আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন। গায়ের রং যদিও কালো। সেটি বড় সমস্যা নয়। কারন আমরা অনেকেই কালো। অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যেও গায়ের রং কালো আছে। বলা যায় রং ফর্সা এমন কমই। হাতে গোণা। যাহোক, স্যার ক্লাশে এসেছেন। নিজের চেয়ারে বসলেন না। টেবিলের সামনে এসে ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। স বার পরিচয় জানলেন। একে একে। তারপর নিজের সম্পর্কে বললেন।
আগেই রুটিন মারফত জেনেই গেছি, উনি পিএইচডি ডিগ্রীধারী। কোথায় পড়েছেন, কি বিষয়ে তাও বললেন। মনে হলো স বাই উনার কথা শুনছে তো বটেই। সাথে সাথে দেখছেও। কারন স্যারের চেহারা স্বাভাবিক ধরনের বলা যাবে না। চোখ ছোট ছোট, বিরাট চেহারা, ঠোট হাল্কা গোলাপী, কিছুটা উল্টানো এবং ঝুলে পড়া। নাকও তেমন আহামরি কিছু নয়। নিজের চেহারা মানুষ ভালবাসে। তা' কতটা পছন্দ করে ছবি তোলার পর বোঝা যায়।স্যারও নিজের চেহারা সম্পর্কে জানেন।
আলাপচারিতা শেষের পর আশা করছিলাম উনি পড়ানো শুরু করবেন। কিন্তু, তা' উনি করলেন না। গল্প করছিলেন। নিজের স্মৃতির, মজার সব গল্প।আর ফাঁকে কয়েকবার পায়চারী করতে করতেই বললেন-ট্রাই টু একসেপ্ট মাই আগ্লি ফেস।ক্লাশে আমরা উনার গল্পে কথায় হাসছিলাম।গল্পের ক্লাশ শেষ হতে হতে মনে হলো, স্যার কতো চেনা, কতো আপন।পরের দিন থেকে নিয়মিত ক্লাশ শুরু হলো। খুব মজা করে ক্লাশ নেয়া জনপ্রিয় স্যার ছিলেন। সেমিস্টার শেষে প্রায় সবাই ভাল গ্রেড পেল।
এর পরেও অমন ধরনের চেহারার লোক জীবনে দেখেছি। মনে হতো স্যার এর কথা- ট্রাই টু একসেপ্ট মাই আগ্লি ফেস। মনে হতো, চেহারাই বড় এবং সবশেষ কথা নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



