আমার প্রিয় পোস্ট

ভিক্ষাজীবীদের দিন রাত্রি

২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:০৪

শেয়ারঃ
0 0 0

বস চাকুরিটা নাও দিতে পারতেন, কিংবা দিলেও মাসের মাঝ খানে অক্ষমতার দায়ে বেতনের কিয়দাংশ কেটে নিতে পারতেন। না, উনি তা করেন নি। এত ভুল ভ্রান্তি, বিলম্বের পরেও উনি দয়া পরবশ হয়ে প্রতিশ্রুত বেতনের পুরোটাই দিয়ে যাচ্ছেন। আমি নির্লজ্জের মত হাত পেতে ফি মাসে টাকা গুণে নিচ্ছি।

চিলে কোঠার এক কামরার ঘরে দানা পানি সহকারে বেঁচে থাকাতে অপ্রাপ্তির কোন কষ্ট থাকা অন্যায়। কত শত কোটি মানুষ না খেয়ে দিন যাপন করছে। আধা দক্ষ হাতে ছুরি দিয়ে আলু কাটতে গিয়ে অসতর্কতা বশত খচ করে গিয়ে পড়ল বৃদ্ধাঙ্গুলির উপর। রক্ত মাখা মাংসের মাঝে রক্ত মাখা হাত।

আমি ভাবি অপুষ্টিতে ভোগা মাদ্রাসার এতিম ছেলেদের কী পাপ! হয়ত মাদ্রাসা গুলো উঠিয়ে দিলে, এতিম শিশু গুলো উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। ভিক্ষাজীবীর সন্তানদের জন্য তাই আমৃত্যু ধর্ম শিক্ষার নিয়তি। নিষ্পাপ শিশুরা গোল হয়ে খুব ভোরে উঠে গুন গুন করে আরবি কোরআন পড়তে থাকে স্রষ্টার অমোঘ বাণী মনে করে, বিপরীতে দাড়িয়ে আমাদের প্রগতিশীল মানস আসন্ন জঙ্গীবাদের আশংকায় কাতর হয়ে ওঠে। ছোট ছোট মুখ গুলো ধর্মীয় উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি যায় চাদার বই হাতে নিয়ে। এতিম খানার কথা শুনে অনেকের মন গলে, মাদ্রাসার কথা শুনে আরেক দফা ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়। ১০-২০ টাকা করে দিই।

মানুষের ভিক্ষার দানে এতিম গুলো একদিন বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। আমাদের কুরবানি গুলোর প্রয়োজনে ওরা পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। কেউ মসজিদের ইমাম হয়, আমাদের মত মাদ্রাসা উচ্ছেদ আন্দোলনের নেতারা হুজুরের পিছে নামায পড়ে অলীক শান্তি আর অপার্থিব মুদ্রা-নেকী হাসিল করতে থাকে। কিংবা প্রিয় মানুষের জানাযার প্রয়োজনে, অথবা শুভ দিনে কারো বিয়ে পড়াতে সেই ভিক্ষাজীবীদের পশ্চাদপদ ধর্মান্ধ মূর্খ সন্তানদের ডাক পড়ে।

ভিক্ষাজীবীর ঘরে জন্মানোটাই তাদের আজন্ম পাপ। ভিক্ষার দানে ক্ষুধা নিবৃত্তি বা অপুষ্টির সাথে 'মেধাহীনতার' কোন জোরালো সখ্যতা নেই। তারপরেও নিয়তির ফেরে ভিক্ষাজীবীদের ঘরের সন্তান গুলোই কেবল ঘুরে ফিরে এতিম হয়, মাদ্রাসা গুলোতে আশ্রয় নেয়, ভিক্ষাজীবী হিসেবে সমাজের খোটা শোনে, জঙ্গিবাদের সহচর হিসেবে মানুষের ঘৃণা পায়, হুজুর বলে তৃণমূলের নীচু দৃষ্টি পায়। ক্ষুধার দায়ে শেখা দু চারটা ধর্ম কথা বা ধর্ম পুস্তক পাঠের যোগ্যতা গুলোকে প্রগতির কফ, থুথুতে আরেক দফা ভিজিয়ে দিই।

আমাদের মত প্রগতিশীলদের কাছে ক্ষুধার চর্চা যেমন অনশনের বিলাসী উপলক্ষ, ভিক্ষাজীবীর সন্তানদের কাছে সেটা একান্তই জৈবিক উপসর্গ।

 

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৪১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

৩. ২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৪৭
ফারুক৫৫ বলেছেন: খুব সুন্দর করে সমাজের এই দিকটা তুলে ধরেছেন। আরো এরকম লেখা চাই আপনার কাছে।
২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন: এটা যত না সমাজকে তুলে ধরার চেষ্টা তার চেয়ে নিজের ব্যক্তি ভাবনাটা প্রকাশের আকুতি। আকুতির উৎসটা হয়তো বা সামাজিক পীড়ন।

৪. ২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৫১
ফারুক৫৫ বলেছেন: যদি পারেন আমার সাথে যোগাযোগ করুন।
২২ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:৫৮

লেখক বলেছেন: যদি যোগাযোগের হেতুটা বলতেন স্বস্তিবোধ করতাম! আপনার এই ঠিকানা অনুযায়ী ফেইসবুকে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠালাম।

৭. ২২ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০০
অলস ছেলে বলেছেন: বেশ হীনমন্য লেখা। সমস্যা হলো অবাস্তব না।
১০. ২৮ শে জুন, ২০০৯ রাত ১২:৪৬
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: চমৎকার লিখছেন, কিন্তউ মাদ্রাসা উঠিয়ে দিলেই যে এতিমরা না খেয়ে মরবে এটা কেমন কথা। এখনতো প্রাইমারী শিক্ষাও অবৈতনিক!

আর এটিম খানাতে বাংলা শিক্সা চালু করা বা এখন যে সাধারন ট্রেন্ড আছে সেখানে পড়লে দোষ কি?

আর দুর্নিতি যা তে না হয় সেদিকে লক্ষ্য দিলে তো এই শিক্সা দিয়ে ছেলে পেলে গুলোর ভবিষ্যত আজন্ম অন্ধকার থাকে না।

আমি তবুও বলবো এমন খোড়া যুক্তি দিয়ে মাদ্রাসা গুলো না চালিয়ে পুরো পুরি বন্ধ করে স্বতন্ত্র এবং ইউনিফাইড শিক্ষা ব্যাবস্হা চালু করা হোক!
১১. ২৮ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৪৬
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২ বলেছেন: টিপাইমুখবাঁধ নির্মাণ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন
Click This Link
পোস্টটি স্টিকি করার জন্যে কর্তৃপক্ষকে বলেন।
১২. ২৮ শে জুন, ২০০৯ ভোর ৫:৪৮
সাঈফ শেরিফ বলেছেন: আপনার যুক্তি নিয়ে আমি তর্কে যাবনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, সংগ্রাম, সংলাপ অনেক হয়েছে, আমি বলি ওটা আমাদের রক্তের দোষ। চেতনা, প্রতিষ্ঠান, জাতিগত অভ্যেস গুলো পেন্সিলের দাগের মত ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যায়না। স্বৈরতন্ত্র বা রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ছাড়া সমাজে পুরোপুরি গেড়ে বসা বিষয় গুলো সোজা আঙ্গুলে উঠবার মত নয়।

অবৈতনিক স্কুলে কী বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি জনতার ভিক্ষার দানে "এতিম খানা" বা কোন "ছাত্রবাস" চলে? আমার জানা নেই।
১৪. ০৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৩৮
কে এম তানভীর আহম্মেদ বলেছেন: লেখা ভালো লাগল। সবকিছুতে একমত নই। চিন্তা করলাম, কিন্তু হিসাব মিলাতে পারলাম না।
০৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০৫

লেখক বলেছেন: কী চিন্তা করলেন আর কীসের হিসেব মিলালেন জানালেও পারতেন। প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষিত, আধুনিক মানস ধারীদের এসব নিয়ে ভাবনার সময় সুযোগ কোথায়, বলুন? পুজিবাদীরা বস্তিতে নাশকতা করে আগুন লাগিয়ে বস্তিবাসী উচ্ছেদ করে, আমাদের শিক্ষিত প্রগতিশীল চেতনা মাদ্রাসা গুলো নির্মূলের ব্যাপারে সে ধরনেরই মত দিবে পুনর্বাসনের কোন নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা করা ছাড়াই।

১৫. ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১১:১৬
অ্যামাটার বলেছেন: পুরোটার সাথে একমত হয়ত হতে পারলাম না, কয়েকটা কথা চাবুকের মত আঘাত করল; একই সমাজে-একই বর্ণে-গো্ত্রের ভেতর বৈষম্যের দেয়াল তোলার জন্য আসলে দায়ী কারা?
০৭ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: আমি তো মতামত দিয়েছি বলে মনে করিনা। অনেকটা পক্ষ-বিপক্ষ বাস্তবতা দেখানোর চেষ্টা করেছি। ছিন্নমূলের ঘরে জন্মালে তার আশ্রয়টা অনিবার্যভাবে বস্তিতেই হবে আর হাভাতে এতিম হলে তার শিক্ষা-আশ্রয়টা মাদ্রাসাতেই হবে, এটাই তো নিয়তি, তাই না?

১৬. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:২৮
হিটলারের সাগরেদ বলেছেন: আসুন সবাই মিলে প্রথম আলোর দেশ বিরোধী তৎপরতা আর হলুদ সাংবাদিকতা রুখে দাড়াঁই।

আসুন সবাই মিলে প্রথম আলো বয়কট করি।
সবাই একটা করে পোষ্ট দেন।
১৮. ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৩১
মুসাফির... বলেছেন: নির্ভেজাল সত্য উপস্থাপনের জন্য ধন্যবাদের সাথে +++

 

মোট সময় লেগেছে ১.১২৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পরিত্যক্ত মানসিক রোগীরা ভাব প্রকাশের ক্ষুধা নিবৃত্তির দায়ে হয়তবা ব্লগের আশ্রয় নেয়। সেখানেও সামাজিক, বাস্তববাদীরা হানা দেয়। ভাব বিনিময়ের আদিম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ