-শুনছো, কোথায় তুমি? এত গরম, পিঠ চুলকাচ্ছে! মজিদ ডাকে।
-আমি তো রান্নাঘরে। সাজু জবাব দেয়। আঁচলে হাত মুছতে মুছতে এসে দাঁড়ায়।
-চুলকায়ে দেব? আচ্ছা দিচ্ছি! কোথায় চুলকাচ্ছে দেখিয়ে দাও। আমি ওখানেই চুলকাবো। ঠিকমতো হচ্ছে তো?
-হ্যাঁ, একটু ডানে, আরেকটু ডানে।হ্যাঁ, এখন ঠিক আছে, ঠিক হচ্ছে। আরাম লাগছে।
- আচ্ছা, চুলকানিগুলি এমন জায়গায় কেন হয় যে হাত নাগাল পায়না?
-আল্লাহ মালুম! আর জায়গা মতো না হলে অন্য জায়গায় চুলকায়ে দিলে কি যে আরো মেজাজ খারাপ হয়!
হ্যাঁ, ঠিক আছে। চলবে। তুমি এবার অন্য কাজ সারতে যেতে পারো। সাজু চলে যায়।
পরদিন সাজুর পিঠ খুব চুলকাচ্ছে! রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান আছে, তাতে কি? ঘাম হতেই থাকে এবং পিঠও চুলকায়। ব্যস্ত সংগীকে যেয়ে বলে
-দেখেছ, আজ আমার পিঠ চুলকাচ্ছে।মজিদ বাতাসের নীচে পেপার পড়ায় মগ্ন। কতক্ষন অপেক্ষা করে সাজু চলে যায় দরজার কাছে।দরজার কাঠের ফ্রেমের কিনারায় পিঠ রগড়াতে থাকে।
দুদিন পর কিছু কেনাকাটার উদ্দেশ্যে সাজু বাজারে যায়। দেখে, দোকানে প্লাস্টিকের তৈরী হাত পাওয়া যাচ্ছে। নানান রংগের। সে ৪টা কিনে নিয়ে আসে। একটা অফিসে নিয়ে নিজের ড্রয়ারে রাখবে, একটা বিছানার মাথার কাছে নিজের আওতায়, একটা দেয় মজিদকে। আরেকটা রিজার্ভ রাখে।ওটা যে কার কখন লাগবে জানা নেই। অন্য কাজেও লিভার হিসেবে কাজে লাগতে পারে। সাজু এটার নাম দিল 'ভালবাসার হাত'। যখন অনেক প্রয়োজনের চুলকানিতে নিজের হাত জায়গায় পৌঁছায় না, সংগীর হাতও পাওয়া যায় না-তখন কাজ দেবে এই ভালবাসার হাত।সংগীর দিকে তাকিয়ে দরজার কাঠের ফ্রেমে তো আর পিঠ ঘষতে হবে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


