"শেরিফ, উড ইউ প্লিজ মিট মি রাইট নাও। ইউ হ্যাভ.......পেন্ডিং......ডেডলাইন ইজ টুমরো.....উই নিড টু কুরিয়ার এজ আর্লি এজ পসিবল।"
মনটা দমে গেল। দুজন সুপারভাজার থাকার সুফল (!!!) টের পেলাম। ঈদের কথা তুলে পাল্টা আবদার করতে পারলাম না। এক গ্লাস পানি খেয়ে রোজা ভেঙ্গে হাটা দিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। অতি দ্রুততার সাথে কাজ করলাম ৩০ মিনিটের মাঝেই। ঘড়িতে তখনও ৯ টা বাজেনি। সুপারভাইজারকে বাই বলে দৌড় দিলাম, নামায ধরার ইচ্ছা নিয়ে। দুটো বাস মিস করলাম। ৩য় টা তে চড়ে যখন গেলাম, ততক্ষণে নামায শেষ, আরবরা দল বেধে বের হচ্ছে, কুলাকুলি আর ঈদের মোবারকবাদ জানাচ্ছে।
হঠাৎ করা একটা "অন্যায় অযৌক্তিক" কষ্ট জেকে বসলো মনে। ঊল্টো পথে বাড়ি ফিরলাম। স্কুলে যাবার মত মন নাই। কর্ন ফ্লেক্স দিয়ে নাস্তা করলাম।
জীবনে কোন দিন সেহরি মিস করিনি, যা করেছি প্রবাসে এসে। ইফতার করে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছি। ঘুম ভেঙ্গেছে সেহরির শেষ সময়ের ১ ঘন্টা পরে। ফলে পুরো ২৪ ঘন্টা রোজা থাকা হয়েছে। এত নামায কাযা হয়েছে ভাবলেই নিজেকে ভীষণ পাপী আর অপবিত্র মনে হয়।
ছোট কালে ঈদের নামায়ে খুতবায় শুনতাম, যারা ঠিক মত রোজা রেখেছে, প্রার্থনা করেছে, পাপ থেকে বেচে থেকেছে তাদের ঈদের নামাযে অদৃশ্য ফেরেশতারা এসে শান্তিপূর্ণ ক্ষমা প্রাপ্তির সুসংবাদ জানায়। আর যারা তা পায়নি, তারা কতইনা হতভাগা।
ঈদকে "ধর্ম আর ব্যক্তি বিশ্বাস" হিসেবেই দেখতে চাই, এটাকে ফ্যাশন, ব্যবসা বা সামাজিকতার উপলক্ষ করে দেখিনা। আজ ঈদের নামায পড়তে না পারাটা একটা অশুভ লক্ষণ মনে হচ্ছে, আমি সেই প্রতিশ্রুত সুসংবাদ পাবার যোগ্য হইনি, তাই বঞ্চিত। তার পরেও পরম করুণাময়ের কাছে আশ্রয় চাই।
স্রষ্টা কি আমাকে ক্ষমা করবেন? স্রষ্টা কি তার প্রার্থনা থেকে বঞ্চিত হবার কষ্ট থেকে মুক্তি দিবেন? স্রষ্টা কি আমার চেষ্টাকে তার প্রার্থনার অংশ করে দিবেন? পাপ মুক্ত হয়ে সুস্থ ভাবে বাঁচার আকুতি কি স্রষ্টা মেনে নিবেন? এতটা দয়া কি তিনি করবেন?***
***(হুমায়ুন আহমেদের "এই মেঘ: রৌদ্র ছায়া" অবলম্বনে শেষ মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ মাওলানা স্রষ্টার কাছে মৃত্যুর আগে আরেকটি বার কোরআন পড়ার সময় চায়,আকুতি জানায়)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



