প্রকৃতিতে অবিচার দেখলে মানুষের মনে ক্ষোভ জন্মে, অভিমান বশত অদৃশ্য স্রষ্টাকে দায়ী করে, স্রষ্টার নিষ্ঠুরতার জবাব চায়। নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে কেড়ে না নিলে কী তার খুব ক্ষতি হত! কিন্তু কী অদ্ভুত, এক কোটি মা-বাবার ঘর আলো করে দেয়া শিশুদের স্বর্গীয় হাসি আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধে ভাসায় না। তখন জন্মদানের একান্ত গৌরব, অহংকার হয় মা-বাবার।
সত্যিই তো স্রষ্টা খুব নিষ্ঠুর। দেবতুল্য শিশু জন্মদানে তার কোন ভূমিকা নেই। তিনি আছে শুধু মানুষ বধের নেশায়। ভূমিকম্প আর ঘূর্ণিঝড়ের মত দুর্যোগ গুলো স্রষ্টা বেছে বেছে দাস অধ্যুষিত হেইতি বা হতভাগা বাংলার মাটিতেই ঘটান। হয়ত পুরনো কোন পাপ যেটা প্রকৃতিও সহ্য করেনি, দুর্যোগ দানো হয়ে ছিন্ন ভিন্ন করেছে গরীবের ঘর। বঞ্চিত, ছিন্নমূল, অভুক্ত মানুষের আবার কী পাপ, স্রষ্টাই ভাল বলতে পারবেন।
অথবা ইজরায়েলি হায়েনারা শিশুদের সামনে মানুষ হত্যার মহড়া দেখায়, হয়তবা ঝোকের বশে শিশুও হত্যা করে। আমারদের অসহায় বিবেক অদৃশ্য স্রষ্টাকে হাতড়ে খোজে, কল্পিত স্রষ্টার নিরাবতায় আমাদের অবিশ্বাসের চোয়াল অভিমানে, দুঃখে, ক্ষোভে শক্ত হয়ে আসে। অথবা কোন ব্যাভিচারিনীর পাপের ফসল সদ্য ভূমিষ্ঠ পরিত্যক্ত শিশুটিকে কাক ঠোকরে খায়।
আমরা স্রষ্টার অবিচার দেখি, খুব চাক্ষুস। কিন্তু দেখিনা কীভাবে লক্ষ কোটি নেফ্রন সুস্থ থেকে অলৌকিক দৈব শক্তিতে বাঁচিয়ে রেখেছে, দেখিনা কীভাবে যুগের পর যুগ ফুসফুসকে কার্বন করে ধূমপান করে যাবার পরেও মুক্ত বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছি, বিজ্ঞান বিশ্বাসী স্টিফেন হকিং দেখেননি ডাক্তার সেই ২৫ শে তার মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দিলেও তিনি ৫০ এর পরেও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন শুধু তার অসাধারণ কীর্তি দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করতে। আমরা দেখিনা বিষাক্ত বর্জ্য-বাতাসে মরণ ব্যাধি কর্কট রোগের প্রবল ঝুকি নিয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছি, ঘর বাধছি, স্বপ্ন দেখছি।
এমন ঘর বাধার স্বপ্ন হয়তো আবু বকরেরও ছিল, অভাব-অনটনের রাক্ষসের সামনে দাড়িয়ে হলেও প্রকৃতির নিয়মে হয়তো সে কাউকে ভালবাসার স্বপ্ন দেখতো। কোন পারলৌকিক পুরস্কারের বিনিময়ে স্রষ্টা তাকে অকালে তুলে নিয়েছেন। নিষ্ঠুর নিয়তির পক্ষে এর চেয়ে ভাল সান্তনা-সাফাই গাওয়া যায়না। এক কোটি মমতা মাখা শিশুর মাঝে হঠাৎ একজনকে স্রষ্টা তুলে নিয়ে যান তার দেবালয়ে। প্রগতিশীল মানুষ ঘৃণা-অবজ্ঞা ভরে যে "নিয়তিকে" ফেলে দিয়েছিল সেটিই আবার জাপটে ধরে মানুষকে, শূণ্য করে বাবা-মার কোল।
একজন অদৃশ্য নিষ্ঠুর স্রষ্টার কাছে আমরা কতটা অসহায়, আমাদের আর্তনাদ হয়তবা বহু বছর পরে তার কাছে পৌছে, শাস্তি পায় পরবর্তী প্রজন্ম, অন্য কোন জনপদ। এতটা অদৃশ্য দানবীয় শক্তির সামনে দম্ভ করে, হুংকার দিয়ে, আকাশের দিকে ঘেন্নার থুথু ছিটিয়ে কতটুকু লড়া যায়? সে কোন নিয়তি নিয়ন্তা হোক, হোক অদৃশ্য স্রষ্টা বা হোক প্রকৃতির কোন দৈব দুর্ঘটনা, মানুষ হয়ে আমাদের প্রার্থনা করাতে কোন বাধা নেই। অদৃশ্য তুমি যেই থাকো আমাদের পাপ ক্ষমা করো, নিজেদের পাপ দেখে ভুল শোধরাবার যোগ্যতা দাও, মরণব্যাধির অভিশাপ থেকে বাঁচাও, আকস্মিক মৃত্যু-দুর্ঘটনার শোক ও ধাক্কা সইবার ক্ষমতা দাও।
আমরা আজ ভীষণ নতজানু, নিরুপায় ও নিরুদ্দেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



