কৃষক blogsaudi@gmail.com

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেম-১৮

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

কিষাণীর স্মৃতি থেকে- ৭

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি মফস্বলে হওয়াতে এখানকার পরিবেশও ছিল বেশ রক্ষণশীল। আমাদের শিক্ষকরা ছেলে মেয়েরা একসাথে আড্ডা দিচ্ছে, জুটিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এসব দেখলে খুবই অখুশী হতেন। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলে ফিরতে না পারলে হলের হাউজ টিউটরদের হাতে কি পরিমান যে নাকাল হতে হত! হলে থাকা মেয়েদের নিয়ে তাদের ধারনাও ছিল আপত্তিকর রকম খারাপ। অথচ এই সব শিক্ষকদের সন্তানরাই হয়তো অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে; একই রকম পরিবেশে জীবন যাপন করছে। জুটিবদ্ধ ছাত্রছাত্রীদের ভাল রেজাল্ট করা কঠিন ছিল, যদিবা রেজাল্ট আটকানো সম্ভব না হত, তবু ভাল রেজাল্ট করা সত্বেও শিক্ষকতা নামক চাকরীটি পাওয়া দুস্কর ছিল যাদের গায়ে প্রেমিক প্রেমিকা গন্ধ আছে তাদের। এরকম একটা পরিবেশে আমরা কোন কিছুর পরোয়া না করে দিব্বি নামকরা জুটি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চষে ফেলতে লাগলাম।

আমি বরাবর ঢাকা শহরে জন্মানো এবং বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে। ইট, কাঠের দালানের মধ্যে বড় হয়েও প্রকৃতির প্রতি আমার এত মমতা তৈরী হয়েছিল বোধহয় বই এবং পত্রিকা পড়তে পড়তে। আমি এর আগে কাশ ফুল দেখেছি টিভিতে অথবা ক্যালেন্ডারের পাতায়, বাস্তবে এর দেখা আমি আগে পাইনি। প্রথম যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসি, আমার পিঠাপিঠি বড় ভাই এবং আমি খুব ভোরে ঢাকা থেকে বাসে করে আসি। আসবার পথে ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে দেখি নদীর বিস্তির্ন চর জুরে সাদা কাশের বন, আমি তো মুগ্ধ বিস্ময়ে শুভ্র কাশবন দেখছি, পরীক্ষার পড়া টড়া মাথা থেকে উধাও। ক্যাম্পাস দেখে আমি আরো মুগ্ধ, এত শান্ত, এত সুন্দর! যেন ছবির মত সাজানো। এখনো যখন যাই আমার এক অদ্ভুদ প্রশান্তি আসে মনে। মনে মনে তখন বলেছিলাম এখানে পড়তে হবে। এই প্রিয় ক্যাম্পাস, যেখানে প্রকৃতির রূপ রঙ চারিদিকে ছড়ানো, সেখানে চুপ করে ঘরে বসে থাকা যায়! আমার পক্ষে তো তা অসম্ভব। আমি যখন ই সময় পাই, ঘুরে বেড়াই। প্রিয় প্রকৃতি আর প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য আমার জীবনকে আরো ভরিয়ে তোলে।

শরৎকালে নদীর তীরে যেমন কাশফুল ফোটে, তেমনি ঘাসেদের বুক চিরে ফোটে ঘাসফুল। এই ফুলগুলোকে আমি বলি ঘাসফুল, আসলে কি নাম কে জানে! এগুলো পরে চোরকাঁটা বা প্রেমকাঁটা হয়। আমরা দু'জন যখন পড়া শেষে বিকেল বেলা, অথবা ছুটির দিনে নিঝুম দুপুরবেলা টি এস সির পিছনে বসে বসে কত কত কথার ফুলঝুরি ফোটাই; তখন যেদিকে দুচোখ যায় মাঠজুড়ে শুধু ঘাসফুল, কি যে অপূর্ব দেখতে! সারা মাঠ সাদা গালিচায় মোড়ানো, আমার ইচ্ছে হত ঐ সাদা মখমলের মত ফুলের ওপর গড়িয়ে আসি। কত যে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতাম; অকারনে চোরকাঁটার ওপর দিয়ে হাঁটতাম। আর বসে বসে গপ্প করার ফাঁকে ফাঁকে চোরকাঁটা বাছতাম।

আরো এক বিস্ময় ছিল জোনাকী। একটু গ্রাম গ্রাম হওয়াতে রাস্তার বাতিগুলো তে খুব আলো হত না। যেখানে একটু আলো কম, ঝোপের মধ্যে দেখতাম ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাকী। সে যে কি অসম্ভব সুন্দর। মনে হত বিয়ে বাড়ীর আলোক সজ্জা, আমি খুশীতে আত্মহারা হয়ে যেতাম, ওর হাত ধরে বলতাম দেখো দেখো কি সুন্দর। আমার সব আনন্দ সব উল্লাসে তার ছিল নিঃশব্দ সমর্থন। আমার সব ছেলেমানুষী শখকে বিনা প্রশ্নে পূরন করতে তার কোন ক্লান্তি ছিল না।

অন্য সবার মত আমারো পূর্ণিমা ভীষণ পছন্দ। আমার মত ছন্নছাড়া, ভাবুক টাইপের মেয়ের ফুল, পাখি, কবিতা, চাঁদ ভালো লাগবে এ আর এমন কি! তবে এতদিন শহরের দালান কোঠার মাঝে পূর্ণিমার চাঁদকে দেখেছি। ক্যাম্পাসের পূর্ণিমা না দেখলে চাঁদের সাথে এত প্রেম আমার হত কিনা সন্দেহ!

আমরা দ'জন এক পড়ন্ত বিকেলে নদীর ধারে গিয়ে বসলাম। ঝিরঝির বাতাস বইছে, কি যে ভাল লাগছে। আমাদের নদীটার পুবদিকে বিস্তীর্ণ চর, অনেক দুরে গ্রামের ক্ষীণ রেখা দেখা যায়।পশ্চিমাকাশে সূর্য তখন ঢলে পড়ো পড়ো। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি পুবাকাশে বিশাল চাঁদ ধীরে ধীরে উঠছে। এরপর আমি লক্ষ্য করেছি পূর্ণিমাতে একদিকে সূর্য ডোবে আর একদিকে চাঁদ ওঠে।

ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে, বিশাল সোনালী চাঁদ পুবের আকাশ বেয়ে উপরে উঠে আসছে। সোনালী আলোয় ঝলমল করে ইঠছে চারপাশ। নদীর টলটলে পানিতে সোনালী আলোর ঝিলমিল খেলা। যেন কালো মসলিন শাড়ীতে সোনালী সুতোর কারুকাজ। আমি হতবিহ্বল, স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। আমরা সব সময় বলি রূপালী চাঁদ, কিন্তু একদম সন্ধ্যায় চাঁদ সোনালী থাকে, ধীরে ধীরে রাত বাড়ার সাথে রূপালী হয়। মুগ্ধ আবেশে আমরা দীর্ঘ সময় পাশাপাশি হাত ধরে বসে এই অপূর্ব প্রকৃতি দেখি। আমাদের হলে ফিরতে ইচ্ছে করেনা। তবু হলে ফিরে বকা খাবার ভয়ে হলে ফিরি। আমি হলে ফিরেও ছাদে বসে চাঁদকে দেখি, সোনালী চাঁদ রূপালী হয়, আমি জোৎস্নার সাগরে ভাসি। গভীর রাতেও আমি ঘুম ভেঙ্গে জোৎস্না দেখি। মাঝরাতে জোৎস্নাকে আমার কেমন অশরীরী মনে হয়। গা ছমছম করে ওঠে। জোৎস্নার সাথে আমার এক অলিখিত প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আমি পরে একদিন তাকে বলি, সেদিন নদীর জলে আমার জোৎস্নার খেলা দেখা হল না। আমি মেয়ে বলে আমাকে হলে ফিরতে হল। যদি আমি ছেলে হতাম, মাঝরাত পর্যন্ত নদীর ধারে শুয়ে থাকলেও কেই আমাকে কিচ্ছু বলতো না। সে বললো ঠিক কথা। আমি তাকে বললাম আমার খুব ইচ্ছে করছে পুরো একটি পূর্ণিমার রাত আমি আমি নদীর উপরে নৌকাতে থাকবো। সারারাত জোৎস্না দেখবো। তুমি আমার এই শখটা পূরণ করবে? আমি জানি আমার শখটা যতটাই রোমান্টিক ঠিক ততটাই অনিরাপদ। আমাদের দ'জনের কারোরই এতটা সাহস নেই এখনই এই এডভেঞ্চারটি করবার। তাই আমরা ঠিক করলাম আমাদের যখন বিয়ে হবে তখন কোন নিরাপদ পরিবেশে আমরা দু'জন সারারাত নদীর জলে জোৎস্না দেখবো।

আমার এ সাধের স্বপ্ন টা আজো পূরন হয়নি। প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে অনেক ব্যবধান থাকে। সময় হয়নি, সুযোগ হয়নি। তবে স্বপ্নটা এখনো আছে। এখনো আমি ভাবি একদিন ছেলেপুলেরা বড় হবে, সংসারী হবে। তখন আমার দায়িত্ব ফুরাবে, মুক্ত হব আমি। হয়তো একদিন শুভ্রবসনে, কাশফুলের মত সাদাচুলের বুড়োবুড়ি জোৎস্নায় স্নাত হবে, নদীর জলের উপর, মুখোমুখি বসে। আমাদের কন্ঠে গুনগুন করবে প্রিয় গান, দ'জন মিলে আবৃত্তি করবো প্রিয় কবিতা। প্রিয় মানুষটির কানের কাছে চুপিচুপি আমি বলবো অনেক দিনের একটা শখ আজ আমার পূরণ হল, আজ আমার মরেও সুখ।

চলবে.....

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাতমজুর।
এত কম কথা কেন?

২. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৯
অক্ষর বলেছেন: বাকি সবগুলোই পড়লাম, চলুক
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪৮
সালাউদ্দিন আইউবী বলেছেন: আপনার পরিচিত ক্যাম্পাসটি আমারও ভীষন ভালোবাসার ক্যাম্পাস।
তখন আমি সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে।
ময়মনসিংহ আমার প্রেম।
ওই ক্যাম্পাসে আমার যদিও পড়া হয়নি, তবু অনেক ভালোলাগা জড়িয়ে আছে ব্রহ্মপুত্রের জলরাশি আর তীরের সংঙ্গে।

আপনার জীবনের পূর্নিমা সারা বছরই থাকুক অম্লান।

শুভকামনা রইল আপনার পরিবার আর আপনার ভালোলাগা গুলোর জন্য।

++++++++++
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সালাউদ্দিন আইউবী।

প্রিয় ক্যাম্পাসের একজনকে পেয়ে ভাল লাগলো।

৪. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৫৯
চাঙ্কু বলেছেন: কঠিন প্রকৃতি প্রেমিক কৃষানীর দেখা পাইলাম এইবার ;)

ভাল লাগছে । চলুক
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৬

লেখক বলেছেন: কঠিন! আসলেই কঠিন।
আছেন কেমন? আপনার হোঁচট খাওয়ার অপেক্ষায় আছি।

৫. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:০৫
কঁাকন বলেছেন: আপনার ক্যাম্পাস টা আমারো খুব প্রিয়
তবে আমি কখনো যাইনি সেখানে
শুধু প্রিয়মুখ থেকে গল্প শুনে শুনেই প্রিয়
ভালো থাকুন
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৫

লেখক বলেছেন: সব জায়গাই আসলে সুন্দর।

ভালোলাগা গুলো আছে বলেই তা আরো সুন্দর হয়।

আপিন ও ভালো থাকুন।

৬. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: এবারে আমি মুগ্ধ!! পুরোপুরি...
আপনি যে আবেগে কথাগুলো লিখেছেন তা ছোঁয়ার সাধ সারাজীবন রয়ে যাবে। এই ধারাবাহিক পড়ার আনন্দ আজকে পুরোপুরি পেলাম!:)
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৭

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য তো আমাকে ভীষন ভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। লজ্জা ও লাগছে।

আপনার লেখার আমি একজন মুগ্ধ পাঠক।

৭. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৪১
রাতমজুর বলেছেন: আমি খুবএকটা গুছিয়ে বলতে পারি না, তাই কম বলি :)
আপনাদের সিরিজটা দারুন লাগছে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২৯

লেখক বলেছেন: আপনি খুব ভালোই লিখতে পারেন।

ভালো থাকবেন।

৮. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৪৮
আখসানুল বলেছেন: ভাল হচ্ছে , ভাল লাগছে, ঈর্ষাও বাড়ছে।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

৯. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:২২
চাঙ্কু বলেছেন: আছি ভালাই । আপনারা কিরাম আছেন ?? ভালানি ??

লেখক বলেছেন: আপনার হোঁচট খাওয়ার অপেক্ষায় আছি ।

আমি কুথায় হোঁচট খামু ?? আমি হোঁচট খাইতে চাই না :(
পিলিজ বদ-দোয়া দিয়েন না :(

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৭

লেখক বলেছেন: আমরা ভালা আছি।

আপনার বিটলামির একটা চিরস্থায়ী সাথী হবে এটাই প্রত্যাশা। হোঁচট খাইলেও যেন আফসুস না হয়। তয় পড়াটা শেষ করেন তারপর ই খান।

১০. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪২
চাঙ্কু বলেছেন: আপনিও আমারে বদ-দোয়া দিলেন ??? :(
আফসুস খাইলাম :(
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪

লেখক বলেছেন: নো আফসুস।

আমি তো বিটলামির চিরস্থায়ী সাথী র জন্য দোয়া করেছি, যে আপনারে শহীদ বানাবে না। অমর করে রাখবে।

ক্যাম্পিং এর বাঁদরামীর লেখা দেন না কেন?

১১. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৯
দ্রগবা বলেছেন: আপনার লেখাগুলো পড়তে পড়তে মনে মনে আবার ঘুরে এলাম বাকৃবি ক্যাম্পাস।

ভালো থাকুন।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
শুভ জন্মিদন। ভালো থাকুন অনুক্ষন।

১২. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৪
আছহাবুল ইয়ামিন বলেছেন: আপনি কি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের?
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: জ্বী।

১৩. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৫
বোকামাষ্টার বলেছেন: প্রিয় কিষাণ / কিষাণী

আপনাদের মতো অন ক্যাম্পাস ঠিক না, তবে একই ক্যাম্পাসের (অফ যদিও) লোক আমরা দুজন। আপনাদের লেখাগুলো পড়তে পড়তে ফিরে যাচ্ছিলাম সেই পুরনো দিনগুলোতে। ঘটনা আমাদের ক্ষেত্রে ছিলো প্রায় ১৮০ ডিগ্রী উল্টো, তাতে কী? (আপনারা ক্লাশমেট, আমাদের ব্যবধান প্রায় দশ শিক্ষাবর্ষের; কিষাণ মেধাবী আর আমি গাধা টাইপ; আপনার জন্ম-বৃদ্ধি ঢাকা শহরে আমারও তাই; কিষাণ প্রথম মুভ করেছিলো আর আমার ক্ষেত্রে বউ, আসলে আমার অতো সাহসই যে ছিলো না) স্মৃতি গুলো সবসময়ই একই রকম রংগীন থাকে, তাইনা?

প্রায় টানা ১২ বছরের প্রেম শেষে গত আট বছর ধরে জীবন সঙ্গী। ইদানিং জীবনের প্রয়োজনে দুজন আলাদা থাকতে হয়। মাঝে মাঝে তাই ভাবি একটু কী ফিকে হয়ে যাচ্ছে আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসার রং? বয়েসের বেশ কয়েকটা বাঁক পার হয়ে এসে যে পুজোয় আমরা বসেছি তার উদ্দিষ্ট তো কেবল আমরাই নই, আমাদের উত্তরাধিকারীদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতও। সেটুকু কী নিশ্চিত করতে পেরেছি? মোটেও না। তাহলে?

পরক্ষণেই বুঝি, না এগুলো সাময়িক উত্তেজনা, দীর্ঘ অভ্যস্ততার কারণে গড়ে ওঠা পারস্পরিক দাবীগুলো এভাবেই বোধকরি আড়ি দিতে সুযোগ খুঁজে ফিরে। আর তাই আমরাও নিত্য যুদ্ধ করে যাই আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই।

আপনাদের লিখা পড়ে স্মৃতিকাতর হচ্ছি, হাসছি, কাঁদছি। আর ঈর্ষায় জ্বলে মরছি। (অক্ষমের একমাত্র অস্ত্র বলেই কী?) ইস আপনাদের মতো আবেগ দিয়ে যদি লিখতে পারতাম!

লিখে যান। ভালো থাকুন, একসাথে থাকুন জন্মান্তরেও। অনেক শুভকামনা আপনাদের জন্য।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪০

লেখক বলেছেন: মাষ্টার দাদা, আপনার লেখা আমি পড়েছি। আপনি অনেক ভাল লেখেন।
দুটো ফুটফুটে কন্যার গর্বিত বাবা আপনি।

ভালো থাকবেন। প্রিয় মানুষকে ছেড়ে থাকার কষ্ট যে কি তা যে না থাকে সে বলতে পারবে না। আপনাদের কর্মস্থল কাছাকাছি আসুক। বিরহ ঘুচুক এ প্রার্থণা।

আমাদের জীবন বড় বর্ণাঢ্য।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

ঈদ সপিং এর এত্ত লিষ্ট দেখে তো আমার মাথা খারাপ। সব মার্কেট ঘুরেই মনে হয় এবার বাজেট শেষ হয়ে যাবে।

১৬. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৪
রুখসানা তাজীন বলেছেন: এই পর্বটা অসাধারণ লেগেছে। আপনার লেখায় স্থান আর আবেগের খুঁটিনাটি এত সুন্দরভাবে এসেছে যে, মুগ্ধতা স্থায়ী হয়ে গেল।
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তাজীন।

আপনারা এত ভাল লেখেন তারপরও যে আমার সামান্য এলোমেলো লেখায় মুগ্ধ হন তাতেই হয়তো গল্পটা(!) শেষ করতে পারবো।

১৭. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৩
নিরক্ষর বলেছেন: এই পর্ব তে সাহিত্যের ফুলঝুরি দেখা গিয়াছে ;)

তয় এখন আপনারা (কৃষক+কৃষাণী) কোথায় আছেন? বিদেশে নাকি?
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২০

লেখক বলেছেন: আছি ভাই, কোথায় এখনই বললে তো হবে না।

ভাবে পড়লে সাহিত্য বের হয় আরকি। মুচকি হাসি।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস্ । খবর কি ভালো তো!

১৯. ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৮
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: আজ অনেক কথা বলব ...
আপনাদের ১৮ টা পর্বের মধ্যে এই পর্বটা সবচেয়ে মধুর ...
অন্তত আমার কাছে ...
কাউকে কথার সাথে সাথে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া নিশ্চই সহজ কাজ না ...
ক্যাম্পাস আমার সারাজীবনের মধুর যায়গা... আমি যদিও ওই ক্যাম্পাসে গ্রাজুয়েশন করি নি...
আমার কলেজ ছিল কে।বি আই কলেজ...
সেই থেকে শুরু, সেই প্রিয় ক্যাম্পাস আজ আমাকে ছাড়েনি, আমিও ছাড়িনি তাকে, কখনো মনে হয় ছাড়তেও পারব না ।
আমি আমার জীবনে খুব সুখের যে সময় গুলো কাটিয়েছি তার বেশীরভাগ ই অই ক্যাম্পাস কে ঘিরে ...
বিশ্বাস করুন, আপনার লেখা পড়ে আমার এখনি নদীর ধারে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে ...
বিশ্বাস করুন ...
এই ১০ মিনিটের এই অনুভবটুকু দেবার জন্যে আমি আপনার কাছে ঋণী হয়ে গেলাম ...
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনার ভালোলাগা আমাকেও ছুঁয়ে গেল।

আমাদের প্রিয় এই ক্যম্পাসের আপনিও একজন আপনজন ভাবতেই ভাল লাগছে।

নদীর ধার, হেল্থ সেন্টারের কাঠগোলাপ, কদম এর গাছ; সব যে কত প্রিয়! কত যে কাঠগোলাপ এনে খোঁপায় পড়েছি!

ভালো থাকবেন।

২০. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০২
রাজামশাই বলেছেন: ঘুরে এলাম ব্রক্ষ্মপুত্রের পাড় থেকে।

লেকা পছন্দ হইছে

এই নে স্বর্ণমুদ্রা তোর উপহার

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২১

লেখক বলেছেন: শুকরিয়া রাজামশাই।

২১. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৩
চাঙ্কু বলেছেন: বদ-দোয়া দিয়া আমারে আফসুসিত করাইয়া আবার কইতাছেন "নো আফসুস" । আবারও আফসুস খাইলাম ।

পরের পর্ব আসে না কেন ??
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৬

লেখক বলেছেন: বদদোয়া কোথায়, আমি তো বর দিলাম!

একটা বিটলী মার্কা জুটুক। ষোল কলা পূর্ণ হবে।

২২. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৫
অক্ষর বলেছেন: পরের পর্ব কই?
২৩. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫৮
কৃষক বলেছেন: মন বসছে না। সময় ও হচ্ছে না।
২৪. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৫
চাঙ্কু বলেছেন: নক !!! নক !!! নক !!! নক !!! বাড়িতে কেঊ আছনেনি ?
দুর, কেউ দেখি দরজা খোলে না । আফসুস ;)
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪০

লেখক বলেছেন: কি হইল। আমরা ডিনার করতে গেছিলাম চান্কু বাবু।

বলেন কি সমাচার। কোন হেল্পু লাগবে?

২৫. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৪৮
চাঙ্কু বলেছেন: ঠাঙ্কু । কুন হেল্পু আপাতত লাগপে না ।

পাড়া বেড়াইতে বাইর হইছিলাম , এই জন্য আপ্নাগো দরজায় এট্টু নক করলাম আরকি !!! ;)
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ওহ!
আমি ভাবলাম কোন বিটলী জুটলো কিনা, সেই সুসংবাদ মনে হয় দিতে আসছিলেন!
আফসুস!

২৬. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২২
শামীমস বলেছেন: মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো লেখা । আরো চাই.........................
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে শামীমস।

২৭. ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৪
চাঙ্কু বলেছেন: মেলা দিন হইয়া গেল কিন্তুক নয়া পর্ব আসে না , আফসুস :(
২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:২০

লেখক বলেছেন: মেলা দিন সাই নেও আসা হয় না। আসলেই দেরী হয়ে গেল!

আপনের গুলিস্তান শপিং ব্যাপক ভাল হইছে। ধইন্যাপাতা।

২৮. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪
বরুণা বলেছেন: পরিয়তে রেখে দিলাম আপুনি। বসনতদিন আসার আগেই প্রিন্ট করে ফেলবো।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: ভালো থেকো।

২৯. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:২৯
কালপুরুষ বলেছেন: আপনার পর্ব আকারে লেখাগুলো আমার পড়া হয়নি। ব্লগে কবিতা পড়াই আমার অভ্যাস। তাই গদ্য অনেক সময় এড়িয়ে চলি। হঠাৎ এই পর্বটা পড়ে আপনার লেখার প্রতি আগ্রহ বাড়লো। সত্যিই দারুন লিখেছেন। সহজ, গোছানো ও সাবলীল লেখা। সবগুলো পর্ব পড়ার ইচ্ছে রইলো। বলতে পারি পড়ার আগ্রহ বাড়লো। ভাল থাকুন।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কালপুরুষ দাদা, আপনি একজন নামী দামী ব্লগার। আমাদের এসব ছিঁটেফোটা লেখায় মন্তব্য করায় যারপর নাই খুশী।

তবে কৃষক আর আমি লিখছি নিজেদের ইচ্ছায়, এটা আমাদের সোনালী দিন গুলোকে পেছন ফিরে দেখা।

ভালো থাকবেন।
.....কিষাণী

১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নিমচাঁদ।

৩১. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:২২
প্রতিফলন বলেছেন: খুব ভালো লাগলো।
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রতিফলন।
তোমার বসন্তদিন সবকটা পড়ে এসেছি কাল, মন্তব্য করা হয়নি।

শুধু শুভকামনা।

...কিষাণী

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:১৪

লেখক বলেছেন: :)

৩৩. ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০
সখ্য বলেছেন: প্রিয় মানুষটিকে সত্যিকার জীবনে অনেকেরই পাওয়া হয়ে ওঠেনা...অনেক অভিনন্দন আপনাকে!
১৮ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১৮৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কৃষক
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই