আমার প্রিয় পোস্ট

আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে?

১১ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরেও বাংলাদেশে ভাষাগত সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমহ তথা আদিবাসীদের নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। ফলে দেশের ৪৫টি আদিবাসী গোষ্ঠির ২০ লাখেরও বেশী মানুষ বংশপরম্পরায় ভুলতে বসেছেন নিজেস্ব ভাষাগত ঐতিহ্য, লোকগাঁথা, প্রবাদ-প্রবচন। এমন কি শুধুমাত্র আদিবাসী শিশুদের নিজ মাতৃভাষায় অক্ষরজ্ঞান না থাকায় তাদের সংস্কৃতিও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ দেশে সাধারণভাবে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা হত-দরিদ্র প্রধান আদিবাসী গোষ্ঠিই (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, মনিপুরী, গারো, সাঁওতাল ও খাসিয়া) প্রত্যেকেই নিজেস্ব ভাষা ও নিজ ভাষার বর্ণলিপিতে অনেক সমৃদ্ধ । আবার কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠির নিজেস্ব বর্ণমালা না থাকলেও তাদের রয়েছে রোমান বর্ণমালা। কিন্তু চর্চার অভাবে এ সব বর্ণমালার সবই এখন বিলুপ্ত প্রায়। ফলে নতুন প্রজন্মের আদিবাসীরা নিজ ভাষায় কথা বলতে পারলেও নিজেস্ব ভাষায় তারা একেবারে নিরক্ষর।

এ অবস্থায় আদিবাসীরা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে তুলেছেন বর্ণমালা শিক্ষার স্কুল। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ সব স্কুলে আদিবাসী ভাষার সঙ্গে পরিচিতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেস্ব সংস্কৃতি ও জীবনাচারও শিক্ষা দেয়া হয়।

উত্তরবঙ্গে সাঁওতালরা কয়েক বছর আগে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার উদ্যোগে নিজেরাই খুলেছেন পাঁচটি ভাষা শিক্ষার স্কুল। কোনোরকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই এসব স্কুলে তারা তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সাঁওতাল ভাষায় পাঠদান করেন।

আদিবাসী নেতারা জানান, ১০ ভাষাভাষি ১৩টি পাহাড়ি জাতিসত্তার নিস্বর্গভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিসহ কয়েকটি অঞ্চলেও রয়েছে এরকম বেসরকারি উদ্যোগ। সেখানে অবশ্য বৌদ্ধ মন্দিরে (কিয়াং) বৌদ্ধ পুরহিতরাই (ভান্তে) নিজ উদ্যোগে প্রধাণত চাকমা ও মারমা বর্ণমালা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তবে বর্ণমালার বইয়ের দুস্প্রাপ্যতা¯এ ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা।

এই বাধা কাটিয়ে উঠতে কিছুদিন আগে 'শিপচরণ সাহিত্য কেন্দ্র' প্রকাশ করেছে চাকমা বর্ণমালার বই 'ফুজি পর' বা ভোরের আলো। এই বইয়ে পাহাড়ের প্রকৃতি ও পাহাড়িদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত রঙিন হাতে আঁকা ছবি এবং বর্ণমালা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দিঘীনালার আমতলীর শান্তিপ্রিয় দেওয়ানসহ আরো কয়েকজনের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে চাকমা ভাষার বর্ণমালার পরিচিতিমূলক পোস্টারও প্রকাশিত হয়েছে।

পাহাড়িদের চৈত্র সংক্রান্তি ো বর্ষবরণ উৎসব বৈসুক, সাংগ্রাই, বিঝু ো বিষুর আগে প্রতিবছর জুম এস্থেটিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন অনেক বছর ধরে সংকলন, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি প্রকাশ করে আসছে। এসব প্রকাশনায় আদিবাসী বর্ণমালা ঠাঁই না পেলেও বাংলা বর্ণমালাতেই চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার সাহিত্য স্থান করে নেয়।

আবার ’৮০র দশকে সরকারি উদ্যোগে কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালি ও বরগুনার রাখাইন অধ্যুষিত অঞ্চলে ১৭ টি রাখাইন ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হলেও এখন মাত্র ছয়-সাতটি বিদ্যালয় কোনো রকমে টিকে আছে।

ঐসব বিদ্যালয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত রাখাইন ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান ও শিক্ষকের বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও অল্প কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি উদাসীনতায় উদ্যোগটিই প্রায় ভেস্তে যায়।...#

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আদিবাসী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ৩৯৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১১ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৬
comment by: দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন: বিপ্লব, অধিকার রক্ষার এই পোস্টটি হোক তাসনিমের মুক্তির জন্য।
আসুন অন্তত: ২৪ ঘন্টা উত্সর্গ করি তাসনিম খলিলের জন্য। প্রতিবাদ করি। স্থগিত রাখি অন্য লেখা। অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হই।
২. ১১ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৭
comment by: মম বলেছেন: নিচচিনতো থাকেন বিপলব, পোরথম আলো সেই
দায়িত্ব নিছে। এইচ এস বি সি তাগো পয়সা দিবে
৩. ১১ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৮
comment by: বিপ্লব রহমান বলেছেন: দীক্ষক@তাসনিমের মুক্তির পক্ষে আমিো সোচ্চার। তবে ব্লগ বিরতির আহ্বানের সঙ্গে একমত নই।...ধন্যবাদ।

মম@প্রথম আলোর তহবিল আদিবাসী শিক্ষায় ভূমিকা রাখবে, সন্দেহ নেই; কিন্তু তা কতটুকু? সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
৪. ১১ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৩
comment by: দীক্ষক দ্রাবিড় বলেছেন: বিপ্লব, ব্লগ বিরতির কথা বলা হয়নি। অধিকার, মুক্তচিন্তা ও তাসনিম খলিলের পক্ষে লেখা পোস্ট করার জন্য বলা হয়েছে। এটি একটা পরামর্শ। অনুসরণ করা না করা আপনার বিবেচনাবোধের ওপর।
৫. ১১ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৩
comment by: ধূসর ছায়া বলেছেন: শুধু সত্য প্রকাশের জন্য, শুধু সাংবাদিক হওয়ার জন্য কেন তাসনিম খলিলকে আটক করবে সেনাবাহিনী? একজন তাসনিম খলিলের চেয়ে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা দেশের জন্য বেশি কি করছে? আমরা কি মধ্যযুগে বাস করি যে আমাদের মত প্রকাশের অধিকার থাকবে না। তথ্য জানার অধিকার থাকবে না।

এই গ্রেফতার এরকম আরো প্রশ্ন, আরো বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সেই বিষয়গুলো নিয়ে লিখুন। সহব্লগার তাসনিম খলিলের প্রতিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জানিয়ে দিন যে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে।

অন্য পোস্ট আমরা দিতে পারবো অনেকদিন। আজকের পোস্টের বিষয় হোক:
১. সেনাবাহিনী
২. সংবিধান ও জনগণের অধিকার
৩. তাসনিম খলিল ও তার রিপোর্টিংয়ের বিষয়
৪. তথ্যের অধিকার ও এই শতাব্দী।

এসব বিষয়ে মিনি-প্রবন্ধ হতে পারে, হতে পারে ফিচার, কৌতুক, এমনকি উদ্দীপনামূলক গান হতে পারে, কার্টুন হতে পারে। তবে সবকিছুর উদ্দেশ্য হোক প্রতিবাদ।
সংগ্রামী অনুরোধ থাকলো সহব্লগারদের প্রতি।

আসুন প্রতিবাদ করে জানিয়ে দেই, আমরা আমাদের অধিকারের এক কণাও ছাড়তে নারাজ।
৬. ১২ ই মে, ২০০৭ রাত ২:৫৭
comment by: অমিত বলেছেন: প্রশংসনীয় লেখা। ভাষার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষেরা রক্ত দিয়েছে।আমরা যদি এর মর্ম না বুঝি তো কারা বুঝবে ??
৭. ১২ ই মে, ২০০৭ রাত ৩:৫৪
comment by: দন্ডায়মান বলেছেন: Man, you guys should grow up. English is the language we should speak.
৮. ১৩ ই মে, ২০০৭ রাত ১০:১১
comment by: বিপ্লব রহমান বলেছেন: অনেক দেরীতে হলেো বলছি, দ্রাবিড়@ঠিক আছে। অমিত@ সঙ্গে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
৯. ২২ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৮
comment by: অনিশ্চিত বলেছেন: ২০০৩ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় বই তৈরি করে পড়াচ্ছে। সম্প্রতি এই ব্যাচটি পঞ্চম শ্রেণী পাস করে বেরিয়েছে। এ ব্যাপারে কিছু কি জানেন?
১০. ২৯ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:১৩
comment by: বিপ্লব রহমান বলেছেন: ব্রাক কিছু চেষ্টা করছে, তবে সেটি খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে। এখনো তাদের কাজের মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত।।
ধন্যবাদ।

 

 


পাহাড়, ঘাস, ফুল, নদী খুব প্রিয়। পেশা সাংবাদিকতা। লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। টোটেম গৌতম বুদ্ধ। biplobr@gmail.com
*কপিরাইট ©: লেখক কর্তৃক...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩৫৬৭০