আমার প্রিয় পোস্ট
- হুমায়ুন আহমেদের সব বই ডাউনলোড করুন - বখতিয়ার হোসেন
- লাগবে নাকি?- আস্ত রবীঠাকুর-এর বৈদ্যুতিক সংস্করণ (নোবেল ছাড়া)
- রান০০৭
- HAARP প্রজেক্টঃ হাইতিতে ভূমিকম্প নাকি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?

- কঠিন চিজ
- নাগরিক কবিয়ালঃ সুমন চট্টোপাধ্যয়............আজকের কবির সুমন। - জয় সরকার
- জন ডেনভার....... - নোঙ্গর ছেঁড়া
- বাংলা সন - আিক
- যেনোবিয়া: প্রাচীন সিরিয়ার রানী - ইমন জুবায়ের
- রারীন্দ্র প্রকর্ষ ফটোগ্রাফি (না দেখলে মিস্ করবেন!) - তানভীর চৌধুরী পিয়েল
- ওসমান সেমবেনের সাক্ষাতকার - ফকরুল চৌধুরী
- ঘটনা জেনেও নির্বাক বাংলাদেশ! - ইউসুফ আলমগীর
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- নাইল্যাকাডা তেল-গ্যাস সংখ্যা প্রকাশিত - দিনমজুর
- সঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ - সৈয়দ আমিরুজ্জামান্
- ভ্রমন বিলাসীদের জন্য শুরু হল ভ্রমন ব্লগ - চন্দন
-
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য
- নিরব হাসি
- জানা থাকলে সাহায্য করুন। - সৈয়দ মোহাম্মদ আলী কিবর
- বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র টিফাচুক্তি কিংবা দিন বদলের পয়লা গান - দিনমজুর
- ইতিহাস-২ - টনি
- ইতিহাস-৩ - টনি
- ইতিহাস-৫ - টনি
- ইতিহাস-৭ - টনি
- ক্যাটুলাস: প্রাচীন রোমের সেই অভিমানী কবি। - ইমন জুবায়ের
- অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি; পর্নোগ্রাফির বিবর্তন, শেষ পর্ব - ফাহমিদুল হক
- অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি: পর্নোগ্রাফির বিবর্তন, পর্ব ৪ - ফাহমিদুল হক
- অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি: পর্নোগ্রাফির বিবর্তন, পর্ব ৩ - ফাহমিদুল হক
- অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি: পর্নোগ্রাফির বিবর্তন, পর্ব ২ - ফাহমিদুল হক
- সলিমুল্লাহ খানের ইলিয়াস চিন্তা: ভুল ভাংলে তাকে পাওয়া যায় - ফারুক ওয়াসিফ
- অশ্লীল সাহিত্য থেকে নীলছবি: পর্নোগ্রাফির বিবর্তন, পর্ব ১ - ফাহমিদুল হক
- বড় -ছোট (বাংলায়) - রাজামশাই
- স্লামডগ মিলিওনেয়ার - অলৌকিক হাসান
- বাংলার পাখী - ফুলঝুরি - রাজামশাই
- পুরানো ঢাকা - ব্রিটিশ লাইব্রেরী - নষ্ট মাথার দুষ্ট বালিকা...
- রোমান সম্রাট হাড্রিয়ান - ইমন জুবায়ের
- বাহাই কারা? - ইমন জুবায়ের
- তত্ত্বকথা ১: রোলাঁ বার্থের পদ্ধতিতে রেপ্রিজেন্টেশন বিশ্লেষণ - ফাহমিদুল হক
- অটোমান কারা? - ইমন জুবায়ের
- মরমন কারা? - ইমন জুবায়ের
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -২ - দিনমজুর
- কিউবার কৃষি অর্থনীতি/ রেবেকা ক্লসন -১ - দিনমজুর
- কারা ভাইকিং? - ইমন জুবায়ের
- কেল্ট কারা? - ইমন জুবায়ের
রুদ্রের কবিতা মনে পড়ে যায়.....
০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। বিডিআর সদর দপ্তরের মর্মান্তিক ঘটনা সকলেই জানি। এর পরদিন থেকে, মানুষের লাশ যখন ভেসে উঠতে থাকে, যখন গণকবর খুঁড়ে বের করে আনা হয় মানুষের অর্ধ-গলিত লাশ, যখন সেই লাশের গন্ধে ভারি হয়ে ওঠে চৌদিকের বাতাস.....তখন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে মনে পড়ে। মনে পড়ে তাঁর লেখা কবিতা:
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো,
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
কবিতাটি পড়ে মনে হয় বিপথগামী বিডিআর জওয়ানদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে লাইনগুলো। মনে হয়, যে স্বপ্ন লালন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো বিডিআর, সে স্বপ্নই যেন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গুটি কয়েক "নিষিদ্ধ আঁধার" খুঁজে নেয়া জওয়ানের জন্য। ভস্ম হয়েছে তাদের স্বপ্নও, যাদের হারিয়েছে প্রিয়জন। সেই প্রিয়জনহারার দল যেন বলে ওঠে:
বৃষ্টি হলে মাটি কাঁপে, লাশগুলো আবার দাঁড়াতে চায়
হাত বাঁধা, চক্ষু বাঁধা, বেয়োনেটে ছিন্নভিন্ন দেহ-
লাশগুলো আবার দাঁড়াতে চায়।
.......
.....
মাটি কাঁপে...
কবেরর মাটি খুঁড়ে অশনাক্ত লাশের কোরাস
সহসা খামচে ধরে চাঁদের চিবুক-
আমাকে শনাক্ত করো হে যৌবন, যুদ্ধের সন্তান,
আমাকে শনাক্ত করো স্বদেশের দগ্ধ কৃষ্ণচূড়া।
এদেশের গঞ্জে গ্রামে শকুনের এখনো সুদিন-
মাটি কাঁপে, বৃষ্টি হোক, লাশগুলো আবার দাঁড়াক।
আমরা জানি, যারা গেছেন তারা আর ফিরে আসবেন না। তাদের লাশ আর কখনো জীবন্ত হবে না। তবু তাদের ঘনিষ্ঠজন, মৃতের স্ত্রী-সন্তান, তারা নিশ্চয় প্রতি মুহুর্তে চান- লাশগুলো জীবন্ত হয়ে ফিরে আসুক, এরপর বাংলার আকাশকে মুক্ত করুক শকুনের অশুভ দখল থেকে। তাদের এই প্রত্যাশা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই পূরণ করবে। যারা চলে গেছেন, আকাশের নক্ষত্র হয়ে, তারা নিশ্চয় প্রিয়তম মানুষকে বলছেন, সেই সুদূরতম জায়গা থেকে-
চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়,
চলে যাওয়া মানেই নয় বন্ধন ছিন্ন করা আর্দ্র রজনী।
তারা আছেন এবং থাকবেন। বাংলাদেশে যে এখনো কত স্বার্থান্বেশী মহল সক্রিয় তা বিগত কয়েক দশকের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রাণ গেছে অনেকের। ডক্টর মিলন থেকে শুরু করে বুয়েটের ছাত্রী সনি, দিনমজুর থেকে শুরু করে শতাধিক সেনা কর্মকর্তা। সকল মৃত্যু এবং ষড়যন্ত্র দেখে রুদ্রের ভাষাতেই বলতে ইচ্ছে করে
বাইরে লুট হচ্ছে রোদ্দুর-
অথচ কেউই বলছে না : তোমরা বেরিয়ে এসো,
দ্যাখো, তোমাদের শীতের কাপড়গুলো
আর ভিজে ক্ষত শুকোবার একমাত্র ওষুধটুকুও
হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফারহানা আহমেদ বলেছেন:
বড্ডো ইমোশনাল হইছে, কান্নায় আমার হাত পা.................
ফারহানা আহমেদ বলেছেন:
এতো দিন বাম রাজনীতি কইরা আইসা এখনো তোমরা কেমনে এতো স্যাতসেঁতে রচনা রচনা করো ভাইবা আমার অবাক লাগে!
লেখক বলেছেন: এই লেখার সঙ্গে বাম রাজনীতি করা বা না-করা কীভাবে জড়িত, সেটা ঠিক বোধগম্য হলো না। আর তাছাড়া, শতাধিক "আর্মি" মারা গেছে, আমি এভাবে দেখি না। আমি দেখি, আমারই দেশের ভেতর শতাধিক মানুষকে এবং তাদের পরিবারকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের লাশ গুম করা হয়েছে।
যে দাবী-দাওয়া সামনে রেখে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ রাজনৈতিক সরকারের কাছে জওয়ানদের দাবী দাওয়া জানানো বহু পথ ছিলো। আমার মনে হচ্ছে এখানে তৃতীয় শক্তির হাত রয়েছে। নয় তো- এতো স্ট্রংলি মোটিভেটেড হয়ে কেউ হত্যাকাণ্ড চালায় না।
এতোক্ষণে নিশ্চয় জেনেছেনও, বাইরে থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ বোঝাই একটি ছাইরঙা জিপও এসেছিলো, প্রথম হামলা চালাতে।
কেন, আপনারা যে, বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনায় নিচ্ছেন না, বুঝতে পারছি না। মানি, তারা আর্মি। কিন্তু তারা তো আমারই সহনাগরিক, এ দেশেরই ছেলে। তারা যদি দুর্ণীতি করে, তাহলে সেটার সাজা কি এরকমটা হওয়ার কথা???
আর বিডিআর কি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, আপনি যেভাবে, যে দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে দেখছেন???
জানি না, আমার ভুল হতে পারে, কিন্তু এই মুহুর্তে আমি আমার পোস্টের মতোই আবেগ অনুভব করছি। যদি কখনো আপনার মতো করে বুঝে উঠতে পারি, পোস্টে লিখেই সেটা জানাবো।
দিনমজুর বলেছেন:
ফারহানা আহমেদ বলেছেন: এতো দিন বাম রাজনীতি কইরা আইসা এখনো তোমরা কেমনে এতো স্যাতসেঁতে রচনা রচনা করো ভাইবা আমার অবাক লাগে!
ফারহানা আহমেদের কমেন্টে ঝাজা!!
দিনমজুর বলেছেন:
বিডিআর নৈরাজ্য: লাশের মাপকাঠিতে বিদ্রোহের পরিসীমা
প্রথম দিকে মিডিয়াতে বিডিআরের সদস্যদের বিভিন্ন বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আর অপমানের কথা শুনে, অপরেশন ডাল-ভাতে ৪০ টাকার সয়াবিন ১২০/১৩০ টাকায় বাজারে ছাড়া এবং এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অধিক দামে বিক্রি করে সে লাভের টাকায় বিডিআরের উর্দ্ধতন সামরিক কর্তাদের গাড়ি বাড়ি বানানোর অভিযোগ দেখে, বেতন-ভাতা এবং রেশনে বৈষম্যের খবর জেনে পিলখানায় বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে আগত সামিরক বাহিনীর উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিডিআরের জোয়ানদের সশস্ত্র আন্দোলনের যে ঘটনাটিকে আমাদের বিদ্রোহ বলে মনে হয়েছিল পরবর্তীতে গিয়ে যখন লাশের সংখ্যা বাড়তে লাগল, যখন একটার পর একটা গণকবর আবিষ্কার হতে থাকল কিংবা মিডিয়াতে ক্রমশ নিহতের স্বজনের আহাজারির দৃশ্য বাড়তে লাগল তখনই একটু একটু করে আমাদের মনে হতে লাগল না, ঘটনাটি মনে হয় স্রেফ ক্ষোভের ফসল নয়- এর পেছনে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে কান্না-আবেগ- বীভর্ষতা- মিডিয়ার দোল খাওয়া- সামরিক ও বেসামরিক প্রচরণা ইত্যাদির ভূমিকা না হয় বোঝা গেল কিন্তু যুক্তির ব্যাপারটি ঠিক কি? ঠিক কোন যুক্তিতে লাশের সংখ্যা কিংবা হত্যাকান্ডের ধরণ কিংবা লাশের সৎকারের (কবর দেওয়ার) পদ্ধতির ভয়াবহতা দেখে আমাদের মতামতের এই একেবারে উল্টো ঘুরে যাওয়া? লাশের সংখ্যা কিংবা হত্যাকান্ডের ধরণ কিংবা লাশের সতকারের পদ্ধতির ভয়াবহতার মাধ্যমে কি বঞ্চিত- লাঞ্ছিত- অপমানিতের বিদ্রোহ আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভেদরেখা টানা যায়?
নৈরাজ্য, না বিদ্রোহ, না ষড়যন্ত্র:
বঞ্চিত- লাঞ্চিত- নির্যাতিত- অপমানিত হতে হতে কিছু মানুষ যখন বিদ্রোহ করে, সেটার মাঝে যদি কোন আদর্শ না থাকে, কোন সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকে, তখন সেটা স্রেফ নৈরাজ্যই (অ্যানার্কি) হয়- লাশের সংখ্যার মাপকাঠিতে একে পরিকল্পিত বা ষড়যন্ত্র বলার মানে হলো ঘটনার ভিত্তিতে যে সব বঞ্চনা- ক্ষোভ- বৈষম্য রয়েছে সেগুলোকে আড়াল করে ফেলা- যে চেষ্টাই এখন সর্বত্র হচ্ছে।
আচ্ছা তর্কের খাতিরে ধরা যাক, কোন একটি দেশীয় বা বিদেশী শক্তি কোন এক বা একাধিক বিশেষ উদ্দেশ্যে একদল বিডিআর কে নিয়ে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে। ইন্ধনদাতা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যও না হয় ধরে নিলাম- বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা কিংবা নবগঠিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা কিংবা যুদ্ধপরাধীদের বিচারের বিষযটিকে ভন্ডুল করা ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছে অর্থাৱ যারা সারাসরি গোলাগুলি করেছে সেই সব বিডিআররা কিসের আশায় এবং কিসের ভরসায় এই পরিকল্পন মত কাজ করতে রাজি হলো? তাদের তো খুব ভালো করেই জানার কথা অফিসার হত্যাকান্ডের পরিণতি কি! এই পরিণতি জেনেও তারা এই পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছে?
নৈরাজ্যের ভিত্তি:
রাষ্ট্র একদিকে শাসন শোষণের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীকে ক্রমাগত ক্ষেপিয়ে তোলার মত রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক- সাংস্কৃতিক পরিবেশ জারি রাখে এবং তার ক্রমাগত পুনরুৎপাদন করে চলে, অন্যদিকে তার প্রতিক্রিয়ায় সেই শোষিত মানুষেরা যখন এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে নানান ধরনের ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়, তখন আবার তার কাছ থেকে মানবিক বিবেচনা প্রত্যাশা করার ভান করে এবং কেন তারা সেই মানবিক বিবেচনা প্রদর্শন করল না তার অযুহাতে তাকে বিচার করে (যদি আদৌ সেগুলোকে বিচার বলা যায়-- অচিরেই আমরা দেখব অপারেশন রেবেল হান্ট এবং বিশেষ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে সামরিক বিচার প্রকৃয়া)।
গার্মেন্টস শ্রমিকরা যখন ক্রমাগত নিষ্পেষিত হতে হতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে রাস্তায় নামে, সামনে যা পাই তা-ই ভাঙচুর করতে থাকে তখন তাদের সেই জ্বালাও পোড়াওয়ের খবর যখন পত্রিকার পাতার শিরনাম হয়: "গার্মেন্টস শ্রমিকদের তান্ডব" নামে আর ভেতরে থাকে নিরীহ পথযাত্রিদের হয়রানির কাহিনী কিংবা থাকে কোন প্রাইভেট কার ভাংচুরের সময় অসহায় আরোহিনীর হাত জোড় করে থাকার ছবি, সেই সাথে সরকার- গার্মেন্টস মালিক- বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল- সুশীতল সমাজের মুখে ক্রমাগত দেশী- বিদেশী ষড়যন্ত্রের জল্পনা- কল্পনা।
অবাক হওয়ার কিছু নেই, এবারে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায়ও আমরা তাই দেখব এবং দেখছি। ক্রমশ বিডিআর জোয়ানদের বঞ্চণা- দাবী দাওয়ার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে নিহতের স্বজনদের অশ্রুসজল চোখ, নিখোজ পিতার খোজে আকুল সন্তানের ছবি, গণকবরের দৃশ্য, অফিসারদের কোয়ার্টার ভাঙচুরের ছবি, লুটকরা স্বর্লাংকার নিয়ে পলায়নপর বিডিআর এর গ্রেফতার কাহিনী। সেই সাথে মিডিয়া- রাষ্ট্রপ্রধান- সেনাপ্রধান- সামরিক- বেসামরিক আমলা- বুদ্ধিজীবী সবার মুখেই ষড়যন্ত্রের নানান জল্পনা। কেউ বলছে বিডিআররা মুখ বাধার জন্য এত রঙিন কাপড় কোথায় পেল, কেউ বলছে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্রপাতি কিভাবে লুটকরল, অ্যাশ কালারের পিক-আপ কোত্থেকে এলো- গণকবর কেন হলো- এত বাধ্য জোয়ানরা কোন সাহসে অফিসার দের গায়ে হাত তুলল- অফিসার দের বাড়িঘর কেন লুটপাট হলো? এগুলো সবই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ। এদের সবাই কে খুজে খুজে বের করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, দৃষ্টান্তু স্থাপন করতে হবে যেন ভবিষ্যতে এরকম আর না ঘটে।
এদের কথা বার্তা শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে এই প্রথম সামরিক/ আধাসামিরক/ বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীতে বিদ্রোহ হয়েছে। গণ বিচ্ছিন্ন প্রতিটি বুর্জোয়া সরকারই ক্ষমতার মসনদ শক্ত রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে তোয়াজ করে আসছে। প্রতিবছরের বাজেটে সামরিক খাতে সরাসরি ও গোপন বরদ্দ দেখলেই বিষয়টা পরিস্কার হয়ে উঠে। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় লালিত পালিত সশস্ত্র বাহিনী কে ব্যবহার করা হয়েছে জনগণকে দাবীয়ে রাখার কাজে। এই গণবিচ্ছিন্ন সামরিক বাহিনীতে এই সব সুযোগ-সুবিধার ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি কামড়া কামড়ি চলে আসছে একেবারে শুরু থেকেই। যেকারণে '৭৫ এর আগষ্ট- নভেম্বর থেকে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঘটে গেছে বেশ অনেকগুলো অভ্যুত্থান। এ সকল অভ্যুত্থান এবং এসব অভ্যুত্থান ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের সময় অসংখ্য অফিসার ও সৈনিক এর খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিমান বাহিনীর অফিসারদের বিদ্রোহ কিংবা বেসামরিক আনসার বাহিনীর বিদ্রোহের হত্যাযজ্ঞের কথা হয়তো অনেকেরই স্মরণে আছে। সামিরক বাহিনীর ভেতরের নানা অনিয়ম, লুটপাট, এলিটিসিজম, সামন্ততান্ত্রিক RANK প্রথা,তথাকথিত চেইন অব কমান্ডের ধরণ,অফিসার-সৈনিকের বৈষম্য, কথায় কথায় মধ্যযুগীয় পানিশমেন্ট বা শাস্তি, ব্লাডি সিভিলিয়ান বা জনগণের সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত আমাদের সামরিক তন্ত্র আর দশটা বুর্জোয়া দেশের সামরিক তন্ত্রের মতোই অসুস্থ। এই অসুস্থতার লক্ষণ নানান সময় নানান ভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এবারের এই বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাও সেই অসুস্থতারই বিকট বহি:প্রকাশ। এসব সমস্যার সমাধান যদি করতে চাই,যদি মনে করি সশস্ত্র বাহিনীর ভেতরে এরকম ঘটনা যেন না ঘটে তার পাকাপাকি ব্যবস্থা আমরা করবো, তাহলে এই সব ফালতু ষড়যন্ত্রের থিওরী বাদ দিয়ে,সামরিক প্রতিহিংসায় উন্মাদ সামরিক এলিটিসিজম কে তুষ্ট করার ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী পরিকল্পনা বাদ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বর্তমান সামরিক তন্ত্রের একেবারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটানো দরকার।
কার বিচার, কিসের বিচার :
কাজেই বিচার যদি করতেই হয় তাহলে প্রথমেই বিচার করা দরকার বর্তমান রাষ্ট্রতন্ত্রের, এবং বিদ্যমান সামরিকতন্ত্রের। এ কেমন ব্যবস্থা যেখানে বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্যের মতই তথাকথিত অফিসার এবং সৈনিক এর মর্যাদার পার্থক্য করা হয়, যেখানে অফিসার সেই দাস যুগের দাস- প্রভুর মতই সৈনিক নামের দাসের সাথে প্রতিনিয়তই অন্যায়- অত্যাচার- জুলুম- নির্যাতন চালায়? এ সামরিকতন্ত্রে তো অফিসার শ্রেণী প্রতিদিনই সৈনিকের আত্মমর্যাদাকে হত্যা করতে থাকে। তাছাড়া কি শেখানো হয় মিলিটারিতে- সন্ত্রাসবাদ না মানবিকতা? যে শিক্ষাটা তারা পায়- তার সাথে মানবাধিকার বা সভ্যতার কি কোন সম্পর্ক আছে? তার ওপর চেইন অব কম্যান্ডের স্বার্থে শুরু থেকেই স্বাধীন চিন্তা বিকাশের সমস্ত পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয় সকলের- সার্কাসের পশুর মতই চাবুকের বাড়িতে নির্দিষ্ট ধরনের নড়াচড়া ছাড়া অন্য কোন কিছু করার কোন সুযোগ নেই এখানে। রাষ্ট্রিয় নিরপত্তা রক্ষার অযুহাতে তো এভাবে স্রেফ একদঙ্গল পশু তৈরীর কারখানা চালু রাখা হচ্ছে। তার ওপর আছে সুযোগ- সুবিধার বঞ্চনা, বৈষম্য। মানবেতর জীবন যাপন। এর ফলাফল স্বরূপ পাশবিকতা বা নৈরাজ্য না ঘটাই তো অস্বাভাবিক। কাজেই বিশেষ ট্রাইবুনালে নৈরাজ্যের বিচার করার চেয়ে যে সিস্টেম/প্রক্রিয়া এর জন্য দায়ী সেটার বিচার করা এবং সেটাকে পাল্টানো বেশী জরুরী বলে মনে করি।
তা না হলে এ ধরণের রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক- সাংস্কৃতিক বাস্তবতা যত দিন বহাল থাকবে, ততদিনই এধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যাবে, আজকে বিডিআর করেছে, কালকে আর্মির ভেতরেই ঘটবে।
নিকো৮১২৩ বলেছেন:
দিন মজুরের বক্তব্য ঝাঝা!!! এইটা নিয়া একটা আলাদা পোষ্ট দেয়া দরকার।
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন:
মন্তব্যগুলি মারাত্মক, "আমি ডান দিকে রই না আমি বাম দিকে রই না ও আমি দুই দিকেতেই রই..."
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















বহু বাধার পর লেখাটি ব্লগে প্রকাশ করতে পারলাম।