প্রাণ
০৬ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:২৪
"জীবন পরিমাপ করা হয় এর তীব্রতা দিয়ে, দৈর্ঘ্য দিয়ে নয়"
দুখী স্বদেশঃ
আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ কেনো উন্নত নয়, ধনী নয়।
এটা আমেরিকার ষড়যন্ত্র। ভারতের ষড়যন্ত্র। ইসরায়েলী জায়নিস্টদের ষড়যন্ত্র, যারা কোনো মুসলিম দেশকে উপরে উঠতে দিবেনা। আমাদের সব দুঃখ কষ্ট শুরু হয়েছে যেদিন বৃটিশরা আমাদের দেশ দখল করেছিলো। আমাদের ছিলো গোলাভরা ধান, দীঘিভরা মাছ, বৃটিশরা এসে সব নিয়ে গেছে বিলেতে। বৃটিশরা রেখে গেছে কেরাণী বানানোর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে আমরা আর কখনো উপরে উঠতে না পারি। পুঁজিবাদী সামন্তবাদী শক্তিগুলো আমাদের কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে দিবেনা।
আমাদের দেশ এতো অসুখী কারণ আমরা ইসলামকে ঠিকভাবে মানিনা। একমাত্র সত্যিকারের ইসলামী শাসন-ব্যবস্থাই পারে আমাদের একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে। একটি ইসলামী দেশে সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষা হবে চমৎকারভাবে। সৌদি আরব, পাকিস্তান, কিংবা আফগানিস্তানের তালেবান, কেউই সত্যিকারের ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চালু করে নাই। আমাদের সেই সত্যিকারের আসল ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেখানে পরকালের অনন্ত জীবন হবে আমাদের সকল কর্মকান্ডের মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য।
আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের দেশের মতো আর কোথাও নেই। এগুলো না থাকলে আমরা নিশ্চই আরো এগিয়ে যেতে পারতাম। এইসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর সাথে যুদ্ধ করতে করতে আমাদের বিশাল শক্তি ক্ষয় হয়ে যায়, যেটা অন্যথায় আমরা আমাদের উন্নতির কাজে লাগাতে পারতাম।
কিংবা হয়তো আমাদের মূল সমস্যা অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ। এতোটুকুন একটা দেশে এতো মানুষের দরকারী খাদ্য এবং জীবন ধারণের রসদ যোগাতে সমস্যা তো হবেই। আমরা যে বেঁচে আছি এটাই কি কম না?
আমাদের সমস্যা আসলে দেশপ্রেমের অভাব। বিশেষ করে আমাদের কর্তাব্যক্তিদের। আমাদের রাজনীতিবিদরা, সামরিক-বেসামরিক আমলারা, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা, সুশীল সমাজ আর পা-চাটা বুদ্ধিজীবিরা যদি দেশের প্রতি আরো মমতাময়ী হতো তাহলে নিশ্চয়ই দেশটা এতোদিনে অনেক বদলে যেতো! তার খালি নিজেদের দিকটাই দেখেন, দেশের সাধারণ মানুষের দিকটা দেখেননা। এদের সীমাহীন দুর্নীতি আর অসততা আমাদেরকে দিন দিন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দেশটা জলে যাচ্ছে আসলে জঙ্গীবাদ আর রাজাকারদের কারণে কারণে। জঙ্গী, কাঠমোল্লারা দেশটাকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনাকে প্রতিরোধ করতে পারলে দেশটা হয়ে উঠতো অনেক সুখী আর সমৃদ্ধশালী। দেশটাকে উন্নত করতে হলে জঙ্গীবাদের এর এই অন্ধকার টানেল থেকে বের হতে হবে আমাদের।
প্রাণঃ
আমার মনে হয় আমাদের মূল সমস্যা অন্য কোথাও। আমাদের মূল সমস্যা আমাদের প্রাণ এর অভাব। "প্রাণ" শব্দটা এখানে কতোটুকু যথার্থ আমি জানিনা, কিন্তু ইংরেজীতে একে বলে যায় "স্পিরিট", কিংবা "স্ট্যামিনা", কিংবা "এনার্জি"। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য দরকার অদম্য প্রাণশক্তি, জীবনের প্রতি দরকার সীমাহীন ভালোবাসা।
প্রাণ এর সাথে চলে আসে কয়েকটি জিনিস। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে আনন্দ উপভোগ করা। আমরা যে কতোটা প্রাণহীন জাতি এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে আমাদের দেশে "উপভোগ" কিংবা ইংরেজীতে "enjoy" শব্দটিকে খুব একটা ভালো চোখে দেখা হয়না। কেউ যদি তার জীবন "enjoy" করে তাহলে তাকে কেমন যেন বাঁকা চোখে দেখা হয় আমাদের দেশে। অবধারিতভাবে "উপভোগ" শব্দটাকে শারীরিক সুখের বাইরে ভেবে অভ্যস্ত নই আমরা। জীবনকে কতোরকম করে উপভোগ করা যায়, জীবনে কতো রকমের আনন্দ করা যায়। পশ্চিমের মানুষেরা কতোভাবে তাদের জীবন উপভোগ করে, জীবনে কতো রকম আরাম আয়েশের আয়োজন করে রাখে। আমরা ওদের মতো জীবন উপভোগ করিনা এর মানে এই নয় যে আগামী একশ বছর আমাদের এভাবে থাকতে হবে। আমাদেরকে জীবনটাকে উপভোগ করা শিখতে হবে। বিদেশের মাটিতে "have fun" কথাটা উঠতে বসতে ব্যবহার করা হয়। খাঁটি বাংলায় যার মানে "মজা করো, আনন্দ করো"। আমাদের রক্তে এই "মজা করা" ব্যাপারটি তেমন তীব্রভাবে নেই। প্রতিদিন এর কাজে, শপিংএ, বাসায়, রাস্তাঘাটে, গাড়িতে, সব কাজে যে মজা করা যায় এই ধারণাটাই আমাদের নাই। আমি এটা বলতে চাচ্ছিনা যে মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট নেই কিংবা উন্নত দেশের মানুষেরা দিনরাত শুধু মজাই করে। আমি বলতে চাচ্ছি জীবনকে উপভোগ করা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা খুবই সীমিত। আমাদের কাছে জীবনকে উপভোগ করা একটা ভালো চাকুরী এবং সন্তান লালন করার জন্য যথেষ্ট টাকা উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যেহেতু আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ হয় একটা ভালো চাকুরী এবং ব্যাংকে কিছু টাকা, তাই এটা অর্জন করার পর আমাদের জীবনটা মোটামুটি থেমে যায়। আমাদের স্বপ্নের দৌড় ওই পর্যন্তই। একটা চমৎকার জীবন যাপন করা, স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাকে নিয়ে সুইজারল্যান্ড কিংবা নিদেনপক্ষে কাছের সিংগাপুর-মালেয়শিয়া ঘুরে আসা (সাধারণত ছেলেরাই এটা করে দেখে এভাবে লিখেছি), একটা ভালো গাড়ী আর একটা ভালো বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কেনা, সপ্তাহান্তের ছুটিতে নিজের গাড়িতে করে কক্সবাজার কিংবা নেপাল ঘুরে আসা - এসবই আমাদের কাছে রাতের স্বপ্ন, দিনেও এই স্বপ্ন দেখতে আমরা অভ্যস্ত নই। আর এই স্বপ্নের দৈন্যতা সৃষ্টি করে আমাদের চেষ্টার দৈন্যতা। আমরা ভাবি শুধুমাত্র যাদের বাবার কিংবা মামার কিংবা চাচার টাকা আছে শুধু তারাই উপভোগ করবে এই পৃথিবীটা আর আমরা বাকীরা শুধু একটা ভালো চাকুরী আর ব্যাংকে লাখখানেক টাকা নিয়ে জীবনটা পার করে দিবে। এটা ভুল। বড় ভুল।
এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষ সমানভাবে সমান অধিকার নিয়ে জন্ম নেয়। এটা ঠিক, ভালো পরিবেশে এবং/অথবা ধনী পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা অনেক বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে জীবন চলার পথে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাকীরা সারা জীবন পিছিয়ে থাকবে। কিন্তু সে জন্য সবার আগে স্বপ্ন দেখতে হবে। ঠুনকো প্রাণ নিয়ে জীবনে কিছু অর্জন করা যায়না। আমাদের প্রাণে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। আমরা হয়তো টিউশনি করে জীবন চালাচ্ছি, কিংবা হয়তো একটা ছোট চাকুরী করে সংসার চালাচ্ছি - কিন্তু এটাকে আমাদের নিয়তি হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনো মানে নাই। আমাদের ক্রমাগত চেষ্টা করে যেতে হবে আরো ভালো এবং উপভোগ্য একটা জীবন পাওয়ার জন্য। আমেরিকাতে কতো সাধারণ মানের ভারতীয় এবং চাইনিজ ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে চলে আসে। পড়ালেখা শেষ করে এখানেই চাকুরী শুরু করে যার বেতন ভারতে কিংবা চায়নাতে যা পেতো তার কমপক্ষে দশগুন! আমাদের ভিসা পেতে ওদের চেয়ে বেশি সমস্যা হয় এটা সত্যি, কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের উদ্যোগের অভাব। আমাদের সাহসের অভাব। আমাদের ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগ ভারতীয় এবং চাইনিজ ছেলেমেয়েদের চেয়ে কোনো অংশেই কম মেধাবী নয়, কিন্তু আমাদের উদ্যোগ এবং সাহস ওদের চেয়ে এক'শগুন কম। একটু উদ্যোগ আর সাহস নিয়ে চেষ্টা করলে আমেরিকাতে পড়তে আসা কোনো ব্যাপারই হবার কথা না। ভারতীয় আর চাইনিজদের মতো লাখে লাখে বাংলাদেশী ছেলেমেয়ে আমেরিকাতে পড়তে আসলে এবং এরপর চাকুরী করলে কী পরিমাণ টাকা এবং বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান এবং প্রযুক্তি আমাদের দেশে ট্রান্সফার করা যেতো সেটা ভেবে দেখেছে কেউ?
প্রাণশক্তিতে ভরপুর মানুষ কৌতুহলী হয়, আগ্রহী হয়, সবসময় কিছু একটা করতে চায়, যেকোনো জিনিসের ভালো দিকটা দেখে প্রথমে, নিজের ভুল/দোষ হলে সেটা স্বীকার নেয় সহজে, অন্যের সফলতা দেখে হিংসা করেনা, সবকিছুর পেছনে ষড়যন্ত্র খুঁজে বেড়ায়না, অন্যরা কী করছে সেটা না ভেবে নিজেই এগিয়ে আসে যেকোনো কাজে, ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকেনা, এবং আশেপাশের সবার মধ্যে নিজের প্রাণশক্তি সঞ্চারিত করে। একজন সফল মানুষ আরেকজন সফল মানুষকে হিংসা করবেনা। যে ছেলেগুলো হরতাল-বিক্ষোভ এর সময় নির্বিচারে অন্যের গাড়ি ভাংগে, সেই ছেলেগুলোর প্রত্যেকের একটা করে গাড়ি থাকলে ওরা কখনো এই কাজটি করতো না। অসফল মানুষ স্বভাবতই কিছুটা হীনমন্যতাবোধে ভোগে, এবং সুযোগ পেলেই তার দুঃখ-কষ্টের কারণ অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।
আমাদের প্রাণের বড়ই অভাব। এ অভাব মনে যেমন, শরীরেও তেমন। আমাদের সাধারণত মিলিটারির লোকজন ছাড়া অন্যদের স্বাস্থ্য তেমন ভালো হয়না, অথচ ইওরোপ আমেরিকায় সবার কি চমৎকার স্বাস্থ্য! আমরা দশ কদম দৌড়ালে হাঁপাতে শুরু করি; অথচ এখানে জিমে, পার্কে, এমনকি রাস্তাঘাটে লোকজনকে ঘন্টার পর ঘন্টা দৌড়াতে দেখি, সাইকেল চালাতে দেখি। আমেরিকার একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ তাদের জীবনে বিভিন্ন দৈর্ঘের ম্যারাথন দৌড় দিয়ে থাকেন এবং এটা বেশি ঘটে ওদের মধ্য বয়সের পর থেকে। আর আমাদের বয়স চল্লিশ ছাড়িয়ে পঞ্চাশ হতে না হতেই আমরা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া শুরু করি। আমাদের তিনটা কথার একটা হয় মৃত্যু নিয়ে, দোজখ নিয়ে কিংবা বেহেশত নিয়ে। অথচ বিদেশে দেখি ষাট, সত্তর, এমনকি আশিতে পড়া বৃদ্ধরা প্রখর রৌদ্রে জগিং করছেন, কিংবা ফিশিং করছেন, কিংবা বাড়ির পেছনের উঠানে বাগানের কাজ করছেন। কিছুদিন আগে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশ তার পঁচাশিতম জন্মদিন পালন করেছেন একটি প্লেইন থেকে ঝাঁপ দিয়ে স্কাই ডাইভিং এর মাধ্যমে! এখানে মানুষের শরীরের বয়স বাড়ে কিন্তু মনের দিক থেকে মানুষ থাকে তরুণ। আর এটা সম্ভব হয় শুধুমাত্র যখন মানুষ তরুণ বয়সে সত্যিকারের তরুণ থাকে - জীবনটাকে যতোটা সম্ভব উপভোগ করে।
কার্ণেগী মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরলোকগত অধ্যাপক র্যান্ডি পশ ক্যান্সারে অকালমৃত্যুর আগে একটি শেষ লেকচার (পিডিএফ লিঙ্ক) দেন। তাঁর কয়েকটি লাইন ছিলো এমনঃ "ঠিক করো তুমি কি টিগার নাকি ইওর । টিগাররা হচ্ছে প্রাণশক্তিতে ভরপুর, প্রচন্ড আশাবাদী, চরম কৌতুহলী, প্রায় সব ব্যাপারে প্রচন্ড আগ্রহী, এবং ওরা জীবনে অনেক আনন্দ করে। জীবনে আনন্দ করাকে কখনোই কম গুরুত্মপুর্ণ মনে কোরোনা। আমি কিছুদিনের মধ্যে মারা যাচ্ছি কিন্তু আমি এখনো প্রতিদিন জীবনে আনন্দ করতে চাচ্ছি। আমি আজ আনন্দ করতে চাই, কাল করতে চাই, এবং আমার বাকী জীবনের প্রতিটি দিন আনন্দ করতে চাই"।
প্রাণের মাধ্যমে সুখী স্বদেশঃ
আমি জানি আমরা একাত্তরে আমাদের প্রাণশক্তির প্রমাণ দিয়েছি, আমরা বছরের পর বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, গ্রীষ্মের ভয়াবহ দাবদাহ মোকাবেলা করে চলছি। একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আমাদের গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো, আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সে হায়েনাকে পরাজিত করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায় প্রায় প্রতি বছর, সেই ধ্বংস্তুপ থেকে আমরা আবার উঠে দাঁড়াই। আমাদের কই মাছের প্রাণ, এতো সহজে মরতে রাজী নই আমরা।
কিন্তু না মরে বেঁচে থাকাই একমাত্র বেঁচে থাকা নয়। এখানেই আসে "প্রাণ"। এখানেই আসে জীবনের প্রতি পরম ভালোবাসা। আমাদের খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের বেঁচে থাকাকে উদযাপন করতে হবে। যতোদিন বেঁচে থাকবো এই পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে খুব ভালোভাবে। নিদেন পক্ষে আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে।
একাত্তরে যুদ্ধ করে পাকিস্তানীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়াই জীবনের শেষ কথা নয়। আর ১৯৭১ পৃথিবীর শেষ বছর নয়। ১৯৭১ এর পর প্রায় চল্লিশটি বছর চলে গিয়েছে কিন্তু আমরা এখনো ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারছিনা। আমারা ভালোভাবে বাঁচতে চাই কিন্তু সেটি আমরা যে অর্জন করতে পারিনি আমাদের দেশে তার একটি প্রমাণ হচ্ছে আমরা অনেকেই বিভিন্ন কারণে দেশ ছাড়ার জন্য উদ্গ্রীব। ডিভি লটারীতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়ে বাংলাদেশ থেকে। নৌকা দিয়ে অবৈধ পথে স্পেইন যাওয়ার পথে অথৈ সাগরে মরে পড়ে থাকে আমাদের লাশ। মধ্যপ্রাচ্যে, মালেয়শিয়াতে আমরা লক্ষে লক্ষে পাড়ি জমাই গায়ের শ্রম বিক্রি করতে। সেই শ্রমের টাকায় বেঁচে থাকে আমাদের দেশ। আজকে এই মধ্যপ্রাচ্য আর মালেয়শিয়ার রক্ত ঝরা টাকা বন্ধ হয়ে গেলে দুর্ভিক্ষে পড়বে বাংলাদেশ।
জাপানও যুদ্ধ করেছিলো। বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু সেই যুদ্ধের ধ্বংস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ওরা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। আমেরিকা সেদিনের একটা দেশ। মাত্র কয়েকশ বছরে আজ ওরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আর ধনী দেশ। ইউরোপ পনের'শ ষোড়শ শতকের শিল্প বিপ্লব এর পর থেকেই সভ্যতাকে নিয়ে গিয়েছে এর আধুনিকতম পর্যায়ে।
আর আমরা সেই শত শত বছর থেকে পিছিয়ে আছি তো আছিই। আমাদের কিসের অভাব? আমাদের প্রাণ এর অভাব। শীত আমাদের কাবু করে ফেলে। আমরা শীত থেকে বাঁচার জন্য ঘরে ঘরে হিটার লাগাতে পারিনা। গরমে আমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায়, কিন্তু আমাদের ঘরে ঘরে শীতাতপ যন্ত্র কেনার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা আমরা তৈরি করতে পারিনি। আমাদের আশি ভাগ মানুষ কখনো বিদ্যুৎ পায়নি। বাকি বিশ ভাগ দিনের মাত্র কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ পায়। কে যেনো একজন বলেছিলেন, "গণতন্ত্রের চেয়ে বিদ্যুৎ বেশি দরকার আমাদের"। আহা, কতো খাঁটি কথা। বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ বাঁচবে কেমন করে। এতো আর গুহাযুগ না যে আমরা গুহায় বাস করি। সবকিছু এখন বিদ্যুতে চলে।
কিন্তু এ বিদ্যুৎ আমাদের কে দিবে? যাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাই, তারা। কিন্তু তারা তো আমাদেরই অংশ। আমরা যেমন প্রানহীন, স্বপ্নহীন; তারাও তেমনি! হাসিনা, খালেদা, সৈয়দ আশরাফ, খন্দকার দেলোয়ার, তারেক, জয়, হাজী সেলিম, পিন্টু, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মওদুদ, সব মন্ত্রী আর এমপি - এরা সবাই তো সেই আমাদেরই লোক। এরা দুর্নীতি করে এটা বড় সমস্যা না, বড় সমস্যাটি হচ্ছে এদের প্রাণ এর অভাব। প্রাণ নেই বলে এরা এখন এক'শ টাকার একটা অর্থনীতি বানিয়ে সেখান থেকে নব্বই টাকা নিজেরা মেরে দেয়, বাকী দশ টাকা জনগণের জন্য রাখে। প্রাণ থাকলে এরা দেশের অর্থনীতির আকার বানাতো এক লক্ষ টাকার, আর সেখান থেকে নব্বই হাজার টাকা ওরা মেরে দিলেও আমরা এরপরও দশ হাজার টাকা পেতাম জনগনের জন্য! যেটা দশ টাকার থেকে অনেক অনেক ভালো!
আমাদের বিদ্যুৎ পেতে হলে বিদ্যুৎ চাইতে হবে, পার্ক পেতে হলে পার্ক চাইতে হবে; একইভাবে আমাদের লেক চাইতে হবে, গাড়ি চাইতে হবে, বাড়ি চাইতে হবে, ফ্ল্যাট চাইতে হবে, সুইজারল্যান্ড-হাওয়াই বেড়াতে যাতে চাইতে হবে, রকেট সায়েন্টিস্ট হতে চাইতে হবে, মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাতে চাইতে হবে, নোবেল পুরস্কার পেতে চাইতে হবে, ফিল্ডস মেডাল/টুরিং পুরস্কার পেতে চাইতে হবে। মোটকথা, পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে চাওয়া। এই পাওয়ার স্বপ্ন দিয়েই সব কিছু শুরু হয়। আমরা অবশ্য অনেক কিছুই চাই, কিন্তু আমরা চাওয়ার সাথে সাথে মনে মনে হাসি আমাদের চাওয়া দেখে। কারণ আমরা মনে মনে নিশ্চিত এই চাওয়া শুধু চাওয়াই, কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। আর এখানেই আমরা ভুলটা করি। আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে এটা ভেবে যে এই স্বপ্নের বেশিরভাগই পূরণ হবে। এবং সে অনুযায়ী প্রচুর প্রাণশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সে স্বপ্ন পূরণের জন্য।
আমাদের জীবন যখন প্রাণশক্তিতে ভরপুর হবে, আমরা যখন আমাদের জীবনকে আরো বেশি ভালোবাসবো, আমরা যখন আরো বেশি সাহসী আর অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে উঠবো তখন আমরা সবাই ধীরে ধীরে একটা সুখকর, আরামদায়ক, এবং উপভোগ্য জীবন পাবো। আর এভাবে আমরা একটা ধনী আর সমৃদ্ধশালী সমাজ এবং দেশ পাবো। তখন হরতাল-ভাংচুর করার জন্য আর টোকাই কিংবা রাজনৈতিক কর্মী পাওয়া যাবেনা, ছাত্ররাজনীতির নামে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর দুর্বৃত্ত তৈরি হবেনা, কোনো কাজ না থাকায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে বখাটে ছেলেরা মেয়েদের আর উত্যক্ত করবেনা, রাজনীতিবিদরা দলীয় গুন্ডা-মাস্তান দিয়ে প্রতিপক্ষকে আর ঠেঙ্গাতে পারবেনা। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদ হবে এই প্রাণশক্তিসম্পন্ন টগবগে তরুণ-তরুণীরা, যারা জীবনকে ভালোবাসে, মৃত্যকে নয়। তাই জীবনকে সুন্দর ও সুখী করার জন্য ওরা ছাত্রজীবনে নিজেদের প্রচন্ড প্রাণশক্তি নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে এবং ছাত্রজীবন শেষ করে স্ব স্ব ক্ষেত্রে নিজের মেধা ও মননের চমৎকার ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিবে সামনের দিকে।
জীবনের প্রতি পরম ভালোবাসাঃ
একটা উন্নত সমাজ পেতে হলে, দেশ পেতে হলে, আমাদের জীবনকে ভালোবাসতে হবে। জীবনকে উপভোগ করা শিখতে হবে। জীবনের অধিকারী মানুষগুলোকে ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। জীবনকে প্রচন্ড ভালোবাসে এবং উপভোগ করে এরকম প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটা জাতিই পারে একটা উন্নত দেশ উপহার দিতে। অন্যথায় পৃথিবীর প্রাণশক্তিতে টগবগ করা অংশ যখন পারমানবিক যুগ, রকেট যুগ পার করে ক্লোনিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদির যুগে চলে যাবে, আমরা তখনো আফ্রিকান দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এক কদম এগিয়ে আরেক কদম পিছিয়ে পড়তেই থাকবো।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আরজু বলেছেন:
হমমম..+
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে![]()
পুরোটাই পড়লাম ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
তবে প্রথম প্যারা অভিযোগ গুলোও মিথ্যা না ।
তারপরও আজকাল পজেটিভ কথা কেউ বলে না ।
সবাই ভাবে এসব তো বার বার বলা হয়ে গেছে।
কিন্তু মানুষ এটা ভুলে যায় -- প্রতিনিয়ত পুরোনোদের জীবনযাপন করছি আমরা।
তাই পুরোনো কথার জয় ।
প্রানশক্তির জয় ।
লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, প্রথম অংশে বর্ণিত কারণগুলোও একেবারে মিথ্যা নয়। এটা উল্লেখ করা উচিৎ ছিলো। আসলে এখনো গুছিয়ে লিখতে পারিনা তো![]()
আপনার কমেন্টটিও চমৎকারঃ
"তারপরও আজকাল পজেটিভ কথা কেউ বলে না ।
সবাই ভাবে এসব তো বার বার বলা হয়ে গেছে।
কিন্তু মানুষ এটা ভুলে যায় -- প্রতিনিয়ত পুরোনোদের জীবনযাপন করছি আমরা।
তাই পুরোনো কথার জয় ।
প্রানশক্তির জয় ।"
কমেন্টে প্লাস!
প্রজন্ম একুশ বলেছেন:
সরল ভাষায় (কিন্তু ধারালো যুক্তি দিয়ে) ভালো লিখেছেন। একটু বড় হয়ে গেসে বলে পুরোটা পরে পড়ব। বক্তব্য আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তব্ধর্মী। প্লাস। লেখাটি প্রিয়তে নিলাম।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
পুরা পড়তে পারলাম না। মাফ চাই, এত বড় কোনো কিছু জীবনেও পড়ি নাই!ভুল হইয়া গেছে এইখানে ঢুইকা। তয় প্লাস দিয়া গেলাম। আর ছুটো কইরা লিখলে আমাগো মতো অশিক্ষিত মানুষের লিগা একটু সুবিধা হয়!
লেখক বলেছেন: হে হে, বিনা পয়সায় দর্শন ছাড়ার সুযোগ পেয়ে একটু বড় করেই ছাড়লাম আরকি![]()
চাঙ্কু বলেছেন:
বিলাশ ভাই @ চমৎকার একটা পজেটিভ লেখা লেখছেন ।আমাদের প্রায় সবার মাঝেই কি রকম একটা নেগেটিভ ট্রেন্ড আছে আর সুখী হওয়া বা মজা করার ধারনাগুলা অনেক সীমিত । অধিকাংশ পোলাপাইনই দেশীয় ট্রেন্ডের বাইরে চিন্তা করতে বা ট্রেন্ডটা ভাংতে ইচ্ছুক না ।
র্যান্ডি পশের শেষ লেকচারে জীবন সম্পর্কে যেইকথাগুলা বলছে, সেইকথাগুলা যদি আমাদের পোলাপাইনগুলা চেতনায় লালন করত !!!
লেখক বলেছেন: র্যান্ডি পশ এর শেষ লেকচার এখনতো কিংবদন্তী হয়ে গেছে।
তাঁর মূল জীবনদর্শনই ছিলো অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে জীবনটাকে উপভোগ করা। আহা, আমরা যদি সেটা মেনে চলতাম...
রাগিব বলেছেন:
"ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য দরকার অদম্য প্রাণশক্তি, জীবনের প্রতি দরকার সীমাহীন ভালোবাসা।"বিলাশ, এই ব্যাপারে একটু দ্বিমত আছে। তুমি সম্ভবত দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের বিশ্লেষণ করেছো পোস্টটাতে। কিন্তু দেশের আম জনতার প্রাণশক্তির অভাব নাই।
খেয়াল করে দেখো, বাংলাদেশে অধিকাংশ এলাকা জংলা জলা ছিলো এক সময়ে। প্রচণ্ড প্রাণশক্তি না থাকলে সেই অবস্থায়, কিংবা বাৎসরিক দুর্যোগকে এড়িয়ে সবুজ ধানের ক্ষেত বানানো সম্ভব হতো না।
দেশের আম-জনতা তাই প্রচন্ড প্রাণশক্তি নিয়েই আছে। সমস্যাটা আমাদের মধ্যবিত্তদের। হতাশা, অসুখী অসুখী ভাব, এইগুলা আম-জনতার মধ্যে এতোটা নাই।
লেখক বলেছেন: রাগিব, আমি কিন্তু পোস্টে বলেছি, শুধু সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাই বেঁচে থাকা নয়; ভালোভাবে, সুখী হয়ে বেঁচে থাকা হওয়া উচিৎ আমাদের লক্ষ্য।
আমি তোমার সাথে একমত নই। দেশের আমজনতা প্রচন্ড প্রাণশক্তি নিয়ে বেঁচে নেই। আমাদের প্রাণশক্তির একটা বিরাট অংশ চলে যায় শুধু বেঁচে থাকার মূল রসদগুলো যোগাতে। এখানেই আমার আপত্তি। আমাদের দরকার আরো প্রাণশক্তি, যাতে বেঁচে থাকার পরও সত্যিকারের সুখী হওয়ার সংগ্রামটা করা যায়।
আর লেখাটা মোটামুটি দেশের নব্বই ভাগ মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
রাগিব বলেছেন:
কিন্তু তুমি উদাহরণ হিসাবে (সম্ভবত) দেখছো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। আজকের জীবনকে উপভোগকারী মার্কিনীদের দিয়ে কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধির শিখরে পৌছায়নি। বরং প্রচন্ড কঠোর পরিশ্রমী এবং বেঁচে থাকার মূল রসদ যোগাতে জীবন পার করা কয়েক শতকের পরিশ্রমে এরা এখানে এসেছে। ষাটের দশকের আগে পর্যন্ত মার্কিনীরাও "জীবন উপভোগ" করাকে এভাবে দেখেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি এসেছে প্রথমত তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, এবং দ্বিতীয়ত, ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পুরা দুনিয়ার অন্য সব যুদ্ধরত দেশের সাথে ব্যবসা করে। সে যাই হোক, বর্তমান মার্কিনীদের বাপ দাদারা জীবন উপভোগ করার বদলে প্রাণপাত খাটুনি খেটেছে বলেই এখনকার প্রজন্ম এরকম উপভোগে যেতে পেরেছে।একই কথা জাপানীদের ক্ষেত্রেও হাড়ে হাড়ে প্রযোজ্য। চীনাদের পরের প্রজন্মের ক্ষেত্রেও এটা খাটবে।
লেখক বলেছেন: সেটাই বলছি আমি। শুধু টিকে থাকার সংগ্রাম করার পরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেছে বলেই আমেরিকা আজ এমন পর্যায়ে এসেছে। একই কথা অন্য যে কোনো উন্নত দেশের জন্য মোটামুটি প্রযোজ্য। ইওরোপিয়ানরা পনের'শ/শোড়ষ শতকেই সম্পদ সংগ্রহের জন্য সারা পৃথিবী জয়ের জন্য বেরিয়ে গিয়েছিলো (আমেরিকাও এভাবেই জন্ম নেয়)। আমরা তখন কোথায় ছিলাম? ওরা তখন উত্তর মেরু, দক্ষিন মেরু জয় করেছে, নানা দ্বীপ আবিষ্কার করেছে, অজানা ভূমি আবিষ্কার করেছে। আমাদের রক্তে অ্যাডভেঞ্চারিজম কম বলেই আমরা তখন থেকেই পিছিয়ে আছি।
আমাদের সভ্যতা কয়েক হাজার বছরের। কিন্তু এই কয়েক হাজার বছরের আমাদের দেশের, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের, উন্নতি প্রায় কচ্ছপের গতিতে হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা সত্যি এর মধ্যে বৃটিশরা, পাকিস্তানীরা আমাদের শাসন করেছে, কিন্তু কেউ শ'দুএক বছর শাসন করার কারণেই কয়েক হাজার বছর ধরে চলে আসা একটা জনগোষ্ঠী এতোটা পিছিয়ে থাকবে সেটা ঠিক মনে হচ্ছেনা।
আসলে আমি আরো দুএকটি জিনিস শুধু বিতর্ক এড়াতে এড়িয়ে গিয়েছি। আমাদের ধর্ম এবং সামাজিক কিছু রীতিনীতিও আমাদের উন্নতির আরেকটি অন্তরায়। সেটা নিয়ে না হয় আরেকদিন আলোচনা করা যাবে।
--------------------------------------------
বিলাস ভাই চমৎকার লেখনীর জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু কে বুঝাবে এই জাতিকে।
লেখক বলেছেন: আমরা নিজেরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে থাকলে এবং আমাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করলে একদিন সবাই চমৎকার প্রাণের অধিকারী হবে নিশ্চয়!
আলোর ছটা বলেছেন:
প্রাণের অভাবই মূল সমস্যা- এ কথার সাথে একমত না হলেও মানতেই হয় এটা একটা সমস্যা। তবে নুন আনতে যখন পান্তা ফুরিয়ে যায়, তখন প্রাণ দৌড়ে পালায়। একটা কাজ করতে গেলে যখন হাজারটা বাধা পেঁচিয়ে ধরে, প্রাণ তখন যাই যাই করে। যাই হোক, আশাবাদী লেখা হিসেবে চমৎকার!
লেখক বলেছেন: নুন আনতে পান্তা ফুরায় বলে সারা জীবন এভাবে পান্তা ফুরিয়ে যাবে সেটাতো হওয়া উচিৎ না। একসময় না একসময় তো এই চক্র ভাঙ্গতে হবে। আর এই চক্র ভাঙ্গার জন্যই দরকার প্রাণের।
আমরা যদি আশা করি অন্য কেউ এসে আমাদের পান্তা ফুরানো থেকে বাঁচিয়ে দিবে, কিংবা হাসিনা-খালেদা-নিজামী-এরশাদ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের প্রতি তাদের সত্যিকারের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে দেশের জন্য বড় কিছু করা শুরু করবে, সেটা হবে একটা ভুল আশা।
আমাদেরই বের হতে হবে এই চক্র থেকে, পৃথিবীর অনেক দেশ পেরেছে, আমাদেরও পারতে হবে!
মনুমনু বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম দাদা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
দীপান্বিতা বলেছেন:
লেখাটা কিছু বড় হল বলে হয়ত অনেকে পড়বে না.........কিন্তু পড়ে যদি আপনার "স্পিরিট" বা প্রাণশক্তি তাদের মধ্যে প্রবাহিত হত তাহলে আরও ভাল লাগত .....কি বলব!...ভীষণ ভাল লাগল.........সত্যি আমরা জীবন উপভোগ করতে শিখলাম না ....'জীবন উপভোগ' বল্লেই কেবল শারীরিক ব্যাপার ধরে নিয়ে টেরা চোখে তাকাই!
পাশ্চাত্যের সবই খারাপ নয়! রুচী এবং শিক্ষা দিয়েই ভাল মন্দ নিজেকে বুঝে নিতে হবে.........তবে আমিও গড়পরতা! আপনাদের মত মানুষই পারে এই প্রাণশক্তি সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে......নিদেন কিছু মানুষও যদি প্রভাবিত হয়, তাও দেশের জন্য অনেক......অনেক শুভেচ্ছা রইল.....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দীপান্বিতা।
আমি জানি লেখাটা অনেক বড় হয়েছে এবং অনেকেই সেজন্য এটা পড়বেনা। কিন্তু যারা বিষয়টা দেখে আকৃষ্ট হবে তারা ঠিকই পড়বে, এটাই আশা!
সবসময় কি হিট আর প্লাস এর দিকে তাকিয়ে থাকলে হয়?
আকাশ অম্বর বলেছেন:
চমৎকার পোষ্ট। প্রাণশক্তিতে ভরপুর। ইতিবাচক লেখা। যে দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে সেখানে হালকা আক্ষেপের সূর কি ভুল শুনেছি? তবে আমাদের এই প্রেক্ষাপটে এই সূরের প্রানোচ্ছল সঙ্গীত আরও শুনতে চাই।
তবে আমি কিন্তু প্রাণ দেখেছি টেকনাফের জেলেদের গহীন-কালো পেশীর ভেতর, রাঙামাটির চাকমাদের নৃত্যে, শ্রীমঙ্গলের চায়ের দোকানে উনুনের পাশে কর্মরত শিশুর নিষ্পেষিত দেহের জ্বলজ্বলে চোখে, ফসল কাটার পর বিরান ধানক্ষেতের বুকে আনন্দ-মেলা, যাত্রা-পালায় আনন্দে উচ্ছল কৃষকদের বিচরণে। ওদের চাহিদা কি নিতান্ত তুচ্ছ! কিন্তু কি অদ্ভুত প্রাণ-শক্তি!
ধন্যবাদ, আপনাকে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আকাশ অম্বর, এতো চমৎকার একটা মন্তব্যের জন্য!
আপনি ঠিকই বলেছেন, আমাদের দেশের আনাচে কানাচে এখনো মানুষের মধ্যে অনেক প্রাণ আছে, কিন্তু আমি আসলে আরো বেশি প্রাণ চাই! আমাদের এমন প্রাণ দরকার যেটা দিয়ে আমরা পৃথিবীর প্রথম দশটি অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তির একটা হতে পারি, বিজ্ঞানে-অর্থনীতিতে অনেক নোবেল প্রাইজ আনতে পারি, দূর মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে পারি, নিজেদের দূর্যোগ আবহাওয়ার পূর্ভাবাস নিজেরা পেতে পারি, ছুটি-ছাটায় বেড়াতে যাবার জন্য পাহাড় কিংবা বিচের কাছে চমৎকার সব জায়গায় যেতে পারি, ঢাকার বিদেশী দূতাবাসগুলোতে উপচে পড়া ভিড় হবেনা দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য, প্রচন্ড রৌদ্রে রিকশা-ঠেলা গাড়ির মতো অমানবিক বাহন চলাবেনা আমাদের মানুষেরা...
সেই প্রাণ চাই আমাদের!
আকাশ অম্বর বলেছেন:
চমৎকার! তবে চলুন সেই প্রাণের উৎস সন্ধান করি।
আনোয়ারুল আলম বলেছেন:
মোটিভেশন বা ইচ্ছাশক্তি নিয়ে Tony Robbins এর একটা ভিডিও দেখেছিলাম। ভালই লেগেছিল ।দেখতে পারেন ।
আসল ধারণা কিন্তু ২৫০০ বছর পুরনো । গৌতম বুদ্ধের কথা গুলো আমরা বোঝার চেষ্টা করি না বেশি ।
অবাক লাগে মাঝে মাঝে , আমাদের বাড়ির পাশে তৈরি হওয়া দর্শনের কথা বিদেশীদের মুখ থেকে শুনতে হয় । আমরা এগুলো নিয়ে আলোচনাও করি না । খুবই লজ্জার ব্যাপার।
গৌতম বুদ্ধের কথা বললেই মানুষ ভাবে বৌদ্ধ ধর্মের কথা বলছি । সক্রেটিস, শোপেনহাওয়ার এর দর্শন যেভাবে পড়া যায় সেভাবে পড়ার চেষ্টা কেউ করে না ।
লেখক বলেছেন: দারুণ লাগলো ভিডিওটা। টনি রবিনস তো দেখি বস লোক।
আমাদের অনেক দর্শনই হাজার বছরের পুরনো, কিন্তু আমরা কখনোই সেগুলো সিরিয়াসলি পালন করেছি বলে মন হয়না।
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন:
ভালো লেগেছে লেখাটা বিলাশ ভাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সিজার।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
ভাল লাগলো লেখাটা!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
আনোয়ারুল আলম বলেছেন:
আরেকটা কথা মনে পরলো লেখা টা পড়ে ....হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুশ, দম ফুরালেই ফুস ।
লেখক বলেছেন: ![]()
কিন্তু এই "দম ফুরালেই ফুস" এর কারণেই আমাদের আরো বেশি প্রাণশক্তি দরকার। একবার মরে গেলে আর চান্স নাই![]()
মৃত্যু নিয়ে স্টিভ জবস দারুণ কিছু কথা বলেছেনঃ
Click This Link
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন। ভালো লাগল। পসিটিভ থাকাই ভালো।
পাপী বলেছেন:
++
হাসিনুল ইসলাম বলেছেন:
শতভাগ একমত না হলেও খুবই ভাল লাগলো। জাপানের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে যদি কিছু লিখতেন। আমার আগ্রহের বিষয়। ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














