somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচারের বাণী...

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ইটিভির সাংবাদিক বন্ধু অঞ্জন রায় টেলিফোনে বললেন, তারই আত্নীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের করুণ কাহিনী। আমি তাকে বললাম, এটি লিখে মেইল করতে। অঞ্জন রায়ের অনুমতিক্রমে তার লেখাটি এখানে প্রকাশ করা হলো:

আমার কাকা শহীদ জয়ন্ত কুমার রায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক নিহত হন। মৃত্যুর পরে পাবনা শহরের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার বদলে তাঁর নাম শত্র“ (অর্পিত) তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করায়। এর পরে থেকেই আমরা বিগত বিভিন্ন সরকারের কাছে এই বিষয়ে ন্যায় বিচার চেয়েছি।

এর ধারাবাহিকতায় আমি গত বছর ১৫ এপ্রিল এই দাবীর কথা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জানিয়েছি। তার পরেই পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টির তদন্ত করে সমাধান করার জন্য। জেলা প্রশাসন বিস্তারিত তদন্ত করে আমার এই দাবীর সত্যতা পেয়ে তা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জানায়। প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে দ্রুত শহীদ জয়ন্ত কুমার রায়ের উত্তরাধীকারীর কাছে এই সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গত ১২ জুন নির্দেশ দেওয়া হয়।

*
এর পরেই জেলা প্রশাসন বিষয় নিষ্পন্ন করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৬০ দিন সময় প্রার্থনা করেন। তারা গত ২৮ আগস্টে সম্পদ হস্তান্তর বিষয়ক একটি পত্র প্রধান উপদেষ্টার কর্যালয়েও পাঠান। প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে পাবনা জেলা প্রশাসনের ভুমি মন্ত্রনালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে পাঠানো পত্রটিকে 'দায়সারা গোছের' উল্লেখ করে এই ধরনের 'আনফেয়ার' কার্যক্রম 'কারেকশন' করার বিষয়ে সরকারেরই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে লিখেছেন। কিন্তু তারপরেও অর্পিত সম্পত্তি হস্তান্তরের নানা জটিলতার অজুহাতে থেমে গেছে সবকিছূ। পাবনা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে আজো পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাকে কোন কিছুই জানানো হয়নি।

*

পাবনা জেলা প্রশাসন আমাকে কোন কিছু অবহিত না করলেও গত ২১ জানুয়ারী থেকে উক্ত জমির দখলদার মোশাররফ হোসেন (তাদের লিজ এ বছর নবায়ন না করার ফলে তাদের উক্ত স্থানে কোন অবস্থান না করার কথা হলেও) উক্ত জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন। আমি পাবনার স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়টি জানানোর পরে তারা বিলম্বে ব্যাবস্থা নিয়ে দখলদারদের নির্মাণ কাজ বন্ধ করেন।

এর আগে আমি পাবনার জেলা প্রশাসনকে বারংবার জানিয়েছি, যেহেতু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশে শহীদ জয়ন্ত কুমার রায়ের জমির সকল লিজ বাতিলের কথা বলা হয়েছে, সেহেতু উক্ত জমির সকল দখলদারদের উচ্ছেদ করা হোক। কিন্তু জেলা প্রশাসন আমার সেই কথাতে গুরুত্ব দেয়নি।

চলতি বাংলা বছরে নতুন করে লিজ না দেওয়া হলেও দখলদারেরা উক্ত জমি দখলে রেখে সাবলিজ দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে।

এমনকি এবারেও দখলদারেরা কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রে তা প্রকাশ হওয়ায় অবশেষে পাবনা জেলা প্রশাসনের টনক নড়েছে।

*

পাবনা পৌরসভার মৃত্যু নিবন্ধন বইতে ১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর তারিখ নিবন্ধিত করে লেখা আছে, তিনি পাকিস্তানী সৈন্য কর্তৃক নিহত হয়েছেন।

সুতরাং তাঁর সম্পদ অর্পিত হিসাবে কোনমতেই তালিকা ভূক্ত হতে পারে না। কিন্তু প্রতিপক্ষ জানে কোনো মতে তালিকাতে ঢোকাতে পারলেই সেই সম্পত্তি লিজ নেওয়ার মাধ্যমে গ্রাস করা যায়। তাই তারা সেই কৌশলের আশ্রয় নিয়েই আমাদের দীর্ঘকাল বঞ্চিত করে রেখেছে।

দ্বিতীয়ত, যে মানুষটি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে, তা প্রমানিত হওয়ার পরে কোনো মতেই শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি আইনের অজুহাতে তার জমি আটকে রাখা বেআইনী এবং অমানবিক।

তৃতীয়ত, গত ৩৬ বছর ধরে জমে থাকা আমাদের বেদনা সবাই নিশ্চয়ই অনুভব করবেন। আপনাদের সবার সহায়তা পেলে নিশ্চয়ই আমি সুবিচার পাবো। আইনের মারপ্যাঁচে আটকে থাকবে না আমার এই দাবী।

আন্তরিক শ্রদ্ধাসহ--

অঞ্জন রায়, ইটিভি, ঢাকা।

(ছবি: রিকশা পেইন্টিং, ন্যাট জিও, ১৯৭২)

৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×