প্রবল ব্যস্ততার টোপে পড়ে মার্কিন প্রবাসী এক মেয়েকেই বিয়ে করেন ৩৫ বছর বয়সে, ধনাঢ্য বাবা মার এক মাত্র সন্তান মেয়েটি। ধর্ম মতে গুণে গুণে ৫০ হাজার ডলার দেন মোহর পরিশোধ করে বিয়ে করেন। প্রথম পরিচয় পর্বটা ছিল চমকপ্রদ। ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় পর্ব শেষে কফির আধ খাওয়া মগটি ফেলে একটু তফাতে গিয়েছিলেন আরিফ। ফিরে এসে দেখেন কফির মগ শূণ্য । খানিকটা বিচলিত হয়ে আশে পাশে তাকাতেই দেখেন মেয়েটি সলজ্জ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
বিয়ের এক বছরের মাথায় খুলে যায় ভাল লাগার স্বার্থপর মুখোশ। শপিং পাগল মেয়েটি এটা সেটা যখন তখন কিনে খানিকটা ঋণগ্রস্থ করে ফেলে আরিফকে। এরি মাঝে তাদের একটি সন্তান হয়। দুগ্ধ পোষ্য শিশুকে ফেলে রেখে আবার সেই শপিং, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা-পার্টি। আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের চাপ সামলে পরম মমতায় লালন পালন করেছে তার শিশু সন্তানটিকে। ঘটনা চক্রে একদিন বেড়ে ওঠা সন্তানটি তার মাকে ধূমপান করতে দেখে বাবাকে বলে দেয়। আরিফ তার স্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত চাইলে সন্তানের সামনে স্বামীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করে। জন্মদাত্রীর অলৌকিক অনাগ্রহের কারণে সন্তানকে নিজের কাছেই আগলে রাখতেন আরিফ । মাঝে আরিফের বাবা মারা গেলে স্ত্রী তার শ্বশুরের অন্ত্যষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর কোর্স করার জন্য ভর্তি হয়, স্বামী হিসেবে আরিফ সমস্ত খরচ দিয়ে গিয়েছে, যদিও বহু বছর যাবত তারা একই ছাদের নিচে কিন্তু আলাদা ঘরে বসবাস করে।
পশ্চিমে মানুষের বিয়ে ভীতির শেকড় সন্ধান করতে গেলে থমকে যেতে হয়। সম্পদশালী ছেলেকে বিয়ে করার জন্য মেয়েরা ঘুর ঘুর করতে থাকে। বিশ্বাস ও ভালবাসার টোপে ফেলে বিয়ে করে ঠিক এক বছরের মাথায় একটি ঘটনা ঘটিয়ে ডিভোর্স চেয়ে বসে। ডিভোর্সের সাথে সাথে স্বামীর সঞ্চিত-অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি অর্ধেক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর আইনত অধিকারে চলে যায়। এমন কি সন্তানের উপর পুরো অধিকার পায় মা। সে সম্পত্তি নিয়ে নতুন পুরুষ শিকারে নামে মেয়েরা। সংসার ধর্মে বিশ্বাসী পুরুষ প্রতারিত হয়ে স্ত্রী, ভালবাসা, সন্তান, সম্পত্তি সবই হারায় । পোষা কুকুর-বিড়ালের সাথে সখ্যতা গড়ে মরার আগ পর্যন্ত।
আরিফের শ্বশুর তার মেয়েকে সমস্ত ইন্ধন জুগিয়েছে ডিভোর্স চাইতে। আদালতে শুনানি চলছে। মেয়েটি ডিভোর্সের সাথে সাথে পেয়ে যেতে চাচ্ছে আরিফের দুটি বাড়ির একটির মালিকানা ও তাদের একমাত্র সন্তানটি। সুদীর্ঘ ৫ বছর ধরে একই ছাদের নিচে থেকে কেউ কারো মুখ দেখেনা, আরিফ তবুও নির্বিকারভাবে স্ত্রীর খোর পোশ দিয়ে যাচ্ছে।
এমনকি আরিফের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর করা মামলা-শুনানি বাবদ সমস্ত খরচ আরিফ নিজেই বহন করছে। নিজের টাকায় নিজের বিরুদ্ধে মামলার মত বিরল বিষয় জানা নেই। সেই দিনের চুরি করে কফি খাওয়া সলজ্জ মেয়েটির সাথে আরিফ আজকের রক্ত চোখের আগ্রাসী মার-উন্মুখ স্ত্রী টিকে ঠিক মেলাতে পারেনা। দুঃসহ যন্ত্রণা, আতঙ্ক নিয়ে শত্রুর সাথে বছরের পর বছর বসবাস করে যাচ্ছে আরিফ, সংসার ধর্ম টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে , শুনে যাচ্ছে স্ত্রীর একের পর এক কুৎসিত-মিথ্যে অভিযোগ গুলো। আদালতে প্রাথমিক রায়ে আরিফ নির্দোষ প্রমাণিত হবার পর স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়জনের সাথে ফোনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল সে।
আরিফ এখন ভীষণ ঋণগ্রস্থ, মামলার টাকা জোগাতে একটা বাড়িও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ৫০ এ পা দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধণ্য গবেষক- শিক্ষক তার মাত্র ১৫ বছরের সংসার ধর্মের অভিশাপ টেনে চলেছে। এ ধর্ম পালন তাকে কিছু দেয়নি বরং লুটে নিয়ে ভালবাসার অনুভূতি গুলো, এতকালের পরম যত্নে আগলে বড় করা সন্তানের মুখ গুলো, হয়ত তার জীবনের তুচ্ছ অর্জন ধন-সম্পত্তি গুলোও।
আরিফ এখন স্রষ্টার কাছে বিচার চায়, ফোনে তার কান্না ভেজা কন্ঠ শব্দ শূণ্য হয়ে থাকে বহু ক্ষণ । আসন্ন বার্ধক্য, পর্বত প্রমাণ ঋণের বোঝা আর তেড়ে আসা নিঃসঙ্গ দিন যাপনের দুঃস্বপ্ন নিয়ে তার ভাববার সময় কোথায়?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



