জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আগস্ট ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষককে পদাবনতি দেওয়ার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেছেন, সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সঠিক।
এ ধরনের অভিযোগে পদাবনতি দেওয়ার সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তকে লঘুশাস্তি আখ্যায়িত করে তারা নিপীড়ক এই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছেন।
একই বিভাগের এক নারী শিক্ষককে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি আব্দুল্লাহ হেল কাফীকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে সভায় তাকে পদাবনতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
একইসঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দায়িত্বশীল পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষিককে তার আচরণ সংযত করার জন্য মৈখিক পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাত ১০টায় সভা শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষির্থীরা।
'নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' এর ব্যানারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং সাংস্কৃতিক জোট এর নেতা-কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, "অভিযোগকারীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে নিপীড়নকে আরো উৎসাহিত করতে পারে। তাই আমরা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।"
পদাবনতিকে লঘু শাস্তি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশেষে মানতে বাধ্য হয়েছে যে কাফী নির্দোষ ছিলেন না।
এর আগে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পদাবনতি দেওয়া হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক সানোয়ার হোসেন সানিকে।
ওই সময় নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে। তারা এই শিক্ষককেও চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়েছে আসছে।
গত ১৫ এপ্রিল আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি ও প্রভোস্ট কমিটির প্রধান কাফীর বিরুদ্ধে উপাচার্যের কাছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক নারী শিক্ষক।
ঘটনার তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে গঠিত তদন্ত সেলের প্রধান অধ্যাপক খুরশিদা বেগম।
এরপর গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ বিষয়টি হাইকোর্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং দাবির মুখে বিষয়টি হাইকোর্টে না পাঠিয়ে ১৯ দিন পর সিন্ডিকেট আবার সভা করে আল বেরুনী হলের প্রভোস্ট কাফীকে পদাবনতি দেওয়া হয়।
১৭ জুলাই সিন্ডিকেট সভায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সানোয়ার হোসেন সানিকে সহকারী অধ্যাপকে পদাবনতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তার বিরুদ্ধের এই বিভাগের চার ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন।
এছাড়া গত মঙ্গলবার হামলায় এক সংস্কৃতিকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩৫ তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী দেলোয়ার হোসেন সোহেলকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে রেজিস্ট্রার জানান।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


