২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। বিডিআর সদর দপ্তরের মর্মান্তিক ঘটনা সকলেই জানি। এর পরদিন থেকে, মানুষের লাশ যখন ভেসে উঠতে থাকে, যখন গণকবর খুঁড়ে বের করে আনা হয় মানুষের অর্ধ-গলিত লাশ, যখন সেই লাশের গন্ধে ভারি হয়ে ওঠে চৌদিকের বাতাস.....তখন কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহকে মনে পড়ে। মনে পড়ে তাঁর লেখা কবিতা:
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো,
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
কবিতাটি পড়ে মনে হয় বিপথগামী বিডিআর জওয়ানদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে লাইনগুলো। মনে হয়, যে স্বপ্ন লালন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো বিডিআর, সে স্বপ্নই যেন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গুটি কয়েক "নিষিদ্ধ আঁধার" খুঁজে নেয়া জওয়ানের জন্য। ভস্ম হয়েছে তাদের স্বপ্নও, যাদের হারিয়েছে প্রিয়জন। সেই প্রিয়জনহারার দল যেন বলে ওঠে:
বৃষ্টি হলে মাটি কাঁপে, লাশগুলো আবার দাঁড়াতে চায়
হাত বাঁধা, চক্ষু বাঁধা, বেয়োনেটে ছিন্নভিন্ন দেহ-
লাশগুলো আবার দাঁড়াতে চায়।
.......
.....
মাটি কাঁপে...
কবেরর মাটি খুঁড়ে অশনাক্ত লাশের কোরাস
সহসা খামচে ধরে চাঁদের চিবুক-
আমাকে শনাক্ত করো হে যৌবন, যুদ্ধের সন্তান,
আমাকে শনাক্ত করো স্বদেশের দগ্ধ কৃষ্ণচূড়া।
এদেশের গঞ্জে গ্রামে শকুনের এখনো সুদিন-
মাটি কাঁপে, বৃষ্টি হোক, লাশগুলো আবার দাঁড়াক।
আমরা জানি, যারা গেছেন তারা আর ফিরে আসবেন না। তাদের লাশ আর কখনো জীবন্ত হবে না। তবু তাদের ঘনিষ্ঠজন, মৃতের স্ত্রী-সন্তান, তারা নিশ্চয় প্রতি মুহুর্তে চান- লাশগুলো জীবন্ত হয়ে ফিরে আসুক, এরপর বাংলার আকাশকে মুক্ত করুক শকুনের অশুভ দখল থেকে। তাদের এই প্রত্যাশা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই পূরণ করবে। যারা চলে গেছেন, আকাশের নক্ষত্র হয়ে, তারা নিশ্চয় প্রিয়তম মানুষকে বলছেন, সেই সুদূরতম জায়গা থেকে-
চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়,
চলে যাওয়া মানেই নয় বন্ধন ছিন্ন করা আর্দ্র রজনী।
তারা আছেন এবং থাকবেন। বাংলাদেশে যে এখনো কত স্বার্থান্বেশী মহল সক্রিয় তা বিগত কয়েক দশকের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রাণ গেছে অনেকের। ডক্টর মিলন থেকে শুরু করে বুয়েটের ছাত্রী সনি, দিনমজুর থেকে শুরু করে শতাধিক সেনা কর্মকর্তা। সকল মৃত্যু এবং ষড়যন্ত্র দেখে রুদ্রের ভাষাতেই বলতে ইচ্ছে করে
বাইরে লুট হচ্ছে রোদ্দুর-
অথচ কেউই বলছে না : তোমরা বেরিয়ে এসো,
দ্যাখো, তোমাদের শীতের কাপড়গুলো
আর ভিজে ক্ষত শুকোবার একমাত্র ওষুধটুকুও
হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



