আমার প্রিয় পোস্ট

যাযাদি'র মিথ্যাচার

০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

দৈনিক যায় যায় দিন আজ রোববার প্রথম পৃষ্ঠায় বক্স করে দুই কলামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর শিরোনাম হচ্ছে ‘পার্বত্য অঞ্চল: বাঙালি আতœপরিচয় যেখানে সবচেয়ে বড় অভিশাপ’। এই প্রতিবেদনটি শুধু বাঙালি উগ্রজাতীয়তাবাদী অহং এ ঠাসাই নয়। এটি একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রতিবেদনও বটে। এতে সত্যের লেশ মাত্র নেইই; এমন কী এতে নেই মিথ্যের নান্দিক উপস্থাপনও।

আমি নিজে বাঙালি হয়েও যাযাদির এই জঘন্য মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছি।

এতে বলা হচ্ছে, ‍"পার্বত্য অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিত সাড়ে ছয় লাখ বাঙালি বাস করে। কিন্তু তাদের জন্য নেই নূন্যতম নাগরিক সুবিধা। নাগরিক সুবিধার একশভাগই ভোগ করছে উপজাতিরা। কেননা শান্তিচুক্তি অনুযায়ী, এ অঞ্চলের বাঙালিরা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক।...বাঙালি পরিচয়ই এখানকার সবচেয়ে বড় অভিশাপ। সবমিলিয়ে পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালিরা আপন ঘরে পরবাসীর মতো।"

প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট আহাজরি করা হয়েছে পাহাড়ে সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসিত (?) বাঙালি সেটেলারদের জন্য।

প্রথমত, পাহাড়ে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত পাহাড়ি -- বাঙালি সবাই। এটি দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় জনবিচ্ছিন্ন ও অতি পশ্চাতপদ একটি অঞ্চল।

দ্বিতীয়ত, শান্তিচুক্তিতে বাঙালিদের বঞ্চিত করে তৃতীয় শ্রেণীতে পরিনত করার কোনো উপাদানই নেই।

তৃতীয়ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই বাঙালির আপন ঘর ছিলো না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর প্রথম লেখা বইয়ে (অ্যা ফ্লাই অন অ্যা হুইল, ১৮৬৫) কর্নেল লুইন জানাচ্ছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড় ও ঘন অরণ্যে পরিবেষ্টিত অঞ্চল। সেখানে জনবসতিই প্রায় নেই। অল্প কিছু সংখ্যক উপজাতি প্রকৃতির সঙ্গে কঠিন যুদ্ধ করে গহিন অরন্যকে নিজেদের বাসযোগ্য করে তুলেছে -- ইত্যাদি ইত্যাদি।...

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিতেও বলা আছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম হচ্ছে উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল। এই আইনটি এখনো কার্যকর হলেও বাস্তব চিত্র অবশ্য ভিন্ন। আর শান্তিচুক্তিতেও পার্বত্যাঞ্চলকে উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল স্বীকার করে নেওয়া হলেও শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোই তো এখনো বাস্তবাযিত হয়নি! এটি তো অনেক আগেই পরিনত হয়েছে কাগুজে চুক্তিতে।।
..............................
পুনশ্চ: এক. এই ছোট্ট লেখায় পাহাড়ের দীর্ঘ আর্থ -- রাজনৈতিক ইতিহাস বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ওই প্রতিবেদনটির প্রতিবাদ করার জন্যই এই লেখাটির অবতারণা।

দুই. যাযাদির সেই প্রতিবেদনটি পড়–ন এখানে

তিন. বাঙালি সেটেলার বিষয়ক লেখা পড়–ন
এখানে

চার. সেটেলারদের কীর্তি বিষয়ক লেখা পড়–ন [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28704569 ]এখানে

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): পাহাড়পাহাড়পাহাড় পাহাড় ;
প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ১০:১১

 

১. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৫৯
এস্কিমো বলেছেন: ১৯৯০ সালের পর থেকেই শুরু করেছে টুকটাক - ২০০৬ সালে সম্পূর্ন একদর্শী।

আসলে এরশাদের স্বৈরশাসনের সাথে সাথে যায় যায় দিনেও পতন হয়েছে।

ভাবলে কষ্ট হয় ---আমরা একসময় পাগল ভক্ত ছিলাম এই প্রকাশনীটার...
২. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ১০:০৮
বিপ্লব রহমান বলেছেন: এস্কিমো@ধন্যবাদ। আমিও একসময় সাপ্তাহিক যাযাদির ভক্ত পাঠক ছিলাম। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এর সমস্ত সংখ্যাই আমাদের পারিবারিক সংগ্রহে আছে।
৩. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:৩০
সোনার বাংলা বলেছেন: যদি পার্বত্য এলাকা শুধু উপজাতীয়দের হয়(১৮৬৫অথবা১৯০০ সাল অনুসারে) তাহলে
ওদের কে স্বাধীনতা দিলে ভালো হয় না?
আর যদি বাংলাদেশের অংশ হয় তাহলে সবার জন্য
সমান অধিকার থাকা উচিত নয় কি?
আর যাই হোক শান্তি চুক্তিতে অনকে ভুল ছিলো।
৪. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:৪৩
সোনার বাংলা বলেছেন: হাসিনার কাম বুঝেন না!!!!
আর তেনার ভাই হাসনাত চোরা হের লগে ছিলো
আ'কাম তো হবেই!!
৫. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ১১:৪৬
বিপ্লব রহমান বলেছেন: সোনার বাংলা@শান্তিচুক্তিতে অনেক ভুল ছিলো...এটি আমারো মনে হয়। তবে আমার দেখাটা আরেকটু ভিন্ন; সেটা কী রকম, জানতে হলে পাহাড় বিষয়ক আমার পুরনো পোস্টগুলো পড়বেন প্লিজ। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, তবু বলছি, শান্তিচুক্তি হচ্ছে তিন দশকের রক্তক্ষয়ী গেরিলা যুদ্ধের ফল। আর এতে সীমিত আকারে পাহাড়িদের আঞ্চলিক সায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে।
সঙ্গে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
১০. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:০০
মেজভাবী বলেছেন: বিপ্লব বাছা, খুব ভাল লিখেছ। তোমার লেখার সাথে একমত।
১২. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:০৭
সোনার বাংলা বলেছেন: বিপ্লব ভাই আমি মনে করি যদি আমরা সবাই(পা./বা.) বাংলাদেশি হয়ে থাকি তাহলে দেশের যে কোন প্রান্তে যে কেউ বসতি করতে পারে!কিন্তু এখানে
পার্বত্য এলাকায় শুধু ভিন্ন হবে কেন? হাসিনার চুক্তি
শুধু গভীর বিভেদই দিয়েছে আর কিছু নয়! হাসিনা
হচ্ছে মেরুদন্ডহীন শিক্ষিত মহিলা যা খালেদার থেকে ও অনেক নিচে আমি মনে করি।খালেদার জানার ইচ্ছে আছে কিন্তু হাসিনার নাই! 'উপরে ফিট ফাট ভিতরে সদর ঘাট' এই হলো হাসিনা।
১৩. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:১৩
পথহারা বলেছেন: হাসিনার চুক্তি শুধু গভীর বিভেদই দিয়েছে আর কিছু নয়! হাসিনা হচ্ছে মেরুদন্ডহীন শিক্ষিত মহিলা যা খালেদার থেকে ও অনেক নিচে আমি মনে করি।খালেদার জানার ইচ্ছে আছে কিন্তু হাসিনার নাই! 'উপরে ফিট ফাট ভিতরে সদর ঘাট' এই হলো হাসিনা।

সহমত @সোনার বাংলা

১৪. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:২৭
বিপ্লব রহমান বলেছেন: মেজভাবী@ সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

সোনার বাংলা@পথহারা@শান্তিচুক্তির বিষয়ে আপনাদের দ্বিমত থাকতেই পারে। তবে অনুরোধ করবো, একটু ধৈর্য নিয়ে পাহাড় বিষয়ক আমার পুরনো কয়েকটি পোস্ট পড়ার। ...ধন্যবাদ।
১৫. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৪৭
সোনার বাংলা বলেছেন: ধন্যবাদ বিপ্লব ভাই।
পড়ার চেষ্টা করবো।
১৬. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৫২
বিপ্লব রহমান বলেছেন: সোনার বাংলা@আপনাকেও ধন্যবাদ।
১৭. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৫৬
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: দারুন পোষ্ট
সহমত বিপ্লব দা।
১৮. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:২৭
মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: স্বাধীনতা যুদ্ধে উপজাতীর একটা বড় অংশ পাকিস্তানীদের সাহায্য করেছে । তাই আঃ লীগ শাসন আমলে সংঘাত শুরু হয় ।
ভারত, পাকিস্তান বা অন্যান্য দেশ কি উপজাতীয়দের স্বায়ত্বশাসন দিয়েছে ?
উন্নয়ন কি সেখানে কম হয়েছে ?
আমার আরো অনেক প্রশ্ন ছিলো বিপ্লব ও মেঝভাবীর কাছে ।
১৯. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৮
বিপ্লব রহমান বলেছেন: ভাস্কর@ আপনাকে ধন্যবাদ।
বাসার@সামান্য তথ্য ঘাটতি আছে বলে মনে হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য আদিবাসী পাহাড়ি সরাসরি অংশ নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান কোনোভাবেই খাটো করে দেখার উপায় নেই। তবে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় ও তার নিজস্ব রক্ষী বাহিনী যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নেন। সেজন্য সাধারণ পাহাড়িদের কোনোভাবেই অপবাদ দেওয়া যায় না। আর স্বাধীনতার পর ত্রিদিব রায় পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। এখনো সেখানেই তিনি সে দেশের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। আপনাকেও ধন্যবাদ।
২০. ২৩ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ৩:২৭
ফজলে এলাহী বলেছেন: বিপ্লব দা...আপনার সাথে পরিচেয়র আগ্রহ আমার পুরনো ..আপনার প্রায় সব লেখা আমি পড়েছি......একবার সামান্য কয়েক মুহূর্তের জন্য আপনার সাথে পরিচয় হয়েছিলো....কিন্তু আপনিও নাগরিক অহংকারে খুব একটা গুরুত্ব দেননি বলেই আমিও অভিমানে আর কথা বাড়াইনি...না, আর কথা বাড়াইনি
শোনেন....আপনি এবং আপনার লেখা বড় বেশি একদেশদর্শী...পক্ষপাতদুষ্ট,সবিনয়ে বলছি..আমার মনে হয় সুষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সকল মত এবং সকল পথের মানুষের সাথেই কথা বলা উচিত.......কিন্তু আপনি আসেন কাদের সাথে......থাকেন কাদের সাথে...চলেন কাদের সাথে...আর কথা বলেণ কাদের সাথে ..সেটা যে আমার জানি..ভাইয়া....
তাহলে বস্তুনিষ্ঠ হবেন কি করে?আপিন???..............আপনার অনেক লেখার সাথে আমি একমত আবার কিছু কিছু লেখা যে বড় বেশি দৃষ্টিকটু...সেটা জানেন????
আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের সবেচ বড় সমস্যা কি জানেন??.........এখানে পাহাড়ী আছে...বাঙালী আছে..........মানুষ নাই।
এই জনপদে কিছু মানুষ দরকার....সত্যিকারের মানুষ....যাদের মনোজগতে সাম্প্রদায়িকতার ভূত নেই....যারা লড়বে সুন্দরের জন্য....আমরা লড়ছি...
একটু খবর নিয়েই দেখুননা.....
ও হ্যাঁ,খবরটা কোন মানুষের কাছ থেকেই নিয়েন....তা হলে যে বিভ্রান্ত হবেন....কেই বলবে ফজলে এলাহী পাহাড়ীদের দালাল আবার কেউ বলবে সমঅধিকারের সাপোর্টার। হাঃ হাঃ হাঃ..........আমরা যে সত্যিকারের মানুষ হতে চাই বিপ্লব দা ...........

 

মোট সময় লেগেছে ০.১৪৪৭ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
পাহাড়, ঘাস, ফুল, নদী খুব প্রিয়। পেশা সাংবাদিকতা। লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। টোটেম গৌতম বুদ্ধ। biplobr@gmail.com
*কপিরাইট ©: লেখক কর্তৃক...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ