...রাঙামাটি সদরের জেল রোডের 'কল্পতরু' নামের বাসায় বিজয়কেতন চাকমা বলছিলেন এইসব কথা। বললেন, "বাবা মোহনবাঁশি চাকমার কাছে আমি কাজ শিখি সেই ১৯৬২ সালে, ছাত্র অবস্থায়। তারপর কখনো বন্ধ করিনি কাজ। আর এখন--একদম মেলে না হাতির দাঁত। তারপর ো খবর দেোয়া আছে বন বিভাগকে। কোনো হাতি মারা গেলে তাদের কাছ থেকে নিলামে দাঁত কিনে নেই। অনেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাোয়া হাতির দাঁত ো মাঝে-মধ্যে বিক্রি করেন।"
তিনি বলেন, "হাতির আবাস ো খাদ্যের এখন বড় সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তার োপর আছে, পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন। সব মিলিয়ে বুদ্ধিমান এই প্রাণীটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় পাড়ি জমাচ্ছে ভারত ো মায়নমারের গহিন অরণ্যে।"
হাতির দাঁত দিয়ে মেয়েদের প্রায় সব ধরনের সৌখিন অলঙ্কার বানান বিজয়কেতন। তার সংগ্রহে আছে কয়েক ধরনের চুলের কাঁটা, চিরুনী, আঙটি, গলার হার, কানের দুল। ছেলেদের জন্য আছে টাই পিন, কোট পিন, কাফলিঙ্ক, টোবাকো পাইপ, সিগারেট হোল্ডার--ইত্যাদি।
এছাড়া আছে ছোটবড় নানান ধরনের শোপিস। পাোয়া যাবে হাত পাখা, বুদ্ধ মূর্তি, হাতির প্রতিকৃতি, পেপার নাইফ, ছোটো-বড় স্টিক, ফুল-লতা-পাতার নকশা।...
কেমন দাম? এই প্রশ্নে বিজয় বাবু হেসে বলেন, "এই সবের তো কোনো নির্দিষ্ট দাম নেই; পুরোটাই সখের বিষয়। কোন জিনিষের কতো দাম হবে, তা নির্ভর করবে কাজটির আকৃতি ো নকশার োপর। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকার জিনিষো পাবেন আমার কাছে।"
এক লাখ টাকা! "ঠিক তাই, এর চেয়েো বেশী দাম হতে পারে। একটা আস্ত দাঁত খোদাই করে যদি সুক্ষ নকশা করি, তবে দাম হতে পারে এক লাখ টাকারো বেশী। এ কাজে লাগবে এক মাসেরো বেশী সময়।"
আপনিই তো এই শিল্পের শেষ কারিগর। এরপর? হতাশা ছড়ায় বিজয়কেতনের কন্ঠে। "এর পর কী হবে জানি না। হাতির দাঁত না পেলে এই শিল্প টিকবে না।" বলেন ৭০ ছুঁই ছুঁই এই শিল্পী। #
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





