somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নরকের স্রষ্টার কাছে কৃপা সন্ধান ও অকাল মৃত্যুর প্রতীক্ষা।

২২ শে আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিয়তি জিনিসটা এমনিই। আমরা মৃত্যু দূত বা আত্মার সদ গতি দেখতে পাইনা, তবে তার উপরে দাড়িয়ে থাকা 'নিয়তি'কে অস্বীকার করার উপায় নেই। ফয়সালের সুস্থ সবল বাবা, কর্ম জীবনে অবসর নিয়ে নিজের বাড়ি বানানোর কাজে হাত দিয়েছিলেন। এতকালের কষ্টার্জিত সম্পদ, স্বপ্ন।কিন্তু পরিণতিটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত... মাত্র পাচ মিনিটের মাঝে, হার্ট এটাক এবং সবাইকে হতবিহ্বল করে চির নিদ্রায় শুয়ে পড়া।

বাবার স্কুল জীবনের বন্ধুর ছেলে ব্রেইন ক্যান্সার যখন ধরা পড়ল, ভারতে নিয়ে যাওয়া হল চিকিৎসার জন্য।ডাক্তার ততক্ষণে বিদায়ের ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছেন, বাবা-মা কে এখন চোখের সামনে ১৬ বছরের ছেলের তিলেতিলে মৃত্যুর দৃশ্য দেখার শাস্তি ভোগ করতে হবে। ছেলে কোন উচ্চ বাচ্চ্য করেনি, কেন তার 'মাথা ব্যাথা' সারছেনা, কেন কোন চিকিৎসা না করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হল! মৃত্যু পথ যাত্রী সন্তানকেও তখন মিথ্যে প্রবোধ বাণী শুনাতে হয়। প্রথমেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে মস্তিস্কের অক্সিপেটাল লোবে, দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে সে। এর পর হারায় শ্রবণ শক্তি। ঘ্রাণ শক্তি হারাবার আগে বিকট গন্ধ পেত সে, পঁচে যাওয়া মস্তিষ্কের গন্ধ নাকে আসার আগেই তার ঘ্রাণ শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এভাবে এক এক করে সব ইন্দ্রিয় অনুভূতি হারাতে হারাতে কোন এক রোজা-রমজানের রাতে সেহরী শেষ হবার ৩ ঘন্টা আগে সে মারা যায়। তারিখটা খুব সম্ভব ২৮ শে ফ্রেব্রুয়ারি, ১৯৯৭।

বিদায় দিবার শেষ মুহূর্ত গুলো স্মৃতিতে গেঁথে থাকে ভীষণভাবে। মা স্মরণ করেন তার দাদীকে শেষবারের মত দেখার দৃশ্যটি। মহানন্দা নদীতে নৌকা চলে যাচ্ছে দূরে, তীরে দাদী গালে হাত দিয়ে নদীর পাড়ে বসে সেদিকে তাকিয়ে আছেন। দৃষ্টি সীমার বাইরে যাবার আগ পর্যন্ত ওভাবেই বসে ছিলেন তিনি। মা যখন নিজের বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে রওনা দিলেন, যাত্রা পথে কেউ একজন ফোন করে মৃত্যুর সংবাদটি দিলেন। যাত্রা পথে সংবাদ টি তিনি নাও দিলে পারতেন। নানাকে শেষবারের মত দেখার দৃশ্যটি মার চোখে বার বার ফিরে আসে। নানা দোতলা বাসার বারান্দার গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আছেন, মুখটা বিষন্ন করে গ্রিলের উপর ভর দিয়ে রাখা। মা বারবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে কেন জানি বারবার কেঁদে ফেলছিলেন।

যদি বলা হয় কীভাবে মরতে চাও? দুর্ঘটনা নাকি রোগে ভুগে? রোগে ভুগে প্রিয় মানুষদের চোখের সামনে কষ্ট আর ঝামেলার বস্তু হয়ে থাকতে চাইনা। আবার যদি দুর্ঘটনার কথা বলি, তাহলে শেষ কিছু বলার বা বিদেয় নেবার সুযোগ থাকেনা। ফাঁসির মঞ্চে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে যাবার আগে সৃষ্টাকে স্মরণ করে পাপ মোচনের , শেষ কিছু বলে যাবার সুযোগ থাকে, সেটিও মন্দ নয়।

রোজা এলো । আমার কোরাআন পড়া হয়না, তারাবী পড়া হয়না। অনিশ্চিত পাপবোধ আমাকে কুঁকড়ে ফেলে। ছোট কালে মনে আছে ঈদের জামা নিতাম না, দিলেও তা ঈদে পরতাম না। কিন্তু নিজের ঘরের ভেতরটায় কেন জানি দম বন্ধ হয়ে আসত। আমি প্রতিটি মুহূর্তে চেষ্টা করতাম চান রাতের আনন্দে ভাসা মুহূর্ত গুলো ভুলে থাকতে, হয়ত কোন কুৎসিত মানসিক বিকারের কারণে। প্রবাসে এসে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। হয়ত খোলা মাঠে ঈদের নামায আর জনতার উদ্দেশ্যে আমাদের পোপ তথা মুফতির অসম্ভব সুন্দর জ্বালাময়ী ভাষণ আর শোনা হয়না। তবে কোথাও মুবারক বাদ নেই, সাইরেনের শব্দ নেই, ঈদের নামাযের স্থান ও সময় উল্লেখ্ করে কোন মাইকিং নেই, 'রমজানের ঐ রোজার শেষে' এই ভীষণ মন খারাপ করা গানটিও আর কোথাও বাজেনা, রাস্তার ধারে সাজানো ছোলা মুড়ি জিলাপির ইফতারীও নেই । আমি তাই ঘরে থেকে গবেষণাগার আর গবেষণা গার থেকে ঘরে ঘুরি ফিরি।

রমজান মাসে সংযমের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত ক্ষমার যে সুসংবাদ, সেটির যোগ্য মনে করিনা নিজেকে, তাই ঈদে আনন্দের কোন উপলক্ষ নেই। ঈদের দিনে কিছূটা সময় নিয়ে তাই পাপের অনুশোচনায় কাঁদি, কিন্তু নিজের চরম পাপাসক্ত অনুভূতি থেকে মুক্তি পাইনা।কসম খোদা তোমার! আমরা হুর চাইনা, তোমার ভয়ংকর সুন্দর অভূতপূর্ব স্বর্গ না দিলেও আমরা খুশি। কষ্ট জর্জর পৃথিবীর মত আরেকটি পৃথিবীতে অনন্তকালের নির্বাসন দিও আমাদের, তবুও মহা পরাক্রমশালীর নরকের আগুন যেন আমাদের স্পর্শ না করে।মৃত্যু যথন নিশ্চিত জানি, তখন আমাদের মত পাপী মৌলবাদীরা যে অনিশ্চিত-অন্ধকার মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে শঙ্কিত,!

পরমকরুণাময় সৃষ্টা কী এতটা দয়া করবেন, স্রষ্টা কী তার অবুঝ সৃষ্টি গুলোকে কী নরকের অনল থেকে বাঁচিয়ে পরম মমতা দিয়ে আগলে রাখবেন! সৃষ্টার কৃপা কী আমরা পাব, আমাদের দেহ ত্যাগী আত্মার কী আদৌ কোন সদগতি হবে, সৃষ্টা কী তার পাওনা উপাসনা গুলো মাফ করবেন, এতটা উদার কী তিনি হতে পারবেন?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:২৩
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×