মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।
চল্লিশ বছর!
সাধারন যে কোন জীবনের জন্য জীবনের পড়ন্ত মধ্যাহ্ণ।কম তো নয়! বিয়ে সংসার সন্তান পূর্ণতার অনেক পথই পেরিয়ে আসে এই সময়ে। উপভোগ করে জীবনের অর্জনকে।
আমাদের দেশটা স্বাধীন হল ৪০ বছর। কিন্তু আমরা কি সেই সুন্দর সত্য স্বাধীনতাকে উপভোগ করতে পারছি! আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সার্বিক জীবন যাপন, নাগরিক বোধ, আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য কোথাও আমরা যেন সুস্থির হয়ে বসতে পারছিনে!
আমাদের স্বার্থপরতা, আমাদের স্বপ্ন, চাওয়া যেন ক্রমশ ক্ষদ্রাতিক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে!
আমরা দেশের চেয়ে দলকে বড় করে দেখছি!
দলের চেয়ে ব্যক্তিকে বড় করে ভাবছি!
ব্যক্তির চেয়ে আপনা স্বার্থকে সবচে প্রধান্য দিচ্ছি!
'আমাদের' বলায় যে বৃহত্তর সামষ্টিক ভাবনা, বোধ তা থেকে শুধু 'আমার' এ বদলে যেতে যেতে আমরা এক অচেনা অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবমান! যেখানে শুধুই স্বার্থপরতা, শুধুই আত্ম কেন্দ্রিকতা। পরার্থ বলে কিছু নেই। সামষ্টিক এবং সামগ্রিক বলে কিছূ নেই। আছে কেবল শো অন শো অফের বাহারী উপস্থাপনা!
আছে বৈপরিত্যে বসবাসের পাঠ। আছে বিবেকহীনতার, আত্ম প্রতারনার মিনিমাম অনুভবটুকুকে ঢেকে রাখার কৌশল!
আজ আবার শুরু থেকে কেচে গন্ডুষ করার পালায় দাড়িয়ে হতবিহবল পুরা জাতি। কোথায় শুরু কোথায় শেষ কে সত্য, কে মিথ্যা, সব বিচার্য আর বিবেচ্য হয় ঐ ব্যক্তিক- দলীয়, স্বার্থ আর আত্ম-বৈপরীত্যের মানদন্ডে!
আমি কি বলছি? কেন বলছি? এই দায়বোধ টুকুনও উধাও!
সকালে যা বলছি বিকালে তার বিপরীত বলি কি করে! এই সাধারন বোধটুকুনও বিলুপ্ত!
সত্য আর মিথ্যার প্রভেদ ক্রমেই ম্রিয়মান! মিথ্যাকে সাজিয়ে বলাই যেন যোগ্যতার মানদন্ড! স্বার্থের প্রয়োজনে দিনকে রাত করা যেন চরম এবং পরম গুন! দল এবং বিভাজনের বৃত্তের বাইরে আসা যেন কবিরা গুনাহ বা তার চাইতে বড় কোন পাপ!
বিবেক তাড়িত করে না, বিশ্বাস উজ্জিবিত করে না, দায়বোধ হৃদয়ে সাড়া জাগায় না- দলীয়, স্বার্থান্ধ আর লোভী স্বপ্নকে পূর্ণ করার তাগিদে!!
৪০এর বিজয়ের এই শুভ লগ্নে দাড়িয়ে, দেশ এবং অনাগত ইতিহাসে নিজেকে অসাঢ়, অপদার্থ, ব্যার্থ হিসেবে দেখতে না চাইলে, আসুন আমরা জাতীয় মূল বিষয়গুলোতে ঐক্যমতে পৌছানোর চেষ্টা করি- যাতে আমরা না পারলেও পরবর্তী প্রজন্ম যেন আবার নতুন করে পথ বানানোর কষ্ট করতে না হয়!
*** সকল চিহ্নিত, প্রমাণীত, যুদ্ধপরাধীদের দল, মত নির্বিশেষে সকলের উপযুক্ত বিচার চাই।
প্রস্তাবনা-
১. মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধা সনদ, ইত্যাদি সহ সকল সার্বিক বিষয় সমূহ নিয়ে চলমান বির্তক এবং ইস্যু ভিত্তিক বিভেদ গুলোকে মিমাংসা করতে সর্বদলীয় শুধূ নয় প্রয়োজনে আন্র্তজাতিক সংশ্লিষ্টতা সহ একটা বোর্ড গঠন করা। যারা সকল পক্ষের তথ্য, উপাত্ত, প্রমাণ, যুক্তি এবং ঐতিহাসিক সত্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করে একটা ন্যায় সংগত রায় দেবেন, সিদ্ধান্ত দেবেন যা সকলে মেনে নেব। এবং আমাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে আমরা সকলে সেই সবকে সর্বোচ্চ সম্মান এবং মর্যাদা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব।
২. আমাদের জাতীয় নেতা এবং নেতৃত্বের সর্বসম্মত এক ক্রম ধারাবাহিকতা নিয়ে চলমান বির্তক, ব্যাক্তি এবং দলীয় বৃত্তের বাইরে জাতীয় সম্পদ হিসেবে এবং ইস্যু ভিত্তিক বিভেদ গুলোকে মিমাংসা করতে সেই বোর্ড সকল পক্ষের তথ্য, উপাত্ত, প্রমাণ, যুক্তি এবং ঐতিহাসিক সত্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করে একটা ন্যায় সংগত রায় দেবেন, সিদ্ধান্ত দেবেন যা সকলে মেনে নেব। এবং আমাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে আমরা সকলে সেই সবকে সর্বোচ্চ সম্মান এবং মর্যাদা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব।
৩. আমাদের জাতীয় রাজনীতিবিদদের চাপে রাখতে এবং যে কোন অন্যায় কাজ সহজে করতে যাতে সাহস না পায় সেই জন্য সর্ব সম্মতিক্রমে জাতীয় একটা নীতি নির্ধারনী বোর্ড গঠন করা হবে। যেই বোর্ড সদস্য হবার জন্য জাতীয় ভাবে স্বীকৃত পরিক্ষীত পরিচিতি ও মানদন্ডের পাশাপাশি সম্মিলিত নির্বাচক পরিষদের (৬৪ জেলায় প্রতি জেলায় গ্রাজুয়েট/মাষ্টার্স, স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সফল ব্যাক্তি/নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধি/সচেতন সাধারন নাগরিক/ সমন্বয়ে গঠিত) সর্বাধিক প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে।
যারা জাতীয় উন্নয়ন, অগ্রগতি সহ জাতীয় এবং আন্র্তজাতিক বিষয়ে মতামত প্রদান করবে। এবং ব্যালেন্স কিপিং প্রেসার গ্রুপ হিসেবে জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবে।
আমরা কি ৪০ বছর পর এতটুকু আশা করতে পারিনা! স্বপ্ন দেখতে পারিনা একটা পরিচ্ছন্ন রাজধানী, ছবির মতো সুন্দর সাজানো একটা দেশ। একটা নিশ্চিত জীবন যাপনের, উন্নত না হোক মিনিমাম ষ্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আমাদের জাতীয় পরিচিতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার।
একতাবদ্ধ, চিন্তাশীল, কর্মঠ, মুক্তমনা, সহমর্মী, উদার, সম্প্রীতির বাধনে আবদ্ধ এক সুশৃংখল জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্ব ব্রান্ডিং করা কি খুব দুরুহ কিছু?
সবাইকে আবারও মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। আমাদের সকল শূভ স্বপ্ন সার্থক হইক, পূর্ণ হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

