এই মাসটি ভাষার মাস। ভাষার জন্য জীবন দেয়া একমাত্র জাতি আমরাই। কত গর্ব! সেই গর্বের বহিঃপ্রকাশে করি বইমেলা। ভরে ফেলাই ব্লগ।ঠিক ঠিক একুশ তারিখ খালি পায়ে, ফুল কিনে নিয়ে দিয়া আসি শহীদ মিনারে। রাত বারোটার সময় এরে ওরে ঠেলে বিভিন্ন সংগঠন ভাব গম্ভির মুখে দিয়া আসি ফুল। (বাকি সময় শহীদ মিনারে কি করি তা আর নাই বললাম)
আর মিডিয়া? বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার পায় ভাষার মাস নিয়া কিছুক্ষন পরপর বিজ্ঞাপন বিরতী সহ আবেগঘন আলোচনা। ভাবগম্ভির আলোচকের মুখ হইয়া ওঠে সেই দিনের চিন্তায় বুকে মোচর খাওয়া হার্টের রোগির মত।আর মুখে থাকে একশের চেতনা নিয়ে কথার ফুলঝুরি।
কি আবেগ তাই না! এইবার আসি আসল কথায়। আজকে সকালে হ্রদয়ে বাংলাদেশ স্লোগান দেয়া “চ্যানেল আইয়ে” আইয়ুব বাচ্চুর লাইভ কনসার্ট দেখাচ্ছিল।অনুষ্ঠানটা পাচ মিনিট দেখার পরই যেটা দৃস্টিকটু লাগল অনুষ্ঠানের ভাড় সদৃশ্য দুই উপস্থাপিকা ও আইয়ুব বাচ্চুর অযথা ইংলিশ বলার চেষ্ঠা দেখে।অদ্ভুত লাগল ব্যাপারটা। আমাদের যাদের নিয়মিত ইংলিশ ব্যাবহার করতে হয় তাদের কথার মাঝখানে একটা কি দুইটা ইংরেজি শব্দ ব্যাবহার করা হয়ে যেতে পারে কিন্তু একটা লাইন বাংলা আর পাচটা লাইন ইংলিশে এটা ইচ্ছাকৃত ভাবে বিদেশি ভাষা ব্যাবহারের বিকৃত অভ্যাসের বহিঃপ্রকাশ। অথচ এই বাচ্চুকেই হয়ত দেখা যাবে একুশের চেতনা নিয়ে অন্য কোন অনুষ্ঠানে ভাবগম্ভির বক্তব্য রাখতে ও গান গাইতে। এই চ্যানেল আই ও তার কর্তৃপক্ষকে দেখা যাবে ২১ তারিখে বাংলা ভাষার প্রতি দরদ উথলে পরতে। রাতের ঘুম হারাম করে অনুষ্ঠান প্রচার করতে আর একুশের চেতনা নিয়ে মানুষকে সবক দিতে। মোবাইল কোম্পানিগূলা একুশের চেতনা নিয়ে প্যাকেজ ছারবে আর নিচে ছোট করে লিখে দিবে শর্ত প্রযোজ্য। আর রাজনীতিবিদদের কথা নাই বললাম।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে অশেষ কে ধন্যবাদ জানাই, অন্তত এই দিনটির জন্য আমাদের ভাষাকে নিয়ে, একুশে নিয়ে প্রকৃত কুৎসিত, স্বার্থপর ভন্ড রুপটি বের হয়ে পরে। কিন্তু দুঃখ এই যে ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের আগে এমন কোন দিন নাই যে দিনটিতে দেশপ্রেম নিয়ে আমাদের প্রকৃত আসল রুপটি বের হয়। তাই আসলে কাউকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো যায় না কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা আসলে কত বড় ভন্ড।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




