আমার প্রিয় পোস্ট
- ঢাকা শহরের আধুনিক ছেলেদের কিছু কর্ম কান্ডের হদিস বুঝতে কস্ট হয়। এর মানে কি? - মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন
- রাইফেল সিরিজ - বিডি ০৮ সাবমেশিন/ মেশিনগান গান - সাধারণমানুষ
- অধিকার বিষয়ে ব্লগের বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন? - ব্রাত্য রাইসু
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- শীতনিদ্রা থেকে ফিরে: পুরাতন কবিতা - মানস চৌধুরী
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- প্রসঙ্গসূত্র জা.বি.: প্রতিরোধ প্রায়শই এনার্কিক; প্রায়শই লাইফস্টাইলে পরিসীমিত; কিন্তু অনেক অপশনও তো খোলা নেই ... - মানস চৌধুরী
- উপমহাদেশে ইংরেজ-রাজের নির্বিঘ্নে রাজত্ব চালাতে একজন গোলাম কাদীয়ানির প্রয়োজন ছিলো ... - বিবেক সত্যি
- একটি বাংলা রচনা: জনসংখ্যা সমস্যা - ফাহমিদুল হক
- সিডনীর ভন্ড আলেম থিকা সাবধান!! - সমালোচনাকারী
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পাকমন পেয়ার: নেকাবের আড়ালে ফিসফাস, এক অদ্ভুত সৎ প্রচেষ্টা! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
সেই বোর্ড স্ট্যান্ড করার যুগের সুখ স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন গুলো
২৭ শে মে, ২০০৯ ভোর ৪:৪০
হুমায়ুন আহমেদের "জীবন কৃষ্ণ মেমোরিয়াল স্কুল" বইটার শেষ পৃষ্ঠায় এসে চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি। পৃষ্ঠাটি পড়লে প্রতিবারই ভিজে যায়। এক নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক অর্থের লোভ উপেক্ষা করে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক কষ্ট করে অজ গ্রামের ধ্বংস প্রায় একটি বিদ্যালয়ে বদরুল নামের এক প্রতিভাধর ছাত্রকে পড়িয়ে ফলাফলের অপেক্ষা করতে থাকেন। কাহিনীতে অনিশ্চয়তা আসে যখন বদরুল পরীক্ষার দিন প্রচন্ড জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়ে, সবাই আশা ছেড়ে দেন। ফলাফলের দিন রেডিও তে উচ্চারিত হয় ঢাকা বোর্ডে বদরুল আলম ২য় স্থান অধিকার করেছে।
অনেক আগে প্রতি বোর্ডের সেরা তিন জনের নাম উচ্চারিত হত রেডিও তে, তার পরে টিভিতে । ঢাকা বোর্ডে এস এস সি তে প্রথম আইডিয়াল স্কুল, এইচ এস সি তে ঢাকা কলেজ। স্ট্যান্ডের ব্যাপারে ঢাকার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল, ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজ গুলোর এক চেটিয়া দাপট। মফস্বলে কেউ স্ট্যান্ড করলে এলাকাবাসী তাকে মাথায় নিয়ে নাচার উপক্রম করত, যেন এলাকার গর্ব। খুব সম্ভব ১৯৯১ সালের এইচ এস সিতে ভয়াবহ একটা ফলাফল হয় ঢাকা বোর্ডে, সেবার ১৮ তম স্থান অধিকারীর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৫২ এবং ১ ম স্থান কারী ৯৯৯ নম্বর পেয়ে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড করে ফেলে। জনশ্রুতি আছে তিনি ১০০০+ পেয়েছিলেন যেটা পরে তিন অঙ্কের ঘরে আনা হয়।
টিভিতে প্রচারিত ১ম স্থান অধিকারীর সাক্ষাৎকার গুলো ছিল দেখার মত। একবার মনে পড়ে বই পুস্তক ঘেরা গ্রন্থাগারে একজনের সাক্ষাৎকার নেয়া হচ্ছিল, তুমি কত ক্ষণ পড়তে দিনে তার উত্তর ছিল, ১৮ ঘন্টা! স্ট্যান্ড করার যুগটাই ছিল এমন, প্রতিটি নম্বরের জন্য যুদ্ধ, প্রতিটি বানান, উত্তর নিখুঁত করার প্রচেষ্টা। যেটার চর্চা আজ আর নেই।
কলেজের শিক্ষক ক্লাশের প্রথম দিনে পরিচয় পর্বে আমাকে যখন জিজ্ঞেস করলেন "লেটার কয়টাতে?" আট টাতে বলতেই তিনি আতকে উঠলেন।
"তুই স্ট্যান্ড করিসনি?"
"না স্যার"
প্রায় সোয়া নয়শ নম্বর পেয়েও আমার প্রাপ্তি ছিল ৭৫০ পাওয়া ছাত্রের সমান, ছয় মাসে ২৫০০ টাকা করে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেতাম উভয়েই। ২ নম্বরের জন্য স্ট্যান্ড করিনি, ২ নম্বরের জন্য বাংলা লেটার পাইনি (পেলে সেটা হয়ত একালের গোল্ডেন এ + এর তুল্য কিছু একটা হত হয়ত!)।
সেকালে মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ছিলনা। বিনোদনের সঙ্গী ছিল পড়ার বই আর খাতা। সময় নষ্ট করিনি এক মুহূর্তও, এতটা পরিশ্রমের পরে মাত্র ২ নম্বরের জন্য ছিটকে গিয়ে অসম্ভব কষ্ট পেয়েছিলাম মনে পড়ে যায়। ব্যর্থতার কষ্টটা এর পিছনে দেয়া শ্রমের সমানুপাতিক, যেটার উপলব্ধি হয়ত আজকের ছাত্ররা করেনা। হয়ত অজ পাড়া গায়ের হত দরিদ্র স্কুলের ছাত্র ছিলাম বলে, ওটা আমার প্রাপ্য ছিলনা।
এত স্মৃতির পরেও আমি জি পি এ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বয়ও ৫ পেয়ে দেশের সেরা ছাত্র হবার সুখে চোখের জল ফেলতে পারছে, এটা তো অসাধারণ পাওয়া। আমাদের সময় সেই স্ট্যান্ড ছিল মফস্বলের জন্য সোনার হরিণের মত সুখ স্বপ্ন যাকে পেতে আমাদের কাটাতে হয়েছিল নিবিড় শ্রম ক্লান্ত দুঃসহ প্রহর গুলো। কারণ অনেকটা নিয়ম মাফিক মুষ্ঠিমেয় সোনার হরিণ গুলো ছিল ঢাকার সেরা স্কুল কলেজ গুলোর জন্য অঘোষিতভাবে বরাদ্দ।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: না জনাব ওটা কৃতিত্ব নয়, ওটা ব্যর্থতা আমার কাছে। ব্যর্থ ফলাফল লাভের পূর্বের ও পরের কষ্টকর অধ্যায় গুলোর স্মৃতি চারণ করতে এসব এসেছে। ধন্যবাদ।
অ্যামাটার বলেছেন:
আমার মনেহয় জোরজবরদস্তি করে রাজা-খাজা একই কাতারে নিয়ে আসার প্রচেষ্টাটা কোনও ভাল কিছু বয়ে আনবেনা আমাদের শিক্ষাঙ্গনে। আগের সেই ছ' বোর্ডের ১২০জন স্ট্যান্ডকৃত বনাম আজকের ৬৮হাজার জিপিএ ফাইভ ধারি; কাগজে কলমে তো সমান!
লেখক বলেছেন: জীবন যুদ্ধ তো আর পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে সীমাবদ্ধ থাকেনা। সামনে আরো বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয় আর সে সব পথই মানুষের জীবিকা নির্ধারণ করে দেয়। ততদিনে পাবলিক পরীক্ষা গুলো শুধুই স্মৃতি আর সার্টিফিকেটের আশ্রয়ে।
রাগিব বলেছেন:
নম্বর পদ্ধতির আরেকটা কুফল ছিলো বোর্ডে বোর্ডে নম্বর বৈষম্য। ঢাকা বোর্ড এবং যশোর বোর্ডে ঢেলে কলসী কলসী নম্বর দেয়া হতো। সে তুলনায় কুমিল্লা বোর্ড/পরে চট্টগ্রাম বোর্ডে নম্বর দিতে শিক্ষকেরা কার্পণ্য দেখাতেন। ফলে ঢাকা বোর্ডের মেধাতালিকার সাথে অন্যান্য বোর্ডের মেধাতালিকার প্রায় ৫০-৭০ নম্বরের পার্থক্য থাকতো। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজিতে ঢাকা বোর্ডে যেখানে অঢেল নম্বর দেয়া হতো, লেটার আসতো, সেখানে কুমিল্লা বোর্ডের ইতিহাসে প্রাক-অবজেকটিভ যুগে কেউ বাংলায় লেটার পেলে রেকর্ড হয়ে যেতো।জিপিএ ফাইভের অন্তত এই দিকটা পালটে দিয়েছে। ঢাকা বোর্ডের কেউ স্ট্যান্ড করতে না পারলেও অন্য বোর্ডের মেধাতালিকায় থাকা অনেকের চাইতে বেশি নম্বর পেয়ে বিশাল গর্ব ও তাচ্ছিল্যের হাসি দেখাতো, (অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একই মানদণ্ডে পেছনে থেকেও), এখন জিপিএ-৫ সবারই সমান।
---
স্ট্যান্ড পদ্ধতির আরেকটা কুফল ছিলো রেজাল্ট কেনা। চট্টগ্রাম বোর্ডের বাণিজ্য বিভাগের এক ছেলে টাকা দিয়ে ফার্স্ট স্ট্যান্ড কিনেছিলো। কয়েক বছর আগে পেপারে তা নিয়ে বিশাল লেখালেখির পরে তার পরিবার আরো টাকা ঢেলে তার জালিয়াতির সব রেকর্ড বোর্ড অফিস থেকেও গায়েব করে দিয়েছিলো। কুমিল্লা বোর্ড ছিলো দুর্নীতির আখড়া -- একজন শিক্ষকের কথা জানতাম যিনি কুমিল্লা বোর্ডে কাউকে স্ট্যান্ড করিয়ে দেয়ার কন্ট্রাক্ট নিতেন বলে জনশ্রুতি ছিলো।
---
তবে, জিপিএ পদ্ধতির কুফল হলো, বার-টা খুব নিচে বসানো, ফলে বিপুল পরিমাণ ছাত্রছাত্রী অল্প পরিশ্রমেই তা ডিঙাতে পারছে। সাধারণত অন্যান্য দেশের জিপিএ পদ্ধতিতে আরো কিছু বার থাকে, যা দিয়ে আরো নিখুঁত বিশ্লেষণ করা চলে।
আশা করি আস্তে আস্তে এই দিকেই যাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।
লেখক বলেছেন: গুরুদেব, সেই ১৯৯৫-১৯৯৬ আমলের নৈব্যক্তিক প্রশ্ন ব্যাংকের কথা মনে আছে? সে সুবাদে একবার ঢাকা বোর্ড যৌথ ভাবে ৪ জন প্রথম স্থান অধিকার করে। ঢাকা বোর্ডে সে আমলে এইচ এস সি তে বাংলা, ইংরেজিতে লেটারের কথা স্মরণ করতে পারিনা। যে প্রথম হত, তারও ৪টায় লেটার থাকত। বোর্ড গত নম্বরের চিরাচরিত তারতম্য কারণটি গবেষণার দাবি রাখে। একই বোর্ডের সকল শিক্ষকের নম্বর প্রদানের একই মানসিকতা কি আবহাওয়া জলবায়ুর দোষে দুষ্ট ছিল কিনা রহস্য!
রাগিব বলেছেন:
৯১ সালের সেই ৯৯৯ প্রাপ্ত ছাত্রটি এখন কোথায়? (রিয়াদ না তার নাম?) ---
স্ট্যান্ড পদ্ধতির সাথে জড়িত একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিলো ৮০ সালের আশে পাশে। সে সময় যে ছাত্রটি অল্প কয়েক নম্বরের জন্য সেকেন্ড হয়ে যায়, সে ফার্স্ট হওয়া তার বন্ধুটিকে অ্যাসিড মেরে অন্ধ করে দেয়। অনেকদিন আগে সেই অন্ধ হয়ে যাওয়া ফার্স্ট স্ট্যান্ড ছাত্রটিকে বিটিভিতে এক অনুষ্ঠানে দেখিয়েছিলো। হয়তোবা কেউ কেউ সেটা দেখে থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনি শিক্ষা জীবনে অল স্কোয়ার প্রথম ছিলেন, বুঝতেই পারছেন প্রথম স্থানটির জন্য কী ভয়াবহ হার্ড কোর, হেভী ওয়েট চ্যাম্পিয়নশীপ হত! ১৯৯১ সালের ঘটনাটি সিনিয়দের মুখে শোনা, বিস্তারিত জানা নেই।
রাগিব বলেছেন:
"একই বোর্ডের সকল শিক্ষকের নম্বর প্রদানের একই মানসিকতা কি আবহাওয়া জলবায়ুর দোষে দুষ্ট ছিল কিনা রহস্য!"এটার ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রশ্ন করলে তাঁরা জানান, নম্বর বেশি দেয়ার নিয়ম/কালচারই কুমিল্লা বোর্ডে ছিলো না। কোনো পরীক্ষক বেশি নম্বর দিলেও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিয়ে দিতো। আমার বন্ধুর বাবা চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহের কলেজে বদলী হবার পরে পুরানো অভ্যাস মতো কিপ্টেমি করে কম নম্বর দিয়ে ঝাড়ি খেয়েছিলেন।
--
"লেখক বলেছেন: সেই ১৯৯৫-১৯৯৬ আমলের নৈব্যক্তিক প্রশ্ন ব্যাংকের কথা মনে আছে? "
প্রশ্ন ব্যাংক কি ৯৫-৯৬ এ ছিলো? যতটুকু মনে পড়ে ৯২ হতে ৯৪ এর এসএসসি প্রশ্ন ব্যাংকে হয়েছিলো। তখনকার সরকারের আহাম্মকীর আরেক উদাহরণ। নমুনা হিসাবে প্রশ্ন ব্যাংক বানানো হলেও অল্প কিছু ছাত্রের আন্দোলন/ভাংচুরের ভয়ে সরকার ৫০০ প্রশ্নের ব্যাংক থেকে ৫০টা প্রশ্ন পরীক্ষাতে দেয়ার সিস্টেম মেনে নিলো -- এতোটা গাধা কোনো দেশের শিক্ষামন্ত্রী/মন্ত্রণালয় হতে পারে, বিশ্বে বোধ করি আর নজির নেই।
আট আনা বলেছেন:
বোর্ড স্ট্যান্ড কৈরা লাভ কি ? কাগজে কলমে সেই স্টার ই থাকে। ১ম গ্রেডের বৃত্তি নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক দেয়া হয়, এজন্য অনেকে স্ট্যান্ড কৈরাও ২য় গ্রেড পায় আবার অনেকে নরমাল স্টার নিয়াও ১ম গ্রেড পায়।৫০০ প্রশ্ন ব্যাংক একটা জিনিষ আসিল ভাই। বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি নির্ধারকরা যে কত বড় বলদ ৫০০ ব্যাংক তার প্রমান। মনে আছে আমগো টাইম থিকা ৫০০ তুইলা দিসিল দেইখা আমরা আন্দোলন করসিলাম।
লেখক বলেছেন: একালের খবর জানেন? ৫ পেলেই প্রথম গ্রেডের বৃত্তি!! এত টাকা কোথা থেকে আসে এখন?
আট আনা বলেছেন:
৯৬ থেকে প্রশ্ন ব্যাংক সিস্টেম তুলে দেয়া হয়।
অ্যামাটার বলেছেন:
"রাগিব বলেছেন:...স্ট্যান্ড পদ্ধতির আরেকটা কুফল ছিলো রেজাল্ট কেনা। চট্টগ্রাম বোর্ডের বাণিজ্য বিভাগের এক ছেলে টাকা দিয়ে ফার্স্ট স্ট্যান্ড কিনেছিলো। কয়েক বছর আগে পেপারে তা নিয়ে বিশাল লেখালেখির পরে তার পরিবার আরো টাকা ঢেলে তার জালিয়াতির সব রেকর্ড বোর্ড অফিস থেকেও গায়েব করে দিয়েছিলো। কুমিল্লা বোর্ড ছিলো দুর্নীতির আখড়া -- একজন শিক্ষকের কথা জানতাম যিনি কুমিল্লা বোর্ডে কাউকে স্ট্যান্ড করিয়ে দেয়ার কন্ট্রাক্ট নিতেন বলে জনশ্রুতি ছিলো।"---এটা কিভাবে সম্ভব?! এখানে অনেক ক্ষেত্রেই জালিয়াতির নজির আছে, যেমন ভর্তি পরীক্ষায়, পিএসসি-র সব ধরনের পরীক্ষায়; কিন্তু শিক্ষা বোর্ডে পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা প্রথম শুনলাম!
তবে জাল সার্টিফিকেট, ভুয়া ট্রান্সক্রিপ্ট; এগুলো মাঝে মাঝে ধরা পরে, কিন্তু খোদ বোর্ডের ভেতর থেকে জালিয়াতি করে ফলাফল বের করে আনা...ভয়াবহ্!
রাগিব বলেছেন:
"এটা কিভাবে সম্ভব?! এখানে অনেক ক্ষেত্রেই জালিয়াতির নজির আছে, যেমন ভর্তি পরীক্ষায়, পিএসসি-র সব ধরনের পরীক্ষায়; কিন্তু শিক্ষা বোর্ডে পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা প্রথম শুনলাম!"@অ্যামাটার - এটা নতুন কিছু না। শিক্ষা বোর্ডে কী রকম দুর্নীতি হতো, তা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের ভুয়া ফার্স্ট স্ট্যান্ড (কমার্সে) এর ঘটনা কিন্তু বেশি দিন আগের না। ৩/৪ বছর হবে। পেপারে বিশাল লেখালেখি হয়েছিলো। ঐ বাটপার ছাত্রকে তার পরিবার অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিয়েছিলো।
আর কন্ট্রাক্টে স্ট্যান্ড করানোটা এক সময়ে ওপেন সিক্রেট ছিলো। আমাদের কলোনীর এক মেয়েকে তার মা (শিক্ষিকা, বোর্ডে ব্যাপক জানাশোনা ছিলো) এসএসসিতে ২য় স্ট্যান্ড করিয়ে দিয়েছিলো। সেটা ৮৫ সালের কথা। বছর দুয়েক পরে বুয়েট/চবি/ঢাবি কোথাওই চান্স টান্স না পেয়ে এক বছর লস দিতে হয়েছিলো তাকে।
রিফাত হোসেন বলেছেন:
১৮ ঘন্টা !তাতে হয় ছাত্র মহাজ্ঞানী না হয় মহা গাধা মার্কা ।
একজন সাধারণ সুস্থ মানুষ ১৮ ঘন্টা পড়াশুনা করেনা । পড়াশুনা তো বাদই দিলাম । মানুষ কাজই করে না । যারা করে তারা বিছানায় যেতে বেশীদিন দেরী করে না ।
আশা করি ঐ ছাত্র যদি সত্যি সত্যিই ঘড় অনুপাতে ১৮ ঘন্টা পড়াশুনা করে তাহলে আহার গ্রহন, কথা বিনিময়, শরীর পরিষ্কার, প্রকৃতির ডাক, হালকা চলাফেরা আর ঘুমায় বা কখন ??? যা ছাড়া মানুষ চলতে পারে না ... যা ঐ ছেলে ৬ ঘন্টায সম্পাদন করে ।
১৮ ঘন্টা চোখ খোলা রাখলে শরীররে তো বারটা বাজার কথা কয়েকদিনে সেই সাথে সব ইন্দ্রিয় জাগ্রত কিভাবে থাকবে ??? তাহলে সে তো মনযোগীই হতে পারবে না ।
সুতরাং সেই সাপেক্ষে অসম্ভব একটা মিথ্যা কথা হিসাবেই ধরা যায় ।
লেখক বলেছেন: ৯৯৯ নম্বর পাবার বিষয়টিও কিন্তু ভীষণ অসম্ভব ব্যাপার, কিন্তু সত্য!
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
রাগিব ভাইয়া , রিয়াদ আঙ্কেল (মোস্তফা মোহাম্মদ রিয়াদ আরেফিন, বাবার কাযিন) বস্টনে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন , পরে ইন্টেলে জয়েন করেছেন। ডাবল রেকর্ড নাম্বার পেয়ে ফার্স্ট ছিলেন , গভর্ন্মেন্ট ল্যাব , পরে ঢাকা কলেজ... সেই ওনাকে নিয়ে আমার ভাইদের (স্কুলের জুনিওর ওরা) এখনো ভাবের কমতি নেই... !আমি জিপিয়ে সিস্টেমের ফার্স্ট ব্যাচ (কুফা ব্যাচ বলা হয় ...) , সকালেও জানতাম না রেসাল্ট টার ফিগার কি হবে ! আমার পরের ভাইটার রেসাল্ট সিস্টেম জিপিএ আবার আমার মত না, তার পরের জনের আবার আমাদের দুইজনের চে আলাদা , ফোর্থ পেপার এড হলো, আর কালকে সবচে ছোট ভাইটার রেসাল্ট হলো... যখন সারাদেশে হাজার হাজার এ প্লাস... ... যেটা আমাদের সময়ে ৭৬ ছিল সারা দেশে !
লেখক বলেছেন: নম্বর পদ্ধতি থেকে গ্রেডিং যেতে শিক্ষকদের মানস পরিবর্তনে সময় লেগেছিল/ লেগেছে। আগে ভাল লিখলে ছাত্রকে ৬০-৭০ দেওয়া হত সাহিত্যে ।এই মানসিকতা পরিবর্তন করে "৮০ দিব না ৮০ কম দিব" তে আনতে সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।
দূরন্ত বলেছেন:
শুনেছিলাম ইন্টারের একজন ফার্স্ট স্ট্যান্ডকে নাসা স্পেস সায়েন্স পড়ানোর জন্য আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিলো। তার সম্বন্ধে কিছু জানা আছে নাকি?
রাগিব বলেছেন:
দূরন্ত বলেছেন: শুনেছিলাম ইন্টারের একজন ফার্স্ট স্ট্যান্ডকে নাসা স্পেস সায়েন্স পড়ানোর জন্য আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিলো। তার সম্বন্ধে কিছু জানা আছে নাকি?--
এই ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। নাসা আমেরিকাতেও কাউকে স্পেস সায়েন্স পড়ানোর জন্য চেষ্টা করে বলে শুনিনি। তার উপরে আবার বাংলাদেশ থেকে কাউকে নেয়াটা অনেক দূরের কথা। ওটা বাংলাদেশের পত্রিকার সাংবাদিকদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে আসতে পারে।
--
আগে অনেক সময় যেটা হয়েছে, স্ট্যান্ড করা কেউ স্যাট দিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছে। ব্যস, ঐ। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে বিদেশেও স্কলারশীপ / অ্যাসিস্ট্যান্টশীপ খুব কম দেয়া হয়।
নর্থপোল বলেছেন:
এখনকার ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সমবেদনা। জিপিএ ৫ পেয়েও যদি কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে টেনশন করতে হয় তাহলে সেই দুঃখ কই রাখি।
রিফাত হোসেন বলেছেন:
৯৯৯ নম্বর পাওয়া টা সম্ভব অসম্ভবের কিছু দেখছি না । সু পথে হোক আর কু পথে হোক আর ভুলেই হোক
লেখক বলেছেন: তাই না? ৯৯৯ তোলা ব্যাপার না! :-)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ষ্ট্যান্ড থেকে ২ নাম্বার কম পাওয়া যদি ব্যর্থতার ইতিহাস হয় ,
আমাদের অনেকেরই কোন ইতিহাসই নেই ।
লেখক বলেছেন: ব্যর্থতা আর সফলতা লক্ষ্যের উপর নির্ভরশীল। আমার পরিচিত একজন ছিলেন ৭৪৯ পাওয়া! ১ নম্বরের জন্য স্টার হয়নি।৭৫০ পেলে সেটা হত তার সফলতা। অথচ ১ নম্বরের জন্য তাকে ব্যর্থতার আক্ষেপ করতে হয়।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
সাঈফ ভাই অনেকদিন পর স্ট্যান্ড করার যুগের কথা মনে করিয়ে দিলেন। আমাদের রাজশাহী বোর্ডে যে ইন্টারমিডিয়েটে ফার্স্ট হত তারও তো চারটার বেশী লেটার থাকত না। ইংরেজী অথবা বাংলায় কোন কোন বছর সারাদেশে এক-দুজন লেটার পেত। আমি তো এসএসসি ৯৬ ব্যাচ । ঐ সময়ই প্রথম ৫০০ প্রশ্নের ব্যাংক তুলে দিয়ে পুরো বইয়ের উপর প্রশ্ন করা শুরু হয়।
এই জিপিএ সিস্টেমটাই ভাল হয়েছে। তবে এটাকে আরেকটু ঠিক করা প্রয়োজন। অনেক বেশী জিপিএ ৫ পায়।
লেখক বলেছেন: ওঁ আঁচ্ছা!
ইসানুর বলেছেন:
সবমিলিয়ে আমার কাছে আগের সিস্টেমের (স্টার, স্টান্ড) চেয়ে বর্তমান সিস্টেমকেই (জিপিএ) অধিকতর ভাল মনে হয়েছে। তবে বর্তমান গ্রেড পয়েন্টের একটু পুর্নবিন্যাস জরুরি। সেটা এরকম হতে পারেঃ
৯০-১০০ = এ+
৮০-৯০= এ
৭০-৮০= বি+
৬০-৭০= বি
৫০-৬০= সি+
৪০-৫০= সি
৩৩-৪০= ডি
অথবা এরকমঃ
৯০-১০০ = এ++
৮০-৯০= এ+
৭০-৮০= এ
৬০-৭০= এ- (যদিও এখানে মাইনাস শব্দটা ভাল লাগতেছেনা)
৫০-৬০= বি
৪০-৫০= সি
৩৩-৪০= ডি
ফয়সালরকস বলেছেন:
ছেলেটির নাম ছিল রিমন। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটেরি হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। পরে ঢাকা কলেজ। এখন সময় নেই। পরে লিখব আশা করি। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ রিমনের কথা মনে করিয়ে দেবার জন্য।
মেঘলা মানুষ বলেছেন:
হুমম...মানুষ তখন স্ট্যান্ড করার জন্য মাথা খারাপ করে ফেলত।
যাই হোক, শিক্ষাব্যবস্থা একটা গিনিপিগ আমদের দেশে, কি আর বলব।
আবার শুনতেছি একমুখি শিক্ষা চালু করবে। বহুত যন্ত্রণা।
আবার এসবিএ এর নামে স্কুলের শিক্ষকদের হাতে নাম্বার দেবার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কতটা নিরপেক্ষভাবে নাম্বার দেয়া সম্ভব হবে কে জানে।
পত্রিকায় পড়েছিলাম, শিক্ষকরা এসবিএ এর কম নম্বরের ভয় দেখিয়ে ভিআইপির আগমন উপলক্ষে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন।
নিশ্চিত করতে হবে এসবিএ নম্বরের ভয় দেখিয়ে যেন প্রাইভেট বাণিজ্য শুরু না হয়।
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
"নম্বর পদ্ধতির আরেকটা কুফল ছিলো বোর্ডে বোর্ডে নম্বর বৈষম্য। ঢাকা বোর্ড এবং যশোর বোর্ডে ঢেলে কলসী কলসী নম্বর দেয়া হতো। সে তুলনায় চট্টগ্রাম বোর্ডে নম্বর দিতে শিক্ষকেরা কার্পণ্য দেখাতেন। ফলে ঢাকা বোর্ডের মেধাতালিকার সাথে অন্যান্য বোর্ডের মেধাতালিকার প্রায় ৫০-৭০ নম্বরের পার্থক্য থাকতো। বিশেষ করে বাংলা ও ইংরেজিতে ঢাকা বোর্ডে যেখানে অঢেল নম্বর দেয়া হতো, লেটার আসতো, সেখানে চট্টগ্রাম বোর্ডের ইতিহাসে কেউ বাংলায় লেটার পেলে রেকর্ড হয়ে যেতো।" - খুবি সত্যি কথা। এই ফাউলামির জন্য চট্টগ্রাম বোর্ডের ছেলেপুলের ভর্তি পরীক্ষায় খুবি সমস্যায় পড়তো।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
সেই দু নম্বর পিছিয়ে লক্ষ্য ছুঁতে না পারাটা কি সবসময় খারাপ ছিল? না পাওয়ার কষ্ট থেকেও তো অনেক সময় আরো দৃঢ়তা তৈরী হয়, যা হয়তো পরবর্তীতে কাজে লেগেছে। এটা বেশ বলেছেন সফলতা এবং পরিশ্রম সমানুপাতিক.......সেই সাথে লক্ষ্য স্থির।
সব মেধাবীদের মাঝে এসে এত কথা বলা জুতসই হচ্ছে না, প্রথম কাতারে কখনোই ছিলাম না।
লেখক বলেছেন: হুমম ভালই কাজে লেগেছে, দেখতেই তো পাচ্ছেন। মানসিক রুগী সাঈফ শেরিফ কে এখন পাগলা গারদে নিয়মিত হাজিরা দেয়া লাগে, ঔষধ খাওয়া লাগে ব্লগারদের চাপে পড়ে। যে ৫৯৮ পেয়েছে, সে মাত্র ২ নম্বরের জন্য ১ম শ্রেণী বঞ্চিত হল, কষ্টটা বুঝাতে পারলাম?
সোজা কথা বলেছেন:
লেখাটিতে "আমি" এবং "আমার" একটু বেশী থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক ভাবে ভাল লেগেছে। আমার মতে স্টার স্ট্যান্ডের ধারা থেকে বের হয়ে গ্রেডিং এ আসাটা আমাদের শিক্ষায় বেষম্য দুরীকরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি (ইংরেজি মিডিয়ামের আর মাদ্রাসার শিক্ষার অপবিস্তার না ধরলে) । স্ট্যান্ডের আরেক কালো অধ্যায় ছিল ক্যাডেটীয়দের রাজত্ব ( ক্যাডেট কলেজের কেউ দু:খ পেলে দু:খিত) । বিশেষত: ৮০ র দশকে "বীরশ্রেষ্ঠ ছিনতাইয়ের" মত সেনাকিন্ডারগার্টেন ক্যাডেট কলেজগুলো মেধাতালিকা ছিনতাইয়ে মত্ত হতো প্রতিবছর। সামরিক থেকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যাডেটের ফলাফলের আকাশ পাতাল তফাৎ সেসময় কার অনিয়মকে প্রমাণিত করে। এখন সপ্তম শ্রেণীর কতজন ছাত্র ক্যাডেটে ঢোকার জন্য জীবন দেয়?
সেই সময়ে মেধাতালিকা ছিল "মেধা সেলিব্রেটিদের" ফ্যাক্টরী। পত্রিকায় প্রথম পাতায় মেধাবীদের সাজানো "শেরেবাংলার জীবনী" স্টাইলে বর্ণনায় সাক্ষাৎকারে ভরে যেত। গৃহশিক্ষকের সাজানো সাজেশন গিলে, অনেকে ভাল ফলাফল করলেও হড় হড় করে বানানো কথা বলতো, তাদের মা বাবাই প্রেরণা, কোন গৃহশিক্ষকের কাছে যেতে হতো না। বঙ্গভবনে মেলা বসতো। টিভিতে সেকি আয়োজন। কিন্তু পরে দেখেছি স্টার স্ট্যান্ড বিষয় না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক মেধাতালিকার লোক মিশে গেছে সাধারণ ছাত্রের তালিকায় । কিন্তু মজার বিষয় হলো সম্ভবত ৮৯ সালে নটরডেম কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগের একজন স্ট্যান্ড করা ছাত্র মূল তালিকায় অকৃতকার্য হয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকার খবর অনেককে বিস্মিত করেছিল।
যা হোক, আমি মনে করি যে এখন কার পদ্ধতিটি অনেক সুস্হ। এখন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে কঠোর গ্রেডিং দিয়ে ছাত্রদের কে ঝরে পড়তে দিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার মানে হয় না। বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছনে ব্যয় বৃদ্ধি এবং গুণগত উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে গেলে আমাদের শিক্ষার উন্নতি অনিবার্য।
ধন্যবাদ সাঈফ শেরিফ!
লেখক বলেছেন: ব্লগটা অনেকটা নিজের দিনলিপি, স্মৃতি লিপির মতন! তাই "আমি" বা "আমার" কে কেন্দ্র করে কিছু অসুখকর স্মৃতিচারণ করলাম, এখানে দাম্ভিকতা রাখিনি, স্মৃতি চারণে শুধুই কষ্টের ক্লেদ। সমস্যা হল যে ছেলেটি এম আই টি তে পড়ে, তার এম আই টি পাঠের নিরীহ সত্য টুকু প্রকাশই অনেকের কাছেই "দাম্ভিকতা" হয়ে যায়।
আমাদের সময়ে যশোর বোর্ডের ২ য় স্ট্যান্ড ৯৪২ পাওয়া ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পুরোপুরি ঝরে যায়। কুমিল্লা বোর্ডের ১ম স্থান কোন রকম ১ম শ্রেণীতে পাশ করে।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
কষ্টটা না বোঝার মত নয়, কাজেই বুঝতে পেরেছি। একই রকম যে আমার ও হোত না তা ও নয়।এটাকে অন্যদিকেও সরিয়ে নেয়া যেত সেটুকু বলার চেষ্টা করছিলাম, মন থেকেই মানসিক সমস্যা, কাজেই মনটাকে যেদিকে চালাবেন সেদিকেই চলবে। আমরা যা পাইনি তা থেকে যা পেয়েছি সেটাকে একটু বড় করে দেখলে মনটা একটু আরামে থাকে। মন কষ্টে থাকলে তার জন্য অষুধ খাওয়া দোষের কিছু নয়।
যা কিছু না পাওয়া বিবেচনা করলে তার পেছনে নিজের দোষগুলোই খুঁজে পাই, তাই কখনো ভাগ্য নামক বিষয়টাকে দোষ দেয়া হয় না। পরের বার সাবধান থাকি যেন ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।
আপনার গবেষণা কেমন চলছে? আর কতদিন?
লেখক বলেছেন: মানসিক বার্ধক্য যেখানে জীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ সেখানে ভিক্ষাজীবীদের ক্লান্তি থাকতে নেই। তাই 'কতদিনে'র অপেক্ষা একদিন হয়ত ফুরোবে, সে আশায় দিন যাপন করতে পারিনা।
রাগিব বলেছেন:
@সোজা কথা সেরকমই, কুমিল্লা বোর্ডের ফার্স্ট স্ট্যান্ড একবার চট্টগ্রাম কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় টেকেনি বলে শোনা যায়।
বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এরকম আরেকটা অভিজ্ঞতা হয়েছিলো। ভর্তি পরীক্ষার সিরিয়াল নাম্বার হতো পদার্থ, গণিত ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। সেই হিসাবে সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া ছিলো যে, তাকে কখনো কোচিং এ দেখিনি। পরীক্ষার আগে গল্প ছলে জেনেছিলাম, সে আগের ব্যাচের। এবার ২য়বার পরীক্ষা দিচ্ছে। নম্বর যা, তাতে বোঝাই যায়, প্রথম দিকেই স্ট্যান্ড করা। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় হই হই পড়ে গিয়েছিলো, সিরিয়াল ১ধারী ছাত্রটি ওয়েইটিং লিস্টে থাকায়।
এসএসসিতে স্ট্যান্ড করে অনেকেই কলেজে আমি কী হনু রে (আকীহরে) হয়ে পড়তো। আমাদের ব্যাচে কুমিল্লা বোর্ডের বেশিরভাগ স্ট্যান্ড চট্টগ্রাম শহর বা তার আশেপাশের এলাকা থেকে এসেছিলো (ঘটনাচক্রে ক্যাডেট একেবারেই নাই, মোটে ২/৩ জন)। কিন্তু কলেজে উঠে আকীহরে সিনড্রোমে ভুগে গর্বের ঠেলায় এরা অনেকেই ঝরে গিয়েছিলো, এইচএসসিতে একেবারে সাধারণ এমনকি খারাপ ফলও করেছিলো।
--
"সেই সময়ে মেধাতালিকা ছিল "মেধা সেলিব্রেটিদের" ফ্যাক্টরী।"
- আসলেই। এরশাদের আমলে একবার (সম্ভবত ৮৫ সালে) স্ট্যান্ড করাদেরকে সরকার থেকে মটরসাইকেল দিয়েছিলো!! এরশাদের স্টান্টবাজী আর কি। মেধা তালিকায় ১ বা ২০ স্থান অধিকারী ছাত্রদের মধ্যে মেধার ব্যবধান অল্পই। কিন্তু "আমি ফার্স্ট স্ট্যান্ড", "ও ২০তম স্ট্যান্ড" এসব কৃত্রিম শ্রেণীবিভাগ তৈরী হয়ে যেতো। আরো অদ্ভুত ছিলো "মেয়েদের মেধাতালিকা" জাতীয় জিনিষ, এবং তার সাথে সাথে পেপারে ছবি সহ বিজ্ঞাপণ দেয়া ("কৃতী ছাত্র", তাতে বাপ, মা, ভাই/বোন, এমনকি নানা, দাদাদেরও বিস্তারিত বর্ণনা থাকতো)।
--
দেশের জন্য আখেরে এরকম স্ট্যান্ড করা-ফরা "ভালো ছাত্র"রা অত্যন্ত ক্ষতিকর। "ভালো" ছাত্ররা দেশের জন্য কমই কাজ করে থাকে, বরং প্রচন্ড স্বার্থপর হয়ে থাকে। ১০০টা "ভালো" ছাত্রের বদলে দেশের দরকার ১টা ভালো মানুষ। ভালো ছাত্রদের পক্ষে ভালো মানুষ হতে পারাটা অনেক কঠিন।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
এভাবে বলেন কেন? আমার কাছে তো গবেষণা একটা আনন্দের ব্যাপার, নতুন নতুন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন, যখন সমস্যার সমাধান করছেন, সেটার আনন্দ কে কি ভিক্ষাজীবীর রুটিন কাজ মনে হয়? এ তো সৃষ্টির আনন্দ!সকলেই ভিক্ষাজীবী, আপনি আপনার কাজকে ভালবাসেন অবশ্যই ভালবাসেন, সেজন্যই সফল হন। সেটাকে এমন করে না বললে হয় না?
মানসিক বার্ধক্য কথাটিতেও আমার আপত্তি। আমি বলি মানসিক পরিপক্কতা, জ্ঞানের বৃদ্ধি, দিন যায় আমরা সম্মৃদ্ধ হই।
অপেক্ষা তো সফলতার আরেকটি সোপান পেরুনোর, সে আশায় ও আনন্দ।আনন্দের সাথে অপেক্ষা করুন।
লেখক বলেছেন: স্ট্যান্ডের থেকে আজকের ৬০০০০ এ+ ই ভালো। অতীতের স্মৃতি চারণ করছি, আপনি এসে দিলেন ছাই ঢেলে। ![]()
স্ট্যান্ডধারীরা তাদের মেধার মান ও সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি, এ+ ধারীরা পারবে আশা করি। সরাসরি বলুন, পাবলিক পরীক্ষা গুলোর পদ্ধতিতে মুখস্থ বিদ্যা ছাড়া সৃজনশীলতার স্থান নেই। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় স্থানধারীদের যে কথা বলছেন "যারা স্ট্যান্ডই করেনি" তাদের অনেকেই দেখেছি গণিতে দুর্দান্ত পারদর্শী হলেও প্রযুক্তির বিষয় ইংরেজিতে দু কলম লিখতে দিলে, কলম ভেঙ্গে ফেলছে। ওদের সবাইকে দেখি শুধু অংক করতে চায়/ভালবাসে, দু কলম আর্টিকেল/ন্যারেশন লিখতে দিলে অস্বস্তিবোধ করে। শুধু "গণিত" পারা বা "এনালিটিক্যাল স্কিল" থাকাটাই যদি ভাল ছাত্রের/ভাল মানুষ হবার চরম নমুনা হয়, তাহলে আর বলার কিছু নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে ঢাকার ছেলেমেয়েদের এবং ঢাকার বাইরের ছেলেমেয়েদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে বেশ একটা পার্থক্য দেখা যায়। আমি দেখেছি ঢাকার ছেলেমেয়েরা মফস্বলের ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেসিকের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকে। এটা হয়তো স্কুলগুলোর পাঠদানের পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে হয়ে থাকে। পরে অবশ্য লেভেল ঠিক হয়ে যায়।
মেধাতালিকায় যে মেয়েগুলোকে দেখতাম, এদের বেশীর ভাগই শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যেত।
লেখক বলেছেন: তাহলে কি দাড়াল? গ্রেডিং পদ্ধতিতে ৬০০০০ এ + ই যুক্তি যুক্ত। স্ট্যান্ডধারীদের হারিয়ে যাবার কারণ অতিরিক্ত আত্ম বিশ্বাস।
সিংহ বলেছেন:
রাগিব বলেছেন: "ভালো" ছাত্ররা দেশের জন্য কমই কাজ করে থাকে, বরং প্রচন্ড স্বার্থপর হয়ে থাকে। ১০০টা "ভালো" ছাত্রের বদলে দেশের দরকার ১টা ভালো মানুষ। ভালো ছাত্রদের পক্ষে ভালো মানুষ হতে পারাটা অনেক কঠিন।"well said
বেশীসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের এ+ দেয়াটা কতটা যুক্তিসংগত সেটাই হয়তো আপনি বলতে চাচ্ছেন, আমি সে ব্যাপারে সন্দিহান।
তবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে যে ১ম, ২য়.........এসব ব্যাপার নাই, এটা ভাল লাগে।
শুধু এস এস সি বা এইচ এস সি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মূল্যায়নের ব্যাপারেও গ্রেডিং সিস্টেমটা বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর জন্য উপযোগী। একটা রেঞ্জের ভিতরে সবাই একই যোগ্যতার।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে বাইরের বৃত্তিগুলো পাওয়ার ব্যাপারেও ৮০%-এর উপরে মার্কস পাওয়া লাগে, অথচ ঢাবিতে বা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০% মার্কস তোলাও অনেক কষ্টসাধ্য, সেক্ষেত্রে বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে সুবিধা হচ্ছে। মাঝখানে আমরাই ভুক্তভোগী হয়েছি।
লেখক বলেছেন: ঢাবির বিষয়টা জানিনা । তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েশন শেষে নিজেদের মেধা তালিকা পেয়েছি ট্রান্সক্রিপ্টে। ডিপার্টমেন্টে ১৩৩ ছাত্রের মাঝে এ মেধা তালিকা দেয়া হত সি জি পি এ সহকারে। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ক্লাশের মেধা অবষ্থান টা অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। ধরুন ঢাবির সেরা ছাত্রটি ৭০% পেয়ে প্রথম হল, তারপরেও তার শতকরা নম্বরের চেয়ে মেধা স্থানটাই মুখ্য বলে মনে হয়েছে আমার। বিপুল সংখ্যক ৮০%-৮৫% পেলেও দেখবেন তাদের টানছেনা, কারণ তাদের মেধা অবস্থান ২০-২৫ এর ঘরে। বাইরে বৃত্তির ক্ষেত্রে মেধা স্থানটার ভূমিকাই বেশি চোখে পড়েছে।
সেই সব স্ট্যান্ড করা দিন গুলো!
জিপিএ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন!
১০০তে ৮০ আর ৯৫ কখনোই সমান হতে পারে না!
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন:
"রাগিব বলেছেন: দেশের জন্য আখেরে এরকম স্ট্যান্ড করা-ফরা "ভালো ছাত্র"রা অত্যন্ত ক্ষতিকর। "ভালো" ছাত্ররা দেশের জন্য কমই কাজ করে থাকে, বরং প্রচন্ড স্বার্থপর হয়ে থাকে। ১০০টা "ভালো" ছাত্রের বদলে দেশের দরকার ১টা ভালো মানুষ। ভালো ছাত্রদের পক্ষে ভালো মানুষ হতে পারাটা অনেক কঠিন।"একদম খাঁটি কথা কইছেন বস। বেশীরভাগ পোলাপাইন দেশের বাইরে গিয়ে নিজের আখের গোছাতে এবং সেখানে কিভাবে স্হায়ী হওয়া যায় সেই চিন্তায় থাকে। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ভালো ছাত্রদেরও দেখেছি এই গরীব দেশ যে অনেক কিছু দিয়েছে তাকে, দেশের জন্য যে কিছু করা উচিত, এই চিন্তাই অনেকের মাথায় আসেনা। (আপনার মতো ব্যতিক্রমদের সালাম)
আরজু বলেছেন:
রাগিব ভাই বলেছেন:দেশের জন্য আখেরে এরকম স্ট্যান্ড করা-ফরা "ভালো ছাত্র"রা অত্যন্ত ক্ষতিকর। "ভালো" ছাত্ররা দেশের জন্য কমই কাজ করে থাকে, বরং প্রচন্ড স্বার্থপর হয়ে থাকে। ১০০টা "ভালো" ছাত্রের বদলে দেশের দরকার ১টা ভালো মানুষ। ভালো ছাত্রদের পক্ষে ভালো মানুষ হতে পারাটা অনেক কঠিন।
আমার অনেক প্রিয় বন্ধু আছে বুয়েট এর তারপর ও বলছি বেশিরভাগ বুয়েটিয়ান কে আমার মনে হয়েছে দেশের জন্য জন্জাল ।ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে ,তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কম
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
বুয়েটের ছাত্রদের খুব বড় একটা অংশ গণিত ছাড়া অন্য কিছুতে স্বস্তি পায়না, তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান, চেনা জানার পৃথিবীটা গণিতেই সীমাবদ্ধ। শুধু গণিত পেরে ভর্তি পরীক্ষায় টেকাটা ভাল ছাত্রের পরিচায়ক হতে পারেনা। আজকে যারা স্ট্যান্ডকে "ভুয়া/ফাউল" বলছেন তারা মূলত মেধা তালিকা করার বিরোধী, যত দূর জানি ভারতেও এমন মেধা তালিকা হয় পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে। তাদের মতে. মেধা তালিকায় যেতে তোতা পাখির মত মুখস্থ ছাড়া আর কিছু লাগেনা।উনারা ভুলে যাচ্ছেন, তোতা পাখি বা অ-সৃজনশীল বিদ্যার চল পাবলিক পরীক্ষা গুলোতেই সেটা যে পদ্ধতিতেই (গ্রেডিং/নম্বর) হোক। আমরা যারা মেধা তালিকায় স্থান পাইনি, তারা "আঙ্গুর ফল টক" বলে স্ট্যান্ড করাটাকে হেয় করবো যে ওটা যারা পেয়েছে তারা 'সবাই' ঝরে পড়েছে, তারা সবাই অসৃজনশীল 'তোতা পাখি' ইত্যাদি। কিন্তু সব স্ট্যান্ডধারীদের বেলায় কি এটা খাটে?
--- সহমত।
পরীক্ষাপদ্ধতি সৃজনশীল হলেই আসলে প্রকৃত মেধাবীদের খুঁজে বের করা যেত। এর সাথে তুলনামূলক গ্রেডিং পদ্ধতি হলে সেটা আরো ভালো হত -- কোরিয়াতে যেটা দেখছি, যদিও শিক্ষকদের জন্য কিছুটা জটিল।
তুলনামূলক গ্রেডিংয়ে ভাল পরীক্ষা দিলেই বা নির্দিষ্ট লেভেলের চেয়ে বেশী নাম্বার পেলেই এ+ পাওয়া যায় না। আবার ১০০ তে ২০ পেলেও এ+ পাওয়া যেতে পারে। সেটা ডিপেন্ড করে প্রশ্ন কতটা সোজা বা কঠিন হলো, কতসংখ্যক ছাত্র কেমন পরীক্ষা দিলো। তবে আমাদের বৃহৎ পরিসরে এই সিস্টেম চালু করতে আরো গুছিয়ে করা লাগবে।
"আমরা যারা মেধা তালিকায় স্থান পাইনি, তারা "আঙ্গুর ফল টক" বলে স্ট্যান্ড করাটাকে হেয় করবো যে ওটা যারা পেয়েছে তারা 'সবাই' ঝরে পড়েছে, তারা সবাই অসৃজনশীল 'তোতা পাখি' ইত্যাদি। "
-- সবাই ঝরে পড়ে একথা তো কেউ বলেনি।আর সব স্ট্যান্ডই যে ঝরে পড়ে না, তার নজির তো উপরেই আছে। কেউ কেউ তো অবশ্যই মেধাবী। তবে ২০ জনের সবাই যে বাকী আর সবাই যারা ৮০০ / ৮৫০/ ৯০০ পায় তাদের থেকে বেশী ভাল, সেটাও ঠিক না।
৮০০ / ৮৫০ /৯০০ যারা পায়, তাদের জানা বা বোঝার লেভেল কাছাকাছিই থাকে, পার্থক্য থাকে শুধু কে কতটা শুদ্ধভাবে হুবহু লিখে আসতো পারলো, কার উত্তর কতটা গুছানো, মানে পরীক্ষার খাতায় উপস্থাপনাটা কতটা ভাল হয়েছে। এদিক থেকে গ্রেডিং পদ্ধতি ভাল।
তবে আধুনিক গ্রেডিং সিস্টেমকে আরেকটু ঘষা-মাজা করা দরকার।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
রাগিব ভাই বলেছেন "১০০টা "ভালো" ছাত্রের বদলে দেশের দরকার ১টা ভালো মানুষ।" বস একদম খাটি কথা। তবে আমার মনে হয় কি বস, সাদা পাঞ্জাবিতে দাগ পড়লে যেমন সবাই দেখে থিক তেমনি বুয়েটের ছেলেরা একটু খারাপ করলেই লোকের চোখে লাগে। বুয়েটের ছেলেরা একটু নাকঊচা সত্য কথা-বাট তারজন্য সমাজের প্রত্যাশিত একটু অন্যরকম ভালো চোখে দেখাই দায়ী। একটা মজার ঘটনা মনে পড়ল-লায়ন ভাই+অপি আপুর বেপারটা নিশ্চয়ই অনেকেই জানে। যাইহোক তখন এই বেপারটা পেপারে আসার ১/২ দিন পর আমি এক প্রাইভেট সিনিয়র ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম আমার নিজের প্রবলেমে।উনি যখন শুনলো আমি বুয়েটের ছাত্র তখন বললঃ
ডাক্তারঃ তোমাদের অপি-লায়নের বেপারটা কি?
আমিঃ আপনার মতামত কি?
ডাক্তারঃ লায়ন তোমাদের ভিপি না।
আমিঃ হ্যা।
ডাক্তারঃ তাহলেই অপির দোষ।বুয়েটের এতগুলো মেধাবি ছেলে তো একটা খারাপ ছেলেকে ভিপি করবে না। যত দোষ এইসব মেয়েদের। হাবিজাবি(টা'ম টা আমার মনে নেই) টাইপ মেয়ে ভালো ছেলেদের মাথা নস্ট করে।
আমার তখন বুয়েটের অহংবোধের জোয়াড় আসল।লায়ন ভাই আমার ব্লকের আমি লায়ন ভাই পাগল জেনেও ডাক্তারের কথার প্রতিবাদ করলাম না।বুয়েটের ছেলেদের জয়গান শুনলাম।
বুয়েটের ছেলেরা অনেক বেশি নিজের মধ্য লুকিয়ে থাকে তাই যারা পাশ করে দেশে থাকবে বলে ভাবে বাস্তব জীবনের চাকুরির সাথে নিজের পড়ুয়া অথবা নিজের জগতের মনকে মিলাতে পারে না তখনই বাহিরে চলে যায়,শুধু থেকে যায় যাদের ক্যালকুলেশন মিলে না।
আর বাহিরের ভা'সিটির প্রচুর ছেলে মেয়ে বাহিরে গিয়ে সেটেলড হচ্ছে এবং রাতারাতি দেশকে ভুলেও যাচ্ছে। আমি একটা ঊদাহরণ দাওয়ার ইচ্ছা ছিল বাট বাদ দিলাম।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
বুয়েটের অনেক ছেলেরা যেমন অংকে ভাল ইংরেজীতে কাঁচা, আবার অংক- ইংরেজী দুটোতেই তুখোড় এমন ও তো আছে অনেক। মেধাস্থানের লেভেলটা একই জায়গায় অনেকেরই থাকে না, সেটা প্রমান করে না ছাত্রটি মেধাবী নয়, হয়তো তার পরিশ্রম, অধ্যাবসায়ের ঘাটতি হয় পরবর্তিতে। বেসিক নলেজ ভাল না হলে ও টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়ে উচ্চ শিক্ষার স্তরে যেয়ে।
আর বৈদেশিক বৃত্তিতে মেধাস্থান ছাড়াও একটা মিনিমাম লেভেলের নম্বর থাকতে হয় বলে আমার ধারনা। শিক্ষকদের খামখেয়ালীতে যারা ভুগেছেন কারা জানেন।
চরিত্রহীণ বলেছেন:
এইখানে কয়েকটা জিনিষ যোগ করতে চাই....১।গ্রেডিং পদ্ধতির কিছু সংস্কার অবশ্যই দরকার।
২।"শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: বুয়েটের অনেক ছেলেরা যেমন অংকে ভাল ইংরেজীতে কাঁচা, আবার অংক- ইংরেজী দুটোতেই তুখোড় এমন ও তো আছে অনেক। "".... সহমত । এরকম অনেক আছেন।
৩।@রাগিব: ৯১' এ ৯৯৯ পাওয়া ঐ ছাত্র রিয়াদ নাম। সে ডিজাইন আর্কিটেক্ট হিসেবে আছে ইন্টেলে । এম এস সি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। (পি এইচ ডি করেননি তাই ব্যাপারটা উল্লেখ করলাম)। বছর ৩ আগে বুয়েট এর তরিৎ কৌশল ডিপার্টমেন্ট এর টী রুমে একটা মিনি সেমিনার এ দেখা হয়। ..... সত্যি বলতে কি খুব অসম্ভব মেধাবি কিছু মনে হয়নি
অবশ্য আমি বুয়েটিয়ান বলে হয়তো তার সাথে অনেক্ষণ নানারকম গবেষণামূলক বিষয় নিয়ে আলোচনার পরও তাকে যে কোনো রেগুলার বুয়েট গ্র্যাজুয়েটের চেয়ে বেশী মেধাবী কোনো অংশেই মনে হয়নি। আমার এই বক্তব্যে আমি কনফিডেন্ট। ও আরকটা ব্যাপার তিনি কিন্তু বুয়েটিয়ান নন। তার পড়াশোনা আমেরিকাতেই। তার ইন্টেল সিনিয়র কয়েকজন বুয়েটিয়ান ও তখন ঐ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। এত কথা বললাম এই জন্য যে আমি অন্য অনেকের মত একমত যে তথাকথিত স্ট্যান্ড করা-- খুব অস্বাভাবিক নাম্বার-- পেলেই অস্বাভাবিক মেধাবী কথাটি সত্যি নয়।
মেধার সংগা অনেক ব্যাপক তাই ঐদিকে আর গেলামনা। শুধু এইটুকু বুঝি যে, যদি ফলাফল বিবেচনায় মেধা বিচার করি তাহলে এর রেঞ্জ একটু বিস্তৃত করে করা উচিৎ।
**** লেখাটি পড়ে নিজের জীবনের অনেক দুঃখের কথা মনে পড়ে যাওয়াতে আবেগপ্রবণ হয়ে মনে হয় একটু বেশি কথা বলে ফেললাম
"সেকালে মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ছিলনা। বিনোদনের সঙ্গী ছিল পড়ার বই আর খাতা। সময় নষ্ট করিনি এক মুহূর্তও, এতটা পরিশ্রমের পরে মাত্র ২ নম্বরের জন্য ছিটকে গিয়ে অসম্ভব কষ্ট পেয়েছিলাম মনে পড়ে যায়। ব্যর্থতার কষ্টটা এর পিছনে দেয়া শ্রমের সমানুপাতিক, যেটার উপলব্ধি হয়ত আজকের ছাত্ররা করেনা।".................সহমত .
নাহিন বলেছেন:
আমার মনে হয়, যতক্ষণ শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং মূল্যায়ণ পদ্ধতি এক, ততক্ষণ রেজাল্ট শিটে মার্কস আসলো না লেটার গ্রেড আসলো এইটার তেমন কোনো গুরুত্ব নাই। কারণ, ঢাকার মুষ্টিমেয় ভালো স্কুল-কলেজ গুলোর সাথে ঢাকারই বাকি স্কুল গুলোর মানের যে ফারাক- মফস্বল কিংবা গ্রামের স্কুল গুলোর সাথে তুলনা আমি করলাম না। এই তারতম্য থাকার পরেও যদি একি মানদন্ডে মাপা হয়, সেখানে যা রেজাল্ট আসে সেটা কতখানি গ্রহনযোগ্য সেটাই প্রশ্ন করা উচিৎ না?
তারপরও, প্রথম ব্যাচের গিনিপিগ বলেই কিনা জানি না, আমার কাছে স্ট্যান্ড সিস্টেমটাই বেশি পছন্দ ছিলো। তাতে অন্তত আমি জানতাম আমার অবস্থান আদতে কোথায়। গনহারে এককাতারে আরও দেড় হাজার স্টুডেন্টের সাথে দাঁড়াতে আমার আপত্তি তখনও ছিলো এখনও আছে।
লেটার গ্রেড কিভাবে মেধার মূল্যায়ণ ভালোভাবে করে আমি তখনও বুঝিনি, এখনও বুঝি না। অন্তত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়?
একটা সাধারণ হিসাব বলি, একজন শিক্ষক একট ছাত্রকে ষাট-পয়ষট্টি পর্যন্ত পাওয়ায় দিতে পারেন, কিন্তু তার পরে ছাত্রের মেধা, সৃজনশীলতা কিংবা তোতা পাখির মত মুখস্ত করার ক্ষমতাই ভরসা। যে যেটা ব্যবহার করে ভালো করতে পারে।
যখন মার্কস ছিলো, তখন স্পেলাইজেশনের ব্যাপারটা চলে আসতো, সবাই তার পছন্দের সাবজেক্টে ভালো করে মার্কস তুলে আনতো। মোটামুটি ভাবে কাছাকাছি মার্কসের ছাত্র কে কাছাকাছি মেধার ধরা যেত।
লেটার গ্রেডে, স্পেশালাইজাশনটা থাকলে না। সব জেনেরালাইজড হয়ে গেলো। ম্যাথ যতই ভালো পারো না কেন, যতই ভালো লাগুক না কেন, আশির পরে আর দেরকার নেই। সেই বাড়তি এফোর্টটা অন্য সাবজেক্টে দাও। ফলাফল, আমরা যে কয়টা তুখোড় স্পেশালাইজড ছাত্র পেতাম, অলরাউন্ডার পাওয়ার চক্করে সেটাও হারালাম।
এর সরাসরি প্রভাব আমাদের ভার্সিটি ভর্তির উপরে পড়লো- সব অলরাউন্ডার থেকে বেছে নেয়া ছাত্র আমরা। ফিজিক্সের ওস্তাদ ছাত্র গিয়ে পড়লো কেমিস্ট্রিতে, ম্যাথের বিশেষজ্ঞ গিয়ে এ্যাপলায়েড কেমিস্ট্রি। লাভের লাভটা কি হলো?
সরকার প্রচুর পরিমাণ ধূলা আমাদের চোখে এমনিতেই ঢালে, আমরা নিজেরা আরও না ঢালি?
আর, গ্রেডিং পদ্ধতি যতই পাল্টাক, মণ দরে এ+ পাওয়া ঠেক দেবে না কোন সরকারই। সুতরাং, যে লাউ, সে কদুই থাকবে।
যা হোক, অন টপিক, আপনার স্মৃতিকথা পড়ে নিজেটাও মনে পড়লো। ইন্টারের আগে শেষ তিন মাস দিনে ১৮ ঘন্টা আমি নিজেই পড়েছি। ফোবিয়া হয়ে গিয়েছিলো আমার পরীক্ষা নিয়ে।
নাহ গোল্ডেন এ+ পাইনি, বেশি পড়লে রেজাল্ট খারাপ হওয়ার একটা ব্যাপার আছে আমার
আপনাদের কথা পড়লে মনে হয়, ইস যদি আমরা গিনিপিগটা না হতাম
এখন যেমনে মণদরে এ+ পায়, উৎসব শোক দিবসে পরিণত হচ্ছে দিন দিন। যারা পায় তারা নাচে না, স্বস্তির নিঃস্বাস ছাড়ে। আর যারা পায়না, তারা কান্নাকাটি শুরু করে
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
হুমম..ভাল লাগল মন্তব্য টা। প্রথম ব্যাচের ভুক্তভুগী বলে কিছুটা মার্কসের পক্ষ নিলেন মনে হল। প্রথম ব্যাচে যতদূর মনে পড়ে ৯০ ভাগ এ+ ছিল ঢাকা বোর্ডে আর তার ৫০% ছিল গার্লস ক্যাডেটে! খাতা গুলো মনে হয় জায়গা মত পড়েছিল। নটরডেমে মাত্র ২ জন এ+ পায়, মনে হয়! আর আজকে!
রিমঝিম বৃষ্টি বলেছেন:
স্ট্যান্ড যুগের আলাদা আকর্ষন ছিল। ৯৯৯ পেয়েছিলেন ইংলিশের বিখ্যাত টিচার আনিস স্যারের ছেলে। ওনার নামটা ভুলে গেলাম। ওনার এস এস সি মার্ক ছিল ৯০০। মনে রাখতে হবে, তখন ফোর্থ সাবজেক্ট ছিল না আর অবজেকটিভও ছিল না। সেই হিসাবে ৯০০ অনেক নাম্বার।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















তবে নিজের কৃতিত্ব ফলাও করে বলাটা একটু দৃষ্টিকটু লাগে।