"ব্রেক ফাস্ট টাইম! ব্রেক ফাস্ট টাইম! ব্রেক ফাস্ট টাইম!"
ফেড খানিকটা মজা ও বিরক্তির স্বরে বলল, "ও....ইউ আর ক্রেজি!"
তারপরেই প্রশ্ন , "হোয়াট হ্যাপনেস ইফ ইউ ডোন্ট ফাস্ট?"
-ইটস ইউর চয়েস, নো ওয়ান ইজ গোয়িং টু প্রেস ইউ!
তারপরেই বিস্ময়, "দ্যান হোয়াই সো মেনি মুসলিমস আর ফাস্টিং, আই হ্যাভ মেনি ক্রিশচিয়ান ফ্রেন্ডস হু নেভার ওয়েন্ট টু চার্চ, আই অ্যাম ক্যাথোলিক, বাট আই ডোন্ট বিলিভ ইন...."
-ইউ নো ফেড, মুসলিমস প্রাকটিস দেয়ার রিলিজিন মোস্ট প্যাশনেইটলি এন্ড সিনসিয়ারলি দ্যান এনি আদার রিলিজিন।
"হোয়াটস দ্যা বেনেফিট!"
-উই ফিল স্পিরিচুয়ালি বেটার, আই সাজেস্ট ইউ টু স্পেন্ড সাম টাইম ইন দ্যা চার্চ এন্ড হ্যাভ দ্যা টেইস্ট ইন ইউর স্পিরিট।
"ইয়েস, আই শুড! বাট ফাস্টিং উড মেইক ইউ লেস প্রোডাক্টিভ।"
- ওয়েল ফেড, উই টেক আওয়ার ব্রেক ফাস্ট ইন দ্যা ইভেনিং, লাঞ্চ এ্যাট মিড নাইট এন্ড ডিনার এট লেইট নাইট। সো লিটারালি ইউ আর টেইকিং ফুড থ্রি টাইমস এ ডে, ডাজ ইট মেইস সেন্স নাও?
"দ্যান ইউ হ্যাভ এ বিগ পার্টি আফটার রামাদান!"
-ইয়েস দ্যাটস লাইক আওয়ার ক্রিসমাস।
এত গুলো সাজানো মিথ্যে কথা বলার পর হুট করে পুরনো একটা স্মৃতি এল মাথায়।
... ঠিক দু'বছর পরেই তিনি মারা যান। পান জর্দা খেতেন, গল নালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পরে রক্ত নালীতে স্যালাইন ছিল খাদ্য পুষ্টির এক মাত্র অবলম্বন। মাথা ও কোমর মাটির সাথে সমান্তরালে রেখে কুজো হয়ে লাঠি ভরে হাটতেন।
রোজার শেষ দশ দিনে এহতেকাফ করার মত লোকের বড্ড অভাব। বেছে বেছে মৃত্যুর দিন গোনা লোকদের দেখা যায় বেশি। কোন এক ২৯ শে রোজার সন্ধ্যে, চাঁদ উঠার খবরে সারা দেশ আনন্দে ভাসছে। মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে বেরিয়ে এলেন সেই এলাকার একমাত্র বৃদ্ধ সাধক, লাঠি ভরে।হয়ত ঈদের প্রতিশ্রুত ক্ষমার দৈব সুসংবাদ তার জন্যই ঘোষিত হয়েছিল সে'বার, সেখানে।
স্কুলে বাংলার শিক্ষক মোশাররফ স্যার ছিলেন পাড় নাস্তিক। বেগম রোকেয়া পড়ানো সুযোগে খুচিয়ে খুচিয়ে ইসলামী বিধানে নারী বৈষম্য ও কোরআনে নারীদের প্রগতি বিরুদ্ধ করার বিষয়গুলো ক্লাসে তুলে ধরতেন। বলাই বাহুল্য সারা বছর নামায রোযা ধার না ধারলেও, কোরবানির সামাজিকতা রক্ষা করা তার মানবধর্ম মতে ফরয ছিল। গরুর একভাগে শরীক হয়ে বাকি ছয় জনের কুরবানি নষ্ট করার মত পাপবোধ বা বিশ্বাসের সংশ্লিষ্টতা তাতে থাকেনা। আমরাও হালাল-হারাম উপার্জনের বালাই, ঝামেলা না করে কুরবানির ভাগে শরীক হই, সামাজিকতার খাতিরে, যার সাথে ধর্মের সম্পর্ক নেই, থাকলেও তা লোক লজ্জার ভয়ে আড়াল হয়ে থাকে।
আমার মতে ইসলামের এই ঈদ সংক্রান্ত বিধানে একটু পরিবর্তন আনা দরকার। ফিতরের ঈদ মানে গরীবের ঈদ । যারা সারা বছর ভাল ভাল কাপড় কিনেন, পরতে পারেন তাদের ফেতরের ঈদে (ফকিরের ঈদে) আট পৌরে কাপড় পরার বিধান থাকা উচিত। অন্তত আমি আমার ব্যক্তিধর্ম এভাবে পালন করি, সবার দামি কাপড়ের ভিড়ে ওটাই আমার জন্য নজর কাড়া ফ্যাশান। সারা বছর কাপড়ের কোন অভাব, আল্লাদ পূরণে ঘাটতি না থাকলে -- একদিনে বিশেষ সাজ সজ্জা না করলে ধর্মের কোন ক্ষতি হয়না।
পুরনো পাঞ্জাবি আয়রন করে বেরুলে হয়ত সমাজে আপনার জাত চলে যাবে। ভাগ্যিস পুরনো কাপড়ে জাত যাওয়া গোষ্ঠীর সাথে আমার ঈদে সাক্ষাৎ করতে হয়না।এমনিতেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে উচ্চকিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার অভ্যেস। ঈদের আনন্দের পুরোটুকু শিশু আর গরীবের জন্যই বরাদ্দ থাকা উচিত, অবস্থা সম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্কদের এই পোশাকি সজ্জা বা হাল ফ্যাশানের হুজুগে না যাওয়াই ভাল। এটাই বরং মানব ধর্মের দাবি হওয়া উচিত।
ঈদ সংক্রান্ত সামাজিকতা বা লোকাচারের ফতোয়া আমি অস্বীকার করি। কোলাকুলির মত যন্ত্রণাকর আপদ মনে হয় পাকিস্তান বা ইরান থেকে এসেছে। আরবের লোকেরা তো আরেক কাঠি সরেস। পুরুষ পুরুষকে কোলাকুলির সময় গালে চুম্বন করে। তাহলে কী বড়লোক বা অবস্থা সম্পন্নরা ঈদ করবেনা? ঈদের আনন্দে গা ভাসাবেনা? ব্যাপারটি তো অবিচার হয়ে যায়। তারাও তো রোযা রেখেছেন। ইফতারের নামে পার্টি, ভূড়িভোজও কম হয়নি।
প্রবাসে যারা আছেন তাদের জন্য বছরে ১০০ ডলার কোন বড় ব্যাপার নয়। ৭০০০ টাকা দিয়ে ধরুন ৫০ টা পিচ্চিকে নতুন জামা দিয়ে, ৫০ টি স্বর্গীয় হাসিমুখ দেখতে পারেন। টাকা দিয়ে হাসিমুখ কিনে নেবার মত সুস্থ লোকাচারই হোক অবস্থা সম্পন্নদের ঈদের আনন্দের একমাত্র নিয়ামক ও অনুষঙ্গ। প্রবাসে অনেকে কুরবানি না করে দেশে টাকা পাঠিয়ে দেন। ১০০ ডলারে আশা করি একটা আস্ত খাসি কিনে রান্না করে গরীবদের খাওয়ানোর খরচ মিটিয়ে ফেলতে পারবে। সারা বছর যারা মাংসের স্বাদ পায়না, তাদের "কাচা মাংস দেয়া আর কাচা টাকা" দেয়ার মাঝে কোন তফাত নেই। আমি আরেকটু খরচ করে রান্না করে খাওয়ানোর দলে, পারলে একটু ভাত বা খিচুড়ি দিলেন, না হলে শুধু ক' টুকরো মাংসই চেখে গেল।
প্রবাসে যারা ফান্ডিং পেয়ে পড়ছেন, তাদের অনেকেরই যাকাত ফরয। সারা বছর ৩০০ ডলার+ সেভিংস থাকলেই হল। ১০০০ ডলার এর বিপরীতে দেশে ২৫ ডলার যাকাত পাঠাবেন, এটা কী খুবই কষ্টের কথা?
ধর্মীয় উৎসবকে পুজি করে বিলাসী-বিকৃত লোকাচারে মেতে না উঠে, একটু মানবতার চর্চা করি।
ঈদ নামের দুটো দিন তাই ভিক্ষাজীবীদের জন্যই বরাদ্দ থাকুক, আর ভিক্ষাজীবীদের সেবাই হোক ধনিক সমাজের ঈদের আনন্দ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




