somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দীনদয়ালের ঘর

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ভাবেতে রাখেন গোঁসাই সেই ভাবেতেই থাকি/অধিক আর বলব কি? যাদুবিন্দু

বর্ণ হিন্দু ও শরীয়তী ইসলাম ধর্মের বিরোধীতা করে আঠারো শতকের শেষের দিকে বাংলায় কিছু লোকায়ত ধর্ম গড়ে উঠেছিল। এসব লোকায়ত ধর্ম, গৌণ সম্প্রদায়, উপধর্ম বা ইংরেজিতে ‘মাইনর রিলিজিয়াস সেক্টস’ নামে পরিচিত । এসব লোকায়ত ধর্মের মধ্যে সাহেবধনী সম্প্রদায়টি ছিল অন্যতম। এই সম্প্রদায়ের প্রবর্তক নদীয়ার দুঃখীরাম পাল হলেও মূলত তাঁর ছেলে চরণ পালই সাহেবধনী মতটি প্রচার করেন।
রূপসী বাংলার কবি লিখেছেন:

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে/
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়।

জলাঙ্গী নদীটি বইছে নদীয়া জেলার বুক চিরে। সেই সবুজ করুন ডাঙায় আজও এক গ্রাম আছে। সে গ্রামের নাম দোগাছিয়া; সে গ্রামে জন্মেছিলেন দুঃখীরাম পাল। জনৈক উদাসীনের কাছে তিনি দীক্ষা নেন এবং সাবেহধনী ধর্মমতের প্রতিষ্ঠা করে। তাঁর ছেলে দোগাছিয়া থেকে বৃত্তিহুদা গ্রামে ভিটেমাটি সরিয়ে নেন। সাহেবধনীদের সাধনপীঠ আর আসন এখন ওই বৃত্তিহুদা গ্রামেই ।
বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে সাবেহধনীরা বৈষ্ণব সহজিয়া। বিষয়টি উপলব্দি করার জন্য সংক্ষেপে বৈষ্ণব সহজিয়া মতের উদ্ভবের প্রেক্ষাপটটি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ষোড়শ শতকে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীচৈতন্যদেব বাংলার সমাজজীবনে গভীর প্রভাব রেখেছিলেন। তৎকালীন সময়ে অন্ত্যজ মানুষের ওপর ব্রাহ্মণদের অত্যাচার রোধ করতে তিনি এক উদার সমন্বয়বাদী বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার করেন। সেই ধর্মের সাধনা ছিল অত্যন্ত সহজ । ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহন করেছিল। শ্রীচৈতন্যদেব ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করার পর অবশ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবমঠ শ্রীচৈতন্যদেবের আদর্শ থেকে বিচ্যূত হয়। বৈষ্ণব ধর্মটি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যায়। তার বদলে আমরা দেখি যে বৃন্দাবনের গোস্বামীরা সংস্কৃতে শাস্ত্রগ্রন্থ লিখে চৈতন্যতত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। চৈতন্যদেবের শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের রক্ষার দিকটি পরিত্যক্ত হল। নিম্নবর্ণেরা সাধারণ মানুষ এতে করে তাদের ধর্মসাধনায় দিকভ্রান্ত হল। (ফরহাদ মজহার তাঁর ২০০৮ সালে প্রকাশিত ‘ভাবান্দোলন’ গ্রন্থের উৎসর্গ-পত্রে লিখেছেন ...উপমহাদেশের জাত-পাত-শ্রেণী-নারী-পুরুষভেদ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রধান পূর্বসুরি দয়াল নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর শ্রীচরণে) দয়াল নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ছিলেন শ্রীচৈতন্যদেবের শিষ্য। নিত্যানন্দের ছেলে বীরচন্দ্র। তিনি এই ধর্মীয় সংকটকালে এগিয়ে এলেন। বীরচন্দ বৌদ্ধ সহজিয়া তান্ত্রিক এবং শিক্ষাবঞ্চিত মানুষদের বৈষ্ণবমতে ফিরিয়ে আনলেন। কাজেই বৈষ্ণবধর্মে যুক্ত হল নানান লৌকিক গুহ্য সাধনা এবং মন্ত্রবীজতন্ত্র । গুপ্তবিদ্যায় আচ্ছন্ন হয়ে উদ্ভব হল বৈষ্ণব সহজিয়া মতের । বাংলার গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠল আখড়া সাধনকুঠির। তেমনি নদীয়া জেলার চাপড়া থানার বৃত্তিহুদায় গঠে উঠেছিল সহজিয়া বৈষ্ণব সাহেবধনীদের আসন। বৃত্তিহুদা গ্রামটি মুসলমান অধ্যূষিত। তবুও আজও সেখানে সহজিয়াকেন্দ্রিক উপধর্ম টিকে রয়েছে। এই হল নদীয়ার মানবতাবাদী ভাবদর্শনের মাহাত্ম্য। যে কারণে লালন গেয়েছেন-

নদীয়ার ভাবের কথা/অধীন লালন জানে কি তা।


সাহেবধনীদের আরাধ্য ঈশ্বরের নাম দীনদয়াল বা দীনবন্ধু। অর্থাৎ সাহেবধনীরা দীনদয়ালের ঘর। দীনদয়াল দীনহীনের বন্ধু। অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে দীনহীনের একজন বন্ধু বড় অনিবার্য হয়ে পড়েছিল । কেননা, তখন বাংলায় অন্ত্যজ শ্রেণির নানা দিক থেকে অসহায় হয়ে পড়েছিল। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ছিল না। এর ওপর মড়ার উপর খরার ঘায়ের মতো উচ্চবর্ণের দমনপীড়ন তো ছিলই ।নদীয়ার দুঃখীরাম পাল এবং তাঁর ছেলে চরণ পাল এঁরা অন্ত্যজ-শূদ্রদের বাঁচার জন্য একটা জায়গা তৈরি করেছিলেন। যেমনটা সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘সংকীর্ণ শাস্ত্র ব্যাখ্যা করে বাঁচা নয়, উদার মানবতা নিয়ে সহজ করে বাঁচা। মূর্তিপূজা,অপদেবতা পূজা, অকারণ তীর্থভ্রমন,দেবদ্বিজে বিশ্বাস, শাস্ত্র নির্ভরতা ও আচার সর্বস্বতার বিরুদ্ধে এঁর অস্ত্র ছিল জাতিভেদহীন সমন্বয় এবং নতুন মানবতাবাদী সহজ ধর্মবিশ্বাস।’ ( গভীর নির্জন পথে )
যা হোক। তখন আমি বলছিলাম যে চরণ পাল দোগাছিয়া থেকে ভিটেমাটি সরিয়ে নিয়েছিলেন জলাঙ্গী নদীর পরপারে বৃত্তিহুদায়। চরণ পালের শিষ্যদের মধে্য প্রধান ছিলেন কুবির গোঁসাই । এঁর আসল নাম ছিল কুবের সরকার। সেই কুবের সরকারই নদীয়ার মানুষের মুখে মুখে হয়ে গেল কুবির গোঁসাই ! সে যাই হোক। কুবির গোঁসাইয়ের শিষ্য যাদুবিন্ধু। কিন্তু শিষ্যর কথা পাড়ার আগে কুবির গোঁসাইয়ের কথাই পাড়ি।
বড় মাপের লোকগীতিকার ছিলেন কুবির গোঁসাই । জন্ম ১৭৮৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। ১২০৩ খানা গান লিখেছেন! অবশ্য দু-বাংলায় তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেননি; মানে, যেমন জনপ্রিয় লালন কিংবা বিজয় সরকার আর কী। এবং এই কথাটা জানানোর জন্যই এই পোস্টখানার অবতারনা। আমাদের বক্তব্যের সারমর্ম হল: বাংলার সমাজজীবনের প্রধান এক বৈশিষ্ট্য হল তার লৌকিক ধর্ম। শহরে সাম্প্রদায়িকতা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হলেও বাংলার লৌকিক জীবনে সাম্প্রদায়িকতার অসারতা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মাধ্যমে বহু আগেই খন্ডন করা হয়েছে। এবং সেই যুক্তিতর্কই লৌকিক ধর্মের অনুসারীগণ গানের মাধ্যমে প্রচার করেন। সাহেবধনী সম্প্রদায়ের কুবির গোঁসাই তাঁদেরই একজন। অর্থাৎ কুবির গোঁসাই ছিলেন সাহেবধনী সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন তাত্ত্বিক গীতিকার। তার মানে বাউল ধর্মে লালনের যে ভূমিকা সেই অভিন্ন ভূমিকা সাহেবধনী সম্প্রদায়ের কুবির গোঁসাইয়ের। পেশায় কুবির গোঁসাই ছিলেন কবিরাজ। একটা গানে তিনি সে আওয়াজ তুলেছেন-

আমার চরণচাঁদের নামের জোরে
কত দুখী তাপী পাপী তরে
হাঁপ কাশি শুল গুডুম ব্যথা
মহাব্যাধি হয় আরাম।


পেশা কবিরাজী হলেও কুবির গোঁসাইয়ের জাতে ছিলেন যুগী। অর্থাৎ মধ্যযুগের বাংলার নাথধর্মের সঙ্গে কুবির গোঁসাইয়ের একটা সম্পর্ক আবিস্কার করা গেল। খুলে বলি। একটু আগেই বলেছি, বাংলার সমাজজীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল তার লৌকিক ধর্ম। তেমনি বাংলার অন্যতম এক লৌকিক ধর্ম হল নাথধর্ম। এই ধর্মটির প্রবর্তক বরিশালের মীননাথ। মীননাথের শিষ্যদের বলা হত নাথযোগী। তবে নানা কারণে নাথধর্মটি বাংলায় টিকে থাকতে পারেনি। একাদশ শতকে দাক্ষিণাত্যের সেনরা বাংলার ক্ষমতা দখল করে। তাদের ব্রাহ্মণ্যবাদী আগ্রাসনের কারণে নাথযোগীরা উৎখাত হয়ে যায়। ক্রমশ তারা হয়ে গেল ‘যুগী’। এদের বৃত্তি হল কাপড় বোনা। অবশ্য কুবির গোঁসাই পেশায় ছিলেন বৈদ্য।
অন্য একটি গানে কুবির গোঁসাই গেয়েছেন-

ওরে বৃন্দাবন হতে বড় শ্রীপাট হুদা গ্রাম
যথা দিবানিশি শুনি দীনবন্ধু নাম।
হোরি নীলাচল যেমন লীলে
এখানে তার অধিক লীলে
হিন্দু যবন সবাই মিলে স্বচক্ষে দেখতে পেলাম।
দ্যাখো গোঁসাই চরণচাঁদ আমার
বসিয়েছে চাঁদের বাজার
ভক্তবৃন্দ আসছে যাচ্ছে অবিশ্রাম।


কুবির গোঁসাইয়ের আরেকটি গান নিম্নরূপ।

এই ব্রজধামের কর্তা যিনি
সেই ধনী এই সাহেবধনী।
রাইধনী এই সাহেবধনী।


ওপরের তিনটি লাইনের অর্ন্তনিহিত ছন্দটি কি আপনাদের কাছে পরিচিত ঠেকে? লালনের কোনও গানে বা গানের কথায় শুনেছেন বলে কি মনে হয়? পূর্বে উল্লেখ করেছি যে কুবির গোঁসাইয়ের জন্ম ১৭৮৮ সালে। লালনের? ১৭৭৪। তাহলে এঁদের দুজনকে সমসাময়িক বলা যায়। কিন্তু ছন্দের এই অভিন্নতার কারণ কি? পাঠকের ভাবনাকে একটু উশকে দিলাম মাত্র।
তখন বলছিলাম যে শহরে সাম্প্রদায়িকতা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হলেও বাংলার লৌকিক জীবনে সাম্প্রদায়িকতার অসারতা যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মাধ্যমে বহু আগেই খন্ডন করা হয়েছে। কুবির গোঁসাইয়ের আরেক গানে রয়েছে সমন্বয়বাদী সুর -

একের সৃষ্টি সব নারি পাকড়াতে।
আল্লা আলজিহ্বায় থাকেন আপনসুখে
কৃষ্ণ থাকেন টাকরাতে।



তখন একবার বলছিলাম যে যাদুবিন্দু গোঁসাই ছিলেন কুবিরের প্রধান শিষ্য; বাড়ি বর্ধমানে পাঁচলখি গ্রামে। শত শত গান লিখেছেন। যাদুবিন্দু অবশ্য দুজন। যাদু আর তার সাধনসঙ্গিনী বিন্ধু। একটা গানে আছে

যাদু বিন্দু এরাই দুজনা/ পাঁচলখি গাঁয় তার ঠিকানা।

এখানে একটি কথা বলে রাখি । কুবির গোঁসাইয়ের সমাধি মন্দিরটি রয়েছে নদীয়া জেলার চাপড়া থানার বৃত্তিহুদা গ্রামে। সেখানে তাঁর স্ত্রী ভগবতী আর সাধনসঙ্গিনী কৃষ্ণমোহনীর সমাধিও রয়েছে। এ থেকে একটি বিষয় স্পস্ট যে বাংলার লোকধর্মে সাধনসঙ্গিনী অনিবার্য সাধকের স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও। যাদুবিন্দুর একটা গানে আছে-


যে ভাবেতে রাখেন গোঁসাই সেই ভাবেতেই থাকি
অধিক আর বলব কি?
তুমি খাও তুমি খিলাও
তুমি দাও তুমি বিলাও
তোমার ভাবভঙ্গি বোঝা ঠকঠকি।


এই পোস্টেই একবার নাথধর্মের কথা উল্লেখ করেছি। নাথযোগীরা তিনদিন দীক্ষা নিত। প্রথম দিন গুরু শিষ্যের চুল কেটে দিতেন। পরের দিন তার কানে কুন্ডুল পরিয়ে দিতেন। তৃতীয় দীক্ষা ছিল উপদেশী। তখন নানা পূজা-অর্চনা হত; সে সময় সারারাত দীপ জ্বলত ও নানা অনুষ্ঠান হত। এর নাম: ‘ জ্যোৎনা জাগান’। আজও বৃত্তিহুদা গ্রামে সাহেধনী চরণ পালের ভিটায় বৈশাখি পূর্ণিমায় মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এভাবেই বাংলার অপরূপ মোহনী প্রকৃতি বাংলার লোকধর্মের পার্বণে মিশে রয়েছে।
সাহেবধনী সম্প্রদায়ের তীর্থ বৃত্তিহুদা গ্রামে আশেপাশের হিন্দমুসলমান নির্বিশেষে পূর্ণিমার পার্বণে মেতে ওঠে। তবে উচ্চবর্ণের লোকেরা সে পার্বণ এড়িয়ে চলে। চলুক! তাতে সাহেবধনীদের কিছু যায় আসে না, বাংলার লোকজসাধনার আলোক একটুও ম্লান হয় না। সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত চলে উৎসব। আসলে তা গানের উৎসব। লালন ফকিরের গান, কুবির গোঁসাইয়ের গান, যাদুবিন্দুর গান। গানের ফাঁকে ফাঁকে লোকে চিৎকার করে ‘জয় দীনদয়াল, জয় দীনবন্ধু।’ সাহেবধনী তো দীনদয়ালেরই ঘর; সে ঘরে হিন্দু-মুসলমান প্রায় সমান সমান। তবে তারা বর্ণ হিন্দু বা শরীয়তী মুসলিম নয়, সকলেই সাহেবধনী।
বাংলার লোকধর্মে একত্রে বসে খাওয়াকে বলে মচ্ছব। ( গৌতম ঘোষ পরিচালিত মনের মানুষ ছবিতে তো আপনারা মচ্ছবের দৃশ্য দেখে থাকবেন। ওই যে পাউলি দাম লালনের গান গাইলেন ধন্য ধন্য বলি তারে) ...চরণ পালের ভিটায় বৈশাখি পূর্ণিমায় মচ্ছবের সময় হিন্দুকে পরিবেশন করছে মুসলমান, মুসলমানকে হিন্দু। সাহেবধনী আসলে গৃহী ধর্ম। যে কেউ এ ধর্ম গ্রহন করতে পারে। গেরুয়া বা কোনও বর্হিবাস এঁরা পরেন না। যাদু ও বিন্দুও পরতেন না ...যাদুবিন্দু ...আহা! এই প্রেমহীন একুশ শতক থেকে দেখছি যেন বৈশাখের পূর্র্ণিমার রাত্তিরে যাদুবিন্দু হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চরণ পালের ভিটায় পার্বণে ...ওই সাহেবধনী যুগল বিন্দু বিন্দু করে অনুভব করছেন আবহান মাতৃতান্ত্রিক অপরূপা প্রকৃতির বাংলায় জন্ম লওয়ার সুখ ...অসাম্প্রদায়িক হওয়ার প্রশান্তি ...আহা!

গুরু কুবির গোঁসাইয়ের প্রতি নিবেদিত যাদুবিন্দুর একটি গান দিয়ে পোষ্ট শেষ করছি

গুরু দুখ দিতে তুমি সুখ দিতেও তুমি
কুনাম গুনাম সুনাম বদনাম সবই তোমারই
ও কুল আলম তোমারই ও কুদরতবিহারী
তুমি কৃষ্ণ তুমিই কালী তুমি দিলবারী ।
কখনও দুগ্ধ চিনি ক্ষীর ছানা মাখন ননী
কখনও জোটে না ফ্যান আমানি
কখনও আ-লবণে কচুর শাখ ভখি।
কহিছে বিন্দু যাদু তুমি চোর তুমিই সাধু
তুমি এই মুসলমান এই হিঁদু
তাই তোমারে কুবিরচাঁদ বলে ডাকি।


তথ্যসূত্র:

ফরহাদ মজহার; ভাবান্দোলন
সুধীর চক্রবর্তী; গভীর নির্জন পথে
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×