সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা। ঘাতকদের একজন ডেভেলপার ব্যবসায়ী এবং অপরজন গণমাধ্যমকর্মী বলে ধারণা করছেন তারা। সন্দেহভাজন দুই খুনিকে গ্রেফতারের ব্যাপারে গত রাত থেকেই শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছাড়াও র্যাবের গোয়েন্দা উইং ও সিআইডি মিলিয়ে মোট পাঁচটি টিম রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত দুটি টিম গুলশান, অপর দুটি টিম রাজাবাজার এবং আরও একটি টিম রাজধানীসংলগ্ন অপর একটি জেলা শহরে অভিযান চালাচ্ছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোটিভ হিসেবে দুটি পয়েন্টের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী গোয়েন্দারা। এখন যে কোনো মুহূর্তে খুনিরা গ্রেফতার হবে।’ ওই কর্মকর্তার ধারণা, সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতির হত্যাকাণ্ডে সরাসরি দুজন খুনি অংশ নিয়েছে।
সাংবাদিক দম্পতির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর একটানা ৩০ ঘণ্টার ছোটাছুটি, অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যার পর পরই হত্যা রহস্যের ব্যাপারে একটু কিনারা পান ডিবি কর্মকর্তারা। একটি সূত্র জানায়, এ নিয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ডিএমপি কমিশনার, ডিবির যুগ্ম কমিশনার, ডিবির ডিসিদ্বয়, ডিএমপি সদর দফতরের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষেই ডিবির তিনটি টিম নির্দিষ্ট অভিযানে বেরিয়ে যায়।
তবে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কেউ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ নিজেও ‘খুনি গ্রেফতারের আগে’ কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছিলেন, ‘আমরা টানা তদন্তের এ পর্যায়ে নির্দিষ্ট পয়েন্টে’ পেঁৗছতে পেরেছি বলে মনে করছি। আশা করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতারে সক্ষম হব।’
রাজধানীর কয়েকটি স্থানে সন্দেহভাজন খুনি গ্রেফতারের অভিযানকালে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এম মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে। গ্রেফতারে অভিযান চলছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বত্র সব রকমের অভিযান চলছে।’ শনিবার ভোররাতে খুন হওয়ার পর দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেন। ওই সময় অতিক্রান্তের সময়সীমার মধ্যে আজ সোমবার বেলা ১টায় পুলিশপ্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। এতে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনেই ঘাতকদের হাজির করাও হতে পারে বলে সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, রুনির এক সহকর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। এ কারণে ওই সহকর্মীকে গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ছাড়া রুনির এক ছোট ভাইকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ। তাকেও গত রাতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে রুনির ভাই রোমানের পারিবারিক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। পরে রাতেই আবার বাসায় নামিয়ে দিয়ে যায়। এ ছাড়া ওই বাসার তিন কর্মচারীর একজন পলাশকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের সুরক্ষিত অ্যাপার্টমেন্টে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি খুন হন। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোরের কোনো এক সময় তাদের ছুরিকাঘাত ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
সিআইডির একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল ওই বাসা থেকে টেবিল থেকে খাবার প্লেট, রক্তমাখা বঁটি উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টেও তাদের হাতের আঙ্গুলের ছাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেছে রুনির পরিবার। রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান গতকাল বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় এ মামলা করেন। ওই থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, এজাহারে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে গতকাল সকালে পুলিশ রক্তমাখা একটি বঁটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে. হত্যাকাণ্ডে ওই বঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওই ফ্ল্যাট থেকে একটি আইপড, একটি ল্যাপটপ ও সাগরের একটি মোবাইল ফোনসেট খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রোমান।
গতকাল সাগর-রুনির ফ্ল্যাটে যান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মারুফ হাসান, ডিসি (ডিবি) উত্তর মাহবুবুর রহমান, ডিসি (তেজগাঁও) ইমাম হাসান ও এডিসি (ডিবি) উত্তর মনিরুজ্জামান। সকাল ১০টার দিকে মেহেরুন রুনির মা, রুনির ছেলে মেঘ ও রুনির ভাই রোমানকে নিয়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তারা। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল জানান, তাদের একাধিক দল এ ঘটনার তদন্তে কাজ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মারুফ হাসান বলেন, তদন্ত চলছে। যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা চলছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা যাবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (টপ-১) দিয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। ডিএমপি মুখপাত্র ও ডিবি দক্ষিণের উপকমিশনার (ডিসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে বাসার দারোয়ান, প্রতিবেশী, আত্দীয়স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের দুজনের কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হবে। সাগর-রুনির শিশুপুত্র মেঘের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মেঘ এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।’ তিনি জানান, ঘাতকরা বাসার মূল দরজা দিয়ে ঢোকে এবং খুন করে একই পথে বেরিয়ে যায়। শিশু মেঘের গলা ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকেও হয়তো ঘাতকরা আঘাত করতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সব কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী মোট পাঁচটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহ, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কেউ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল কি না, কারও সঙ্গে অর্থনৈতিক কোনো বিষয় বা কলহ ছিল কি না, পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না, এ বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে কৌশল বদলাচ্ছেন গোয়েন্দারা। হত্যার কারণ ‘ব্যক্তিগত’ এবং খুনিরা নিহতদের ‘ঘনিষ্ঠজন’ এমন তথ্য দিলেও এর বেশি কিছু বলছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা। আজ সোমবার রাতেও একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘খুনিদের চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তারা নাগালের মধ্যেই আছে। কৌশলগত কারণে পরিচয় প্রকাশে বিলম্ব ঘটছে।’ গোয়েন্দারা ঘটনার পর বেশ কিছু মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। আরো কিছু বিষয় নিশ্চিত হতে তাঁরা এখন কাজ করছেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার আজ তদন্তে চূড়ান্ত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘তদন্তের স্বার্থেই এ মুহূর্তে কারো নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আস্থা রাখুন। দ্রুত সময়েই সব কিছু জানা যাবে।’
আজ রাতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত সাগর-রুনির ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই রয়েছে খুনি। তাদের সংখ্যা আপাতভাবে ‘দুই’। কিন্তু প্রমাণ ও সহায়ক তথ্য সংগ্রহের জন্য বর্তমানে সাতজন রয়েছে গোয়েন্দা নজরে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে। কৌশলগত কারণে অনেক কিছু করা হচ্ছে। কার্যত এ পর্যন্ত তদন্তে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।