somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি রাজের কবিরাজি : ইলিউশন-হ্যালুছিনেশন-ডিল্যুশন সম্পর্কে জানুন।

২৬ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা অহরহই বিভিন্ন বইপত্র,খবরের কাগজ কিংবা ম্যাগাজিনে ইলিউশন,হ্যালুছিনেশন এবং ডিল্যুশন- সাইকিয়াট্রির এই তিনটি টার্ম পেয়ে থাকি।এছাড়া যারা ইংলিশ মুভি দেখতে ভালোবাসেন,তারাও নিশ্চয় স্বীকার করবেন মুভিতে এই কথা তিনটি মুড়িমুড়কির মত ইউজ হয়।প্রকৃতার্থে শব্দ তিনটি দিয়ে কি বুঝায় কিংবা তাদের মধ্যে পার্থক্যটা আসলে কি এটা ব্যাখ্যা করাই এই পোস্টের উদ্দেশ্য।

ইলিউশন-হ্যালুছিনেশন-ডিল্যুশন বুঝার আগে উপলব্ধি বা perception জিনিসটা কি সেটা বুঝতে হবে।ধরুন,আপনি একটি বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে আছেন।আপনার কানে আসছে অসংখ্য বাসের প্যা পোঁ,মানুষের হট্টগোল।খেয়াল করে ভাবুন,শব্দ যতই হোক,এইসময়ে যদি আপনাকে কেউ আপনার নাম ধরে ডাকে,আপনি কিন্তু সবকিছু বাদ দিয়ে ওই ডাকের প্রতিই রেসপন্স করবেন।

অর্থাৎ কি দাড়ালো?পারিপার্শ্বিকতা থেকে আমাদের যতই ইন্দ্রিয় অনুভূতি(sensory stimulation) আসুক না কেন,আমরা মনোযোগী হই নির্দিষ্ট কিছু অনুভূতির দিকে।বাকিগুলোকে মস্তিষ্ক সচেতনভাবে ইগনোর করে।এই ব্যাপারটাকেই বলা হয় উপলব্ধি(perception)।

১. ইলিউশন(illusion)

ইলিউশন এবং হ্যালুছিনেশন মূলত উপলব্ধিজনিত(perception) সমস্যা।ভ্রান্ত উপলব্ধি(misperception) কিংবা অনুভূতির গঠনগত বিকৃতির(physical distorsion of stimuli) কারনে আমাদের মস্তিষ্ক ইন্দ্রিয় অনুভূতির যে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে,সেটাই ইলিউশন।একটা উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা ক্লিয়ার হবে।ধরুন আপনি জ্যোৎস্না রাতে একা একা কোন নির্জন এলাকা দিয়ে যাচ্ছেন।হালকা চাদের আলোয় রাস্তার পাশে থাকা একটা ঝোপ দেখে আপনার মনে হল,সাদা কাপড় পরা একটা বুড়ি বসে আছে।বাতাসে ঝোপের পাতা একটু নড়ে উঠল,আপনার মনে হল বুড়ি আপনাকে হাত নেড়ে ডাকছে।আপনি ভয়ে কুঁকড়ে গেলেন।

ভাবুন,আপনি কিছু একটা দেখছেন,সেটা হয় ঝোপ নয় বুড়ি,তার মানে আপনার দর্শন অনুভূতির কোন সমস্যা নেই।এবং যা দেখছেন সেখানেও কিছু আছে,সেটাহয় গাছ নয় বুড়ি,অর্থাৎ স্টিমুলাসেরও কোন সমস্যা নেই।কিন্তু আলোর স্বল্পতার কারণে ব্যাপারটা আপনার কাছে ভ্রান্ত উপলব্ধি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।এটাই ইলিউশন।

ইলিউশন সাধারণত কোন মানসিক রোগের সাথে সম্পর্কিত নয়।পারিপার্শ্বিকতার বিভিন্ন ফ্যাক্টরের কারণে ইলিউশনের সৃষ্টি হয়।


২। হ্যালুছিনেশন(hallucination)

হ্যালুছিনেশনকে ভ্রান্ত উপলব্ধি বলা যায় না,বরং বলা যায় মিথ্যা উপলব্ধি।অর্থাৎ উপরের উদাহরণে যদি আপনি ঝোপের অনুপস্থিতিতে বুড়ি দেখতেন,সেটা হত হ্যালুছিনেশন।এটাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে,"উদ্দিপকের(stimulus) অনুপস্থিতিতে ভ্রান্ত উপলব্ধি।"

হ্যালুছিনেশন বিভিন্ন রকম হতে পারে।যেমন- শ্রবণ সম্পর্কিত(auditory),দর্শন সম্পর্কিত(visual),ঘ্রাণ সম্পর্কিত(olfactory),শারীরিক(somatic)।

অডিটরি হ্যালুছিনেশন - এক্ষেত্রে রোগীরা বিভিন্ন ধরণের আওয়াজ,গান অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কথাবার্তা শুনতে পায়,অথচ তার আশেপাশের কেউ এগুলো শুনতে পায় না।অডিটরি হ্যালুছিনেশনকে খাটি বাংলায় গায়েবী আওয়াজ বলা যেতে পারে। :-B

এক্ষেত্রে রোগী বিভিন্ন ধরনের কমপ্লেইন্ট নিয়ে আসে।যেমন-সে শুনতে পাচ্ছে,দু।জন তার দোষত্রুটি নিয়ে আলাপ করছে।এটাকে বলে থার্ড পারসন হ্যালুছিনেশন।

আবার কেউ কেউ বলে,কেউ একজন তাকে সবসময় গালমন্দ করে যাচ্ছে।এটা হল কমেন্টারি হ্যালুছিনেশন।

ভিজুয়াল হ্যালুছিনেশন - রোগী সাধারণত কোন অবজেক্ট বা কোন মানুষকে দেখতে পায় যেটার আদৌ কোন অস্তিত্ব নেই কিংবা যা ওই মুহূর্তে সেখানে ছিল না।


হ্যালুছিনেশন মোটামুটি সবসময়ই মানসিক রোগের সাথে জড়িত।সিজোফ্রেনিয়া(schizophrenia) রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল হ্যালুছিনেশন।

আরো ভাল ভাবে জানতে চাইলে
Psychiatry for Medical Students

পরবর্তী পর্বে থাকছে সাইকিয়াট্রির আরেকটি ইন্টারেস্টিং টপিক- ডিল্যুশন(delusion)।B-)
১৭টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×