতরে সৃষ্টিবীজটি বপন করছেন। এভাবে ‘গোপনে ফুলের মধু খাইল কিশোরী ।’ কিন্তু, গোপনে কেন? কেননা, সৃষ্টিমুহূর্তটি কেউই অবলোকন করেনি। আর এই কিশোরী কে? এই কিশোরী হল শাঁইজীর বাগানের নারী।
আসলে এই পুরোটাই রূপক-যা তত্ত্বাকারে প্রকাশিত। লালন এই তত্ত্বটি প্রকাশ করেছেন তাঁর একটি গানে:

মায়েরে ভজিলে হয় তার বাপের ঠিকানা।
নিগূঢ় বিচারে সত্য গেল তাই জানা।

পুরুষ পরওয়ারদিগার
অঙ্গে ছিল প্রকৃতি তার
প্রকৃতি প্রকৃতি সংসার
সৃষ্টি সবজনা।

নিগম খবর নাহি জেনে
কে বা সে মায়েরে চেনে।
যাহার ভার দীন দুনিয়ার
দিলেন রাব্বানা।

ডিম্বু মধ্যে কেবা ছিল
বের হয়ে কারে দেখিল
লালন কয় সে ভেদ যে পেল
ঘুচল দিন-কানা।



হয়তো এ সাদৃশ্য নিছকই কাকতালীয় ঘটনা। Mitochondrial Eve তত্ত্বটির সঙ্গে আদতে বাংলার নারীকেন্দ্রিক ভাবদর্শনের সঙ্গে সেভাবে কোনও সম্পর্ক নেই। তবে In other words, she was the woman from whom all living humans today descend, on their mother's side, and through the mothers of those mothers and so on, back until all lines converge on one person... এই কথায় বাংলার বাউলসাধকগন বিস্মিত নাও হতে পারেন। কারণ তারা যেন জানতেন যে- বিজ্ঞান একদিন এমনই এক নারীবাদী প্রগাঢ় সত্য আবিস্কার করবেন ... কারণ বাংলার বাউলসাধকদের প্রাণপুরুষ ফকির লালন শাহ তো সে সত্য উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি দ্বিধাহীন চিত্তে গানের ভিতর দিয়ে প্রকাশ করেছেন:

মায়েরে ভজিলে হয় তার বাপের ঠিকানা।
নিগূঢ় বিচারে সত্য গেল তাই জানা।


কিন্তু গানের সত্য কি সত্য?
হ্যাঁ। বাংলায় গানের সত্যই সত্য। কেননা,

গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি/
তখন তারে চিনি আমি তখন তারে জানি
...(রবীন্দ্রনাথ)

Mitochondrial Eve
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৪০
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×