somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি কয়েন : বদলে যাও বদলে দাও

২৭ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিটটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন আনিস সাহেব। ভারী ব্যাগটা একহাতে ধরে রেখে খালি সিটটার দিকে এগোচ্ছিলেন; এমন সময় ঊনিশ/বিশ বছরের একটা (মডার্ণ!) ছেলে প্রায় ছুটে এসে দখল করেছে সিটটা। যুগ বদলে গেছে। এটা যে খানিকটা অস্বাভাবিক বা এরকম ব্যাপারে যে ভাববার কিছু আছে তা অনেকে জানেনই না। অগত্যা আনিস সাহেব ঝুলতে ঝুলতেই যাচ্ছিলেন। এভাবেই চলছিল খানিকক্ষন। বাসের মধ্যে যে একটা কিছু ঘটতে শুরু করেছে তা বুঝতে আনিস সাহেবের একটু দেরি হয়ে গেল। তিনি যখন ব্যাপারটা বুঝতে শুরু করেছেন তখনÑ “ভাড়া দুই ট্যাকাই ন্যায্য।” ”শালার কোনডা ন্যায্য না কি হেইডা তুই আমারে শিখাছ?” “জ্বি দুই ট্যাকাই ভাড়া। আপনেরতে না থাকলে কইবেন যে, নাই। চউখ গরম কইরা কতা কন ক্যান?” “চউখ গরম মানে? তরা ব্যাটা দুই পয়সার কন্ডাক্টার, আর কতা কছ বড় বড়...” “উচিৎ কতা কইতো শইল্যে লাগে...” “তরা আসলে কুত্তার জাত। এক ট্যাকার মায়াও ছাড়স না...” (এ পর্যায়ে কন্ট্রাক্টর ক্ষেপে যায়) “কুত্তার জাত মানে? ঐ মিয়া গাইল্যান ক্যান? ভাড়া কম দিছেন মিয়া চুপ কইরা থাকেন।” কমবয়সী ছেলেটার রক্ত গরম। মুহুর্তে কিছু বোঝার আগেই ঠাস করে চড় বসিয়ে দিল কন্ট্রাক্টরের গালে। এরপর ঘটনা খুব দ্রুত ঘটতে লাগল। ঘটনা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন আনিস সাহেব দেখলেন যে সেই কমবয়সী ছেলেটি বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। গায়ের শার্টটা ছিঁড়ে গেছে। রাগে গজগজ করছে দু’জনেই। গালিগালাজ সমানতালেই চলছে উভয়পক্ষে। আনিস সাহেব ব্যপারটা নিয়ে মাথা ঘামালেননা। দ্রুত বাসায় যেতে হবে হাতে সময় নেই।

মন্টু কয়েক জায়গায় ফোন করেছে। ক্লাসমেটরা আসতে দেরী হবেনা। তার সামান্য দুশ্চিন্তাও হচ্ছে। অবশ্য সাঈদের উপর ভরসা করা যায়। আগেরবার ও খুব ভালভাবে সবকিছু করেছিল; পুরো দিনটা রাস্তা বন্ধ ছিল। ও এসব ব্যাপারে খুব এক্সপার্ট। নিজের ছেঁড়া শার্টটার কথা আবার মনে পড়ল মন্টুর। নিউমার্কেট থেকে সাড়ে চারশ টাকায় কেনা। এমনভাবে ছিড়ে গেছে যে আর পড়ার উপায় নেই। রাস্তাতেই ফেলে আসতে হয়েছে।

আব্দুল গণি খুব দুশ্চিন্তায় আছে। স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাসে উঠেছেন,্ অনেক দূরের পথ। মেয়েটার গায়ে আবার জ্বর উঠছে। তিন বছরের মেয়েটাকে শক্ত করে বুকে চেপে তার স্ত্রী রওশন ও খুব দুশ্চিন্তায় আছে। তাড়াতাড়ি পৌঁছুলে হয়। দুই দিন যাবৎ জ্বর; ভালো ডাক্তার দেখানো উচিৎ। হাতে তেমন পয়সা কড়িও নেই। এইসব ভাবতে ভাবতে আব্দুল গণি খেয়াল করেনি তাদের বাসটা থেমে গেছে এবং চিৎকার করে তিরিশ-চল্লিশ জন ছেলে লাঠি-সোটা আর ইট-পাথর নিয়ে এগিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় কি করতে হবে বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল গণি মহা আতঙ্ক দেখল যে তার পাশের জানালার কাচটা ভেঙ্গে টুকরোগুলো ছিটকে এদিকে আসছে। রওশন মেয়েটাকে কোলে চেপে তারস্বরে চিৎকার করছে।

তারপরের ঘটনা খুবই সহজ। ঐ রাস্তায় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। গাড়িগুলোর বদলে সেখানে অবস্থান করছে আমাদের দেশের ভবিষ্যত (!) অর্থাৎ বর্তমানে যারা ছাত্র। ছাত্রদের সৃষ্টি হওয়া ছোট ছোট জটলা থেকে সিগারেট-গাঁজার ধোয়া ছুটছে। মন্টুকে সেরকমই একটা জটলায় দেখা গেল। আব্দুল গণির স্ত্রীর মুখ কাঁচ লেগে কেঁটে গেছে। রক্ত ঝড়ছে। অসুস্থ মেয়েটা ভয়ে দুর্বল শরীর নিয়ে কাঁদছে। আব্দুল গণি কি করবে বুঝতে পারছে না।

পুলিশ এসেছে অনেকক্ষণ। এরই মাঝে পুলিশের সাথে দফায় দফায় ছোটখাট সংঘর্ষ হয়ে গেছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাস অবরোধ থেকে ব্যাপারটা এখন অনেকটা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে।

একজন পুলিশসহ আহত ছয় জন। ব্যাপক বাস ভাঙচুর।
.............রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক স্বার্থে ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করেন। তবে ঘটনার সাথে কোন দল সম্পৃক্ত তা এখনো জানা যায়নি। এব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটি জোর পদক্ষেপে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়।
..........................................................................................................................................
গাছে বসে থাকা পাখিটি অনেকক্ষনের আটকে থাকা একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ সে ভাবল দেশ ও জাতির কল্যাণে সে বদলে যাবে। হ্যা সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল; সে বদলে গিয়ে দেশটাকে বদলে দেবে। সে এখন থেকে আর ডিম পাড়বে না; সে এখন থেকে এক টাকার কয়েন পাড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×