দিলকুশা্য় গিয়েছিলাম, আজ। দুপুরবেলা। বাদাম ওয়ালা দেখে টাকা দিলাম। বললাম, চিড়াভাজার সাথে ভাজা বাদাম, ঝাল করে, সর্ষেতেল দিয়ে বানিয়ে দাও। য্ত্ন করে বানিয়ে দিল।বড় রাস্তায় খেতে সংকোচ। কারন আয়েশ করে খাবো। প্যাসেজে দাঁড়িয়ে খাচ্ছি। দেখি, বাদাম ওয়ালার বিপরীতে এক সন্তান কোলে মা বসা। পাশে একটি ছেলে। কিছুক্ষন পর আবার তাকিয়ে দেখি- ছেলেটির হাতে লাট্টু। দড়ি পেঁচিয়েছে। উঠে এলো। প্যাসেজের ভেতর মারলো। আমার বিপরীতে। ওটা ঘুরতে থাকলো।
আমার স্মৃতি ঘুরে গেল পেছনে। আমার পরের ভাই দুজন, দুরন্ত। স্কাউট, খেলে নানারকম খেলা। সমস্যা ছিল গাছের সুস্বাদু জাম্বুরা, গাছের বেশী অংশ ছিল মাঠের দিকে। ফলে, জাম্বুরা আমাদের খাওয়া হোত কম, ওরা পেড়ে খেলতো বেশী। পাড়ার ছেলেদের নিয়ে। ফলে ভাইরা না থাকলেও তারা চান্স নিতো।
সে যাক, ভাইরা লাট্টুও ঘোরাতো। ওরা যখন অন্য খেলায় মত্ত হোত, বাইরে যেত- আমি চেষ্টা করে দেখতাম। কিন্তু নাহ্। ওদের লাট্টুতে দড়ি পেঁচিয়ে দিতাম। সাই করে মারতো। নীচু হয়ে বসে আংগুল টোকা দিয়ে হাতের তালুতে তুলে নিত। আমাদের হাতেও দিত।ঘুরন্ত লাট্টুর সুড়সুড়ি লাগতো।
আজব লাগতো, ওরা মারলে এত সুন্দর করে পড়ে, লাট্টু ঘুরতো। বন বন করে। আর আমি মারলে! হ্যাঁ ঘুরতো, তবে উল্টো হয়ে অর্থ্যাৎ চিৎ হয়ে। অনেক ভেবে চিন্তে একদিন লাট্টু উল্টো করে অর্থ্যাৎ চিৎ করে মারলাম। হ্যাঁ, এইবার যাবে কোথায়। যেমন ঘুঘু, তেমনি ফাঁদ! ঠিকই উপুড় হয়ে সুন্দর, স্বাভাবিক ছন্দে ঘুরতে থাকলো। আমার আনন্দ আমি একাই উপভোগ করলাম।কাউকে বলিনি, কেউ জানতো না। (আজ আপনারা ঝানলেন)। অনেক পরে ঐভাবেই আমার ছেলেদের সাথে লাট্টু ঘুরিয়েছি।ছেলেরা ঠিকভাবেই ঘুরাতে পারতো।
ছেলেটির হাতে আমার বাদামের প্যাকেটের বাকীটুকু ধরিয়ে দিয়ে বের হয়ে এলাম। লাট্টু ঘোরানোর ছবি- দেখার জন্য, পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




