যেখানে জামায়াত ইসলামীর মহাসমাবেশ , তারপাশেই নজর পড়ে দোকানটি। দোকান ঘুরে ঘুরে পুরানো জিনিস সংগ্রহের আমার মেলা দিনের পুরানো শখ। দোকানের বারান্দায় ও দাঁড়ানোর ও জায়গা নেই। জামায়াত ইসলামীর একনিষ্ট সদস্যরা পুরো দেশ থেকে এখানে এসে একত্রিত হয়েছেন। মিটিং চলবে সপ্তাহব্যাপি। আজ হলো প্রথমদিন।
দোকানের ভিতর ঘুরে ঘুরে আমি নানারকম দূর্লভ জিনিস অন্বেষণ করি।হঠাৎ করে চোখে পড়ে -একটা ব্রোন্জের ইঁদুর। এতো বেশী ভালো লাগলো যে জিনিসটা, হুট করেই কিনে ফেললাম।
দোকান থেকে বের হয়ে, রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছি।কিন্তু এক আজীব কাজ কারবার শুরু হয়ে গেলো। আমার পাশ দেখি আরো কয়েকটি জীবন্ত ইঁদুর,আমার পিছু নিয়েছে, কিছুক্ষণ পর আরো কয়েকটি, মনে হয় ২০- ৫০। কিছুক্ষণ পর সংখ্যা বাড়তেই থাকে ,বাড়তেই থাকে।
আমি নিদারুন ভয় পেয়ে যাই। এবার দেখি আমার পিছনে শত শত ইঁদুর, একেবারে সেই হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালার মতো। আমি ও ছুটছি, আর আমার পিছনে হাজারে হাজারে ইঁদুরগুলো ও ছুটছে।
আমি আর কোনো উপায় না দেখে ছুটতে ছুটতে বুড়ীগংগার পাড়ে চলে আসি। তারপর খুব সজোরে আমার হাতে ধরা ব্রোন্জের ইঁদুরটি বুড়ীগংগার ময়লা পানিতে ছুড়ে ফেলি।
তারপর হলো এক অবাক কান্ড। দেখলাম শত শত , হাজার হাজার ইঁদুর নদীর পানিতে ঝাপিয়ে পড়লো। সলিল সমাধি ঘটলো মুহুর্তেই হাজার হাজার ইঁদুরের, আমিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
এর পরদিন আমি আবারো সেই দোকানটিতে আসি। দোকানের মালিককে ব্রোন্জের ইঁদুরটির ব্যাপারে জিগ্গাসা করে বলি, ভাই যত টাকা লাগে আমাকে একটা ব্রোন্জের গোলাম আজম বানিয়ে দিতে হবে।
মিটিং এর আজ শেষ দিন। আমি ব্রোন্জের গোলাম আযমকে পিটে নিয়ে জামায়াত ইসলামীর মিটিং এর পাশ দিয়ে এবার বুড়িগংগার দিকে দৌড়াতে থাকি। আমার মাথায় দৌড়ানোর নেশা ভর করে। । নিশানা একেঁ দেই নদীর পশ্চিমে অস্তাচল গামী লাল সূর্য।
৩৮ বছরের সুদীর্ঘ সময়ে বেড়ে ওঠা জন্জাল এভাবে বুড়ীগংগায় নিপতিত হলো।
এ ব্যাপারটির হিসেব মিলাতে গিয়ে চিকিৎসা গবেষণাগারে যে রিপোর্টটি বেরিয়ে এলো, তাতে দেখা গেলো------- ইঁদুরের রক্তের সাথে রাজাকারদের রক্তের হুবুহু মিল রয়েছে। ইঁদুর যেমন মালিকের ঘরে বসত করে মালিকের ঘর ছিদ্র করে,ঠিক তেমনি রাজাকাররাও করে। ইঁদুর যা অনুকরণ করে ,রাজাকাররাও ঠিক তাই করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



