ঘটনাক্রমে ফেডের স্বদেশী এক অধ্যাপক তাকে পিএইচডি করার প্রস্তাব দিয়ে বসল। আমার এখানে বার্ষিক ২৮ হাজার ডলার পায় সে। তার উপর ১৪ মাস হল পিএইচডি ছাত্র হিসেবে থাকা, সামনেই কোয়ালিফাইং পরীক্ষা।স্বদেশী অধ্যাপক তাকে ৫০ হাজার ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। সব ফেলে দিয়ে সে আবার নতুন করে স্বদেশে পিএইচডি করতে রাজি শুধু তার ভালবাসার মানুষটির জন্য। তার সাথে ভাল সম্মানি, ক্যানডিডেসির ঝামেলা ছাড়াই পিএইচডি করার সুযোগ। সেই অধ্যাপকই প্রাথমিক সাক্ষাতের জন্য বিমান ভাড়া দিচ্ছে, আজ সকালেই তার রওনা দেবার কথা স্বদেশের উদ্দেশ্যে।
সারপ্রাইজ দেবার জন্য ভালবাসার মানুষটিকে সে জানায়নি, যে ঘরে ফিরছে শুধু তার কথা ভেবেই। ঘটনাক্রমে তার এ ছুটি আর ভ্রমনের মাঝেই ভ্যালেন্টাইন ডে পড়েছে।
- তুমি ভ্যালেনটাইন ডে তে কি চাও আমার কাছে?
- আমি তোমাকে চাই।
-ঠিক আছে আমি তোমার সেটাই পাওয়ার ব্যবস্থা করব।
-আমাকে স্বপ্ন দেখতে বলোনা, ওটা আমাকে কষ্ট দেয়।
-ঠিক আছে, দেখা যাক আমি তোমার কথা রাখতে পারি কিনা।
আমি ফেড কে বললাম, হয় সে অঝোরে কেদে ফেলবে না হলে মূর্ছা যেতে পারে। কথা প্রসঙ্গে সে বলেছিল, ফোনে নাকি সে কান্না কাটি করে। বাকি সব সাদা আর চায়নিজদের মাঝে বিষয়টি দুর্লভ, এটা মাথায় রেখে একটু হতবাক হয়ে কারণ জানতে চেয়েছিলাম।
- শি ইজ গার্ল...ইউ নো...
- ও সরি, আই ফর গট এবাউট দ্যা ফেইমাস ফ্রেঞ্চ লাভ!
আজ ফেডের ফ্লাইট স্বদেশের উদ্দেশ্যে, ভালবাসার উদ্দেশ্যে। তার গলায় ঝুলানো থাকবে একটা ভিডিও ক্যামেরা তারই ভাষ্য মতে। ওটাতে সে ধারণ করবে তার ভালবাসার মানুষটিকে না জানিয়ে হঠাৎ হাজিরা দিবার কারণে দুর্লভ প্রতিক্রিয়াটি। তার চেয়ে বড় কথা, সে জানাতে যাচ্ছে, "আমি তোমার কাছে ফিরে আসতে এসেছি, তোমাকে আর ফেলে যেতে আসিনি।"
বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করলাম। ভালবাসার রেস্তোরা গুলো বাইরে থেকেই দেখলাম। ভিতরে ঢুকে দু টো পদ চেখে দেখার দুঃসাহস বা উচ্চাভিলাষ কোনটাই ছিলনা। তবে কিছু একটা হারাচ্ছি কিনা জাতীয় অনুভবের কার্যকারণ যাচাই করে দেখতে হবে সময় নিয়ে, অন্য কোন কালে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


