বস চাকুরিটা নাও দিতে পারতেন, কিংবা দিলেও মাসের মাঝ খানে অক্ষমতার দায়ে বেতনের কিয়দাংশ কেটে নিতে পারতেন। না, উনি তা করেন নি। এত ভুল ভ্রান্তি, বিলম্বের পরেও উনি দয়া পরবশ হয়ে প্রতিশ্রুত বেতনের পুরোটাই দিয়ে যাচ্ছেন। আমি নির্লজ্জের মত হাত পেতে ফি মাসে টাকা গুণে নিচ্ছি।
চিলে কোঠার এক কামরার ঘরে দানা পানি সহকারে বেঁচে থাকাতে অপ্রাপ্তির কোন কষ্ট থাকা অন্যায়। কত শত কোটি মানুষ না খেয়ে দিন যাপন করছে। আধা দক্ষ হাতে ছুরি দিয়ে আলু কাটতে গিয়ে অসতর্কতা বশত খচ করে গিয়ে পড়ল বৃদ্ধাঙ্গুলির উপর। রক্ত মাখা মাংসের মাঝে রক্ত মাখা হাত।
আমি ভাবি অপুষ্টিতে ভোগা মাদ্রাসার এতিম ছেলেদের কী পাপ! হয়ত মাদ্রাসা গুলো উঠিয়ে দিলে, এতিম শিশু গুলো উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। ভিক্ষাজীবীর সন্তানদের জন্য তাই আমৃত্যু ধর্ম শিক্ষার নিয়তি। নিষ্পাপ শিশুরা গোল হয়ে খুব ভোরে উঠে গুন গুন করে আরবি কোরআন পড়তে থাকে স্রষ্টার অমোঘ বাণী মনে করে, বিপরীতে দাড়িয়ে আমাদের প্রগতিশীল মানস আসন্ন জঙ্গীবাদের আশংকায় কাতর হয়ে ওঠে। ছোট ছোট মুখ গুলো ধর্মীয় উপলক্ষে বাড়ি বাড়ি যায় চাদার বই হাতে নিয়ে। এতিম খানার কথা শুনে অনেকের মন গলে, মাদ্রাসার কথা শুনে আরেক দফা ধর্মানুভূতি জাগ্রত হয়। ১০-২০ টাকা করে দিই।
মানুষের ভিক্ষার দানে এতিম গুলো একদিন বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। আমাদের কুরবানি গুলোর প্রয়োজনে ওরা পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। কেউ মসজিদের ইমাম হয়, আমাদের মত মাদ্রাসা উচ্ছেদ আন্দোলনের নেতারা হুজুরের পিছে নামায পড়ে অলীক শান্তি আর অপার্থিব মুদ্রা-নেকী হাসিল করতে থাকে। কিংবা প্রিয় মানুষের জানাযার প্রয়োজনে, অথবা শুভ দিনে কারো বিয়ে পড়াতে সেই ভিক্ষাজীবীদের পশ্চাদপদ ধর্মান্ধ মূর্খ সন্তানদের ডাক পড়ে।
ভিক্ষাজীবীর ঘরে জন্মানোটাই তাদের আজন্ম পাপ। ভিক্ষার দানে ক্ষুধা নিবৃত্তি বা অপুষ্টির সাথে 'মেধাহীনতার' কোন জোরালো সখ্যতা নেই। তারপরেও নিয়তির ফেরে ভিক্ষাজীবীদের ঘরের সন্তান গুলোই কেবল ঘুরে ফিরে এতিম হয়, মাদ্রাসা গুলোতে আশ্রয় নেয়, ভিক্ষাজীবী হিসেবে সমাজের খোটা শোনে, জঙ্গিবাদের সহচর হিসেবে মানুষের ঘৃণা পায়, হুজুর বলে তৃণমূলের নীচু দৃষ্টি পায়। ক্ষুধার দায়ে শেখা দু চারটা ধর্ম কথা বা ধর্ম পুস্তক পাঠের যোগ্যতা গুলোকে প্রগতির কফ, থুথুতে আরেক দফা ভিজিয়ে দিই।
আমাদের মত প্রগতিশীলদের কাছে ক্ষুধার চর্চা যেমন অনশনের বিলাসী উপলক্ষ, ভিক্ষাজীবীর সন্তানদের কাছে সেটা একান্তই জৈবিক উপসর্গ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



