আমার প্রিয় পোস্ট

বল বীর! চির উন্নত মম শির!

পাট গেছে, কাগজ আর চিনিও গেছে পোষাক যেতে আর কতদিন বাকী?

০১ লা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:০৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

যখন ছোট ছিলাম স্কুলে বইতে পড়তাম বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানীজাত পন্য পাট ও পাটজাত। পরীক্ষায় লিখতাম বাংলাদেশের রপ্তানিখাতের ৮৫ ভাগ আসে পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে। পাটকে সবাই তাই বলে গোল্ডেন ফাইবার।
সেই গোল্ডেন ফাইবারের গোল্ড চলে গেছে অনেকদিন আগেই। আমলাদের সীমাহীন দুর্নীতি, শ্রমিক নেতাদের লাগামহীনতা আর দেশি-বিদেশি চক্রান্ত সব মিলিয়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে পাট শিল্প।আমার এক আত্মীয় জড়িয়ে ছিলেন এই শিল্পের সংগে তার কাছ থেকে শুনেছি এর ধ্বসে পরার কাহিনী। অনেক অনিয়ম আর অনাচার। একটার কথা বলি আমি এখানে। পাটের সিজন এসে গেলে কৃষক নতুন পাট যখন বাজারে নিয়ে আসতো বিক্রির জন্য তখন সবচেয়ে বড় ক্রেতা পাটকল গুলোতে ক্রয় ফান্ড থাকতো না। অজ্ঞাত কারনে মন্ত্রনালয়ে আটকে থাকত ফাইল। ক্রেতা কম থাকায় বাজারে পাটের দাম থাকত খুবই কম। উৎপাদন খরচ উঠানোই কষ্ট হয়ে যেত গরীব কৃষকের। এমনও তখন হয়েছে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ কৃষক পাট পুড়িয়ে দিয়ে চলে গেছে। ফলস্বরুপ কৃষক পাট চাষের উৎসাহ হারিয়ে ফেলত স্বাভাবিকভাবেই।এরপর যখন পাটের সিজন শেষ তখন ফান্ড এসে যেত পাটকলগুলোতে কিন্তু তখন পাটের বাজার চড়া। ফলে বেশি দামে কিনতে হত পাট। লাভ হত মধ্যস্ত্বভোগী মহাজনদের। আর দামে কেনার ফলে উৎপাদিত পাটজাত দ্রব্যের দাম হত বেশি। স্বাভাবিকভাবেই বাজারের পাটবিকল্প দ্রব্যের সাথে দামের কারনে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যেত পাট। এর সংগে যোগ হয়েছিল কর্মকর্তা আর ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতি। তাই আমাদের দেশে যখন আদমজী বন্ধ হয়ে যায় তখন প্রতিবেশি দেশে নতুন পাটকল বসানো হয়।

চিনি শিল্পও ঠিক একই রকম প্যাঁচে পড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমদানি করা বিশেষ ধরনের আঁশ (আখ নয়) প্রক্রিয়াজাত চিনি খাই যে দামে আমাদের দেশি (আখের)চিনি সবসময়ই(!) তার থেকে ৫/৮ টাকা বেশি দাম হয় কেজিতে। কেন? চিনিকলগুলোতে ক্রেতার অভাবে চিনি গলে যায় আর বাজারে আমি দেশী চিনি খুঁজে পাইনা।

এখন আমাদের রপ্তানির সিংহভাগ আসে পোষাক শিল্প থেকে। পোষাক শিল্পে আমাদের এই মার্কেটটার দিকে নজর পড়ছে বিদেশী ব্যবসায়ীদের । প্রতিযোগিতার এই বাজারে তারা আরাকজনের মার্কেট দখল করতে চাইবে এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু দোষ তখনই যখন পরিকল্পিতভাবে কোন কিছুকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাওয়া হয়। কোন সন্দেহ নেই মালিকরা শ্রমিকদের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বন্চিত করছে কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে নানা মিথ্যা গুজবের উপর ভর করে কারা পোষাক শিল্পকে অস্থেশীল করে দেয়ার চক্রান্ত করছে। আমার বন্ধু একজন মার্চেন্ডাইজার। সে আগে বাসায় ফিরে মালিকদের গাল দিত ইচ্ছামত। সে সেদিন বললো যে শ্রমিকদের উস্কাচ্ছে কেউ। অল্প কিছু মানুষ ভাংচুর আরম্ভ করে তারপর অশিক্ষিত শ্রমিকদের মধ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে মাঠে নামিয়ে দেয়।

আমার কথা হচ্ছে কোন সন্দেহ নেই মালিকদের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শ্রমিকরা, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। কিন্তু এই শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগে কেউ যেন পোষাক শিল্পকে আরাকটা মুমুর্ষ শিল্পের দিকে নিয়ে যেতে না পারে।

আপনার মাথাব্যথার চিকিৎসা করার নামে কেউ যেন আপনার মাথাটা কেটে ফেলার সুযোগ না নেয়।

 

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ১৫৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:১৭
comment by: সাইলেন্সার বলেছেন:

বিশ্বে এখন পরিবেশ নিয়ে অনেক হইচই হচ্ছে, সচেতনতা বাড়ছে।
ভবিষ্যতে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়বে।
তখন একচেটিয়া ব্যবসা করবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো।
আমাদের এই দেশটাকে নিয়ে অনেক চক্রান্ত চলছে।
এর পিছনে আমাদের রাজনৈতিক নেত্বত্বই দায়ী।
তারা জাতিকে নিজেদের স্বার্থে বিভক্ত করে রেখেছে।
কিন্তু সময় পার হয়ে যাচ্ছে, আমরা সেভাবে এগোতে পারছি না।
এই ভুলের মাসুল দিতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে।
০১ লা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:২১

লেখক বলেছেন: একমত।

২. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৪১
comment by: লেখাজোকা শামীম বলেছেন: পোশাক শিল্প যাবে পাটের ভাগাড়ে
নৈরাজ্য না ঠেকালে যাবে সবই
ঝুট ব্যবসা বন্ধ করেন, সুস্থ শ্রমিক ইউনিয়ন করতে দেন, ধান্দাবাজদের পথ বন্ধ করে দেন
০১ লা জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম ভাই। আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।

৩. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
comment by: জুল ভার্ন বলেছেন: স্পীনিং মিলগুলোর কথা ভুলে গেলেন? প্রতি কেজি সুতার প্রডাকশন কস্ট ২ ডলার ১০ সেন্ট। ইন্ডিয়ান ডাম্পিং সুতা অবাধে সড়ক পথে আমাদানীর সুযোগে চোরাই হয়ে আসে-একশত টনের বিপরীতে ১০০০ টন-বিনা শুল্কে! বর্ডারে বিডি আর নেই-অপেন বর্ডার থেকে হরদম আসছে ভারতীয় সুতা। আমাদের দেশীয় ৩৪৪ টা স্পীনিং মিলের মধ্যে ১৩২ টা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাকীগুলো বন্ধ হবার পথে।

জয় মা বজ্রংবলী!
০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:২৬

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ

৪. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪
comment by: ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: এখন আমাদের রপ্তানির সিংহভাগ আসে পোষাক শিল্প থেকে ............................................
সিংহ ভাগ আসে দাস (মানুষ) রফতানি করে ।
০১ লা জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন: আপনি সম্ভবত ফরেন রেমিটেন্সের কথা বলছেন। আমি বলেছে রপ্তানি পন্যের কথা.... পড়ার জন্য ধন্যবাদ

৫. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
comment by: আতিকআতিক বলেছেন: ভাল লেখা । প্লাস।
০১ লা জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আতিক। কমেন্ট করা যাচ্ছে তাহলে।

৬. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:১৫
comment by: ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: পাট সংক্রান্ত আপনার মূল্যায়ন টা খুব সঠিক।

আমি একটা রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। জুনের শেষ দু সপ্তাহ আমাদের অফিসে যে কর্ম যজ্হ চলছে ...............নবীন কেউ দেখলে এদেমশর উন্নয়ের গতি নিয়ে তার আর কোন সন্দেহ থাকবে না।

আমাদের বাজেট হয় জুলাই টু জুন ।সারা বিশ্বে তা কি না জানি না। কেন জানুয়ারী ডিসেম্বর নয় তাও জানা নেই।

সমস্যা হচ্ছে জুনের ৩০ তারিখের পর পূর্ববর্তী বছরের বরাদ্দ যা ব্যয়িত হয়নি তা রিফান্ড যায়। আর জুলাই অগাস্ট মাসে পাট উঠতে থাকে। জেলা পর্যায়ে তখন পাট ক্রয় বাজেট শূণ্য।

জুলাই মাসে নতুন অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট ঘোষনার পর প্রতিটি মন্ত্রানালয় নিজ নিজ চুড়ান্ত বাৎসরিক পরিকল্পনা গ্রহন করে। এ উচ্চ পর্যায়ে চুড়ান্ত নীতি নির্ধারনে নুন্যতম এক মাস সময় ব্যয় হয়।( এখানে একটা ফাঁকি জনিত ব্যাপার আছে।)
তারপর চলে প্রান্তিক পর্যায়ে উক্ত নীতি বাস্তবায়নে চাহিদা সংগ্রহে চিঠি চালাচালি।চাহিদা প্রাপ্তির পর আসে বাজেট বরাদ্দের বিষয়।

ততদিনে প্রান্তিক চাষী ঘর থেকে পাট মুজুদ হযে যায় মহাজন আর ফরিয়াদের গুদামে।
০১ লা জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৩

লেখক বলেছেন: চিনিও একই কারনে শেষের পথে । কে দেখবে এইসব বলুন?

৭. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪
comment by: সাইলেন্সার বলেছেন:
@ ভিন্ন চিন্তা।

ঠিক যে কারণে সিটি করপোরেশনের রাস্তা খোঁড়াখুড়ি শুরু হয় আকাশে মেঘ দেখে।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৪১

লেখক বলেছেন: এই সব দেখার কেউ নেই।

৮. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:১৮
comment by: সত্যাশ্রয়ী বলেছেন: হুম । ভাল লেখা।

 

 


স্বপ্ন
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই