লাইফ ইজ এ গেইম অফ ইঞ্চেস
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০১
১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া "এনি গিভেন সানডে " তে আল পাচিনো একটা ফুটবল দলের কোচ এর চরিত্রে অভিনয় করেন। ফাইনাল খেলার আগে কোচ হিসেবে তিনি একটি অসাধারণ বক্তৃতা দেন। সেই বক্তৃতাটি যেকোনো প্রতিযোগিতার জন্যে প্রচন্ড অনুপ্রেরণামূলক। হয়তো আমাদের ক্রিকেট দলকে এই বক্তৃতার ভিডিওটি দেখানো উচিৎ!
মূল ইংরেজীটি পাওয়া যাবে এখানে ।
ইউটিউব ভিডিওঃ http://www.youtube.com/watch?v=9rFx6OFooCs
ইউটিউবে ভিডিওটি দেখলে বুঝা যাবে তাঁর এক বক্তৃতায় খেলোয়াড়রা কিভাবে জেতার জন্যে পাগল হয়ে উঠে!
=============================
আমি আসলেই জানিনা কী বলবো।
আর মাত্র তিন মিনিট পরেই আমাদের খেলোয়াড় জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ শুরু হচ্ছে।
হয় আমরা সবাই টিম হিসেবে জয়ী হবো, অথবা প্রতিপক্ষ আমাদের ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে -
ইঞ্চি ইঞ্চি করে, কৌশলের মাধ্যমে ওরা আমাদের ধূলোয় মিশিয়ে দিবে।
বিশ্বাস করো, আমরা এই মুহুর্তে একটা নরকে আছি।
এখন আমরা প্রতিপক্ষের মার খেয়ে খেয়ে এই নরকে আটকা পড়ে থাকতে পারি, অথবা -
আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারি।
একটু একটু করে, ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগিয়ে যেয়ে।
এখন কথা হচ্ছে, আমি তোমাদের জন্যে এই যুদ্ধটা করে দিতে পারবো না।
আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে।
চারদিকে তাকিয়ে এতো তরুণ বয়সীদের দেখে আমি বুঝতে পারি আমি জীবনে কতো ভুল করেছি -
আমি আমার সব টাকাকড়ি নষ্ট করেছি এবং আপনজনদের দূরে ঠেলে দিয়েছি।
এবং ইদানিং আয়নার সামনে দাঁড়ালে যে মানুষটিকে আমি দেখতে পাই তাকে কেনো যেনো সহ্য করতে পারিনা।
আসলে যখন তুমি বুড়ো হতে শুরু করো তখন তোমার জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়ে যায়।
কিন্তু বুড়ো হবার আগে এই জিনিসটা তেমন চোখে পড়েনা।
একসময় তুমি বুঝতে পারো জীবনটা হচ্ছে একটা ইঞ্চির খেলা।
এবং ফুটবলও তাই।
কারণ, ফুটবল কিংবা জীবন, দুটোতেই ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
ফুটবলে তুমি বলের কাছে আধা কদম আগে বা পরে আসলে বলটা মিস করে ফেলো।
আধা সেকেন্ড আগে বা পরে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যায় তোমার বল।
এই যে একটুর জন্যে, এক বা আধা ইঞ্চির জন্যে হেরে যাওয়া, এটা জীবনের সবক্ষেত্রে সত্যি।
পুরো খেলাজুড়ে, প্রতিটি সেকেন্ড জুড়ে এই ইঞ্চির ব্যাপারে তোমাকে সচেতন থাকতে হবে।
আজকের এই খেলায়, আমরা আমাদের টিম নিয়ে এই এক ইঞ্চির জন্যে যুদ্ধ করবো।
এই ইঞ্চির জন্যে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলবো।
আমরা আমাদের হাতের থাবা এবং বজ্রমুষ্টি শক্ত করে সেই ইঞ্চি ছিনিয়ে নেবো।
কারণ আমরা জানি - এই ইঞ্চিগুলোর সমষ্টিই নির্ধারণ করবে জয় পরাজয়।
এই ইঞ্চিগুলোই নির্ধারণ করবে কে বাঁচবে কে মরবে।
শুনো -
যেকোনো যুদ্ধে এই ইঞ্চি সেই পাবে যে এটা পাওয়ার জন্যে জীবন দিতে প্রস্তুত।
এবং আমি জানি, আমি বেঁচে থাকতে চাই এই জন্যে যে আমি সেই ইঞ্চির জন্যে যুদ্ধ করতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত।
কারণ এটাকেই বলে সত্যিকারের বেঁচে থাকা।
কথা হচ্ছে, আমি তোমাদের জোর করে এই যুদ্ধ করাতে পারবো না।
তোমাকে তোমার চারদিকে তাকাতে হবে।
তোমার টিমমেটদের চোখের মধ্যে যুদ্ধে জয়ী হবার আগুন দেখতে হবে।
আর এটা তখুনি দেখবা যখন তোমার টিমমেটরা তোমার মধ্যে সেই আগুন দেখতে পায়।
এবং এটাকেই বলে সত্যিকারের টিম।
অতএব, আমরা হয় একটা টিম হিসেবে আজকের খেলায় জয়ী হবো, অথবা -
আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে পরাজয়ের লজ্জায় ডুবে মরবো।
আর এটাই হচ্ছে ফুটবল।
এখন বলো - তোমরা কী জয়ের জন্যে জীবন দিতে প্রস্তুত?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ গরীবের কথা!
রাগিব বলেছেন:
এটা তো দেখি থ্রি ইডিয়টের পুরো উলটো মতবাদ। জীবনকে এরকম যুদ্ধ মনে না করে উপভোগ করাই বরং ভালো।
লেখক বলেছেন: ঠিক। জীবনকে উপভোগ করাই দরকার।
কিন্তু, প্রতিযোগিতার সময় এড্রেনালিন গরম করার জন্যে এ ধরণের ফাইটিং স্পিরিট বেশ কাজে দেয়। প্রতিযোগীরা সবাই যখন কমবেশি সমান প্রস্তুত, তখন কে কতোটা মোটিভেটেড, স্পিরিটেড - সেটাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ করে দেয়!
লেখক বলেছেন: আমিও দেখি নাই মুভিটা
দীপান্বিতা বলেছেন:
'যেকোনো যুদ্ধে এই ইঞ্চি সেই পাবে যে এটা পাওয়ার জন্যে জীবন দিতে প্রস্তুত।'দোলের শুভেচ্ছা
লেখক বলেছেন: আপনাকেও দোলের শুভেচ্ছা! পড়ার জন্যে ধন্যবাদ ![]()
ক্লান্ত দুচোখ বলেছেন:
ভাই, একটা হিরো বা টিম লিডারের গুনাবলী বা প্রধান দয়িত্ব কি জানেন? শক্তি, সাহস বেশি থাকে? নাহ...সেটা হচ্ছে ,কিছুক্ষনের জন্য হলেও দলের বাকি সবাই কে হিরো বানায়ে দেওয়া।
[Lord of the rings: The return of the king]
Theoden:
Forth! Down fear of darkness!
Arise! Arise, Riders of Théoden!
Spears shall be shaken, shields shall be splintered!
A sword day... a red day... and the sun rises!
Ride now... Ride now... Ride!
Ride for ruin and the world's ending!
Death!
লেখক বলেছেন: ওয়াও, Lord of the Rings এর এই ডায়ালগগুলিও দারুণ। শেয়ার করার জন্যে ধন্যবাদ!
তবে পুরা জীবনটারে যুদ্ধ ক্ষেত্র হিসাবে বিবেচনা করে জীবনের বেঁচে থাকার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়াও ঠিক হবেনা............মাঝে মাঝে চলছে চলুকনাও মনড নয়
বিলাস ভাই আবার ও চমৎকার অনুবাদের জন্য ধন্যবাদ ।তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমকে অতি অবশ্যই দেখানো দরকার....।যদিও কাজ হওয়া নিয়ে আমি ডাউটে আছি
লেখক বলেছেন: এটা শুধুমাত্র প্রতিযোগিতায় জেতার জন্যই কাজ করে। জীবনকে এতো সিরিয়াসলি না নেয়াই ভালো!
বাংলাদেশের সব খেলোয়াড়কেই এটা দেখানো উচিৎ ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আমিনুল পড়ার জন্যে!
আমি জিমেইল ব্যবহার করিনা তেমন ![]()
মুভি পাগল বলেছেন:
জটিল বিশাশ ভাই, আপনার লেখাগুলো পড়লে বিজিত হবার চিন্তা মাথা থেকে একদম দূর হয়ে যায়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















in any fight
it is the guy who is willing to die
who is going to win that inch
................
সেলুট টু ইউ...