প্রথম যেদিন কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজে পা দেই সেদিনই আমাকে সতর্ক করে দেয়া হয়। শোন এখানে যাই কর প্রেম করোনা, কারন সাব্বির স্যার নামের ব্যাপক ধার্মিক (!)একজন স্যার আছে উনি প্রেম করা একদম পছন্দ করেন না। জুটি দেখলেই বিয়ে দিয়ে দেন আর অই ছেলে আর মেয়েকে তার সাবজেক্টে ফেল করিয়ে দেন। বাহ কি মজা! বিয়ে দিলেতো ভালই। যাই হোক সেই জনাব সাব্বিরের সামনে কোনদিন পরি নাই। তবে এরকম চরম সচেতন ও শালিন একটা মেডিক্যাল কলেজের কর্তৃপক্ষের কিছু কাহিনী শোনেন।এরা মেয়েদের প্রথমে ময়মনসিংহ শহরে একটা ভাড়া বাসায় রাখত শুধু তিনজন দাড়োয়ানের পাহারায়। পরবর্তিতে সেই ভাড়া বাসার উপরের তলায় মালিকের আগমন ঘটলে এবং তার ছেলে ও বন্ধুবান্ধবদের আনাগোনা বাড়লে মেয়েরা তার প্রতিবাদ জানায়। তখন মেয়েদের থাকার ব্যাবস্থা করা হয় কলেজ ক্যাম্পাসের ডরমেটরিতে।সেই সময় অনেক মেয়েই হতাশ হয় এই কারনে কলেজ ডরমেটরি আর ছেলেদের হোস্টেল এত পাশাপাশি যে এক জানালা থেকে অন্য জানালা স্পস্ট দেখা যায়। আর রাস্তা দিয়ে যারা যায় তাদের পক্ষে মেয়েদের রুমের ভেতরটা পর্দা সরে গেলে স্পস্ট দেখা কোন ব্যাপার না। এরই মধ্যে মেয়েদের আরেকটা হল তৈরি হয় যার রাস্তা আবার ছেলেদের হোস্টেলের সামনে হওয়ায় প্রায়সই মেয়েদের ছেলেদের নীরব ইভটিজিং এ পরতে হয়। এরকম যন্ত্রনা তাও ভাল চলছিল, এখন নতুন যন্ত্রনা এসে হাজির হয়েছে।সম্প্রতি কলেজ ডর্মেটরির (যার চার তলার পুরোটাতেই মেয়েরা থাকে) নীচের দুই তলা খালি করে সেখানে ছেলেদের থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে আর তিন ও চার তলা মেয়েদের জন্য। সত্যিই সেলুকাস। বাংলাদেশে এখন সবই সম্ভব।জিজ্ঞেস করেছিলাম একজন ছাত্রীকে তার অনুভুতি সম্পর্কে।তার মন্তব্য হচ্ছে “এটাতো সরকারি না যে যা চাইব তাই পাব, তবে যতক্ষন না একটা দুর্ঘটনা না ঘটবে ততক্ষন কর্তৃপক্ষের কোন ভাবান্তর হবে না”। অদ্ভুত তার প্রথম মন্তব্য। এখানে সবাই নিজের বাবার টাকা দিয়ে পড়শোনা করে। অধিকার যদি খাটাতে হয় তো এখানেই সবচেয়ে সম্ভব। আর হ্যা তার সাথে সহমত যে এখানে যতক্ষন না একটা দুর্ঘটনা না ঘটবে ততক্ষন কর্তৃপক্ষের কোন ভাবান্তর হবে না। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটী, কঠোর ব্যাবস্থার আশ্বাসের গ্যাড়াকলে পরে আমার বোনেদের জীবনটাই শুধু যাবে। লাভের লাভ কিছু হবে না।আমরা ঈভটিজীং নিয়ে কত কথা বলি আর করার সময় করি তার উল্টোটা। ব্যাবসার কাছে নৈতিকতার স্থান কোথায়?এখন যদি এই অবস্থা হয় কয়েকদিন পর কর্তৃপক্ষ পাশাপাশি রুমে বা একরুমে ছেল আর মেয়েদের যায়গা দিতে চাবে না তার কি গ্যরান্টি আছে? মনে প্রশ্ন জাগে সাব্বির সাহেব আপনি এখন কি করছেন? এই কলেজে কি ধর্মিক, সুশীল ইত্যাদি গোত্রভুক্ত কোন মানুষ নাই এর প্রতিবাদ করতে? নাকি এসব গোত্র শুধু লোক দেখানোর জন্য।
আমার বান্ধবীরা যখন বাসা ভাড়া নিতে চায় তখন শুনতে হয় একা একা মেয়েদের ভাড়া দিব না (নিরাপত্তার অভাব), হোস্টেল ছেরে কোথাও ঘুরতে গেলে কর্তৃপক্ষের কড়া হুশিয়ারি “সন্ধার মধ্যে ফিরতে হবে”, জরুরি কাজে আটকে গেলে দেখতে হত কারন দর্শাও নোটীশ।এ ধরনের প্রসিডিওর কি কারনে। শুধু লোক দেখানো।তাহলে এসব বন্ধ করে আচিরে ফাইনাল ডেস্টিনিতে চলে যান। প্রতিটা রুম একটি ছেলে আর একটি মেয়ের জন্য বরাদ্দ দিন।খামোখা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দু তলা চার তলার ত্যানা প্যাচানো দরকার কি
(আপডেটঃ সর্বশেষ বিশেষ গোমরটি যা জানা গেল তা হল নতুন ভর্তিচ্ছু ছাত্রিদের আবাসন সংকট থাকায় প্রথমে স্বীদ্বান্ত হয় তাদের ছেলে আর মেয়েদের একসাথে ডর্মেটরিতে রাখার। পরবর্তিতে ভর্তিচ্ছু ছাত্রীদের অভিভাবকদের আপত্তির কথা চিন্তা করে সম্প্রতি পাশ করা ছাত্র ছাত্রীদের যারা ইন্টার্নি ডাক্তার হিসেবে জয়েন করবে তাদের ঐখানে থাকার ব্যবস্থা করে। এর মানে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক সবাই এটাকে নেগেটিভ কাজ হিসবেই বিবেচনা করছে শুধু ব্যবসার খাতিরে এই স্বীদ্ধান্ত। অথচ কিছু ব্লগারের মন্তব্য পড়ে মনে হল এর চেয়ে স্বাভাবিক কাজ আর হতে পারে না।সত্যিই সেলুকাস)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



