আমার প্রিয় পোস্ট

সেই সব দিন রাত্রি, বৃত্তের মত ঘুরে একই জায়গায়

০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৭

শেয়ারঃ
0 0 0

কাজের মাঝে হুট করেই একটা মন খারাপ রোগ ধরে। বেশ কিছু ক্ষণ কারণ খোজার চেষ্টা করি। হঠাৎ করে মাথায় আসে কারণটা, কষ্টটা সমানুপাতিক হারে বেড়ে একটা স্থিতি পায়। অনেক ছোট ছোট ব্যর্থতা, অপমানের স্মৃতি ঘনীভূত হয়ে তৈরি করে কষ্টের জগদ্দল পাথর। তখন আর জট খুলে স্মৃতি গুলো বের করে আনতে পারিনা, কষ্ট প্রশমনের ইচ্ছা নিয়ে।


ফেডরিখের সাথে একটু জীবনঘনিষ্ঠ আলাপ চারিতার সুযোগ নিই মাঝে মাঝে। নৈরাশ্যবাদী হিসেবে আশাবাদী মানুষের সঙ্গ পেতে ভাল লাগে, অন্তত নিজেকে বাদে সবাইকে আমি আশাবাদী জানি, জেনেছি। ফেডের কাছে গিয়ে দেখি রাজ্যের হতাশা তাকে গ্রাস করছে। সকালে ল্যাবে ঘুম পেলেও কফি খায়না, এলকোহল, ভারি খাবার থেকে দূরে থাকে। এক বাটি নুডুলস টুনা মাছ দিয়ে, কখন্ও বা শুধু টমামো সস দিয়ে খেয়ে উঠে পড়ে। এত কাল ধরে আমেরিকায় কোন গাড়ি নাই তার। কোন নেশা নাই গাড়ি বাড়ি নিয়ে। সঙ্গীতের প্রতিও তার আগ্রহ নেই বললেই চলে।

ইউ নো, মাই লাইফ ইজ এ কাইন্দ অব হোপলেস।

ওয়েল, ইউ ক্যান গেট এ কার ফর এইট হান্ড্রেড বাকস।

আই দোন্ত হ্যাভ মনি।

দ্যান হোয়াই ডোন্ট ইউ সেভ সাম?

হোয়াই শুদ আই শেভ মনি? আই ক্যান দাই এনি তাইম। উদ ইউ লাইক তু হ্যাভ এ বানানা? কষ্ট মাখা মুখে হাসি দেখার জন্য মনে হয়ে আমার এ যাত্রাটা বিফলে যায়নি।

এক বছর পিএইচ ডি র কাজ করার পর ফেড দেখে ঠিক ৬ মাস আগেই তার কাজটা একটা গ্রুপ করে ফেলেছে। হতাশা জেকে বসে তার চোখে মুখে।

তাকে সৌজন্য করে একটা আপেল দিলাম বিনিময়ে। আলু থালু চুল নিয়ে ক্ষীণকায় ছেলেটা বেরিয়ে গেল। ভালবাসার মানুষ দেশে ফেলে দূর প্রবাসে যারা থাকে, তাদের কষ্টকে ভাষা দেয়ার যোগ্যতা আমার নাই।

দেশে থাকতে মা কে রাতে ঘুম থেকে তুলে কথা বলে কষ্ট দূর করতাম। এখন মার সাথে কথা বললে কষ্টটা কেন যেন বেড়ে যায়। পুরনো দিনের ব্লগ গুলো খুলে পড়ি। মন্তব্যের কাতারে

মানসিক রোগী, সিক, সিক বাস্টার্ড, কাপুরুষ, ব, চ যুক্ত গালি, মানসিক সমস্যা গ্রস্থ, শিক্ষিত লোকের অসুস্থ আচরণ, মানসিকতা আরো অনেক দীর্ঘ বিশেষণ বহুজনের কাছ থেকে। চুল দাড়ি কাটা হয়নি ২ মাস হল, হঠাৎ পেট খারাপ হওয়ায় খাদ্য ভীতি ঢুকে পড়ে, অভুক্ত থাকি টানা তিন প্রহর। সামনে ভবিষ্যতের দিকে তাকালে অতল গহবর দেখতে পাই। এত কিছুর পরেও কে কি বললো, তা ভেবে নতুন কিছু কষ্টের বোঝা চাপিয়ে কি লাভ?

ঘুম ভাঙ্গে আগের দিনের ক্লান্তির বোঝা চেপে, অনাগত আপদ-বিপদের আশংকা নিয়ে প্রতিবার নতুন কর্মদিবস আসে বৃত্তের মত ঘুরে ফিরে।

 

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: এটাই জীবন। আগে মন খারাপ করতাম, এখন ভাবি খারাপ সময়। সব ঠিক হয়ে যাবে।
২. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:২৪
সামেদি মেডিভ বলেছেন: ভাই ইংরেজি ব্যাবহার করছি বলে দয়া ক্ষমা করবেন।

'Life' is a horribly pathetic,awfully disgusting,painfully irritating play named "Irony Of Fate" & worst part of it is that we live it up... :P :D
৩. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫২
আলোর অভিলাসী বলেছেন: এ পৃথিবীতে এমন অনেকেই আছেন যাদের পাওয়ার চেয়ে হারানোর সংখ্যাই বেশী , জয়ের চেয়ে পরাজয়ের সংখ্যাই বেশী । তাই মনে হয় এত মন খারাপ করার কিছু নেই । এতে যারা আপনার ভালো চায় , আপনাকে সুখী দেখতে চায় তারাও কষ্ট পেতে পারে ।

ভালো থাকবেন ।
৪. ১১ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৩
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: প্রবাস জীবন এরকমই। কখনই ঠিক হয় না।
৫. ১৫ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:০৪
রাগিব বলেছেন: আগেই কেউ কাজ করে পাবলিশ করে ফেললো, এই ভয়টা পিএইচডি পর্যায়ের প্রায় সবার থাকে। গত বছর দেড়েক ধরে এই চিন্তাতে আমার ঘুম আসতো না। কারণ কম্পিটিটর গ্রুপ লেগে আছে কাজে, ওরা আগে কনফারেন্সে পেপার লাগাতে পারলে আমার কাজ মাঠে মারা যেতো। ওদেরকে টেক্কা দিতে পেরে এখন কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছি। কিন্তু ফেডের যা হয়েছে সেরকম যে কারোরই হতে পারতো।
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৬:৩৬

লেখক বলেছেন: ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে গুরুদেব। আপনার ক্ষেত্রেও সেটাই সত্য হওয়াটা স্বাভাবিক। ফেডের সুপারভাইজর তার এ যাবত কাজ ঠিক রেখে কৌশলে ভিন্ন একটা মাত্রা দিয়েছেন। সে এখন সেভাবেই এগোচ্ছে।

৭. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:২২
নরাধম বলেছেন: সাইফ শেরীফ, আপনি কেন হতাশাবাদী সেটাই আমি বুঝিনা। ব্যর্থতার দিকে না তাকিয়ে একটু সাফল্যের দিকে তাকান তো। দেখবেন সাফল্যের সংখ্যা অনেক বেশী। এমন কেউ তো নেই যার ব্যর্থতা নেই। ভাল থাকুন।
১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: আমি একাধারে প্রচন্ড বিশ্বাসী কিন্তু স্রষ্টার তৈরি করা জগত সংসার নিয়ে প্রচন্ড সংশয়বাদী। স্রষ্টার কাছে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার ছিল, অভিমান ছিল। ক্ষোভ দেখানোর মত ধৃষ্টতা নাই বা দেখালাম। মানুষের সৃষ্টি ও বেচে থাকাটা অনর্থক মনে হয় প্রায়শই, এতে অন্তত স্রষ্টার লাভ ক্ষতি কোনটাই নেই। নাস্তিক হতে পারিনি বলে এ ভাবনা গুলো পীড়া দেয়। বিপরীত মুখী ভাবনা মনকে স্থিতি দেয়না কখনই।

৮. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
দেশী পোলা বলেছেন: You know what, you are not alone, I felt the same way when I came to study in US, everyone does, but the main fact of life is, you got a half filled glass of water, and you gotta decide whether that glass is half empty or half filled. Here's a clue, you gotta think with force and positive affirmation to make your life any better than what you have.

I'd suggest that you see the "last lecture" by Randy Pausch at http://www.thelastlecture.com. Randy had a philosophy and he lived by it even when he was facing certain death from cancer. If we all can be like Randy, life in this earth would be far far better.
৯. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:৫৩
জেমসবন্ড বলেছেন:

...........আল্লাহর স্বরণ ব্যাতীত জীবন দুঃসহ ও বেদনাদায়ক । মৃত ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পরিত্যক্ত মানসিক রোগীরা ভাব প্রকাশের ক্ষুধা নিবৃত্তির দায়ে হয়তবা ব্লগের আশ্রয় নেয়। সেখানেও সামাজিক, বাস্তববাদীরা হানা দেয়। ভাব বিনিময়ের আদিম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ