একটি বেশ দামী মিষ্টির দোকানের সামনে এক বোরখা পরিহিতা মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন, মুখ নেকাবে ঢাকা । তার সামনে দুজন যুবক, বেশ ষান্ডামার্কা । মহিলার হাতে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ । সেগুলো বেশ দুলিয়ে দুলিয়ে গল্প করছিলেন ছেলে দুটোর সাথে । পরিচিত মানুষের সাথে কুশল জিজ্ঞাসা আরকি !
সেই সময় কোত্থেকে যেন এক ৭-৮ বছরের এক ভিকিরি ছেলে, হাত পাতল মহিলার কাছে , কয়েকটি টাকা চায়, দুপুরে থেকে কিছু খেতে পায় নি । মহিলাটি গ্রহ্য করলেন না তেমন ! দুলিয়ে দুলিয়ে বেশ গল্প করছেন বেশ । ছেলে দুটোর মুখ হাসি হাসি ।
হঠাৎ দুটো ছেলের মাঝে একটি ছেলের খেয়াল হল, ভিক্ষুক ছেলেটিকে ।
:ঐ যা এইখান থেকে !
পাশের ছেলেটি বলল
:ইদানিং এতো ফকির বারসে, যে পা ই ফেলা যায় না । বাপ মা গুলা জন্ম দিয়া, কই যে পলায় !
এই বলে সে হাল্কা একটা ঘুষি পাকাল বাচ্চা ছেলেটির দিকে । পাশের মেয়েটি হেসে কুটিকুটি । বাচ্চা ছেলেটি তখনও দাঁড়িয়ে ছিল - হাত পেতে, নীরব তৃতীয় বিশ্ব !
এমন সময়, আরেকজন মহিলা বের হয়ে এলেন মিষ্টির দোকান থেকে, এক হাতে অনেকগুলো মিষ্টির প্যাকেট, অন্য হতে একটি নাদুস নুদুস বাচ্চা সামলাচ্ছেন , দুই মহিলা একসাথে ই আছেন । তৃতীয় বিশ্ব এবার ঘুরে দাড়াল, অন্য মুখে । নাদুস নুদুস বাবু ও মিষ্টির ভারে ভারাক্রান্ত ছিলেন কিনা জানি না, এই মহিলা ও গ্রাহ্য করলেন না, শুধুমাত্র ময়লা স্যান্ডু গেঞ্জি, শত তালি হাফ প্যন্ট, খালি পেট ও করুন দৃষ্টির মালিক ভিক্ষুক ছেলেটিকে ।
ছেলেদুটো , মহিলা দুজনের জন্য একটি রিকশা ঠিক করল । মহিলা দুজন রিকশায় উঠলেন । আমাদের তৃতীয় বিশ্ব তখনও ক্ষুধার জ্বালায় উর্ধ বাহু । ছেলেটি রিকশা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, তখনও । আশা বিদায় বেলায় যদি কারোর মন গলে ।
রিকশা ওয়াল প্যডেল দিতে যাবে, সেই মুহূর্তে কোলে বসা নাদুস নুদুস বাচ্চাটিকে দুটো ছেলের একটি ছেলের চকিতে ভালবাসার চুমো দিল । তার পাশেই আরেকটি বাচ্চা ছেলে ক্ষুদার্থ । ভালবাসা ও নিস্পৃহতার কী নির্লিপ্ত সহবাস !
রিকশা ছেড়ে দিল । আমি ক্ষুদার্থ বাচ্চা ছেলেটিকে ১০ টাকা দিলাম । সে টাকার দিকে চেয়ে রইল এক মুহূর্ত !
আমি পেছন ফিরে বৈশ্বিক অনাচারে উদাসীন ঈশ্বরের মুখ পুড়তে পুড়তে হাটা দিলাম । দু তিন কদম দেওয়ার পর কি মনে করে পেছন ফিরে তাকালাম । অপসৃয়মাণ দৃশ্য দেখে থমকে গেলাম । রিকশা চলছে পুরোদমে, আর রিকশার পেছন পেছন ছেলেটি দৌড়ুচ্ছে !!
তৃতীয় বিশ্ব দৌড়ুচ্ছে !!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


