কফির কাপে মাত্র ঠোট ছুইয়েছি, এমন সময় ধপ্পাস!
না না আমি পড়িনি, ট্যালকম পাউডারের মতো মিহি সাদা গুড়ো বরফে গড়াগড়ি খাচ্ছে এক দীর্ঘাঙ্গী শ্বেতাঙ্গিনী। হাতের কাগজের কফি কাপটা দ্রুত নামিয়ে রেখে তাকে মাটি থেকে টেনে তুলি।
ওমা! থ্যাঙ্কুর বালাই নেই।
সফেদ সুন্দরী তাড়াহুড়ো করে ট্যাক্সি চেপে হাওয়া।
হোটেলে আমার পাশের কামড়ার বাসিন্দা এই সুন্দরীকে লবিতে প্রায় প্রতিদিনই দেখি, কিন্তু কোনো কথা হয় না। আজকে এতো মোক্ষম সুযোগেও পরিচিত হতে পারলাম না। যাই হোক, কিছুটা বিষ্ময় নিয়েই ইউনিভার্সিটির দিকে পা বাড়াই।
স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে একটি কোর্সে পাঠিয়েছে অফিস থেকে। তাই আপাতত এই শহরে আস্তানা গেড়েছি।
স্টকহোমের প্রাণকেন্দ্রে এই হোটেলটি। ঠিক বাণিজ্যিক হোটেল নয়, প্রতিটি রুমই অনেকটা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের মতো। প্রশস্ত শোবার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুম, আর ছোট্ট কিন্তু আধুনিক গ্যাজেট দিয়ে পুরোদস্তুর সাজানো-গোছানো কিচেন। একজনের জন্য বেশ আরামদায়ক ব্যবস্থা। সুইডেনে তিন মাসের একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামে এসে এখানেই আস্তানা গেড়েছি। কি কারণে জানিনা, এক তলার ১০৫ নম্বরের আমার রুমটাই এই হোটেলের একমাত্র স্মোকিং রুম। অর্থাৎ আমি রুমে বসেই আয়েশ করে বিড়ি টানতে পারি।
সেদিন সন্ধ্যায় আবারও সেই সুন্দরীর সঙ্গে দেখা। এবার সে এগিয়ে এলো। সকালে তাড়া ছিল তাই ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গিয়েছিল-এ জাতীয় কিছু কথা বলে পরিচয় জানালো।
নাম লারিসা মায়নোভস্কি। বাড়ি মস্কো। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পার্ট টাইম কন্সালট্যান্ট। পেশাগত কারণে স্টকহোমে।
লারিসার হাতে সিগারেট প্যাকেট। এর আগেও তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে হোটেলের সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানতে দেখেছি তাকে। বুঝতে পারলাম, এখনও ধূমপানের উদ্দেশ্যেই হোটেল ছেড়ে বাইরে যাচ্ছে। বললাম
-আমারটি স্মোকিং রুম। চাইলে নির্দিধায় আমার রুমে বসে সিগারেট টানতে পারো।
খুশি মনেই আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলো লারিসা। সেই শুরু। এর পর থেকে সিগারেটের সূত্র ধরেই আমাদের মধ্যে ঘনিষ্টতা বাড়ে।
কোর্স শেষে আমি ফিরে আসি প্রিয় ঢাকা শহরে, আর লারিসা পেশাগত কারণেই পুরো পৃথিবী চক্কর দিচ্ছে। কথা হয় স্কাইপে, চিঠি চালাচালি হয় ইমেইলে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে একবার কারো সঙ্গে পরিচয় হলে গাবের আঠার মতো তার সঙ্গে লটকে থাকা সম্ভব। আর সে যদি লারিসার মতো সুন্দরী হয়, তবে তো কথাই নেই।
স্টকহোম থেকে ফেরার পর আমার সঙ্গে লারিসার ছবি দেখে স্ত্রী একটু গম্ভীর হয়ে যায়। চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করে
-এটা কে?
-স্টপ গ্যাপ।
অম্লান বদনে জবাব দেই।
-মানে?
-মানে হচ্ছে, তিন মাস তুমি কাছে ছিলে না, একা একা ওই শীতের দেশে কী যে কষ্ট! তাই একটা বিকল্প যোগাড় করেছিলাম। তবে চিন্তার কিছুই নেই। তাকে সবকিছু দিলেও মন দেইনি। মনটা তো তোমার কাছেই।
বউকে খেপিয়ে দিয়ে মজা পাই।
পরের বছর লন্ডনে একটা কনফারেন্সে যোগ দিতে যাই।
ইমেইলে জানতে পারি, লারিসা এখন লন্ডনে।পরের বছর লন্ডনে একটা কনফারেন্সে যোগ দিতে যাই। ইমেইলে জানতে পারি, লারিসা এখন লন্ডনে। সাত দিনের বিলাত ভ্রমনে বেশ কয়েকবার লারিসার সঙ্গে দেখা হয়।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের পোষা অর্থনীতবিদের টাকার হিসেব না করলেও চলে, কিন্তু বাঁধা মাইনের বাঙ্গালি চাকুরের প্রতিটি পাই-পয়সাই হিসেব করে খরচ করতে হয়, বিশেষত যেখানে এক একটি পাউন্ড আমার কাছে হয়ে যায় ১৩৪ টাকা। তবে এই রুশ সুন্দরীর সঙ্গে লন্ডনের পাব-রেস্তোরায় ঘুরে বেড়ানোটা বেশ উপভোগ করি। নিজেকে কেমন জমস বন্ড জেমস বন্ড লাগে, ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ!!
চলবে.........
(কৈফিয়ত: ভুত আর রহস্য গল্পের বাইরে নর-নারীর সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করছি। কষ্ট করে পড়ে ভালো-মন্দ জানাবেন। এর পরই সিদ্ধান্ত নেবো, গল্পটি শেষ করবো, নাকি এখানেই এর সলিল সমাধি হবে।)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০০৮ রাত ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


